দিল্লির ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন অভিনেত্রী পায়েল ঘোষের শৈশবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুনিতা মিশ্রা। মাত্র কয়েক দিন আগেই তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছিল, তাই এই মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন পায়েল। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “বিশ্বাস হচ্ছে না, আমরা এক সপ্তাহ আগেও কথা বলেছিলাম।” লালকিলা মেট্রোর কাছে বিস্ফোরণে ১২ জনের মৃত্যু হয়। পায়েল জানিয়েছেন, সুনিতা শুধু বন্ধু নন, পরিবারের মতো ছিলেন। এই ঘটনায় শোকাহত অভিনেত্রী সবাইকে মানবিক হয়ে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিনেত্রী পায়েল ঘোষের মুখে এখনো অবিশ্বাসের ছায়া। যেন মেনে নিতে পারছেন না, যাঁর সঙ্গে মাত্র কয়েক দিন আগেই কথা হয়েছিল, যাঁর কণ্ঠে ছিল হাসি আর জীবনমুখী আশাবাদ—সেই প্রিয় বন্ধু আজ আর নেই। দিল্লির ভয়াবহ বিস্ফোরণে পায়েল হারিয়েছেন তাঁর স্কুলজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুনিতা মিশ্রাকে। এই খবর শোনার পর থেকেই অভিনেত্রীর মন ভেঙে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা জানাতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, “বিশ্বাস হচ্ছে না, আমরা এক সপ্তাহ আগেও কথা বলেছিলাম। এমন প্রাণবন্ত মানুষ কীভাবে চলে যেতে পারে!”
গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় দিল্লির লালকিলা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর কাছে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। একটি সাদা রঙের হুন্ডাই i20 গাড়ি মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আশপাশের মানুষ ছুটে এসে দেখতে পান, গাড়ির ভেতরে কয়েকজন যাত্রী ছিলেন, যাঁদের কারও বাঁচার উপায় ছিল না। পরবর্তীতে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে ছিলেন সুনিতা মিশ্রা, যিনি পায়েল ঘোষের শৈশবের বন্ধু এবং দীর্ঘদিনের যোগাযোগে থাকা একজন প্রিয় মানুষ। পায়েল নিজেই জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে তাঁদের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছিল, নানা বিষয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টা হয়েছিল। তিনি বুঝতেই পারেননি, সেটিই ছিল তাঁদের শেষ কথা।
সুনিতা ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত, হাসিখুশি, সবার সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন খুব সহজে। স্কুলজীবন থেকেই পায়েলের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গভীর। দুজনেই একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন, স্বপ্ন দেখেছেন জীবনে বড় কিছু করার। যদিও সময়ের সাথে পায়েল অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন, আর সুনিতা নিজের পেশায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তবুও যোগাযোগ কখনো পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। পায়েল প্রায়ই বলেন, “সে শুধু বন্ধু ছিল না, আমার পরিবারের মতো ছিল। সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছে।” তাই হঠাৎ এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সুনিতার মৃত্যু পায়েলের জীবনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।
বিস্ফোরণটি নিয়ে তদন্তে জানা গেছে, গাড়ির ভেতরে বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ ছিল এবং সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো একটি হামলা হতে পারে। সন্ত্রাসবাদী যোগ বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র—সব দিকই এখন খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ ও এনআইএ। এই ঘটনায় অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কিন্তু পায়েলের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি সংবাদ নয়—এটি ব্যক্তিগত এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি সামাজিক মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে লিখেছেন, “একজন মানুষ, যে প্রতিটি দিন অন্যকে হাসাতে চাইত, সে নিজেই এমন করুণ পরিণতির মুখে পড়বে, ভাবতেই পারছি না।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় পায়েলের শোকবার্তা ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অনুরাগী ও সহকর্মীরাও সান্ত্বনার বার্তা পাঠাচ্ছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, জীবনের অনিশ্চয়তা আমাদের প্রতিনিয়ত নতুন করে নাড়া দেয়। পায়েলও সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন খুব কাছ থেকে। তিনি বলেছেন, “জীবন কতটা ভঙ্গুর, এখন আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছি। যাঁর সঙ্গে প্রতিদিন কথা হতো, তিনি আজ নেই—এই সত্য মেনে নেওয়া খুব কঠিন।”
পায়েল ঘোষের কথায় উঠে এসেছে এক গভীর মানবিক অনুভূতি। তিনি বলেছেন, “সুনিতা আমার জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা কখনো মুছে যাবে না। আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি, একসঙ্গে স্বপ্ন দেখেছি। সে ছিল এমন একজন, যে সবসময় অন্যের সুখে আনন্দ পেত। আজ সে নেই, কিন্তু তার স্মৃতি, তার হাসি, তার কণ্ঠ আমার মনে চিরকাল বেঁচে থাকবে।”
এই ঘটনার পর পায়েল আহ্বান জানিয়েছেন, সবাই যেন নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। তিনি বলেছেন, “আমরা সবাই ব্যস্ত জীবনে দৌড়াচ্ছি, কিন্তু এমন সময় আমাদের মানবিক হয়ে উঠতে হবে। যারা প্রিয়জন হারিয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
দিল্লি বিস্ফোরণ শুধু রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাই নয়, মানবজীবনের নশ্বরতাকেও আবারও সামনে এনেছে। এক মুহূর্তে সব কিছু কেমন ওলটপালট হয়ে যেতে পারে, সেটি পায়েল নিজের জীবনে হাড়ে হাড়ে অনুভব করছেন। তাঁর কণ্ঠে এখন শুধু শোক আর স্মৃতির ভার। তিনি বলেছেন, “সুনিতার চলে যাওয়া আমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু আমি চাই, সবাই যেন তার মতোই ইতিবাচকভাবে বাঁচতে শেখে। সে যেমন মানুষকে হাসি উপহার দিতে ভালোবাসত, আমিও চাই তার স্মৃতি মানুষকে অনুপ্রেরণা দিক।”
পায়েলের জীবনে এই দুর্ঘটনা এক গভীর ছাপ রেখে গেল। বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, এবং জীবনের মূল্যবোধ সম্পর্কে তিনি নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছেন। হয়তো সময়ের সঙ্গে ক্ষত কিছুটা শুকোবে, কিন্তু সুনিতার অনুপস্থিতি তাঁর হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। দিল্লির সেই বিস্ফোরণ কেবল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নয়, এটি স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবন কত সংক্ষিপ্ত, আর বন্ধুত্ব কত অমূল্য।