চার বছরের সম্পর্কের পর ডিসেম্বরেই আইনি বিয়েতে বাঁধা পড়ছেন অভিনেত্রী দীপান্বিতা ও পশুচিকিৎসক গৌরব।খুকুমণি দীপান্বিতা রক্ষিতের জীবনে নতুন অধ্যায় ডিসেম্বরে গৌরব দত্তকে বিয়ে করছেন তিনি।পরিবারের অল্প কয়েকজনের উপস্থিতিতে হবে ছোট্ট আয়োজন, নতুন ধারাবাহিক শুরুর আগেই বিয়ের পরিকল্পনা দীপান্বিতার।
টেলিপাড়ার পরিচিত মুখ ‘খুকুমণি’ দীপান্বিতা রক্ষিত। মিষ্টি হাসি, পর্দায় স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় এবং সহজাত স্বভাব—সব মিলিয়ে তিনি দর্শকদের কাছে অল্প সময়েই আপন হয়ে উঠেছেন। বিগত কয়েক মাস ধরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা রকম জল্পনা-কল্পনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কখনও শোনা যাচ্ছিল বিচ্ছেদের গুঞ্জন, আবার কখনও সামনে আসছিল বিয়ের খবর। দর্শকদের কৌতূহলও ছিল তুঙ্গে—আসলে কী ঘটছে এই তরুণী অভিনেত্রীর জীবনে?
অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সামনে এসেছে সবচেয়ে সুখবর—ডিসেম্বরেই আইনি বিয়ে সারছেন দীপান্বিতা রক্ষিত ও তাঁর চার বছরের প্রেমিক, পেশায় পশুচিকিৎসক গৌরব দত্ত। দু’জনের সম্পর্ক ইতিমধ্যে বহু বছর পেরিয়েছে, আর চার বছরের দীর্ঘ ভালোবাসার পথচলার পর তাঁরা এবার জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন।
একেই বলে নিয়তি। দু’জনের বাড়িই বাঁকুড়ায়, আবার দু’জনেই পোষ্যপ্রেমী। এই মিলটিই প্রথমে তাদের অদ্ভুতভাবে এক করেছে। জানা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রথম আলাপ হয় দীপান্বিতা ও গৌরবের। পেশায় পশুচিকিৎসক গৌরব দত্ত তখন নিয়মিত বিভিন্ন পোষ্যের চিকিৎসা, সুস্থতা নিয়ে নানা তথ্য শেয়ার করতেন। সেই পোস্টগুলিই নজরে আসে দীপান্বিতার।
দীপান্বিতা নিজেও প্রাণীপ্রেমী—নিজের সারমেয় ও বিড়ালের প্রতি তাঁর আবেগ, যত্ন এবং দায়িত্ববোধ অনেকেই জানেন। পোষ্যদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ করতেন গৌরবের সাথে। প্রথমদিকে কথোপকথন ছিল সম্পূর্ণ পেশাগত—কোন ওষুধ ভালো, কোন সমস্যা হলে কী করতে হবে—এসব নিয়েই আলোচনা হত। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই আলাপের ভেতরেই জন্ম নেয় বন্ধুত্ব।
বন্ধুত্ব যে কখন ভালোবাসায় গড়ে উঠল, দু’জনেরই সঠিক মনে নেই। সম্পর্কটা ছিল সহজ, স্বচ্ছ আর স্বতঃস্ফূর্ত। কোনও নাটকীয়তা নয়, কোনও জাঁকজমক নয়—শুধু একে অন্যের পাশে থাকা, কথা বলা, একে অপরকে বোঝা আর পরস্পরের জীবনে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেওয়াই ছিল তাঁদের ভালোবাসার ভিত্তি।
মানুষের জীবনে কিছু কিছু পরিচয় আসে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে, যেন এমনটা হওয়াই ছিল। দীপান্বিতা ও গৌরবের প্রথম আলাপও তেমনই এক সরল অথচ প্রাকৃতিক ঘটনার ফলে। দু’জনের বাড়ি বাঁকুড়ায়—এই মিলই যেন প্রথম সেতু। তবে পরিচয়ের আসল সূত্র ছিল সোশ্যাল মিডিয়া।
গৌরব দত্ত পেশায় একজন পশুচিকিৎসক। তাঁর কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—কারও সাথেই তাঁর সম্পর্ক শুধু পোষ্যদের চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি সবসময় তাদের সুস্থ রাখার টিপস, খাবারদাবার বিষয়ে পরামর্শ এবং জরুরি যত্নের বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করতেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই পোস্টগুলো নানা পোষ্যপ্রেমীর দৃষ্টি আকর্ষণ করত, আর তাদের মধ্যে একজন ছিলেন দীপান্বিতা।
দীপান্বিতা নিজেও প্রাণীপ্রেমী। তাঁর বাড়িতে কয়েকটি সারমেয় এবং কয়েকটি বিড়াল রয়েছে, যাদের তিনি নিজের পরিবারের অংশ হিসেবেই দেখেন। তাঁদের খাবার, ওষুধ, আচরণ—সবকিছু নিয়েই তিনি খুব সচেতন। তাই পোষ্যদের কোনও অসুবিধা হলে তিনি আন্তরিকভাবে চিকিৎসার পরামর্শ চাইতেন, আর সেই সূত্রেই প্রথমবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয় গৌরবের।
সেই শুরুটা নিছকই পেশাগত ছিল। কোনও নাটকীয়তা ছিল না।
আজ কী খাবে পোষ্য? এই আচরণের কারণ কী? পরবর্তী টিকা কখন দিতে হবে?
এভাবেই অল্প অল্প করে কথোপকথন লম্বা হতে থাকে। ধীরে ধীরে আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে যায় পোষ্যদের চিকিৎসার ক্ষেত্র, আর তাদের জায়গা নেয় জীবন, কাজ, অভিজ্ঞতা, ভাবনা আর নিজেদের ব্যক্তিগত মূল্যবোধ।
দু’জনের কথোপকথনে বাড়তে থাকে পরিচিতি ও বোঝাপড়া। খুব দ্রুত তাঁরা আবিষ্কার করেন—জীবনের প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি খুব মিল। দু’জনেই সরলতা ভালোবাসেন। দু’জনেই সম্পর্ককে অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর দিয়ে নয়, বরং আন্তরিকতা দিয়ে দেখতে পছন্দ করেন। আর দু’জনেরই জীবনে বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা।
সময় পেরোয়।
কখন এই আলাপ বন্ধুত্ব হয়ে গেল, আর বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে গভীর অনুভব হয়ে উঠল—সে দু’জনেরই স্পষ্ট মনে নেই।
কিন্তু যা মনে আছে, তা হল—একদিন তাঁরা দু’জনেই বুঝতে পারলেন, একে অপরের সঙ্গে কথা না বললে দিনটা যেন অসম্পূর্ণ লাগে।
এমন সম্পর্কই হয়ত টেকে।
যেখানে কোনও স্বার্থ নেই, কোনও প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, নেই কোনও অযথা প্রত্যাশা।
যেখানে আছে শুধু বোঝাপড়া, সম্মান আর আন্তরিকতা।
টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি খুবই কর্মব্যস্ত, প্রতিযোগিতামূলক এবং সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে পশুচিকিৎসকের কাজও অত্যন্ত কঠিন—রাত-বিরাতে ছুটে যেতে হয় জরুরি চিকিৎসায়, কাঁদতে থাকা পোষ্যদের সান্ত্বনা দিতে দিতে লড়াই করতে হয় রোগের সঙ্গে।
দু’জনের পেশাই আলাদা আলাদা চাপ তৈরি করে, আর সেখানেই আসল পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয় সম্পর্ক। কিন্তু দীপান্বিতা ও গৌরবের সম্পর্ক সেই পরীক্ষায় বারবার উত্তীর্ণ হয়েছে। তাঁরা খুব সচেতনভাবে সময় বের করেছেন একে অপরের জন্য, ক্লান্তি সত্ত্বেও কথা বলেছেন, হতাশা ভাগ করেছেন, ভালো দিনের আনন্দও ভাগ করে নিয়েছেন।
চার বছরে তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়েছে, ভুল বোঝাবুঝিও হয়েছে। কিন্তু সম্পর্কের ভিত্তি ছিল এতটাই দৃঢ় যে প্রতিবারই তাঁরা ফিরে এসেছেন একই জায়গায়—পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার জায়গায়।
একটি সুস্থ সম্পর্ক মানেই ঝকঝকে ছবি নয়। প্রকৃত সম্পর্ক হল সেই যা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েও টিকে থাকতে পারে। এবং সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই তাঁরা বুঝেছেন—যেহেতু তাঁরা সব সমস্যাই একসাথে পার করেছেন, ভবিষ্যতের পথও একসাথে চলতে চান।
দীপান্বিতা ও গৌরবের চার বছরের সম্পর্ক ছিল যথেষ্ট পরিণত, পরস্পরের প্রতি আস্থা আর শ্রদ্ধায় ভরপুর। টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি যেমন ব্যস্ততার, পরিবর্তনের ও প্রফেশনাল চাপের জায়গা—ঠিক তেমনই একজন পশুচিকিৎসকের পেশাও অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবুও দু’জনেই নিজেদের সময়, মনোযোগ ও যত্ন দিয়ে এই সম্পর্ককে লালন করেছেন।
ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই বলেন, দীপান্বিতার আচরণে কখনওই সম্পর্ক নিয়ে কোনও অতিরিক্ত নাটকীয়তা দেখা যায়নি। বরং তিনি সবসময়ই খুব সংযত, সরল আর বাস্তববাদী। ব্যক্তিগত জীবনকে তিনি কখনওই প্রচারের আলোয় আনতে চান না, বরং ব্যক্তিগত জায়গাটিকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখতেই পছন্দ করেন।
গৌরবও একইভাবে শান্ত, স্থির ও নরম স্বভাবের মানুষ। একজন পশুচিকিৎসক হিসেবে তিনি প্রাণীদের প্রতি যেমন ভালোবাসা রাখেন, ঠিক তেমনই একজন সঙ্গী হিসেবে সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধ। দু’জনকে কাছ থেকে যারা দেখেছেন, তাদের কথায়—দু’জনের মধ্যে বোঝাপড়া অসাধারণ, আর তাঁদের সম্পর্ক খুবই সুস্থ ও স্বচ্ছ।
চার বছর ধরে একে অপরকে জানার ও বুঝে নেওয়ার পর অবশেষে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইনি বিয়ের। অতিরিক্ত কোনও অনুষ্ঠান নয়, কোনও জাঁকজমক নয়—বরং পরিবারের হাতে গোনা কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতিতেই ছোট্ট করে হবে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান।
এ ধরনের সিদ্ধান্তে দু’জনেরই একই মনোভাব কাজ করেছে। দীপান্বিতা সবসময়ই ব্যক্তিগত জীবনে সরলতা পছন্দ করেন। তাঁর মতে, একটা সম্পর্কের সৌন্দর্য থাকে অনুভবে, আড়ম্বরেই নয়। অন্যদিকে গৌরবও একজন শান্ত, মাটির মানুষ। তাই দু’জনেই চেয়েছেন, বিয়ের মুহূর্তটুকু খুব প্রাইভেট, খুব ব্যক্তিগত হোক।
এর ফলে টেলিপাড়ার আলোচনায় এখন শুধুই দীপান্বিতা। সহঅভিনেতা-অভিনেত্রীরা ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেছেন। তাঁর অনেক সহকর্মী জানান, দীপান্বিতা সবসময়ই সেটে অত্যন্ত পজিটিভ ও প্রাণবন্ত একটি মুখ। নিজের কাজ নিয়ে যতটাই মনোযোগী, সম্পর্ক নিয়েও ততটাই পরিণত। তাই তাঁর জীবনের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে সকলেই খুশি।
অনেকেই মনে করেন, টেলিভিশনের ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেও ব্যক্তিগত জীবনে স্থিতি পাওয়া যে কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর গৌরবের মতো শান্ত ও সংযত একজন মানুষের সঙ্গে দীপান্বিতার জুটি নিঃসন্দেহে খুব মানানসই।
ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও এখন নতুন পাতায় পা রাখছেন দীপান্বিতা। তিনি শীঘ্রই শুরু করতে যাচ্ছেন নতুন ধারাবাহিক ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’–এর শুটিং। সিরিয়ালের চরিত্র, গল্প কিংবা লুক—সবকিছু নিয়েই এখন দর্শকদের উত্তেজনা তুঙ্গে।
ঠিক এই কারণেই নতুন ধারাবাহিকের কাজ শুরুর আগে বিয়ের অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দীপান্বিতা। কারণ কোনও কাজ শুরু করতে গেলে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের স্থিরতা তাঁকে আরও মনোযোগী হতে সাহায্য করবে।
শুটিংয়ের কড়া শিডিউল শুরুর আগে এই ছোট্ট অনুষ্ঠান তাঁকে মানসিকভাবে আরও প্রস্তুত করবে। তিনি নিজেও এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন—
“জীবনের দুইটা বড় কাজ—একটা নতুন সিরিয়াল আর একটা নতুন ভূমিকা—একসাথে শুরু করতে পারছি, এটা সত্যিই খুব আনন্দের।”
এই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ভিত্তি ছিল দু’জনেরই প্রাণীদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা। সম্পর্কের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত পোষ্যদের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা একে অপরকে সাহায্য করেছেন, শিখিয়েছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তাঁদের ভালোলাগার জায়গা, জীবনদর্শন—সবই একে অন্যের সঙ্গে খুব মিল।
একজন অভিনেত্রী হিসেবে দীপান্বিতা যেমন জীবনের রঙগুলোকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন, তেমনই গৌরব একজন পশুচিকিৎসক হিসেবে প্রতি মুহূর্তে প্রাণীদের জীবন বাঁচাতে লড়েন। তাঁদের জীবনযাত্রা, পেশা—সবই আলাদা, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি ও অনুভবের জায়গা এক।
দু’জনের পরিবারই এই সম্পর্ক ও আসন্ন বিয়েকে সমর্থন করছেন। পরিবারের উপস্থিতি দিয়ে ছোট করে হলেও অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্তে তাঁদের পরিবারের সবাই খুশি। পরিবার যেহেতু দু’জনের পথচলার শুরু থেকেই তাঁদের পাশে ছিল, তাই অনুষ্ঠানের সরলতা তাঁদের কাছে খুবই স্বাভাবিক।
সব মিলিয়ে ডিসেম্বর এখন দীপান্বিতার জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল মাস। জীবনের এই নতুন অধ্যায় শুরু করতে তিনি যেমন রোমাঞ্চিত, তেমনই ভবিষ্যতের জন্যও আশাবাদী। কাজ, পরিবার, ভালোবাসা—সব মিলিয়ে তাঁর জীবনে এখন সুখের আলো।
দর্শকদের ভালোবাসা, পরিবারের আশীর্বাদ আর নিজের দৃঢ়তা নিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে চান নতুন জীবনের পথে।
নতুন সিরিয়াল আর নতুন সংসার—দু’টোই তিনি একসাথে সামলাতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন।
এটাই হয়তো সত্যিকারের নায়িকার গল্প—যিনি পর্দার আলো থেকে অনেক দূরে থাকলেও নিজের ব্যক্তিগত জীবনে সমান দৃঢ়, সমান স্পষ্ট আর সমান উজ্জ্বল।