Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পূজা বাত্রার উত্থান, সফলতা ও ব্যক্তিগত জীবন

বলিউডের জনপ্রিয় লিরিল গার্ল পূজা বাত্রা শুরু করেছিলেন মডেলিং দিয়ে।১৯৯৭ সালে বিরাসত ছবিতে আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে বড় পর্দায় আগমন।হিট ছবি ভাই, হাসিনা মান যায়েগি, নায়ক।ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে ব্যবসায়ী সোনু আহলুওয়ালিয়ার সঙ্গে বিবাহ, পরে ২০১১ সালে বিচ্ছেদ।দেশে ফিরে পুনরায় বলিউডে চেষ্টা, তবে আগের সাফল্য মেলেনি।২০১৯ সালে অভিনেতা নবাব শাহের সঙ্গে বিবাহ এবং নতুন জীবন শুরু।

বলিউডের সিনেমা জগতে এক সময় এমন অনেক মুখ থাকতো যারা ছোটবেলা থেকেই নজর কেড়েছিল। সেই তালিকায় পূজা বাত্রার নাম আলাদা করে ধরা যায়। এক সময়ের জনপ্রিয় লিরিল গার্ল, যিনি শুধু সুন্দরী চেহারার জন্য নয়, বরং স্বাভাবিক অভিনয় দক্ষতার জন্যও প্রশংসিত হয়েছিলেন। পূজা বাত্রার জীবন, ক্যারিয়ার, এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ার পেছনের বাস্তবতাকে বোঝার একটি চমৎকার উদাহরণ।

পূজা বাত্রা একজন সেনা অফিসারের মেয়ে হিসেবে বেড়ে উঠেছেন। তার মা নিজেও একজন মডেল ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন মডেলিং কাজের সংস্পর্শে আসা পূজাকে গ্ল্যামারের জগতে পা রাখার প্রেরণা দেয়। তার পরিবার শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং অনুপ্রেরণামূলক ছিল। পূজা নিজেও জানতেন, শুধু সৌন্দর্য দিয়ে নয়, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিভার মাধ্যমে তিনি তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।

কলেজ জীবন থেকেই পূজা মডেলিং শুরু করেন। শুরুতে বিভিন্ন ম্যাগাজিন, বিজ্ঞাপন এবং ফ্যাশন শোতে অংশ নেন। এই সময়ের কাজগুলো তাকে গ্ল্যামার জগতে পরিচিতি এনে দেয়। তার হালকা ও প্রাকৃতিক চেহারা, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি এবং অভিনয়ের প্রতিভা দর্শক এবং ফ্যাশন দুনিয়ার মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে শুরু করে।

১৯৯৭ সালে পূজা বাত্রা বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন বিরাসত ছবির মাধ্যমে। এটি ছিল তার বড় পর্দায় প্রথম ভয়েস এবং দর্শক তাকে সাড়া দিয়ে গ্রহণ করেন। প্রথম থেকেই তিনি প্রমাণ করলেন যে, তিনি কেবল মডেল নয়, একজন দক্ষ অভিনেত্রীও।

পূর্ণাঙ্গ ক্যারিয়ারের শুরুতে পূজা বাত্রা একের পর এক হিট ছবি উপহার দেন। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ভাই, হাসিনা মান যায়েগি, এবং নায়ক। এই ছবিগুলো তাকে বলিউডে সুপরিচিত করে তোলে। তার অভিনয় দক্ষতা, স্ক্রিন প্রেজেন্স এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

ক্যারিয়ারের উচ্চ শিখরে পৌঁছানোর সময়ই পূজা বাত্রা ভালোবেসে বিয়ে করেন ব্যবসায়ী সোনু আহলুওয়ালিয়ার সঙ্গে। এই সময়ে তিনি বিদেশে চলে যান এবং বলিউড থেকে দূরে সরে যান। পারিবারিক জীবন এবং পেশাদার জীবনের মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে ওঠে। সম্পর্কের ফাটলও বাড়তে থাকে। পূজা সন্তান চেয়েছিলেন, কিন্তু স্বামী রাজি ছিলেন না। অবশেষে, ২০১১ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

news image
আরও খবর

বিচ্ছেদের পর পূজা দেশে ফিরে বলিউডে পুনরায় কাজ শুরু করার চেষ্টা করেন। তবে সময় বদলে গিয়েছে, নতুন তারকা উঠে এসেছে, এবং সিনেমার ধারা পরিবর্তিত হয়েছে। তার অভিনীত এবিসিডি ২ বা হাম তুম শাবানা আগের ধরণের সাফল্য এনে দিতে পারেনি। কিন্তু তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং চেষ্টা তাকে নতুন করে পরিচিতি দিতে সাহায্য করে।

২০১৯ সালে পূজা বাত্রা অভিনেতা নবাব শাহের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই নতুন সম্পর্ক তার জীবনে সুখ এবং স্থিরতা আনে। যদিও বলিউডে তার আগের গ্ল্যামার আর ভীষণ সাফল্য নেই, তিনি ব্যক্তিগত জীবন থেকে সুখী এবং আত্মতৃপ্ত।

পূজা বাত্রার জীবন আমাদের শেখায়, জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই চ্যালেঞ্জ আসে। ক্যারিয়ারের উত্থান, ব্যক্তিগত জীবনের বিচ্ছিন্নতা, এবং পুনরায় নতুন জীবন শুরু— সবই আমাদের ধৈর্য, দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, জীবনে সফলতা শুধুমাত্র পেশাগত অর্জন নয়, ব্যক্তিগত শান্তি এবং সুখও গুরুত্বপূর্ণ।

বলিউডের গ্ল্যামার জগতে পূজা বাত্রার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি এক সময় লিরিল গার্ল হিসাবে পরিচিতি অর্জন করেছিলেন, যা নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণা। আজ, তিনি সুখী ও শান্ত জীবন কাটাচ্ছেন, এবং তার গল্প আমাদের শেখায় যে, জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

পূজা বাত্রার জীবন শুধু বলিউডের উত্থান-পতনের গল্প নয়; এটি এক নারীর সংগ্রাম, স্বপ্ন, প্রেম এবং পুনর্জন্মের গল্প। তার ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়, জীবনের ওঠানামা যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনই নতুন সুযোগ ও আনন্দও নিয়ে আসে।

Preview image