Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রাধিকার বড়পর্দায় অভিষেক, বামাক্ষ্যাপা রূপে ফিরছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী

রাধিকা কর্মকারের বড়পর্দায় প্রথম উপস্থিতি ঘিরে টলিউডে নতুন উৎসাহ বামাক্ষ্যাপা হয়ে আবার ফিরছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী।ছোটপর্দার জনপ্রিয় রাধিকা এবার সিনেমায় মা তারার রূপে। সায়ন্তন ঘোষালের নতুন ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সব্যসাচী।রাধিকার সিনেমায় অভিষেক ও সব্যসাচীর বামাক্ষ্যাপা-ফেরা দুটিই মিলিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে।তারাপীঠের ১৫০ বছর আগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবিতে রাধিকা ও সব্যসাচীর অভিনয়ই প্রধান আকর্ষণ।নতুন ছবিতে রাধিকাকে দেখা যাবে এক বিশেষ চরিত্রে। শুটিং প্রায় শেষ, মুক্তির অপেক্ষায় দর্শকরা।

রাধিকার বড়পর্দায় প্রথম পদার্পণ, আবারও বামাক্ষ্যাপা হয়ে ফিরছেন সব্যসাচী—জোরকদমে শেষ পর্যায়ে সায়ন্তন ঘোষালের নতুন ছবি

বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ রadhika karmakar আবার খবরের শিরোনামে। ছোটপর্দার দর্শকদের মন জয় করে নেওয়ার পর এবার তিনি পা রাখছেন বড়পর্দায়। ‘দুগ্গামনি ও বাঘ মামা’ ধারাবাহিকের সেই ছোট্ট মেয়েটি, যাকে ঘিরে একসময় টেলিভিশনপ্রেমীদের আবেগ ছিল প্রবল, আজ সেই জনপ্রিয়তার পথ ধরেই আরও বড় স্বপ্নের দিকে এগোচ্ছেন। পরিচালক সায়ন্তন ঘোষালের নতুন ছবিতে প্রথমবার অভিনয় করছেন রাধিকা—এ খবর প্রকাশ্যে আসতেই উত্তেজনায় সরগরম চলচ্চিত্রমহল।

রাধিকা যেখানে নতুনের স্বাদ নিতে চলেছেন, সেখানে ছবির আরেক বড় আকর্ষণ আবারও হয়ে উঠেছেন অভিজ্ঞ অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। বহু বছর আগে ছোটপর্দায় বামাক্ষ্যাপার চরিত্রে অভিনয় করে যে ঝড় তিনি তুলেছিলেন, যে আবেগ জাগিয়েছিলেন দর্শকদের মনে—তারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে এবার বড়পর্দায়। নতুন গল্প, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, কিন্তু পুরোনো সেই শক্তিশালী চরিত্রটি—বামাক্ষ্যাপা—আবার জীবন্ত হয়ে উঠবে তাঁর অভিনয়ে। ফলে রাধিকার অভিষেক এবং সব্যসাচীর প্রত্যাবর্তন—দুয়ের মিলন ছবিটিকে নিয়ে গিয়েছে আলাদা উচ্চতায়।

রাধিকার যাত্রা—ছোটপর্দা থেকে বড় পর্দায়

রাধিকা কর্মকারের যাত্রা নিছক কোনো শিশুশিল্পীর সাফল্যের গল্প নয়; এটি বাংলা টেলিভিশনের বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উত্থানের গল্প। খুব অল্প বয়সেই তাঁর অভিনয় প্রতিভা দর্শকদের নজর কাড়ে। ‘দুগ্গামনি ও বাঘ মামা’ ধারাবাহিকে তাঁকে যারা দেখেছেন, তারা জানেন—রাধিকার চোখের অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং চরিত্রের সূক্ষ্ম আবেগ ধরে রাখার ক্ষমতা একেবারেই আলাদা স্তরে ছিল। তাই ধারাবাহিক শেষ হয়ে গেলেও দর্শকরা তাঁকে ভুলতে পারেননি।

এবার সেই জনপ্রিয়তা আর পরিশ্রমই তাঁকে নিয়ে এল এক নতুন অধ্যায়ের সামনে। বড়পর্দায় অভিনয়ের সুযোগ যে কোনো অভিনেতার জন্য বিশেষ এক মাইলস্টোন—আর রাধিকার ক্ষেত্রে তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁর বয়স কম হলেও অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই সমৃদ্ধ। পরিচালক সায়ন্তন ঘোষালের মতে, “রাধিকার মধ্যে এমন এক নিষ্পাপতা আছে, যা পর্দায় খুবই বিরল। সেই সঙ্গে রয়েছে অসাধারণ মনোযোগ ও কাজ শেখার আগ্রহ। এই চরিত্রের জন্য তার চেয়ে উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব ছিল না।”

নতুন ছবিতে রাধিকা অভিনয় করবেন মা তারার এক বিশেষ রূপে। চরিত্রটি দেবী-ভাবনার গভীরতায় ভরপুর, যেখানে নিষ্পাপতা, শক্তি, রহস্যময়তা—সবকিছু মিলেমিশে আছে। শিশু চরিত্র হলেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই তাঁর অংশের শুটিং শেষ হয়েছে, এবং সেট সূত্রে খবর—প্রত্যেকটি দৃশ্যে রাধিকাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সব্যসাচীর বামাক্ষ্যাপা-ফেরা—নস্টালজিয়ার সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জ

বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসে এমন কিছু চরিত্র রয়েছে, যেগুলো শুধু একটি সিরিয়ালকে নয়, দর্শকদের আবেগকে অমর করে দেয়। বামাক্ষ্যাপা সেই তালিকার অন্যতম। এবং সেই চরিত্রে সব্যসাচী চক্রবর্তীর অভিনয়—এক কথায় ধ্রুপদী। সেই কারণেই এই ছবির ঘোষণা হতেই দর্শকদের মনে পুরোনো স্মৃতি জেগে উঠেছে। তারা যেন আবার ফিরে যেতে চাইছে সেই অতীতের আবহে।

তবে এবারকার বামাক্ষ্যাপা আরও বড়, আরও বিস্তৃত পরিসরে। বড়পর্দার নির্মাণ, বাজেট, সেটের মহিমা এবং গল্পের গভীরতা—সব মিলিয়ে চরিত্রটি এবার নতুন মাত্রা নিচ্ছে। সব্যসাচী নিজেও জানিয়েছেন, “বামাক্ষ্যাপা চরিত্রে ফিরে আসা আমার কাছে সহজ নয়। এটি শুধুমাত্র অভিনয়ের বিষয় নয়, এটি এক আধ্যাত্মিক যাত্রা। টেলিভিশনের স্মৃতি অবশ্যই শক্তিশালী, কিন্তু এই ছবিতে বামাক্ষ্যাপাকে দর্শক এক অন্য রূপে দেখবেন।”

পরিচালক সায়ন্তন ঘোষালও এই চরিত্ররূপায়ণে নতুন কিছু করতে চাইছেন। বড়পর্দায় বামাক্ষ্যাপার চরিত্রকে আরও বাস্তব, আরও মানবিক এবং একই সঙ্গে রহস্যময় করে তোলার পরিকল্পনা তাঁর। বিশেষ করে রাধিকার চরিত্রের সঙ্গে সব্যসাচীর দৃশ্যগুলো নাকি ছবির অন্যতম শক্তিশালী দিক।

১৫০ বছর আগের তারাপীঠ—সেট ও লোকেশনের মহিমা

ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হল তারাপীঠ নিজেই। গল্পের সময়কাল ১৫০ বছর আগের, যখন তারাপীঠ ছিল রহস্যময়, শক্তিধারার এক অনন্য কেন্দ্র। সেই সময়ের পরিবেশকে বড়পর্দায় যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে পরিচালক ও তাঁর দল সাজিয়েছেন বিশাল পরিকল্পনা।

ফ্লোরে তৈরি করা হয়েছে বিপুল আকারের সেট। কাঠ, মাটির ব্যবহার, পুরোনো কায়দার স্থাপত্য, আগুনের আলোকসজ্জা, ধুনুচির ধোঁয়া, বাজারের দোকানপাট—সবকিছু মিলিয়ে এক জীবন্ত ‘পুরোনো তারাপীঠ’। পাশাপাশি বোলপুর ও সিউড়ির বিভিন্ন এলাকায় হয়েছে আউটডোর শুটিং, যেখানে বেছে নেওয়া হয়েছে বিশাল খোলা মাঠ, পুরোনো পথ, নদীর ধারের নিরিবিলি জায়গা, যাতে গল্পের সময়কাল ও আবহ ঠিকভাবে ফুটে ওঠে।

news image
আরও খবর

চিত্রগ্রহনের দায়িত্বে থাকা দলটির বক্তব্য—এই ছবি শুধু গল্পের জন্য নয়, দর্শকদের এক অন্তর্দৃষ্টিময় ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দিতে তৈরি। আলো-ছায়ার খেলা, ঢোল-কাশির শব্দ, বামাক্ষ্যাপার তন্ত্রসাধনা, মন্দিরের সিঁড়িতে সকালের কুয়াশা—সবকিছু মিলিয়ে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটিক এক বিশেষ জগৎ।

শক্তিশালী তারকাবাহিনী—পায়েল দে, সাহেব চট্টোপাধ্যায় ও সংগীতে ইন্দ্রদীপ

রাধিকা এবং সব্যসাচীর পাশাপাশি এই ছবিতে থাকছেন অভিনেত্রী পায়েল দে, যিনি গত কয়েক বছরে টেলিভিশন ও OTT—দুই ক্ষেত্রেই稳ভাবে নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। ছবিতে তাঁর চরিত্র নাকি রহস্যময় ও অনবদ্য আবেগে ভরপুর। অন্যদিকে বামাক্ষ্যাপার বাবার চরিত্রে দেখা যাবে সাহেব চট্টোপাধ্যায়কে—অসাধারণ অভিনেতা, যিনি এই ধরনের চরিত্রে আগেও দর্শকদের মন কেড়েছেন। বাবা-ছেলের সম্পর্ক, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং আধ্যাত্মিক অনুভূতির দ্বন্দ্ব—এই সবকিছুই থাকবে তাঁদের অংশে।

সংগীতে থাকছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত—বাংলা সিনেমার অন্যতম সেরা মিউজিক ডিরেক্টর। তাঁর সংগীত ছবিটির আবহকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে বলে আশা করছে নির্মাতা সংস্থা। বিশেষত তারাপীঠের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ছবিতে মন্ত্র, তালের আঘাত, লোকগান এবং আধুনিক কম্পোজিশনের মিশ্রণ দারুণ প্রভাব ফেলতে পারে।

শুটিং শেষ পর্যায়ে, মুক্তির অপেক্ষা

এই বছরের শুরুতেই ছবির ঘোষণা হয়েছিল। এখন শুটিংও শেষ পর্যায়ে। পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামী বছরের শুরুতেই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই স্টুডিওপাড়া ও ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে ছবিটিকে ঘিরে জোর আলোচনা। বিশেষ করে সব্যসাচীর বামাক্ষ্যাপা-ফেরা এবং রাধিকারের অভিষেকেই আগ্রহ তুঙ্গে।

প্রযোজনা সংস্থা জানিয়েছে, ছবিটির স্কেল এবং দর্শকদের আবেগ বিবেচনায় একাধিক অঞ্চলে বিশেষ প্রিমিয়ারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তারাপীঠ এলাকাতেও নাকি বিশেষ প্রদর্শনীর সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে এই ছবির সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া—আশা, নস্টালজিয়া ও ভালোবাসা

ছবির ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া মিলছে। রাধিকাকে মা তারার রূপে দেখার আগ্রহ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অনেক দর্শক লিখছেন, “রাধিকা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। তাকে বড়পর্দায় দেখতে আর তর সইছে না।” অন্যদিকে সব্যসাচীর পুরোনো বামাক্ষ্যাপা-রূপের নস্টালজিয়ার আবেগও ফিরে এসেছে। মন্তব্যে ভেসে যাচ্ছে—“এই ফিরে আসা শুধু একটা সিনেমার ব্যাপার নয়; আমাদের যৌথ স্মৃতির দরজায় নতুন আলো জ্বালানোর মতো।”

নতুন প্রজন্ম যাঁরা টেলিভিশনে পুরোনো সিরিয়ালটি দেখেননি, তারাও ট্রেলার ও পোস্টার দেখেই কৌতূহলী। তাদের কাছে বামাক্ষ্যাপা নতুন পরিচয়ের, নতুন রহস্যের এক চরিত্র।
বাংলা বিনোদনজগত বহু সময়ই তার নতুন প্রতিভাদের হাত ধরে নতুন গল্পের জন্ম দেয়। কিন্তু এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যখন দুই প্রজন্মের দুই শিল্পী একই পর্দায় একসঙ্গে আসেন—একদিকে অভিনয়ে সদ্য পা রাখা এক তরুণী; অন্যদিকে এমন একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা, যিনি নিজস্ব অভিনয়গুণে বহু দশক ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করে আসছেন। পরিচালক সায়ন্তন ঘোষালের নতুন ছবিটি এমনই এক মিলনের গল্প। যেখানে শিশুশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয় হওয়া রাধিকা কর্মকার প্রথমবার বড়পর্দায় আসতে চলেছেন, আর অন্যদিকে বামাক্ষ্যাপা রূপে আবারও ফিরে আসছেন বাংলা অভিনয়জগতের মহীরুহ সব্যসাচী চক্রবর্তী। এই দু’জনের যাত্রাই ছবিটিকে একটি বিশেষ মাত্রা দিচ্ছে।

সমাপ্তি—রাধিকা–সব্যসাচী: দুই প্রজন্মের সংযোগ, নতুন এক আধ্যাত্মিক যাত্রা

এই ছবিকে বিশেষ করে তুলছে তার গল্প, নির্মাণশৈলী এবং আধ্যাত্মিক স্তর ছাড়াও যে একটি বিষয়—তা হলো দুই প্রজন্মের অভিনয়শক্তির অসাধারণ মিলন। রাধিকা কর্মকার—নতুন, তরতাজা, নিষ্পাপ, দক্ষ। সব্যসাচী চক্রবর্তী—অভিজ্ঞ, গাম্ভীর্যে ভরপুর, সংবেদনশীল। এই দুই শক্তির মেলবন্ধনই ছবিটিকে আরও গভীরতা দেবে।

ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা তাই স্বাভাবিকভাবেই অনেক উঁচুতে। টলিউডে এটিকে ইতিমধ্যেই বলা হচ্ছে “আগামী বছরের অন্যতম চর্চিত ছবি।”

রাধিকারের প্রথম বড়পর্দার পদচারণা, সব্যসাচীর বামাক্ষ্যাপা-ফেরা, ১৫০ বছর আগের তারাপীঠের অনন্য পুনর্নির্মাণ—সব মিলিয়ে ছবিটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বাংলা সংস্কৃতির এক অনন্য অধ্যায় হয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি বহন করছে।

Preview image