Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ছবির ঝলকে রণবীরের সুঠাম চেহারা, বড়পর্দায় ধুরন্ধর হতে কী কী পরিশ্রম করেছেন তিনি?

ধুরন্ধর ছবির জন্য রণবীর সিংহ নিজেকে নতুনভাবে তৈরি করেছেন। চরিত্রের জন্য প্রয়োজনীয় লুক পেতে নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ডায়েট অনুসরণ করেছেন তিনি, যা তাকে পর্দায় নতুন এক রূপে তুলে ধরেছে।

রণবীর সিংহের ‘ধুরন্ধর’ ছবির জন্য শরীর তৈরির পরিশ্রম: নতুন রূপে রণবীর

রণবীর সিংহ, বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, আগামী মাসে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত ছবি ‘ধুরন্ধর’। ছবির ট্রেলার ইতিমধ্যে দর্শকদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। তবে, এরই মধ্যে রণবীরের পেশিবহুল দেহ প্রশংসিত হচ্ছে। তাঁর চেহারার পরিবর্তন, বিশালাকার পেশি এবং পরিশ্রমী শরীরচর্চার ধারা দর্শকদের মধ্যে প্রশংসা অর্জন করেছে। ছবিতে রণবীরের চরিত্রে মাপের পরিবর্তন ছিল, এবং তার জন্য তিনি নিজেকে ভেঙে নতুন করে তৈরি করেছেন।

রণবীর সিংহ নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল এবং ফিটনেস সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট সচেতন। ‘ধুরন্ধর’-এর জন্য তার পেশিবহুল দেহ যে শুধু গঠন করেছেন, তা নয়, তিনি তার শরীরের পরিবর্তনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং কঠিন ডায়েট অনুসরণ করেছেন। তিনি তার নিজস্ব ফিটনেস প্রশিক্ষক লয়েড স্টিভেন্সের সঙ্গে কাজ করেছেন, যিনি তাকে শরীরচর্চার প্রতিটি স্তরে সহায়তা করেছেন।

রণবীরের শরীরচর্চার পদ্ধতি

রণবীর সিংহের শরীরচর্চার পদ্ধতি ছিল ভীষণই কঠিন এবং পরিকল্পিত। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল পেশির ঘনত্ব বৃদ্ধি করা এবং সেই সঙ্গে অতিরিক্ত মেদ কমানো। রণবীরের জন্য স্ট্রেন্‌থ ট্রেনিং (Strength Training) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, যা শরীরের পেশি তৈরি করার জন্য অপরিহার্য। সেই সঙ্গে তিনি প্রচুর কার্ডিও এক্সারসাইজ করেছেন, যা শরীরের চর্বি কমিয়ে পেশির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করেছে।

রণবীরের শরীরচর্চার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে হাতের পেশির ব্যায়াম। তার বাইসেপের জন্য তিনি বিভিন্ন ধরণের এক্সারসাইজ যেমন ভি বার পুশ ডাউন, ডাম্বেল এক্সটেনশন, স্ট্রেট বার এক্সটেনশন করেন। এতে তার বাহুতে শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাইসেপের জন্য তিনি ইজ়েড বার কার্ল, ডাম্বেল হ্যামার কার্ল, এবং স্পাইডার কার্ল করেন, যা তার বাহুর পেশি আরও দৃঢ় করেছে।

এছাড়াও, রণবীর নিয়মিত সাঁতার কাটেন এবং নাচ করেন, যা তার ফিটনেসের সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরের নমনীয়তাও বাড়িয়েছে। সাঁতার ও নাচের মতো শরীরচর্চা রণবীরের শরীরকে আরও সুগঠিত ও প্রাণবন্ত করেছে, যা তাকে তাঁর চরিত্রের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।

রণবীরের ডায়েট: পেশির জন্য প্রোটিনের গুরুত্ব

ফিট থাকতে হলে শুধুমাত্র শরীরচর্চাই যথেষ্ট নয়, ডায়েটও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রণবীর সিংহ তার ডায়েটেও অনেক মনোযোগ দিয়েছেন। তিনি খাদ্যরসিক হলেও, চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি এক কঠোর ডায়েট অনুসরণ করেছেন। তার ডায়েটের মূল উপাদান হচ্ছে প্রোটিন, কারণ পেশির গঠন এবং বৃদ্ধি পেতে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করেছেন, যেমন ডিম, মাংস, দুধ, বাদাম, এবং শাকসবজি।

রান্না বিষয়ক অনেক ব্যক্তিগত পছন্দ থাকা সত্ত্বেও, তিনি এই ছবির জন্য বিশেষভাবে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তার ডায়েটে অনেকটা জায়গা নিয়ে রয়েছে শিলাজিৎ, অশ্বগন্ধা, এবং খেজুর থেকে তৈরি বিশেষ লাড্ডু। এগুলো তার শরীরের শক্তি বৃদ্ধি এবং পেশির বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। এই খাবারগুলো তার শরীরের টোনিং এবং শক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

অন্যদিকে, রণবীর চকোলেট খেতে পছন্দ করেন, তবে তা খুব অল্প পরিমাণে। তার পছন্দের চকোলেট স্প্রেড থাকলেও, ডায়েটের প্রয়োজনে তিনি অল্প পরিমাণে সেটি খান। তবে, তিনি ডার্ক চকোলেট খেতে ভালোবাসেন এবং সেটি সাধারণত বেশি পরিমাণে খান। এই ডার্ক চকোলেট তার শরীরের জন্য উপকারী, কারণ এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ।

রণবীরের কঠোর পরিশ্রমের ফল

‘ধুরন্ধর’ ছবির জন্য রণবীর যে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তা তার পর্দায় দেখা যাবে। ছবিতে তাঁর চরিত্রের প্রয়োজনীয় লুক তৈরি করতে তিনি নিজের শরীর এবং শারীরিক ক্ষমতার প্রতি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করেছেন। তার পরিশ্রমের ফলস্বরূপ, দর্শকরা তাকে এক নতুন রূপে দেখতে পাবেন। ছবির শুটিং চলাকালীন তার কিছু ঝলক সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, এবং তখন থেকেই তার শরীরের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তার পেশিবহুল দেহ এবং দারুণ শারীরিক গঠন ছবির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

news image
আরও খবর

রণবীর সিংহের এই শরীরচর্চা এবং ডায়েট অনুসরণ করা তার শুধুমাত্র চরিত্রের জন্যই ছিল না, বরং তার ফিটনেস বজায় রাখতে এবং সুস্থ থাকতে সেটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার শরীরের পরিবর্তন শুধু তার চরিত্রের জন্যই নয়, পুরো বলিউডের জন্যই একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

‘ধুরন্ধর’ ছবির মুক্তি এবং দর্শকদের প্রতিক্রিয়া

‘ধুরন্ধর’ ছবির জন্য রণবীর সিংহ যে পরিমাণ পরিশ্রম করেছেন তা তার পেশিবহুল দেহে স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে। ছবির মুক্তির পর রণবীরের ফিটনেস নিয়ে চর্চা আরও বাড়বে, তা নিশ্চিত। ছবির ট্রেলার এবং রণবীরের শরীরের পরিবর্তন দর্শকদের মধ্যে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, তবে একদিকে তার শারীরিক গঠন এবং পরিশ্রম প্রশংসিত হচ্ছে।

‘ধুরন্ধর’-এর জন্য রণবীর সিংহের এই কঠোর পরিশ্রম, শারীরিক এবং মানসিক শক্তি, নিঃসন্দেহে তাকে বড় পর্দায় এক নতুন দৃষ্টিতে উপস্থাপন করবে। এই পরিবর্তন শুধু তার ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, তার অনুরাগীদের জন্যও একটি বড় উদাহরণ। তিনি এক নতুনভাবে তৈরি হয়েছেন, এবং তার এই নতুন রূপে ‘ধুরন্ধর’ ছবির জন্য দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে।

রণবীর সিংহের এই পরিশ্রম এবং তার ফিটনেসের উন্নতি আজকের বলিউডের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। একদিকে, এটি শরীরচর্চা এবং ডায়েটের গুরুত্ব বুঝিয়েছে, অন্যদিকে, এটি আমাদের শিখিয়েছে যে যদি সঠিক পরিশ্রম এবং নিয়ন্ত্রণে থাকা যায়, তবে শরীর এবং মন একে অপরকে সঠিকভাবে সাহায্য করতে পারে।

‘ধুরন্ধর’ ছবির জন্য রণবীর সিংহের নতুন লুক এবং তার কঠোর পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। এই ছবিতে রণবীর যে শারীরিক পরিবর্তন এনেছেন, তা তার ফিটনেস এবং শক্তির প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রমাণ। শারীরিক গঠন, পেশির ঘনত্ব এবং তার অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রে জীবন দেয়ার এই প্রক্রিয়াটি সত্যিই প্রশংসনীয়। বলিউডে রণবীর সিংহ তার শক্তিশালী এবং সুঠাম দেহের জন্য পরিচিত, তবে ‘ধুরন্ধর’ ছবির জন্য তার যে নিখুঁত প্রস্তুতি এবং পরিশ্রম তা তাকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।

রণবীর সিংহের শরীরচর্চার জন্য যে কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, তা শুধু একটি অভিনয় চরিত্রের জন্য নয়, তার দীর্ঘকালীন ফিটনেস এবং সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক। ‘ধুরন্ধর’-এর জন্য যে কঠোর ডায়েট এবং স্ট্রেনথ ট্রেনিং গ্রহণ করা হয়েছে, তা তার শরীরের পেশি তৈরি করতে সহায়তা করেছে। তার ফিটনেস প্রশিক্ষক লয়েড স্টিভেন্সের সঙ্গে তিনি যে পরিমাণ সময় কাটিয়েছেন, তা তার শারীরিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে। নিয়মিত কার্ডিও এক্সারসাইজ এবং সাঁতার কাটার পাশাপাশি তার হাতের পেশির ব্যায়াম যেমন বাইসেপ ও ট্রাইসেপ এক্সারসাইজ, তার শারীরিক গঠনকে আরও পরিপূর্ণ করেছে।

একই সঙ্গে, তার ডায়েটের প্রতি কঠোর মনোভাবও নজর কাড়ার মতো। প্রোটিনে পরিপূর্ণ খাবার এবং শিলাজিৎ, অশ্বগন্ধা ও খেজুর থেকে তৈরি লাড্ডু খাবারগুলির মধ্যে তার শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। প্রতিদিনের খাবারে ওটস, বাদাম, ডিটক্স পানীয় এবং প্রোবায়োটিক পানীয় তার শরীরের টোনিং এবং শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যেহেতু রণবীর খাওয়া-দাওয়ার প্রতি খুঁতখুঁতে, তা তিনি শুধুমাত্র শরীরের জন্য খেয়েছেন, যাতে তার শরীর আরও সুগঠিত হয় এবং ছবির জন্য প্রয়োজনীয় লুক তৈরি হয়।

কিন্তু সবার আগে যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হল রণবীর সিংহের মনোভাব এবং অধ্যবসায়। তার পরিশ্রম শুধু শারীরিক গঠন নয়, তার মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। যেভাবে তিনি নিজের শরীর এবং চরিত্রের জন্য পরিশ্রম করেছেন, তা শুধু অন্যদের জন্যই নয়, নিজেও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। ‘ধুরন্ধর’ ছবির জন্য তার তৈরি হওয়া শারীরিক রূপ একটি প্রমাণ যে, কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজের সীমা ছাড়িয়ে নতুন একটি উচ্চতায় পৌঁছানো সম্ভব।

বলিউডে তার এই কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবর্তন নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। রণবীর সিংহ শুধু তার অভিনয় গুণের জন্য নয়, তার শারীরিক প্রস্তুতির জন্যও আজকের দর্শকদের সামনে এক নতুন প্রেরণার সৃষ্টি করেছেন। তার ফিটনেসের দিকে নজর দিলে বোঝা যায় যে, শুধুমাত্র একচেটিয়া অভিনয় বা ব্যক্তিগত জীবন নয়, তার শক্তি, পরিশ্রম এবং দৃষ্টিভঙ্গি তাকে প্রতিদিন আরও উন্নতির পথে নিয়ে যাচ্ছে।

অতএব, ‘ধুরন্ধর’ ছবির মাধ্যমে রণবীর সিংহ শুধু তার অভিনয় দক্ষতার জন্য নয়, তার শারীরিক গঠন এবং ফিটনেসের জন্যও বলিউডে একটি নতুন স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করেছেন। তাঁর এই নতুন রূপ এবং পরিশ্রম নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Preview image