রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে? ট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠকের পর নতুন আশার ইঙ্গিত দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ অবশেষে কি শেষের দিকে এগোচ্ছে এই প্রশ্নই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কাছে পৌঁছেছে। এই বক্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আশার আলো যেমন দেখা দিয়েছে, তেমনই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা।
প্রায় তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যে এক গভীর ছাপ রেখে চলেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে, ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়েছে, জ্বালানি ও খাদ্য সংকট বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ট্রাম্পের মন্তব্য— “যুদ্ধ শেষ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কাছে”— বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এই মন্তব্য শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ যুদ্ধ শুরুর পর একাধিকবার শান্তি আলোচনার চেষ্টা হলেও সেগুলি বাস্তব রূপ পায়নি। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আস্থার ঘাটতি, দখল করা ভূখণ্ড নিয়ে অনড় অবস্থান এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর ভিন্নমুখী কৌশল যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলছে— আদৌ কি যুদ্ধ থামার মুখে দাঁড়িয়ে, নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক কৌশল?
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বারবার দাবি করেছেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ কখনোই এত দূর গড়াত না এবং প্রয়োজনে তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধ থামাতে সক্ষম হতেন। এই প্রেক্ষাপটে জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর বৈঠক এবং পরবর্তী মন্তব্য অনেকের কাছেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
ট্রাম্প জানান, বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই সমাধানের পথে এগোতে আগ্রহী। তাঁর মতে, রাশিয়া ও ইউক্রেন— দু’পক্ষের মধ্যেই কিছু নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে, যা আগে তেমনভাবে লক্ষ্য করা যায়নি। তিনি বলেন, “অনেকদিন ধরে এই যুদ্ধ চলছে। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এখন মনে হচ্ছে, এই সংঘাতের অবসান ঘটানোর পথ আমরা আগে কখনো এত কাছে পাইনি।”
এই মন্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জল্পনা শুরু হয়— তবে কি সত্যিই বড় কোনো সমঝোতার পথে হাঁটছে যুদ্ধরত দেশগুলো? নাকি এটি কেবল নির্বাচনী প্রচারের অংশ? কারণ এখনও পর্যন্ত রাশিয়া বা ইউক্রেন— কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়নি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও বৈঠকের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে কিছুটা সংযত ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, শান্তি আলোচনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। জেলেনস্কির কথায় স্পষ্ট যে ইউক্রেন কোনোভাবেই তাদের সার্বভৌমত্ব বা ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা নিয়ে আপস করতে প্রস্তুত নয়। তাঁর মতে, যুদ্ধ বন্ধ হলেও তা হতে হবে ইউক্রেনের শর্তে এবং জনগণের সম্মতিতে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা গ্যারান্টি। অতীতে ইউক্রেন পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করেছিল নিরাপত্তার আশ্বাসের ভিত্তিতে, কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর ছিল, তা যুদ্ধ শুরুর পর স্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই এবার কোনো চুক্তি হলে তা হবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে।
এই আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাশিয়ার অবস্থান। ট্রাম্প দাবি করেছেন, বৈঠকের আগে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং সেই আলোচনা ছিল “ফলপ্রসূ”। যদিও পুতিনের দিক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি সত্যিই মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে চান, তবে পুতিনের সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাশিয়া শুরু থেকেই ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দনবাস এবং ক্রিমিয়া নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এই অঞ্চলগুলিকে রাশিয়া নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে তারা অনড়। অন্যদিকে ইউক্রেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ভূখণ্ড ছাড় দেওয়া তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এই দ্বন্দ্বই এতদিন শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যের পেছনে একাধিক স্তরের রাজনৈতিক হিসাব রয়েছে। একদিকে তিনি নিজেকে “শান্তির দূত” হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা তুলে ধরাও তাঁর লক্ষ্য। ট্রাম্পের সমর্থকদের একাংশ মনে করেন, বাইডেন প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং ইউক্রেনকে লাগাতার সামরিক সহায়তা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করেছে। ট্রাম্পের কৌশল তার বিপরীত— আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান।
তবে সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে বাস্তবতার চেয়ে রাজনীতির ছাপ বেশি। কারণ যুদ্ধের ময়দানে এখনও সংঘর্ষ চলছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে “যুদ্ধ শেষের সবচেয়ে কাছে” মন্তব্য অনেকের কাছেই সময়ের আগেই করা বলে মনে হচ্ছে।
ইউরোপীয় দেশগুলিও এই মন্তব্যের দিকে গভীর নজর রাখছে। ইউরোপের নিরাপত্তা সরাসরি এই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত। ন্যাটো দেশগুলো ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে এসেছে, কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউরোপের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা মারাত্মক চাপে পড়েছে। তাই ইউরোপের অনেক নেতাই যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেলেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
তবে একই সঙ্গে আশঙ্কাও রয়েছে। যদি কোনো সমঝোতা ইউক্রেনের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তা ইউরোপে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, তাড়াহুড়ো করে কোনো চুক্তি হলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের বীজ বপন করতে পারে।
এই যুদ্ধের মানবিক দিকটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ লক্ষ ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশছাড়া হয়েছেন। শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বহুবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনা নিয়ে যে কোনো আলোচনা স্বাভাবিকভাবেই আশার আলো জাগায়।
তবে বাস্তবতা হলো, যুদ্ধ থামাতে হলে শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা। রাশিয়া ও ইউক্রেন— উভয় পক্ষকেই কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য তাই একদিকে যেমন আশার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে। এটি কি সত্যিই শান্তির পথে বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত, নাকি শুধুই নির্বাচনী কৌশলের অংশ— তার উত্তর দেবে সময়ই।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে একটি সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে। ট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠকের পর যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও, চূড়ান্ত বাস্তবায়ন এখনও বহু দূরের পথ। আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে কূটনৈতিক তৎপরতা কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ভবিষ্যৎ।
প্রায় তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গভীর সংকটে ফেলেছে। ইউক্রেনের বহু শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং হাজার হাজার প্রাণ ঝরেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিও এই যুদ্ধের প্রভাবে টালমাটাল হয়ে উঠেছে। জ্বালানি ও খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো পড়েছে বড় সংকটে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ শেষের কোনো সম্ভাবনা দেখা দিলে তা স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত ট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠকটিকে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, উভয় পক্ষই যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী এবং আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর মতে, রাশিয়া ও ইউক্রেন—দু’দেশের নেতৃত্বই বুঝতে পারছে যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতি আরও বাড়বে। তাই সমাধানের পথে হাঁটার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে বেশি।
তবে জেলেনস্কির বক্তব্যে সতর্কতার সুর স্পষ্ট। তিনি স্বীকার করেছেন যে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু বিষয়ে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে, কিন্তু একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন যে ইউক্রেন কোনোভাবেই তাদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা নিয়ে আপস করবে না। জেলেনস্কির মতে, যুদ্ধ বন্ধ হলেও তা হতে হবে ইউক্রেনের জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে।
এই আলোচনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও একটি বড় ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে ট্রাম্প নিজেকে একজন শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। তিনি বারবার দাবি করেছেন, তিনি ক্ষমতায় এলে খুব দ্রুতই যুদ্ধ থামাতে পারবেন। এই বক্তব্য তাঁর সমর্থকদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও সমালোচকরা একে বাস্তবতা থেকে অনেকটাই দূরে বলে মনে করছেন।
অন্যদিকে, রাশিয়ার অবস্থান এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং সেই আলোচনা ছিল ইতিবাচক। তবে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবস্থান বদলের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। বিশেষ করে দনবাস ও ক্রিমিয়া অঞ্চল নিয়ে রাশিয়া যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তা এখনও শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো এই পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে। যুদ্ধ বন্ধ হলে ইউরোপের অর্থনীতি কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত হতে চাইছে যে কোনো সমঝোতা যেন ভবিষ্যতে নতুন সংঘাতের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। ন্যাটো দেশগুলোর মধ্যে এই বিষয় নিয়ে মতভেদও স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ট্রাম্পের মন্তব্য যুদ্ধ শেষের বিষয়ে নতুন করে আশার আলো জাগালেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত জটিল। যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, কূটনৈতিক স্তরে নানা বাধা রয়ে গেছে। শান্তির পথে পৌঁছতে হলে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর সমঝোতা প্রয়োজন।
এই মুহূর্তে বিশ্ব তাকিয়ে আছে আগামী কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোর দিকে। সত্যিই কি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের পথে এগোচ্ছে, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—তা নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোর সিদ্ধান্ত ও আলোচনার ওপর।