Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চেন্নাই থেকে শহরে ফিরেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হিরণ! আগাম জামিনের আবেদন বিজেপি বিধায়কের

গত দু’সপ্তাহ ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে হিরণ। ঋতিকা গিরির সঙ্গে তাঁর বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরেই বিতর্কের শুরু। এ প্রসঙ্গে হিরণের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়।বুধবার বিয়ে-বিতর্কে মুখ খুলেছেন বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। আনন্দবাজার ডট কম-কে তিনি জানান, এত দিন চেন্নাইয়ে ছিলেন। কলকাতায় এসেছেন তিনি। ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক।

কলকাতার আনন্দপুর থানায় দায়ের একটি মামলার প্রেক্ষিতে আগাম জামিন চান তিনি। আদালত সূত্রের খবর, বুধবার তাঁর আইনজীবী দ্রুত শুনানি চেয়ে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল বর্তমানে একজন বিধায়ক। একটি মামলায় আগাম জামিনের জন্য দ্রুত শুনানির আর্জি মঞ্জুর করা হোক। বিচারপতি সেনগুপ্ত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বলে খবর। তবে শুনানির দিন এখনও স্থির হয়নি।

যদিও বুধবার আনন্দবাজার ডট কম-কে হিরণ বলেছিলেন, “যে বিষয় বিচারাধীন তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। আদালতের অসম্মান তো আমি করতে পারি না।” এই প্রক্ষিতে আনন্দপুর থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত আদালতের কোনও কাগজ আসেনি পুলিশের কাছে।

গত দু’সপ্তাহ ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে হিরণ। ঋতিকা গিরির সঙ্গে তাঁর বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরে বিতর্ক বড় রূপ নেয়। তার পরেই অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ উগরে দেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। আনন্দপুর থানায় মেয়ে নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসেন তিনি। কলকাতায় আসার পরে মেয়ে বা প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে কি আবার যোগাযোগ করেছেন হিরণ? উত্তরে অনিন্দিতা জানান, মেয়ে নিয়াসা বা তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি হিরণ।

যদিও বুধবার আনন্দবাজার ডট কম-কে হিরণ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, “যে বিষয় বিচারাধীন, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। আদালতের অসম্মান তো আমি করতে পারি না”—তবু তাঁর এই নীরবতাই যেন আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত আনন্দপুর থানার কাছে আদালতের কোনও নির্দেশ বা নোটিস এসে পৌঁছয়নি বলেই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ আইনি প্রক্রিয়া যে একেবারে প্রাথমিক স্তরে রয়েছে, তা স্পষ্ট। তবুও বিষয়টি গত দু’সপ্তাহ ধরে রাজ্য রাজনীতি ও বিনোদন জগত—দু’দিকেই প্রবল আলোচনার কেন্দ্রে।

বিতর্কের সূত্রপাত হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর। অভিনেত্রী ঋতিকা গিরির সঙ্গে তাঁর বিয়ের খবর সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় চর্চা। প্রথমে অনেকেই বিষয়টিকে হিরণের ব্যক্তিগত জীবন হিসেবেই দেখছিলেন। কিন্তু খুব দ্রুত সেই আলোচনা ভিন্ন দিকে মোড় নেয়, যখন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় প্রকাশ্যে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

অনিন্দিতার অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েনেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তাঁর মেয়ে নিয়াসা চট্টোপাধ্যায় নানা ভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। এই অভিযোগ নিয়ে অনিন্দিতা সরাসরি আনন্দপুর থানায় যান এবং মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও, তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে—তা নিয়ে এখনও কোনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে—হিরণ কি আদৌ বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইছেন? নাকি আইনত পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত চুপ থাকাই তাঁর কৌশল? তাঁর বক্তব্যে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি থাকলেও, যেহেতু এখনও আদালতের কোনও কাগজ পুলিশের কাছে পৌঁছয়নি, তাই অনেকে মনে করছেন—এই মুহূর্তে তাঁর নীরবতা রাজনৈতিক ও আইনি—দু’দিক থেকেই হিসেবি সিদ্ধান্ত।

গত দু’সপ্তাহে হিরণকে ঘিরে বিতর্ক যে মাত্রা নিয়েছে, তা তাঁর কেরিয়ারের অন্য যে কোনও সময়ের থেকে আলাদা। একদিকে তিনি জনপ্রিয় টলিউড অভিনেতা, অন্যদিকে একজন বিজেপি বিধায়ক। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি ঘটনা এখন রাজনৈতিক রঙে রাঙিয়ে দেখা হচ্ছে। বিরোধী শিবির প্রশ্ন তুলছে—একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত আচরণ কি সমাজের কাছে কোনও বার্তা দেয় না? আবার বিজেপির অন্দরমহলেও বিষয়টি নিয়ে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

এই প্রেক্ষিতে অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কলকাতায় আসার পরেও হিরণ তাঁর সঙ্গে বা মেয়ে নিয়াসার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি। এই বক্তব্য সামনে আসতেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যদি অভিযোগগুলি মিথ্যা হয়, তাহলে একজন বাবা হিসেবে মেয়ের সঙ্গে অন্তত যোগাযোগ না করার কারণ কী?

অন্যদিকে, হিরণের সমর্থকদের দাবি—বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং আইনি পথে মীমাংসা হওয়াই উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচার বসানো বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে বাড়িয়ে তোলা ঠিক নয় বলেও মত প্রকাশ করছেন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগ উঠলেই যে তা প্রমাণিত হয়ে যায়, এমন নয়। আদালতের রায়ের আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

তবে এখানেই বিতর্কের সবচেয়ে জটিল দিকটি উঠে আসে—আইন ও জনমত। আইনের চোখে একজন অভিযুক্ত যতক্ষণ না দোষী প্রমাণিত হচ্ছেন, ততক্ষণ তিনি নির্দোষ। কিন্তু জনজীবনে থাকা একজন মানুষের ক্ষেত্রে জনমতের প্রভাব এড়ানো কঠিন। হিরণের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটছে। তাঁর নীরবতা একাংশের কাছে সংযমের প্রতীক, অন্য অংশের কাছে তা দায় এড়ানোর চেষ্টা।

এই ঘটনায় পুলিশি ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আনন্দপুর থানার সূত্র অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত আদালতের কোনও নির্দেশ আসেনি। অর্থাৎ তদন্তের গতি অনেকটাই নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের উপর। পুলিশ সূত্র বলছে, অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, কিন্তু তদন্তের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে চলতেই হবে। কোনও পক্ষের চাপে পড়ে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করার সুযোগ নেই।

news image
আরও খবর

রাজনৈতিক দিক থেকেও বিষয়টি স্পর্শকাতর। হিরণ বিজেপির পরিচিত মুখ, বিশেষ করে বাংলায় দলের সাংগঠনিক লড়াইয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে বিরোধীরা রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের যুক্তি—ক্ষমতাবান বা প্রভাবশালী হলেই কি ব্যক্তিগত অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়া যায়?

এই বিতর্কে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে হিরণের মেয়ে নিয়াসার বিষয়টি। বাবা-মায়ের সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যে একজন শিশুর মানসিক অবস্থান কী, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনিন্দিতা বারবার বলেছেন, তিনি তাঁর মেয়ের স্বার্থেই আইনি পথে হাঁটছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি কোনও প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায্য অধিকার পাওয়ার লড়াই।

মনোবিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পারিবারিক বিবাদ যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে সন্তানের উপর। তাই তাঁরা মনে করছেন, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সন্তানের মানসিক সুরক্ষার বিষয়টিও দুই পক্ষেরই গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।

সব মিলিয়ে বলা যায়, হিরণকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন আর শুধু একটি ব্যক্তিগত বিবাহ-বিচ্ছেদ বা পারিবারিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি একদিকে আইনি প্রশ্ন, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের পরীক্ষা। আদালতের সিদ্ধান্তই শেষ কথা বলবে ঠিকই, কিন্তু ততদিন পর্যন্ত এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে থাকবে।

আগামী দিনে পুলিশি তদন্ত কোন দিকে এগোয়, আদালত কী নির্দেশ দেয় এবং হিরণ নিজে কবে বা কীভাবে মুখ খুলবেন—সেদিকেই এখন তাকিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল। কারণ, এই ঘটনার পরিণতি শুধু একজন অভিনেতা-রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত জীবন নয়, তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসছে—গণমাধ্যমের ভূমিকা। হিরণকে ঘিরে ওঠা বিতর্কে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া দু’দিক থেকেই বিষয়টি অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক খবর, মতামত, বিশ্লেষণ—সব মিলিয়ে জনমত গঠনের প্রক্রিয়াটাও খুব তীব্র হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, আইনি সত্যতা যাচাইয়ের আগেই নানা ধরনের সিদ্ধান্ত টেনে নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই অভিযোগকারী পক্ষও নানা প্রশ্নের মুখে পড়ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সংবেদনশীল পারিবারিক ও আইনি বিষয়ে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, অতিরিক্ত চর্চা অনেক সময় তদন্ত প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করতে পারে। হিরণের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর, কারণ তিনি একজন জনপ্রিয় মুখ ও জন প্রতিনিধি। ফলে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ আলাদা করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যুতে দ্বিধাবিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিজেপির একাংশ প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, অন্দরে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে তা স্পষ্ট। দলীয় ভাবমূর্তি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে নেতৃত্বকে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি নিয়মিতভাবেই এই প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, জনজীবনে থাকা একজন মানুষের ব্যক্তিগত আচরণও জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত।

এই বিতর্ক দীর্ঘস্থায়ী হলে হিরণের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ভোটারদের একাংশ এই ঘটনাকে কীভাবে দেখছেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কেউ মনে করছেন, আদালতের রায়ের আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্নে হিরণের আরও স্বচ্ছ হওয়া দরকার ছিল।

সবচেয়ে জটিল অবস্থানে রয়েছেন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর মেয়ে নিয়াসা। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনও এখন প্রকাশ্য আলোচনার বিষয়। অনিন্দিতার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন আইনের পথেই। তাঁর দাবি, এই লড়াই কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল নয়, বরং নিজের ও সন্তানের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এই ঘটনা এখন একটি বহুস্তরীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে—যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আইনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক সমীকরণ ও সামাজিক মূল্যবোধ একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে আদালতের পদক্ষেপ, পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির অবস্থানই নির্ধারণ করবে এই বিতর্ক কোন দিকে যাবে। ততদিন পর্যন্ত হিরণকে ঘিরে আলোচনার পারদ যে এত সহজে নামছে না, তা বলাই বাহুল্য।

Preview image