Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দিল্লি দুন হাইওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা একই পরিবারের একাধিক সদস্য আহত

দিল্লি দুন হাইওয়েতে ভোরবেলা ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা আবারও পথ নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। ঘন কুয়াশার মধ্যে দ্রুতগতিতে চলা একটি ব্যক্তিগত গাড়ি হঠাৎই রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা মারে। গাড়ির ভিতরে থাকা একই পরিবারের পাঁচজনের মধ্যে চারজন গুরুতরভাবে আহত হন। কাঁচ ভেঙে এবং চাপা পড়া অংশ কেটে হাইওয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে রূড়কি এবং দেহরাদুনের হাসপাতালে ভর্তি করে। দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণে তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠবেন।স্থানীয় মানুষ এই দুর্ঘটনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে হাইওয়েতে সিসিটিভি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পেট্রোলিং বাড়ানো জরুরি। কুয়াশার সময় গাড়িচালকদের গতি কমানোর নির্দেশ থাকলেও অনেকেই তা মানেন না, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। হাইওয়ে অথরিটি জানিয়েছে শীতের সময় বিশেষ সতর্কতা মেনে চলা বাধ্যতামূলক, হেডলাইট লো বিমে রাখা এবং দীর্ঘ ভ্রমণে বিরতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যম জুড়ে আহত পরিবারের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেন বহু মানুষ। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন পরিবারটি সময়ের সঙ্গে সুস্থ হয়ে উঠবে। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল এক মুহূর্তের অসতর্কতা জীবনকে বিপন্ন করতে পারে, আর নিরাপত্তা যেকোনো গতির চেয়ে বেশি মূল্যবান।

দিল্লি থেকে দেহরাদুনের দিকে যাতায়াত করা মানুষের কাছে এই হাইওয়ে শুধু একটি রাস্তা নয় বরং পাহাড়, প্রকৃতি, কাজের দুনিয়া এবং পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের একটি দৈনন্দিন সেতু। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথে যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু কখনও কখনও ব্যস্ততার এই পথে ঘটে যায় এমন কিছু ঘটনা যা পুরো অঞ্চলকে থমকে দেয় এবং রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি করে। আজ ভোরবেলা দিল্লি দুন হাইওয়েতে ঠিক এমনই একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, যা মুহূর্তের মধ্যে স্বাভাবিকতা ভেঙে দিয়ে আতঙ্ক, চিৎকার আর অসহায়তার দৃশ্য তৈরি করে দিল। একটি পরিবারের জন্য আজকের দিনটি হয়ে রইল জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর স্মৃতি। ঘটনাটি ঘটে ভোর রাতের নীরবতা ভাঙতেই। অনেকেই তখনো ঘুম থেকে ওঠেননি, কেউ কেউ কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন সময় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি দেহরাদুন মুখী পথে দ্রুতগতিতে ছুটে আসছিল। গাড়ির ভিতরে ছিল একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য। তারা রাতের মাঝেই দিল্লি থেকে দেহরাদুনের দিকে রওনা হয়েছিলেন। পরিবারের প্রধানের কথায় জানা যায় জরুরি একটি কাজ ছিল এবং তাই তারা খুব ভোরেই পথে নামেন। কিন্তু হাইওয়ের মাঝপথে আসতেই কুয়াশার ঘন আস্তরণ পুরো পরিবেশ ঢেকে ফেলতে শুরু করে। রাস্তার দৃশ্যমানতা কমতে থাকলেও গাড়িটি তার আগের গতিতেই এগোচ্ছিল। হঠাৎই কিছুটা সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক গাড়িটির সামনে এসে পড়ে। চালক বুঝে ওঠার আগেই খুব দ্রুতগতির সেই ব্যক্তিগত গাড়িটি সজোরে ট্রাকের পেছনে গিয়ে ধাক্কা মারে। ধাক্কার শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশেপাশের এলাকায় থাকা ট্রাক ড্রাইভার, হোটেল মালিক, কয়েকজন পথযাত্রী এবং রাতের ডিউটিতে থাকা পেট্রোলিং পুলিশও ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। কারটি মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে মুচড়ে এমন অবস্থায় পৌঁছে যায় যে গাড়ির সামনের অংশ প্রায় ট্রাকের পেছনের অংশে আটকে যায়। গাড়ির ভিতরে আটকে পড়েন পরিবারের চারজন সদস্য। একজন বুঝতে পেরে পেছন দিক থেকে দরজা ঠেলে কোনোরকমে বের হতে সক্ষম হন। তিনি চিত্কার করে সাহায্যের আবেদন করতে থাকেন এবং তাঁর সেই চিত্কার রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে আরো আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। কয়েকজন পথচারী এবং ট্রাক ড্রাইভার মিলে দ্রুত পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় হাইওয়ে পেট্রোল টিম। তারা দেখে ভেতর থেকে আর্তনাদ ভেসে আসছে। এক শিশুও আহত অবস্থায় কান্না করছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন, তাঁর মুখে রক্ত। আরেকজনের পা আটকে আছে গাড়ির ভাঙা অংশে। এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে উপস্থিত মানুষজন হতবাক হয়ে পড়েন। হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তারা কাঁচ ভেঙে, গাড়ির চাপা পড়া অংশ কেটে একে একে আহতদের বের করতে থাকেন। প্রত্যেকটি মুহূর্ত ছিল জীবন-মৃত্যুর লড়াই। কুয়াশা তখনো ঘনভাবেই চারদিকে ছড়িয়ে ছিল এবং ঠান্ডা হাওয়া উদ্ধারকাজকে আরো কঠিন করে তুলছিল। এর মাঝে রাস্তার দুই দিকেই শুরু হয় দীর্ঘ যানজট। চারদিকে সাইরেন, লাইট এবং মানুষের উদ্বিগ্ন মুখ। আহতদের দ্রুত রূড়কি এবং দেহরাদুনের সরকারি ও বেসরকারি দুটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। পরিবারের দুই সদস্যের অবস্থা গুরুতর বলে জানা যায়। এক জনের মাথায় আঘাত, অন্যজনের বুকের হাড়ে ফাটল ধরা পড়েছে। শিশুটি তুলনামূলকভাবে কম আহত হয়েছে, তবে তার ভয় এবং আতঙ্কের মাত্রা ছিল প্রচণ্ড। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা যায় যে হৃদযন্ত্রের কোনও স্থায়ী ক্ষতি বা প্রাণসংহারী অভ্যন্তরীণ আঘাত নেই। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং আঘাতের কারণে কিছু সদস্যকে আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিবারটির আরও কয়েকজন আত্মীয় খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং তাদের কান্না, উদ্বেগ পুরো পরিবেশকে আরও ভারী করে তোলে।পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। সচরাচর ভোরের সময় ঘন কুয়াশা এবং অতিরিক্ত গতি এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায় জানা যায় গাড়িটি খুব দ্রুতগতিতে ছুটছিল এবং কুয়াশার কারণে সামনের ট্রাকটি চালক বুঝতে পারেননি। যদিও পুলিশ জানতে চেয়েছে ট্রাকটি কেন রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে ছিল এবং তার পেছনে নিরাপত্তা নির্দেশক রিফ্লেক্টর বা সতর্ক সংকেত ছিল কি না। ট্রাকচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।স্থানীয় মানুষ এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে হাইওয়ে অথরিটিকে এই রাস্তায় আরও বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি এবং নিয়মিত পেট্রোলিং ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত। বিশেষ করে ভোরের কুয়াশার সময় গাড়িগুলিকে ধীরগতিতে চালানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও অনেকে এই সতর্কতা মানেন না। এর ফলে প্রতিদিন বড় দুর্ঘটনা এড়িয়ে গেলেও মাঝেমধ্যে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।হাইওয়ে অথরিটি দুর্ঘটনার পর বিশেষ নির্দেশ জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, শীতের মৌসুমে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকে, তাই এই সময় গাড়িচালকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। হেডলাইট লো বিমে রাখতে হবে, গাড়ির গতি কমাতে হবে এবং দীর্ঘ ভ্রমণের সময় মাঝে মাঝে বিরতি নিতে হবে যাতে মনোযোগ এবং শারীরিক শক্তি বজায় থাকে।দুর্ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ আহত পরিবারের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তাদের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেন। কিছু মানুষ জানান তাঁরা একই হাইওয়ে দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন এবং এই রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠে।এদিকে হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে আহতদের চিকিৎসা করা চিকিৎসকরা জানান যে পরিবারটি কিছুদিন পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে। গুরুতর আহত দুই সদস্যকে কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। শিশু এবং আহত পুরুষ সদস্যের অবস্থা ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে।এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল যে একটি মুহূর্তের অসতর্কতা জীবনকে বিপন্ন করে তুলতে পারে। ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, দ্রুত পৌঁছানোর তাড়াহুড়ো সব মিলিয়ে মানুষ অনেকসময় সড়কে যথেষ্ট সতর্কতা মেনে চলতে ভুলে যায়। কিন্তু প্রকৃতি, আবহাওয়া কিংবা রাস্তার পরিস্থিতি কোনও সময়েই মানুষের ভুলকে ক্ষমা করে না।পরিবারটি এই ঘটনার শোক এবং যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেলেও তারা বেঁচে গেছে সেটাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা। তবে তাঁদের মানসিক ট্রমা কাটতে সময় লাগবে। বিশেষ করে শিশুটির আতঙ্ক দূর করতে মনোবিদদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। এই দুর্ঘটনা পুরো হাইওয়ে প্রশাসনকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও কড়া নজরদারি, স্মার্ট সেন্সর প্রযুক্তি, সতর্কতা বোর্ড এবং ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।দিল্লি দুন হাইওয়ে দিয়ে যারা প্রতিদিন যান, তাদের জন্য এই দুর্ঘটনা একটি বড় শিক্ষা। গতি যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, নিরাপত্তা তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারটির জন্য আজকের দিনটি দীর্ঘশ্বাসে ভরা হলেও তারা এখনও আশাবাদী যে শীঘ্রই সবাই সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।দিল্লি দুন হাইওয়েতে ভোরবেলা ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা আবারও পথ নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। ঘন কুয়াশার মধ্যে দ্রুতগতিতে চলা একটি ব্যক্তিগত গাড়ি হঠাৎই রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা মারে। গাড়ির ভিতরে থাকা একই পরিবারের পাঁচজনের মধ্যে চারজন গুরুতরভাবে আহত হন। কাঁচ ভেঙে এবং চাপা পড়া অংশ কেটে হাইওয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে রূড়কি এবং দেহরাদুনের হাসপাতালে ভর্তি করে। দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণে তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠবেন।স্থানীয় মানুষ এই দুর্ঘটনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে হাইওয়েতে সিসিটিভি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পেট্রোলিং বাড়ানো জরুরি। কুয়াশার সময় গাড়িচালকদের গতি কমানোর নির্দেশ থাকলেও অনেকেই তা মানেন না, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। হাইওয়ে অথরিটি জানিয়েছে শীতের সময় বিশেষ সতর্কতা মেনে চলা বাধ্যতামূলক, হেডলাইট লো বিমে রাখা এবং দীর্ঘ ভ্রমণে বিরতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যম জুড়ে আহত পরিবারের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেন বহু মানুষ। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন পরিবারটি সময়ের সঙ্গে সুস্থ হয়ে উঠবে। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল এক মুহূর্তের অসতর্কতা জীবনকে বিপন্ন করতে পারে, আর নিরাপত্তা যেকোনো গতির চেয়ে বেশি মূল্যবান।

news image
আরও খবর
Preview image