ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা SEBI ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে মিউচুয়াল ফান্ড স্কিমগুলো প্রি-IPO প্লেসমেন্টে বিনিয়োগ করতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনও কোম্পানি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত (IPO) হওয়ার আগে তার শেয়ার কেনা বা লগ্নি করার সুযোগ মিউচুয়াল ফান্ডগুলির থাকবে না। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা ও বাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। SEBI জানিয়েছে, প্রি-IPO পর্যায়ে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ কোনও কোম্পানি যদি লিস্টিংয়ে ব্যর্থ হয়, তবে মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার অপ্রকাশিত (unlisted) থেকে যাবে, যা নিয়মবহির্ভূত। বর্তমানে ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের মোট সম্পদ ব্যবস্থাপনা (AUM) প্রায় ₹৭৫.৬১ লাখ কোটি, যার একটি অংশ প্রি-IPO বিনিয়োগে যেত। এখন সেই রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, ফান্ড হাউসগুলিকে বিনিয়োগ কৌশল পরিবর্তন করতে হবে। SEBI-এর এই পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে ঝুঁকি কমবে, বাজারে জবাবদিহিতা বাড়বে, এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পকে আরও স্বচ্ছ, নিয়মানুগ ও বিনিয়োগকারীবান্ধব করে তুলবে।
ভারতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা SEBI (Securities and Exchange Board of India) এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পে নতুন নিয়মের সূচনা করেছে। সংস্থাটি ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে মিউচুয়াল ফান্ড স্কিমগুলো কোনও কোম্পানির প্রি-IPO (Initial Public Offering) প্লেসমেন্টে বিনিয়োগ করতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনও কোম্পানি বাজারে শেয়ার ইস্যু করার আগে সেই শেয়ার কেনা বা লগ্নি করার সুযোগ মিউচুয়াল ফান্ডগুলির থাকবে না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় শেয়ারবাজারে প্রি-IPO প্লেসমেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ছিল। অনেক মিউচুয়াল ফান্ড হাউস এই সুযোগে বিনিয়োগ করছিল, কারণ সাধারণত প্রি-IPO বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক কম দামে শেয়ার কিনতে পারতেন এবং কোম্পানি লিস্টেড হওয়ার পর লাভবান হতেন। কিন্তু এই ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছিল, কারণ যদি কোনও কোম্পানি IPO আনতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই বিনিয়োগ ‘unlisted’ বা অপ্রকাশিত থেকে যেত।
SEBI সেই সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করেই এই নতুন নির্দেশ জারি করেছে। সংস্থাটি এক অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে Association of Mutual Funds in India (AMFI)-কে জানায় যে, মিউচুয়াল ফান্ড স্কিম শুধুমাত্র listed বা to-be-listed সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করতে পারবে।
SEBI-এর এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো— বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা ও বাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
মিউচুয়াল ফান্ডে মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীরা টাকা রাখেন, যারা নিজেরা শেয়ার বাজারে সরাসরি ট্রেড করেন না। তাই এই ফান্ডগুলোর বিনিয়োগ নীতি ঝুঁকি-মুক্ত ও নিয়মানুগ হওয়া আবশ্যক।
প্রি-IPO প্লেসমেন্টে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি বড় সমস্যা চিহ্নিত করেছে SEBI:
1️⃣ লিস্টিং ব্যর্থতার ঝুঁকি: কোম্পানি যদি IPO আনতে না পারে, তাহলে মিউচুয়াল ফান্ডের হাতে থাকা শেয়ারগুলো অপ্রকাশিত থেকে যায়।
2️⃣ তথ্য প্রকাশের অভাব: প্রি-IPO রাউন্ডে লেনদেন অনেক সময় প্রকাশ্যে আসে না, ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত মূল্য বা ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকতে পারেন না।
এই কারণে SEBI নির্দেশ দিয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ডগুলি শুধুমাত্র সেসব ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করবে, যেগুলো বাজারে লিস্টেড বা শীঘ্রই লিস্টেড হতে চলেছে।
বর্তমানে ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের মোট সম্পদ ব্যবস্থাপনা (AUM) প্রায় ₹৭৫.৬১ লাখ কোটি টাকা। এর একটি ক্ষুদ্র অংশ প্রি-IPO বিনিয়োগে যেত। এখন সেই বিনিয়োগের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, অনেক ফান্ড ম্যানেজারকে তাদের বিনিয়োগ কৌশল পরিবর্তন করতে হবে।
কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তে মিউচুয়াল ফান্ডের ঝুঁকি কমবে, তবে তাদের লাভের সম্ভাবনাও কিছুটা সীমিত হবে। অন্যদিকে, প্রি-IPO রাউন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ এখন Alternative Investment Funds (AIFs), ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম-এর দিকে সরে যেতে পারে।
একটি প্রধান মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থার সিনিয়র ম্যানেজার বলেছেন —
“SEBI-এর সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এতে আমাদের কিছু সুযোগ কমবে, তবুও এটি বাজারকে আরও স্থিতিশীল করবে।”
![]()
আরও খবর
এই সিদ্ধান্ত বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক এটিকে “discipline-oriented” পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন যে এটি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর return optimization capacity সীমিত করে দেবে।
বাজার বিশেষজ্ঞ দেবাশিস বসু বলেন —
“প্রি-IPO বিনিয়োগ সাধারণত উচ্চ ঝুঁকি ও উচ্চ লাভের জায়গা। SEBI এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রিটেইল বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমানোর দিকে এক ধাপ এগোল।”
তবে, কিছু ফান্ড হাউস উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, IPO-র আগে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ বা গ্রোথ কোম্পানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারাবে তারা।
এই সিদ্ধান্ত মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক। কারণ, এখন তাদের টাকাগুলি শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রিত, স্বচ্ছ এবং প্রকাশিত শেয়ারগুলিতেই বিনিয়োগ হবে। এতে বাজারে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং অনিশ্চয়তা কমবে।
একজন বিনিয়োগ পরামর্শক বলেন —
“রিটেইল বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি এক ধরনের সুরক্ষা বর্ম। কারণ, প্রি-IPO বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তথ্য স্বচ্ছতার অভাব থাকত, যা অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তে পরিণত হতো।”
গত কয়েক বছরে SEBI ধারাবাহিকভাবে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা আনতে কাজ করছে। এর আগে তারা expense ratio transparency, risk-o-meter disclosure, এবং mutual fund stress test reporting চালু করেছে। প্রি-IPO নিষেধাজ্ঞা সেই ধারারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
SEBI-এর এই পদক্ষেপ ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যদিও এটি কিছু ফান্ডের সম্ভাব্য আয়ের পথ সীমিত করবে, তবে বিনিয়োগকারীর স্বার্থে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত।
সার্বিকভাবে, এই নির্দেশনা মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে আরও দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ এবং বিনিয়োগকারীবান্ধব করে তুলবে। প্রি-IPO বিনিয়োগের ঝুঁকি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন আরও নিরাপদ ও নিয়মমাফিক বাজারে অংশগ্রহণ করতে পারবেন — যা ভারতের পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দেবে।