Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

প্রাণখোলা হাসিতেই মিলবে মনের শান্তি কী ভাবে শুরু করবেন হাস্যযোগ, জেনে নিন সহজ উপায়

ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ, সংসারের দায়িত্ব, উদ্বেগ আর মানসিক ক্লান্তি যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও মনের উপরেও। এই পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ কমাতে এবং মন ভালো রাখতে সহজ একটি অভ্যাস হতে পারে ‘হাস্যযোগ’ বা লাফটার যোগ। হাসি ও শ্বাস প্রশ্বাসের বিশেষ কিছু অনুশীলনের সমন্বয়ে তৈরি এই পদ্ধতি বর্তমানে সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম পরিচিত অনুশীলন। হাস্যযোগের বিশেষত্ব হল, এর জন্য সব সময় কোনও মজার ঘটনা বা কৌতুকের প্রয়োজন হয় না। ইচ্ছাকৃতভাবে হাসি শুরু করেও এই অনুশীলন করা যায়। অনেক সময় কৃত্রিম হাসি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হাসিতে পরিণত হয়। দলবদ্ধভাবে হাস্যযোগ করলে অন্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়। কীভাবে শুরু করবেন হাস্যযোগ? প্রথমে বাড়ির এমন একটি শান্ত জায়গা বেছে নিন, যেখানে আপনি স্বচ্ছন্দে দাঁড়াতে বা বসতে পারবেন। এরপর কয়েকবার ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং শরীরকে শিথিল করুন। তারপর মুখে হাসি এনে হালকা করে হাসতে শুরু করুন। ধীরে ধীরে হাসির সময় বাড়ান এবং মাঝেমধ্যে গভীর শ্বাস নিয়ে বিশ্রাম নিন। প্রতিদিন পাঁচ থেকে দশ মিনিট দিয়ে শুরু করতে পারেন। অভ্যাস তৈরি হলে সময় বাড়ানো যেতে পারে। নিয়মিত হাস্যযোগ করলে মন ভালো রাখতে, সাময়িক মানসিক চাপ কমাতে এবং সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতে সাহায্য হতে পারে। তবে এটি কোনও রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। শ্বাসকষ্ট, হৃদ্‌রোগ বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে অনুশীলনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। মনে রাখবেন, হাস্যযোগের মূল উদ্দেশ্য জোর করে হাসা নয়, বরং নিজের জন্য আনন্দের কিছু মুহূর্ত তৈরি করা। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও কয়েক মিনিট হাসির জন্য রাখুন। ছোট্ট এই অভ্যাসই আপনার দিনকে আরও ইতিবাচক করে তুলতে পারে।

প্রাণখোলা হাসিতেই মিলবে মনের শান্তি কী ভাবে শুরু করবেন হাস্যযোগ, জেনে নিন সহজ উপায়
Health & Lifestyle

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনযাপন, কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব, আর্থিক চিন্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। দিনের পর দিন এই চাপ সামলাতে গিয়ে অনেকেই মানসিক ক্লান্তি অনুভব করেন। কারও ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়, আবার কেউ অল্পতেই বিরক্ত হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে শরীরের পাশাপাশি মনের যত্ন নেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর মন ভালো রাখার অন্যতম সহজ উপায় হতে পারে প্রাণখোলা হাসি। হাসি শুধু আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের আবেগ, সামাজিক সম্পর্ক এবং মানসিক স্বস্তির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। এই হাসিকে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলার একটি পরিচিত পদ্ধতি হল হাস্যযোগ বা লাফটার যোগ।

হাস্যযোগ এমন একটি অনুশীলন, যেখানে হাসির সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, শরীরকে শিথিল করা এবং সহজ কিছু শারীরিক নড়াচড়ার সমন্বয় ঘটানো হয়। সাধারণত এর জন্য কোনও বিশেষ সরঞ্জাম, দামি যন্ত্রপাতি কিংবা নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্রয়োজন হয় না। বাড়ির একটি নিরিবিলি জায়গায় দাঁড়িয়ে বা বসেই এই অনুশীলন শুরু করা সম্ভব। তবে প্রথম দিকে সঠিক পদ্ধতি বুঝে নেওয়া এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী অনুশীলন করা জরুরি।

হাস্যযোগ আসলে কী?

হাস্যযোগের মূল ধারণা হল, হাসির অনুভূতি তৈরি করার জন্য সব সময় কোনও কৌতুক, মজার ঘটনা কিংবা হাসির কারণের অপেক্ষা করতে হয় না। অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে হাসি শুরু করেও শরীর ও মনের মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করা সম্ভব। প্রথমে হাসিটি কৃত্রিম মনে হলেও অনুশীলনের পরিবেশ, শ্বাস-প্রশ্বাসের ছন্দ এবং অন্যদের সঙ্গে অংশগ্রহণের কারণে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হাসিতে পরিণত হতে পারে।

এই পদ্ধতির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হল এর সহজলভ্যতা। সাধারণত হাস্যযোগের অনুশীলনে হাততালি দেওয়া, ছন্দ মিলিয়ে শ্বাস নেওয়া, চোখে চোখ রেখে হাসি বিনিময় করা এবং হালকা শরীরচর্চার মতো কার্যকলাপ থাকতে পারে। দলবদ্ধভাবে অনুশীলন করলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ে এবং অনেকের জড়তা কাটতেও সাহায্য হয়।

তবে হাস্যযোগকে শুধুমাত্র হাসাহাসির একটি কার্যকলাপ হিসেবে দেখলে এর সম্পূর্ণ ধারণাটি বোঝা যায় না। এটি মূলত এমন একটি অনুশীলন, যেখানে সচেতনভাবে কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখা হয়। দৈনন্দিন চিন্তা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দেওয়া, শরীরকে শিথিল করা এবং আনন্দের অনুভূতি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। এই কারণেই অনেকেই নিজেদের সুস্থতার রুটিনে হাস্যযোগকে অন্তর্ভুক্ত করেন।

হাসি কেন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

মানুষের আবেগের সঙ্গে হাসির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আমরা যখন আনন্দিত হই, তখন সাধারণত স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাসি। আবার বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রিয়জনের সঙ্গে গল্প করা কিংবা কোনও মজার ঘটনা মনে করার সময়ও হাসি আমাদের মন ভালো করতে পারে। হাসির মুহূর্তে দৈনন্দিন দুশ্চিন্তা থেকে কিছুটা দূরে থাকা সম্ভব হয়। ফলে মানসিক চাপের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

হাসির সময় শরীরের শ্বাস-প্রশ্বাসের ছন্দ বদলে যায় এবং মুখ ও শরীরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় হয়। হাসির পরে অনেকেই শরীরকে কিছুটা হালকা অনুভব করেন। তবে প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা এক রকম হয় না। হাসি মানেই সব সমস্যার সমাধান নয়, কিংবা হাসলেই মানসিক চাপ সম্পূর্ণ দূর হয়ে যাবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।

মানসিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, সুষম খাদ্য, সামাজিক যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ। হাস্যযোগ এই অভ্যাসগুলির পাশাপাশি একটি সহায়ক অনুশীলন হিসেবে কাজে লাগতে পারে।

হাস্যযোগ কীভাবে শুরু করবেন?

হাস্যযোগ শুরু করার জন্য প্রথমেই কঠিন কোনও নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন নেই। বরং সহজভাবে শুরু করে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে, বিকেলে কাজের বিরতিতে অথবা দিনের শেষে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করতে পারেন।

প্রথমে এমন একটি জায়গা বেছে নিন, যেখানে আপনি স্বচ্ছন্দে দাঁড়াতে বা বসতে পারবেন। ঘরের জানালার পাশে, বারান্দায় কিংবা বাড়ির কোনও শান্ত কোণে অনুশীলন করা যেতে পারে। জায়গাটি যেন নিরাপদ হয় এবং সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে, সেদিকেও খেয়াল রাখুন।

এরপর শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখুন। কাঁধ শক্ত করে না রেখে আলগা করুন এবং কয়েকবার ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। শ্বাস নেওয়ার সময় জোর করবেন না। আরাম করে শ্বাস ছাড়ুন এবং নিজের মনোযোগ শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে নিয়ে আসুন। কয়েক মুহূর্ত এভাবে থাকলে অনুশীলন শুরু করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা সহজ হতে পারে।

এরপর মুখে হালকা হাসি এনে ধীরে ধীরে হাসতে শুরু করুন। প্রথমে অল্প সময় হাসুন। তারপর স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিয়ে আবার হাসুন। নিজের উপর জোর খাটানোর প্রয়োজন নেই। হাসতে অস্বস্তি হলে বিরতি নিন। মনে রাখবেন, হাস্যযোগ কোনও প্রতিযোগিতা নয়। কত জোরে বা কতক্ষণ হাসতে পারছেন, সেটি এর সাফল্যের মাপকাঠি নয়।

প্রথম দিকে প্রতিদিন পাঁচ মিনিট অনুশীলন করাই যথেষ্ট হতে পারে। অভ্যাস তৈরি হলে এবং শরীর স্বচ্ছন্দ বোধ করলে সময় কিছুটা বাড়ানো যায়। তবে শারীরিক অসুবিধা হলে সঙ্গে সঙ্গে থামতে হবে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে হাসির সমন্বয়

হাস্যযোগে শ্বাস প্রশ্বাসের অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাভাবিকভাবে হাসার সময় শ্বাস ছন্দবদ্ধভাবে বেরিয়ে আসে। এই বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে অনেক হাস্যযোগের অনুশীলনে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া এবং ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ার অভ্যাস করানো হয়।

প্রথমে নাক দিয়ে আরাম করে শ্বাস নিন। তারপর মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। কয়েকবার এই প্রক্রিয়াটি করার পরে শ্বাস ছাড়ার সময় হালকা হাসির শব্দ যোগ করতে পারেন। যেমন, মৃদু স্বরে ‘হা হা’ বলে হাসা। এরপর আবার স্বাভাবিক শ্বাস নিন এবং শরীরকে বিশ্রাম দিন।

এই অনুশীলনের সময় শ্বাস আটকে রাখা কিংবা অতিরিক্ত জোরে শ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা বা অস্বস্তি অনুভূত হলে সঙ্গে সঙ্গে অনুশীলন বন্ধ করুন। শ্বাসের সমস্যা বা অন্য কোনও শারীরিক অসুস্থতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অনুশীলন করা উচিত।

শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার ফলে নিজের শরীরের বর্তমান অবস্থার দিকে খেয়াল রাখা সহজ হতে পারে। তবে হাস্যযোগের মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট শারীরিক বা মানসিক রোগের চিকিৎসা হয়, এমন দাবি করা ঠিক নয়।

বাড়িতে বসেই করা যায় সহজ কিছু হাস্যযোগের অনুশীলন

হাস্যযোগের অনুশীলনকে আরও আকর্ষণীয় করতে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রথম পদ্ধতিটি হল হালকা হাসির অনুশীলন। আরাম করে বসে বা দাঁড়িয়ে মুখে মৃদু হাসি আনুন। কয়েক মুহূর্ত পরে ধীরে ধীরে হাসির শব্দ যোগ করুন। এরপর স্বাভাবিক শ্বাস নিয়ে আবার অনুশীলন করুন। নিজের অনুভূতির দিকে মনোযোগ দিন এবং অস্বস্তি হলে বিরতি নিন।

দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হল হাততালির সঙ্গে হাসি। দুই হাতের তালু আলতো করে মিলিয়ে কয়েকবার হাততালি দিন এবং হাসির সঙ্গে একটি সহজ ছন্দ তৈরি করুন। অনেক দলগত হাস্যযোগের ক্লাসে এই ধরনের ছন্দ ব্যবহার করা হয়। এর ফলে অনুশীলন একঘেয়ে লাগে না এবং দলবদ্ধভাবে অংশ নেওয়া সহজ হয়। তবে হাত বা কবজিতে ব্যথা থাকলে হাততালি দেওয়ার পরিবর্তে অন্য কোনও আরামদায়ক ভঙ্গি বেছে নিন।

তৃতীয় পদ্ধতিটি হল আয়নার সামনে হাসি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসুন। প্রথমে এটি অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু নিজের মুখের অভিব্যক্তি লক্ষ্য করতে করতে হাসির অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারেন। এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য নিজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা, নিজেকে নিয়ে উপহাস করা নয়।

চতুর্থ পদ্ধতিটি হল কল্পনার সাহায্যে হাসি। নিজের জীবনের কোনও আনন্দের স্মৃতি মনে করুন। প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো সুন্দর সময়, কোনও আনন্দের ভ্রমণ অথবা ছোটবেলার কোনও মজার ঘটনার কথা ভাবতে পারেন। সেই স্মৃতি মনে করে হাসার চেষ্টা করুন। এতে অনুশীলন স্বাভাবিক এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

এই সমস্ত অনুশীলন বাধ্যতামূলক নয়। নিজের পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী একটি বা দুটি পদ্ধতি দিয়ে শুরু করা যায়।

হাস্যযোগ কি একাকী করা যায়, নাকি দলবদ্ধভাবে করাই ভালো?

হাস্যযোগ একা অথবা অন্যদের সঙ্গে দলবদ্ধভাবে করা সম্ভব। একা অনুশীলন করার সুবিধা হল, নিজের সুবিধামতো সময় ও জায়গা বেছে নেওয়া যায়। অন্যদিকে দলবদ্ধভাবে অনুশীলন করলে পারস্পরিক যোগাযোগ, হাততালি, ছন্দ এবং একসঙ্গে হাসার পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকের কাছে এই পরিবেশ অনুশীলনকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে।

পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে কয়েক মিনিট হাসির অনুশীলন করা যেতে পারে। তবে কেউ অংশ নিতে না চাইলে তাঁকে জোর করা উচিত নয়। হাসি স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হলে তার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছে বেশি স্বাভাবিক হয়।

কেউ কেউ অন্যদের সামনে হাসতে সংকোচ বোধ করেন। এমন হলে প্রথমে একা অনুশীলন শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস তৈরি হলে পরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগ দেওয়া যায়। আবার কেউ একা অনুশীলনেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। সেটিও সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।

হাস্যযোগের উদ্দেশ্য কোনও নির্দিষ্ট সামাজিক নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া নয়। বরং নিজের মানসিক স্বস্তির জন্য এমন একটি পদ্ধতি খুঁজে নেওয়া, যা দৈনন্দিন জীবনে সহজে বজায় রাখা যায়।

হাস্যযোগের সম্ভাব্য উপকারিতা কী কী?

নিয়মিত হাস্যযোগ করলে কিছু মানুষের মানসিক চাপ সাময়িকভাবে কমতে পারে। হাসির সময় মনোযোগ দুশ্চিন্তা থেকে সরে এসে বর্তমান মুহূর্তে কেন্দ্রীভূত হতে পারে। অনুশীলনের পরে অনেকেই কিছুটা সতেজ বা স্বচ্ছন্দ অনুভব করেন। তবে এই অভিজ্ঞতা ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।

হাসির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগেরও সম্পর্ক রয়েছে। বন্ধু, পরিবার বা সহকর্মীদের সঙ্গে হাসির মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করতে পারে। দলবদ্ধ হাস্যযোগের ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষত যারা দৈনন্দিন জীবনে খুব কম মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেন, তাঁদের কাছে এটি সামাজিক কার্যকলাপের একটি মাধ্যম হতে পারে।

হাস্যযোগে শ্বাস-প্রশ্বাসের সচেতন অনুশীলন এবং শরীরকে শিথিল করার কিছু পদ্ধতিও থাকে। এই অনুশীলনগুলি নিজের শরীরের প্রতি মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে হাস্যযোগকে পূর্ণাঙ্গ ব্যায়ামের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। শরীর সুস্থ রাখতে হাঁটা, উপযুক্ত শারীরিক কার্যকলাপ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও প্রয়োজন।

news image

হাসির উপকারিতা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। তবে হাস্যযোগের নির্দিষ্ট প্রভাব সম্পর্কে গবেষণার মান ও পরিমাণ এক রকম নয়। তাই এটি রোগ প্রতিরোধ করে, রক্তচাপ নিশ্চিতভাবে কমায় কিংবা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা সারিয়ে তোলে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সতর্ক থাকা জরুরি।

মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে হাস্যযোগের ভূমিকা

কাজের চাপ, পড়াশোনার উদ্বেগ কিংবা পারিবারিক সমস্যা মানুষের মনে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। কখনও কখনও একটানা চিন্তা করতে করতে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে অল্প সময়ের জন্য নিজের কাজ থেকে বিরতি নেওয়া উপকারী হতে পারে।

হাস্যযোগ সেই বিরতি নেওয়ার একটি উপায়। কয়েক মিনিটের জন্য ফোন, কাজের তালিকা কিংবা অন্য কোনও চিন্তা থেকে মন সরিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হাসির দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়। এই সময়টুকু নিজের জন্য রাখার ফলে সাময়িকভাবে স্বস্তি অনুভব করা সম্ভব হতে পারে।

তবে হাস্যযোগের অর্থ সমস্যাকে অস্বীকার করা নয়। আর্থিক সংকট, পারিবারিক জটিলতা, কর্মক্ষেত্রের চাপ কিংবা ব্যক্তিগত দুঃখের মতো বিষয়ের বাস্তব সমাধান প্রয়োজন। হাসি দিয়ে সমস্ত সমস্যাকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করলে বরং প্রকৃত সমস্যার মোকাবিলা করা কঠিন হতে পারে।

যদি দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকে, দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ কমে যায়, ঘুম বা খাওয়ার অভ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দেয় কিংবা উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে ওঠে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। হাস্যযোগ সহায়ক অভ্যাস হতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।

ঘুমের আগে হাস্যযোগ করা কি উপকারী?

দিনের শেষে অনেকেই কাজের চাপ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। সারাদিনের নানা ঘটনা মনে ঘুরতে থাকায় কারও কারও ঘুম আসতে দেরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ঘুমের আগে কিছুটা সময় শান্তভাবে কাটানো উপকারী হতে পারে।

ঘুমের আগে হাস্যযোগ করতে চাইলে খুব জোরে বা দীর্ঘ সময় হাসার পরিবর্তে মৃদু হাসি, আরামদায়ক শ্বাস-প্রশ্বাস এবং শরীর শিথিল করার দিকে মনোযোগ দিন। দিনের কোনও আনন্দের স্মৃতি মনে করা যেতে পারে। অনুশীলনের শেষে কয়েক মিনিট নীরবে বসে স্বাভাবিক শ্বাস নিন।

তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে ঘুমের আগে হাস্যযোগের প্রভাব একই হবে না। কারও কাছে এটি আরামদায়ক মনে হতে পারে, আবার কেউ অন্য কোনও শিথিলকরণ পদ্ধতিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারেন। ঘুম ভালো রাখতে নিয়মিত সময়ে শুতে যাওয়া, রাতে ক্যাফেইন এড়ানো এবং শোওয়ার আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মব্যস্ত মানুষের দৈনন্দিন রুটিনে হাস্যযোগ

যাঁদের সারাদিন কাজের মধ্যে কাটে, তাঁদের পক্ষে আলাদা করে দীর্ঘ সময় বের করা কঠিন হতে পারে। তাই হাস্যযোগের অভ্যাস গড়ে তুলতে ছোট সময়সীমা বেছে নেওয়া যেতে পারে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে পাঁচ মিনিট, দুপুরে কাজের বিরতিতে কয়েক মিনিট অথবা সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে অল্প সময় অনুশীলন করা সম্ভব।

অফিসে কাজের ফাঁকে হাস্যযোগ করতে চাইলে পরিবেশ ও অন্যদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রাখা উচিত। এমন জায়গায় অনুশীলন করা ভালো, যেখানে অন্যদের কাজে ব্যাঘাত ঘটবে না। কেউ চাইলে বাড়িতে ফিরে ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করতে পারেন।

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পড়াশোনার বিরতিতে হালকা হাসি এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন সাময়িক বিশ্রামের সুযোগ দিতে পারে। তবে পরীক্ষার প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পড়াশোনার পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলির বিকল্প এটি নয়।

বয়স্ক ব্যক্তিরাও নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী হাস্যযোগ করতে পারেন। তাঁরা বসে বসেও মৃদু হাসি ও স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করতে পারেন। শারীরিক অসুস্থতা, ভারসাম্যজনিত সমস্যা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে উপযুক্ত চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হাস্যযোগ করার সময় কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন?

হাস্যযোগের সময় নিজের শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত জোরে হাসা, দীর্ঘক্ষণ শ্বাসের ছন্দ বদলানো কিংবা শরীরের সক্ষমতার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। মাথা ঘোরা, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক অস্বস্তি দেখা দিলে অনুশীলন বন্ধ করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।

যাঁদের সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হয়েছে, পেট বা বুকের কোনও সমস্যা রয়েছে, গুরুতর হৃদ্‌রোগ আছে অথবা এমন কোনও শারীরিক অবস্থা রয়েছে যাতে জোরে হাসলে সমস্যা হতে পারে, তাঁদের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। গর্ভাবস্থায় কোনও জটিলতা থাকলেও অনুশীলনের উপযুক্ততা সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো।

হাস্যযোগের সময় অন্যের ব্যক্তিগত অনুভূতিকে সম্মান করাও জরুরি। কেউ হাসতে না চাইলে তাঁকে বাধ্য করা উচিত নয়। কেউ মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যে থাকলে তাঁর কাছে সব সময় হাসিখুশি থাকার প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। দুঃখ, উদ্বেগ এবং হতাশাও মানুষের স্বাভাবিক আবেগ। সেগুলিকে স্বীকার করা এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা চাওয়া সুস্থতারই অংশ।

হাস্যযোগের অভ্যাস কীভাবে দীর্ঘদিন বজায় রাখবেন?যে কোনও নতুন অভ্যাসের মতো হাস্যযোগও নিয়মিত করতে হলে সহজ পরিকল্পনা তৈরি করা দরকার। প্রথম দিন থেকেই দীর্ঘ সময় অনুশীলনের লক্ষ্য না রেখে অল্প সময় দিয়ে শুরু করুন। প্রতিদিন একই সময়ে অনুশীলন করলে ধীরে ধীরে এটি দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

অনুশীলনের পরে নিজের অনুভূতি লক্ষ্য করুন। শরীর কিছুটা শিথিল লাগছে কি না, মন আগের তুলনায় স্বচ্ছন্দ লাগছে কি না, কিংবা দলবদ্ধ অনুশীলনে ভালো লাগছে কি না এসব বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন। তবে প্রতিদিন একই রকম অনুভূতি হবে, এমন প্রত্যাশা করবেন না।

কোনও দিন অনুশীলন করতে ইচ্ছা না করলে নিজেকে দোষারোপ করার প্রয়োজন নেই। পরের দিন আবার শুরু করা যায়। নিজের সঙ্গে ইতিবাচক আচরণ করা এবং ছোট পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া হাস্যযোগের পাশাপাশি পছন্দের গান শোনা, প্রকৃতির মধ্যে হাঁটা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া কিংবা সৃজনশীল কাজে অংশ নেওয়ার মতো অভ্যাসও দৈনন্দিন জীবনে আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করতে পারে। প্রত্যেকের পছন্দ আলাদা। তাই নিজের জন্য কোন পদ্ধতি সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক, তা বুঝে নেওয়াই ভালো।

হাস্যযোগ সম্পর্কে একটি সাধারণ ভুল ধারণা হল, এটি করলেই সব সময় আনন্দিত থাকা সম্ভব। বাস্তবে মানুষের আবেগ প্রতিদিন বদলায়। কোনও দিন মন ভালো থাকবে, আবার কোনও দিন দুঃখ বা উদ্বেগ অনুভূত হতে পারে। হাস্যযোগের উদ্দেশ্য এই আবেগগুলিকে মুছে ফেলা নয়, বরং নিজের সুস্থতার জন্য কিছুটা ইতিবাচক সময় তৈরি করা।

আরেকটি ভুল ধারণা হল, হাস্যযোগ করতে হলে অন্যদের সামনে হাসতেই হবে। বাস্তবে একা, বসে কিংবা নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী অনুশীলন করা যায়। দলবদ্ধভাবে অংশ নেওয়া একটি বিকল্প মাত্র।

কেউ কেউ মনে করেন, হাস্যযোগ চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে। এই ধারণাও সঠিক নয়। এটি একটি সহায়ক সুস্থতার অনুশীলন। মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ ছাড়া কৃত্রিম হাসি মানেই ভান করা, এমনটাও ভাবার কারণ নেই। হাস্যযোগে ইচ্ছাকৃতভাবে হাসি শুরু করা হয় বলেই এর নামের সঙ্গে অনুশীলনের ধারণাটি যুক্ত। তবে প্রত্যেকের কাছে এর অভিজ্ঞতা এক রকম হবে না। কারও ভালো লাগতে পারে, আবার কারও কাছে অন্য পদ্ধতি বেশি কার্যকর মনে হতে পারে।

হাসি, সামাজিক সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন আনন্দ মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং পরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে। অনেক সময় প্রিয়জনের সঙ্গে কয়েক মিনিট হাসিমুখে কথা বলাও দিনের ক্লান্তির মধ্যে স্বস্তির মুহূর্ত তৈরি করতে পারে।

হাস্যযোগের দলগত অনুশীলনে একসঙ্গে হাসা, হাততালি দেওয়া এবং সহজ ছন্দ অনুসরণ করার সুযোগ থাকে। এতে কিছু মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও যোগাযোগ বাড়তে পারে। বিশেষ করে নতুন কোনও দলের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময় এই কার্যকলাপ পরিবেশকে সহজ করে তুলতে পারে।

তবে সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য শুধু হাসি যথেষ্ট নয়। মন দিয়ে অন্যের কথা শোনা, প্রয়োজনে সাহায্য করা, ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করা এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কেউ যদি একাকিত্ব অনুভব করেন, তাহলে হাস্যযোগের পাশাপাশি পরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, পছন্দের সামাজিক কার্যকলাপে অংশ নেওয়া কিংবা প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগ তৈরি করা মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিনের জীবনে হাসিকে কীভাবে জায়গা দেবেন?

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সব সময় বড় কোনও পরিবর্তন প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও ছোট ছোট অভ্যাসও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে আরও ইতিবাচক করে তুলতে পারে। সকালে কয়েক মিনিট নিজের জন্য রাখা, প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলা, কাজের মধ্যে বিরতি নেওয়া কিংবা পছন্দের কোনও কাজ করার মাধ্যমে নিজের যত্ন নেওয়া যায়।

হাস্যযোগ এই ধরনের অভ্যাসের মধ্যে একটি সহজ বিকল্প হতে পারে। প্রতিদিন পাঁচ মিনিট দিয়ে শুরু করে নিজের সুবিধা অনুযায়ী সময় ঠিক করা যায়। কোনও দিন একা, কোনও দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুশীলন করা যেতে পারে। আবার হাস্যযোগ ভালো না লাগলে অন্য কোনও শিথিলকরণ পদ্ধতিও বেছে নেওয়া যায়।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিজের প্রতি বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখা। হাসতে হবে বলেই জোর করে হাসা কিংবা মন খারাপের জন্য নিজেকে দোষ দেওয়া উচিত নয়। আনন্দের পাশাপাশি দুঃখও জীবনের স্বাভাবিক অংশ। নিজের আবেগকে বোঝা, প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নেওয়া এবং সাহায্য চাওয়ার মধ্যেও সুস্থতার পথ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, হাস্যযোগ হতে পারে ব্যস্ত জীবনের মধ্যে নিজের জন্য কয়েকটি আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করার সহজ উপায়। নিয়মিত অনুশীলন কিছু মানুষের মানসিক চাপ সাময়িকভাবে কমাতে, শরীরকে শিথিল করতে এবং সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে এর ফল ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হয় এবং এটি কোনও চিকিৎসার বিকল্প নয়। তাই নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিয়ে ধীরে ধীরে শুরু করুন। প্রাণখোলা হাসির পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রিয়জনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, সুস্থ থাকার জন্য সব সময় বড় কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই; কখনও কখনও নিজের জন্য কয়েক মিনিট সময় বের করাও হতে পারে যত্নের একটি সুন্দর সূচনা।

Preview image