Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সঞ্জুর ব্যাটে জয় চেন্নাইয়ের অক্ষরের দিল্লিকে হারিয়ে আইপিএলে প্লেঅফের আশা উজ্জ্বল করল পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নেরা

১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট হল চেন্নাই সুপার কিংসের। পয়েন্ট তালিকায় ষষ্ঠ স্থানেই থাকল রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের দল। তা-ও আইপিএলের প্লেঅফে ওঠার আশা কিছুটা উজ্জ্বল হল পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নদের।

চেন্নাই সুপার কিংস দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে আইপিএলের প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। দিল্লির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চেন্নাইয়ের জয়ের নায়ক ছিলেন সঞ্জু স্যামসন। ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক, সঞ্জু স্যামসন এই ম্যাচে নিজের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে চেন্নাইকে জয়ের দিকে নিয়ে যান। দিল্লির দেওয়া ১৫৬ রানের লক্ষ্যকে তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব ভালো না হলেও, সঞ্জুর নেতৃত্বে চেন্নাই ম্যাচটি জয়লাভ করে।

ম্যাচটি শুরু হয়েছিল দিল্লির প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্তে। দিল্লি নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। কিন্তু চেন্নাইয়ের বোলাররা বল হাতে কিছুটা শক্তিশালী পারফরম্যান্স করেছিল। শুরুতেই রুতুরাজ গায়কোয়াড় (৬) এবং উর্ভিল পটেল (১৭) দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় চাপ বেড়ে যায়। তবে, সঞ্জু স্যামসন মাঠে এসে দলের ইনিংসের হাল ধরেন এবং দ্রুত রান তোলেন। চেন্নাইয়ের ইনিংস গড়ার দায়িত্ব একাই তুলে নেন তিনি।

সঞ্জু স্যামসনের ৫২ বলে ৮৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস দলের জয় নিশ্চিত করে। তাঁর ইনিংসে ৭টি চার এবং ৬টি ছয় ছিল। দলটি রান তাড়া করতে থাকা অবস্থায়, সঞ্জু যেভাবে আক্রমণ করে খেলেছিলেন, তাতে দিল্লির বোলাররা তাকে থামাতে পারছিল না। একে একে বোলারদের মোকাবিলা করে, সঞ্জু ইনিংসটি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যান। তার সাথে কার্তিক শর্মার ৩১ বলে অপরাজিত ৪১ রানের ইনিংসটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কার্তিকের ইনিংসে ৪টি চার এবং ২টি ছয় ছিল।

দিল্লির বোলারদের মধ্যে অক্ষর পটেল ২৫ রানে ১ উইকেট নিয়েছিলেন, লুঙ্গি এনগিডি এবং মিচেল স্টার্ক ৩০ রান দিয়ে ১টি করে উইকেট নেন। তবে, দিল্লির বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে হতাশাজনক ছিল কুলদীপ যাদব ও টি নটরাজন। তাঁরা উইকেট না পেলেও, রান দিয়েছেন অনেক। দিল্লির দলের বোলিং এইদিনে ব্যর্থ হয়ে যায়।

এর আগে, দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর পটেল টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু দিল্লির ব্যাটিং ছিল অত্যন্ত শীতল। তারা শুরু থেকেই ব্যর্থ হয় এবং ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারায়। দিল্লির ব্যাটারদের মধ্যে স্টাবস এবং সমীর রিজ়ভি কিছুটা চেষ্টা করেন। ষষ্ঠ উইকেটে তারা ৬৫ রান যোগ করেন, যেখানে স্টাবস ৩১ বলে ৩৮ রান করেন এবং রিজ়ভি ২৪ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত দিল্লি দলকে ১৫৫ রানে আটকে রাখতে পারে, যা চেন্নাইয়ের জন্য মোটেও বড় কিছু ছিল না।

এদিনের ম্যাচে দিল্লির ওপেনাররা একেবারে রান করতে পারেননি। নিসঙ্ক এবং রাহুল অল্প রান করে আউট হন, এবং অন্যরা একে একে দ্রুত আউট হয়ে যান। দলের এই ব্যর্থতার কারণে দিল্লি বড় স্কোর করতে পারে না। তবে, শেষ পর্যন্ত স্টাবস এবং রিজ়ভির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে দিল্লি কিছুটা সম্মানজনক স্কোর তুলে নিতে পারে।

চেন্নাইয়ের সফল ব্যাটিংয়ের পর, দিল্লি তার প্রতিপক্ষ হিসেবে খুব একটা ভাল পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। তবে, এই ম্যাচটি চেন্নাইয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় ছিল, যা তাদের প্লে-অফে যাওয়ার আশা আরও উজ্জ্বল করেছে। ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তারা প্লে-অফে স্থান পেতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। 

এই ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক অক্ষর পটেল টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাঁর দলের ব্যাটাররা বেশিরভাগ সময়ই তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হন। প্রথম থেকেই তারা ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে শুরু করেন। দিল্লি দলের ব্যাটিং অর্ডার ছিল না খুব শক্তিশালী, এবং শুরু থেকেই চাপ অনুভব করছিল তারা। ৬৯ রানে তাদের ৫ উইকেট পড়ে যায়, যা দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়, যখন ট্রিস্টান স্টাবস এবং ইমপ্যাক্ট সাব সমীর রিজ়ভি একত্রে লড়াই করতে শুরু করেন।

দিল্লির বোলাররা, যারা কিছুটা প্রত্যাশা জাগিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অক্ষর পটেল ২৫ রানে ১ উইকেট নিয়ে দলের অন্যতম সফল বোলার ছিলেন। লুঙ্গি এনগিডি ৩০ রানে ১ উইকেট নেন, কিন্তু মিচেল স্টার্ক এবং টি নটরাজন কোন উইকেট নিতে পারেননি। স্টার্ক ৩০ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি, এবং নটরাজন ২.৩ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে উইকেট শিকার করতে ব্যর্থ হন। কুলদীপ যাদবও ৩ ওভারে ৩৪ রান দেন, তবে তিনিও উইকেট নিতে পারেননি।

যতটা খারাপভাবে শুরু হয়েছিল দিল্লি দলের ব্যাটিং, শেষ পর্যন্ত স্টাবস এবং রিজ়ভি দলের হাল ধরেন। তারা একত্রে মিলে একটি শক্তিশালী পার্টনারশিপ গড়ে তুলেন, যা দলের জন্য একটি লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু, দলের দুর্বল ব্যাটিং লাইনআপ এবং প্রতিপক্ষের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ তাদের আর কখনও ফিরে আসতে দেয়নি।

এ ম্যাচে দিল্লির জন্য বড় শিক্ষা হলো, প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না, এবং তাদের বোলিংয়ের মধ্যে কিছু সমস্যা ছিল। যতটা আত্মবিশ্বাসী তারা ছিল, ততটা সফল হতে পারেনি। বিশেষ করে তাদের সেরা বোলারদের ভালো পারফরম্যান্সের অভাব তাদের অনেকটা পিছিয়ে দেয়।

এই ম্যাচের পর দিল্লি দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার জন্য তাদের কৌশল পরিবর্তন করতে হবে, বিশেষ করে বোলিংয়ে আরও ধারাবাহিকতা আনার জন্য। তাদের ব্যাটিং লাইনআপও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন যাতে এমন পরিস্থিতি আসলে তারা দলের জন্য শক্তিশালী পারফরম্যান্স দিতে পারে। 

দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক অক্ষর পটেলের নেতৃত্বে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে আজকের ম্যাচটি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। দিল্লি ক্যাপিটালস প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেও, দলের ব্যাটারদের অক্ষমতা এবং বোলারদের শোচনীয় পারফরম্যান্স তাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং চেন্নাই সুপার কিংসের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও অধিনায়ক এবং বোলারদের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ম্যাচের পরিসংখ্যান এবং বিশ্লেষণ দেখে বলা যায়, দিল্লি যেভাবে খেলেছে তা কোনওভাবেই ম্যাচের শোচনীয় ফলাফলের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

news image
আরও খবর

বোলিং পারফরম্যান্স
দিল্লির বোলারদের মধ্যে অক্ষর পটেল ২৫ রানে ১ উইকেট নিলেন। ৩০ রানে ১ উইকেট লাভ করলেন লুঙ্গি এনগিডি। মিচেল স্টার্ক ৩০ রান দিয়েও কোনো উইকেট নিতে পারেননি। টি নটরাজন ২.৩ ওভারে ৩৯ রান দিয়েও উইকেট পাবেননি। কুলদীপ যাদব ৩ ওভারে ৩৪ রান খরচ করে উইকেট পাননি। তাদের এ বোলিং পারফরম্যান্স দলের জন্য মোটেও সহায়ক ছিল না।

ব্যাটিং পারফরম্যান্স
দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর পটেল টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর সিদ্ধান্তের যথার্থতা ব্যাটিং পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত হয়নি। দিল্লির ব্যাটাররা শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকেন। ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর, দলকে লড়াই করার মতো জায়গায় নিয়ে আসেন ট্রিস্টান স্টাবস এবং ইমপ্যাক্ট সাব সমীর রিজ়ভি। এই দুজনের সংগ্রাম দলের পরাজয় ঠেকাতে সহায়তা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা যথেষ্ট ছিল না। তাদের জয়ের লক্ষ্য পূর্ণ করতে পারা সম্ভব হয়নি।

টস ও দল নির্বাচন
দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর পটেল টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে প্রমাণিত হয় একটি ভুল সিদ্ধান্ত। দিল্লির ব্যাটিং শক্তি যে পর্যাপ্ত ছিল না তা প্রথম থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। যাদের উপর দলের নির্ভরতা ছিল, তারা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে পারেননি। সেই সঙ্গে বোলিং আক্রমণও ছিল নিস্প্রভ, যা পুরো ম্যাচের গতিকে প্রভাবিত করেছিল।

পরবর্তীতে ম্যাচের পালাবদল
৬৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর দিল্লির দলকে একটি লড়াইয়ের অবস্থায় নিয়ে আসেন ট্রিস্টান স্টাবস এবং সমীর রিজ়ভি। তাঁরা দলের জন্য কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম হন, তবে শেষ পর্যন্ত এই প্রত্যাশিত লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তাদের এই সংগ্রাম দলকে অন্তত একটু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে, কিন্তু ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের অদক্ষতার কারণে চূড়ান্ত জয়ের লক্ষ্য অধরাই রয়ে যায়।

 

 

 

 

 

 

Preview image