Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপে একমাত্র ফিলিস্তিনি খেলোয়াড় মোহাম্মদ আল্লাম: “দাবা যুদ্ধ নয়, এটি শান্তির স্বর্গ”

ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপে অংশ নেওয়া একমাত্র ফিলিস্তিনি দাবাড়ু মোহাম্মদ আল্লাম বলেন, দাবা আমার কাছে যুদ্ধ নয়, এটি শান্তির প্রতীক। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও আল্লাম বিশ্বাস করেন, দাবা মানুষকে একত্র করে, মনকে স্থির রাখে এবং বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা ছড়ায়। তাঁর কাছে দাবার বোর্ডই এক শান্তিপূর্ণ আশ্রয়।

ব্যাকু (আজারবাইজান): ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৫-এ অংশগ্রহণকারী একমাত্র ফিলিস্তিনি দাবাড়ু মোহাম্মদ আল্লাম এবার আন্তর্জাতিক দাবা বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব করা এই দাবাড়ুর হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে—"দাবা আমার কাছে যুদ্ধ নয়, এটি এক শান্তিপূর্ণ স্বর্গ।"

দাবার বোর্ডে শান্তির সন্ধান

২৮ বছর বয়সী গ্র্যান্ডমাস্টার আল্লাম তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, "আমি এমন এক অঞ্চল থেকে এসেছি যেখানে মানুষ প্রতিদিন ভয়, কষ্ট এবং ধ্বংসের মুখোমুখি হয়। কিন্তু দাবার বোর্ডে আমি খুঁজে পাই শান্তি, মনোসংযোগ এবং আশার প্রতীক।" তাঁর বিশ্বাস, দাবা এমন এক খেলা যা সীমান্ত, ধর্ম এবং জাতীয়তার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে এক সূত্রে গাঁথে।

গাজায় জন্ম নেওয়া আল্লাম দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। তাঁর পরিবার এবং বন্ধুরা আজও নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে দাবা তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, বরং বেঁচে থাকার অবলম্বন।

যুদ্ধ নয়, কৌশলের দর্শন

সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা আল্লামের কাছে দাবা জীবনের এক গভীর দর্শন। তিনি বলেন, "যখন আমি দাবা খেলি, তখন কোনও যুদ্ধ থাকে না, থাকে না কোনও রাজনীতি। কেবল থাকে চিন্তা, যুক্তি এবং মানবতার প্রকাশ। এখানে প্রতিটি চাল একটি শান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যেখানে বুদ্ধিমত্তা আর ধৈর্যই জয়ী হয়।"

আল্লাম আরও যোগ করেন, "দাবার বোর্ডে কালো আর সাদা ঘর পাশাপাশি থাকে, ঠিক যেমনভাবে বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতে পারে। দাবা আমাদের এই শিক্ষাই দেয়—শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব।"

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব

news image
আরও খবর

ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপে আল্লামের অংশগ্রহণ কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি সমগ্র ফিলিস্তিনের জন্য গর্বের মুহূর্ত। তিনি তাঁর দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন, যাদের অনেকেই স্বপ্ন দেখেন একদিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার।

বিশ্বজুড়ে দাবা সম্প্রদায় আল্লামের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শান্তির বার্তাকে প্রশংসা করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজারো মানুষ তাঁর পক্ষে সংহতি জানিয়ে বার্তা পোস্ট করেছেন। আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশনের (ফিদে) একাধিক কর্মকর্তা তাঁর মনোভাবকে "খেলাধুলার প্রকৃত চেতনা" হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মানবতার বিজয়

আল্লাম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, "দাবা আমাদের শেখায় প্রতিপক্ষকে সম্মান করতে, ধৈর্য ধরতে এবং কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে। জীবনের মতোই দাবায় কেবল জয় বা পরাজয় গুরুত্বপূর্ণ নয়—গুরুত্বপূর্ণ হলো শান্তিপূর্ণভাবে খেলার প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।"

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দাবার মতো সর্বজনীন খেলা একদিন বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। "আমরা যদি দাবার বোর্ডে শান্তিপূর্ণভাবে লড়াই করতে পারি, তাহলে বাস্তব জীবনেও তা সম্ভব," তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতীকী তাৎপর্য

মোহাম্মদ আল্লামের এই মানবিক বার্তা প্রমাণ করে যে, খেলাধুলা শুধুমাত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যম নয়—এটি সংস্কৃতি, শান্তি এবং মানবতার এক সেতুবন্ধ হতে পারে। দাবার ৬৪ ঘরের বোর্ড হয়ে উঠতে পারে শান্তি, কৌশল এবং মানবিক মূল্যবোধের এক নিখুঁত মিলনক্ষেত্র।

ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপে আল্লামের খেলার ফলাফল যাই হোক না কেন, তিনি ইতিমধ্যে জিতে নিয়েছেন লাখো মানুষের হৃদয়—তাঁর শান্তির বার্তা এবং অটুট মানবিকতা দিয়ে।

Preview image