RBI গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা: ব্যাংক অধিগ্রহণ অর্থায়নের সীমা তুলে নিলে রিয়েল অর্থনীতি শক্তিশালী হবে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Reserve Bank of India (RBI) সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলো কোম্পানি অধিগ্রহণে (acquisition financing) অর্থায়ন করতে পারবে — যা দেশের “রিয়েল অর্থনীতি” বা উৎপাদনমুখী খাতের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে বলে জানিয়েছেন RBI গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা। তিনি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত SBI Banking & Economics Conclave-এ বলেন, “অধিগ্রহণ অর্থায়নের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া কেবল ব্যাংক নয়, গোটা অর্থনীতির জন্য লাভজনক হবে। এটি ভারতের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও গতিশীল করে তুলবে।” গত মাসে RBI এই পদক্ষেপ ঘোষণা করে জানায়, ব্যাংকগুলি এখন থেকে কোনো অধিগ্রহণ চুক্তির ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফিন্যান্সিং করতে পারবে। একইসঙ্গে IPO-র জন্য শেয়ার কেনার লোনের সীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই নীতির লক্ষ্য ব্যাংকিং সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্পোরেট অধিগ্রহণকে সহজতর করা। RBI জানিয়েছে, এই স্বাধীনতার সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে — যেমন ঋণ ও ইকুইটির অনুপাত নির্ধারণ, রিস্ক ওয়েট ও প্রভিশনিং নর্মসের মতো সুরক্ষা কাঠামো। মলহোত্রা বলেন, “প্রতিটি ব্যাংকের বোর্ডরুমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত কোন প্রকল্পে অর্থ দেওয়া হবে। এক নিয়মে সবার বিচার হয় না। এখন ব্যাংকগুলিকে নিজেদের বিচারবোধে চলতে হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় ব্যাংকিং খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে। আগে এই বাজারে NBFC ও প্রাইভেট ইকুইটি সংস্থাগুলি প্রাধান্য রাখত, এখন ব্যাংকগুলোও বড় ভূমিকা নিতে পারবে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত ঝুঁকি নিলে ব্যাংকের NPA (খারাপ ঋণ) বাড়তে পারে। RBI তাই জানিয়েছে — “বৃদ্ধি হবে, কিন্তু শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই।” সব মিলিয়ে, এই পদক্ষেপ ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ব্যাংকিং সেক্টর এখন আরও আত্মবিশ্বাসী ও আধুনিক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য আশাব্যঞ্জক সংকেত।
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Reserve Bank of India (RBI) ব্যাংকগুলোর জন্য কোম্পানি অধিগ্রহণে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়েছে, যা দেশের “রিয়েল অর্থনীতি”-র প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা।
তিনি শুক্রবার SBI Banking & Economics Conclave-এ বলেন, “অধিগ্রহণ ফিন্যান্সিংয়ের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া একটি বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শুধু ব্যাংকিং কার্যক্রমই নয়, বাস্তব অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
গত মাসে RBI ঘোষণা করেছিল, ব্যাংকগুলি এখন থেকে কোম্পানি অধিগ্রহণ (acquisition financing)-এ অর্থায়ন করতে পারবে এবং IPO শেয়ার কেনার জন্য ঋণসীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ ব্যাংক লেনদেনের সুযোগ বাড়াবে এবং মূলধন প্রবাহকে ত্বরান্বিত করবে।
তবে RBI এই স্বাধীনতার সঙ্গে “গার্ডরেলস” বা নিরাপত্তা সীমা যুক্ত করেছে —
ব্যাংক কোনো অধিগ্রহণ চুক্তির ৭০% পর্যন্ত অর্থায়ন করতে পারবে।
ঋণ ও ইকুইটির অনুপাতের সীমা নির্ধারণ করা হবে যাতে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
মলহোত্রা বলেন, “এই পদক্ষেপ ব্যাংক ও তাদের স্টেকহোল্ডারদের জন্য বাড়তি ব্যবসার সুযোগ আনবে, কিন্তু নিরাপত্তার গ্যারান্টিও বজায় থাকবে।”
গভর্নর মলহোত্রা বলেন, “কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যাংকের বোর্ডরুমের সিদ্ধান্তের জায়গা নিতে পারে না। প্রতিটি ঋণ, প্রতিটি বিনিয়োগ, প্রতিটি লেনদেন আলাদা। তাই ‘one-size-fits-all’ নিয়ম আর চলবে না।”
তার মতে, ব্যাংকগুলিকে এখন নিজেদের বিচারবোধ ও ব্যবসায়িক নীতি অনুসারে কাজ করতে হবে — এটি ভারতীয় ব্যাংকিং সেক্টরের পরিপক্বতার লক্ষণ।
এই নীতিগত পরিবর্তন ভারতের ব্যাংকিং খাতকে বিনিয়োগ, অধিগ্রহণ ও একত্রীকরণে (M&A) আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করবে।
বড় সংস্থাগুলি নতুন কোম্পানি অধিগ্রহণে সহজে অর্থায়ন পাবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এখন ভারতীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে বড় প্রকল্পে যুক্ত হতে পারবে।
এটি অবকাঠামো, ম্যানুফ্যাকচারিং, রিয়েল এস্টেট ও রিনিউএবল এনার্জি সেক্টরে অর্থপ্রবাহ বাড়াবে।
RBI-র মতে, এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতকে আরও “রেসিলিয়েন্ট ও বিউটিফুল” করে তুলবে, যেখানে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
RBI জানিয়েছে, তারা রিস্ক ওয়েট, প্রভিশনিং নর্মস ও কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল বাফারস-এর মতো ব্যবস্থা রাখছে যাতে উদীয়মান ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
মলহোত্রা বলেন, “আমাদের কাছে ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট টুল আছে। তদারকি ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করছে।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, RBI-র এই সিদ্ধান্তটি ব্যাংকিং সেক্টরকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করবে। আগে NBFC ও প্রাইভেট ইকুইটি সংস্থাগুলি এই ধরনের অধিগ্রহণ অর্থায়নে এগিয়ে ছিল, এখন ব্যাংকগুলিও সেই সুযোগ পাবে।
এছাড়া, মধ্য ও ছোট আকারের ব্যাংকগুলিও এখন তাদের পোর্টফোলিও শক্তিশালী করতে পারবে, যা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির বৃদ্ধিকে সাহায্য করবে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, অধিগ্রহণ ফিন্যান্সিংয়ে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিলে ব্যাংকগুলির ব্যালান্স শিটে চাপ পড়তে পারে।
তাদের মতে —
নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ বিতরণে NPA (Non-Performing Assets) বাড়তে পারে।
বড় সংস্থার প্রভাব বাড়ায় বাজারে মনোপলির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে RBI পরিষ্কার জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোকে এখনো “সতর্ক কিন্তু গতিশীল” নীতিতে চলতে হবে — বৃদ্ধি হোক, কিন্তু শৃঙ্খলা হারিয়ে নয়।
ভারত এখন বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি। নতুন সংস্কারের ফলে ব্যাংকিং সেক্টর ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ, রিনিউএবল প্রজেক্ট, অবকাঠামো ফান্ডিং ও ডিজিটাল উদ্যোগে আরও বিনিয়োগ করতে পারবে।
এই নীতি ‘India Growth Story’-কে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।