Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

জাতীয় দলে আর আমাকে চায় না অবসর নিয়ে বড় ইঙ্গিত ক্রিস্তিয়ানো Ronaldo

ফিফা বিশ্বকাপের পর অবসর নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও আপাতত পর্তুগালের জার্সি ছাড়ছেন না ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো। জাতীয় দলে যতদিন প্রয়োজন থাকবে, ততদিন খেলতে প্রস্তুত এই তারকা। তবে ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজন নেই জানালেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত তিনি।

ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দোর অবসর নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছিল নতুন জল্পনা। ২০২৬ বিশ্বকাপকে নিজের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে নিশ্চিত করার পর তাঁর ক্লাব এবং আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। বিশেষ করে ৪১ বছর বয়সে এসে পর্তুগালের সর্বকালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার আর কত দিন জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন, তা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই জল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। পর্তুগালের নতুন কোচ জর্জ জেসুসের প্রথম দলে রোনাল্দোর জায়গা হয়েছে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়েলসের বিরুদ্ধে নেশন্স লিগের ম্যাচের জন্য তাঁকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে।

কিছুদিন আগেই রোনাল্দো জানিয়েছিলেন, তাঁর পেশাদার ফুটবল কেরিয়ারের শেষ সময়টা খুব বেশি দূরে নয়। সেই মন্তব্যের পর থেকেই সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়—তাহলে কি খুব শীঘ্রই ফুটবল থেকে সরে দাঁড়াতে চলেছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি? ২০২৬ বিশ্বকাপের পর তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়েও একই প্রশ্ন সামনে আসে।

তবে এখনকার পরিস্থিতি বলছে, রোনাল্দো অন্তত এই মুহূর্তে পর্তুগালের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। নতুন কোচ জর্জ জেসুসের অধীনে পর্তুগাল দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তি সেই বিষয়টিই স্পষ্ট করছে। রোনাল্দোর বয়স এখন ৪১ বছর হলেও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় তাঁর উপস্থিতি এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোচ জর্জ জেসুসও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে শুধুমাত্র নাম বা অতীতের সাফল্যের ভিত্তিতে কাউকে খেলানো হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পারফরম্যান্সই হবে দল নির্বাচনের মূল বিষয়।

রোনাল্দোর ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে তিনি পর্তুগালের হয়ে অসংখ্য ম্যাচ খেলেছেন এবং একাধিক রেকর্ড তৈরি করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম অভিজ্ঞ তারকা হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। বিশ্বকাপে পর্তুগালের অভিযান শেষ হয় শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে হারের পর। ফলে বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্নও পূরণ হয়নি তাঁর।

বিশ্বকাপের পর স্বাভাবিকভাবেই রোনাল্দোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কারণ বয়সের দিক থেকে তিনি ইতিমধ্যেই কেরিয়ারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তাঁর পেশাদার ফুটবলের শেষ বছর সম্ভবত চলে এসেছে। আগস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর কেরিয়ারের শেষ সময় নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্য থেকেই অবসরের জল্পনা আরও বাড়ে।

কিন্তু জাতীয় দলের ক্ষেত্রে রোনাল্দোর অবস্থান কিছুটা আলাদা। পর্তুগালের জার্সিতে এখনও তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলেই বর্তমান দল নির্বাচন থেকে বোঝা যাচ্ছে। নতুন কোচের অধীনে প্রথম স্কোয়াডেই তাঁকে রাখা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর লিসবনে ওয়েলসের বিরুদ্ধে নেশন্স লিগের ম্যাচে তাঁর মাঠে নামার সম্ভাবনাও ছিল। ম্যাচের আগে জর্জ জেসুস জানিয়েছিলেন, শেষ মুহূর্তে কোনও শারীরিক সমস্যা না হলে রোনাল্দোকে প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে।

রোনাল্দোর এই প্রত্যাবর্তন বা খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সমর্থকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পর্তুগালের হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার এখনও শেষ হয়নি। তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপকে শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে দেখলেও তার অর্থ এই নয় যে বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দল থেকে অবসর নিশ্চিত হয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই পার্থক্যটাই সামনে নিয়ে এসেছে।

পর্তুগালের নতুন কোচ জর্জ জেসুস দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর প্রথম ২৫ সদস্যের স্কোয়াডে রোনাল্দোর পাশাপাশি একাধিক অভিজ্ঞ এবং তরুণ ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। কোচের বক্তব্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই সুযোগ দেওয়া হবে। রোনাল্দোর অতীত সাফল্য অবশ্যই তাঁকে আলাদা মর্যাদা দেয়, কিন্তু দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেটাই একমাত্র বিবেচনা নয়।

রোনাল্দোর আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানও তাঁর গুরুত্ব বোঝায়। তিনি পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক গোলের ক্ষেত্রেও রেকর্ডধারী। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি পর্তুগালের হয়ে তিনটি গোল করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দল শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে পরাজিত হয়।

এখন নজর নেশন্স লিগে। বিশ্বকাপের পর নতুন কোচের অধীনে পর্তুগালের সামনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এই পর্যায়ে রোনাল্দোর উপস্থিতি দলটির জন্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে, সেটাই দেখার বিষয়। নতুন কোচের পরিকল্পনায় অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি হয়, তারও একটা বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

রোনাল্দোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল—তিনি নিজের অবসরের সিদ্ধান্তকে একেবারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেঁধে দেননি। বরং তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, জাতীয় দলের প্রয়োজন এবং নিজের অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, এখনই পর্তুগালের জার্সি তুলে রাখার কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা নেই।

news image
আরও খবর

এখানেই তাঁর সাম্প্রতিক অবস্থানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। একদিকে তিনি জানিয়েছেন যে তাঁর পেশাদার ফুটবল কেরিয়ার শেষের দিকে এগোচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় দলের হয়ে খেলার দরজা এখনও খোলা রেখেছেন। ফলে রোনাল্দোর আন্তর্জাতিক অবসর নিয়ে আগের জল্পনাগুলিকে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রোনাল্দোর কেরিয়ারের শেষ অধ্যায় নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০০২ সালে সিনিয়র ফুটবলে অভিষেকের পর থেকে তিনি পর্তুগাল জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান মুখ। ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং আল-নাসরের হয়ে খেলে নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারে একাধিক বড় সাফল্য পেয়েছেন। পর্তুগালের হয়েও তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জিতেছেন।

এখন তাঁর বয়স ৪১। এই বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা নিজেই একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। তবে রোনাল্দোর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, যত দিন দল তাঁকে প্রয়োজনীয় মনে করবে এবং তিনি নিজের জায়গা ধরে রাখার মতো পারফরম্যান্স করতে পারবেন, তত দিন জাতীয় দলের হয়ে খেলার সম্ভাবনা থাকছে।

অন্যদিকে, পর্তুগালও ধীরে ধীরে ভবিষ্যতের জন্য নতুন খেলোয়াড়দের তৈরি করছে। দলে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের পাশাপাশি তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাই রোনাল্দোর পরবর্তী কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ তাঁর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ ভূমিকা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

নেশন্স লিগের এই পর্বে পর্তুগালের সামনে ওয়েলস, নরওয়ে এবং ডেনমার্কের মতো প্রতিপক্ষ রয়েছে। নতুন কোচের অধীনে দলের পারফরম্যান্স যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই রোনাল্দোর ভূমিকা নিয়েও থাকবে নজর।

সব মিলিয়ে, ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দোর অবসর নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা যাচ্ছে না। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়টি আলাদা। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, তিনি পর্তুগালের নেশন্স লিগের দলে রয়েছেন এবং নতুন কোচের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাঁকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তাই রোনাল্দোর ভক্তদের জন্য আপাতত সবচেয়ে বড় খবর—পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর গল্প এখনও শেষ হয়নি। ৪১ বছর বয়সেও তিনি জাতীয় দলের পরিকল্পনায় রয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কখন তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন, সেটি নির্ভর করবে তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত, পারফরম্যান্স এবং জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর।

রোনাল্দোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা। পর্তুগালের তরুণ ফুটবলারদের জন্য রোনাল্দোর উপস্থিতি শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বড় ম্যাচের চাপ সামলানো, আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিজ্ঞতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে থাকা রোনাল্দোর ভূমিকা পর্তুগাল দলের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করতে পারে।

তবে ভবিষ্যতে তাঁর খেলার সময় এবং ম্যাচের সংখ্যা কমতে পারে কি না, সেটিও নজরে রাখার মতো বিষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন ফুটবলারের জন্য ম্যাচ ম্যানেজমেন্ট এবং বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নতুন কোচ জর্জ জেসুসও দলের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলোয়াড়দের ব্যবহার করার দিকে নজর দিচ্ছেন। ফলে রোনাল্দো নিয়মিত প্রতিটি ম্যাচে একইভাবে খেলবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রোনাল্দো নিজেই অবসরের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি, আবার এখনই বিদায়ও ঘোষণা করেননি। তাই তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে কৌতূহল থাকছেই। পর্তুগালের হয়ে আরও ম্যাচ, আরও গোল এবং আরও কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিতে পারবেন কি না, সেটাই এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজরে।

Preview image