নবমীর রাতে ‘রামায়ণ’ ছবির প্রচারে কলকাতায় হাজির রণবীর কপূর ও যশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ছবিটি নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন তিনি। এই সাক্ষাৎ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
নীতেশ তিওয়ারীর পরিচালনায় তৈরি ‘রামায়ণ’ ছবিকে ঘিরে দর্শকদের উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণের কাহিনি বড় পর্দায় নতুনভাবে তুলে ধরার এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই কলকাতায় ছবির প্রচারে এসে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রণবীর কপূর ও যশ। নবমীর রাতে শহরে হাজির হয়েছিলেন দুই তারকা। পরে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে দশেরার অনুষ্ঠানে যোগ দেন তাঁরা। সেখানেই ‘রামায়ণ’ ছবিকে পশ্চিমবঙ্গে করমুক্ত করার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘোষণার পর ছবিটি নিয়ে চর্চা আরও বেড়েছে। বড় বাজেটের এই পৌরাণিক ছবিতে রামের ভূমিকায় অভিনয় করছেন রণবীর কপূর। সীতার চরিত্রে রয়েছেন সাই পল্লবী এবং রাবণের ভূমিকায় দেখা যাবে যশকে। ছবিটি দু’টি পর্বে মুক্তি পাওয়ার কথা। ফলে একদিকে যেমন দর্শকদের মধ্যে ছবির কাহিনি, অভিনয় ও নির্মাণ নিয়ে আগ্রহ রয়েছে, অন্যদিকে করমুক্তির ঘোষণাও ছবির প্রচারের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দুর্গাপুজোর আবহে কলকাতায় ‘রামায়ণ’ ছবির প্রচার ছিল বিশেষ আকর্ষণের বিষয়। নবমীর রাতে শহরে পৌঁছন রণবীর কপূর ও যশ। তাঁদের উপস্থিতি ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস তৈরি হয়। ভারতীয় পুরাণের অন্যতম পরিচিত কাহিনি নিয়ে তৈরি এই ছবিতে দুই অভিনেতাকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। তাই ছবির প্রচারে তাঁদের কলকাতা সফরও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
কলকাতা বরাবরই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উৎসব এবং চলচ্চিত্রের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। দুর্গাপুজো ও দশেরার মতো উৎসবের সময়ে শহরে এসে ছবির প্রচার করা নির্মাতাদের কাছে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি সুযোগ। ‘রামায়ণ’-এর ক্ষেত্রেও সেই আবহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রণবীর কপূর ও যশের মতো দুই জনপ্রিয় অভিনেতাকে একই ছবিতে দেখা যাবে—এই বিষয়টিও দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। রণবীরের অভিনয়জীবনে রামের মতো পৌরাণিক চরিত্র একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, রাবণের চরিত্রে যশকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর অনুরাগীরা। দুই অভিনেতার পরিচিত পর্দা-ব্যক্তিত্ব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি পৌরাণিক জগতে তাঁদের অভিনয় কীভাবে ফুটে উঠবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
কলকাতার সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে দশেরার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ‘রামায়ণ’ ছবিকে করমুক্ত করার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ছবিটিকে করমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ এবং ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর মতো ছবির প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।
সিনেমাকে করমুক্ত করার সিদ্ধান্ত সাধারণত দর্শকদের টিকিটের খরচের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে কোনও ছবি করমুক্ত হলেই সব ক্ষেত্রে টিকিটের মোট দাম একই পরিমাণে কমে যাবে, এমন নয়। করমুক্তির বাস্তব প্রভাব নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত, করের কাঠামো, প্রদর্শনের নিয়ম এবং সিনেমা হলের টিকিটমূল্য নির্ধারণের পদ্ধতির উপর।
‘রামায়ণ’-এর ক্ষেত্রে করমুক্তির ঘোষণা কার্যকর হলে ছবিটি দেখার খরচে দর্শকেরা কতটা সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করবে সরকারি নির্দেশিকা ও সংশ্লিষ্ট নিয়মের উপর। ঘোষণার পর এই বিষয়টি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
ভারতীয় পুরাণ ও মহাকাব্য নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনি বিভিন্ন ভাষায়, বিভিন্ন সময়ে নাটক, টেলিভিশন ধারাবাহিক এবং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। বড় পর্দায় আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন দৃশ্যভাষার সাহায্যে এই কাহিনিগুলিকে উপস্থাপন করার চেষ্টা নির্মাতাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
দশেরার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগামী দিনে ভারতীয় পুরাণ ও মহাকাব্য নিয়ে আরও ছবি তৈরি হওয়ার আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুন এবং মহাভারতের মতো বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে ছবি দেখার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতীয় পুরাণের কাহিনিগুলি শুধু ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এগুলির মধ্যে রয়েছে সম্পর্ক, নৈতিকতা, কর্তব্য, ক্ষমতা, দ্বন্দ্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের নানা দিক। এই কারণেই বহু প্রজন্ম ধরে রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনি মানুষের কাছে পরিচিত ও প্রাসঙ্গিক থেকেছে।
চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এই কাহিনিগুলিকে নতুনভাবে তুলে ধরলে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও সেগুলি পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে পুরাণভিত্তিক ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে কাহিনির পরিচিতি, চরিত্রের উপস্থাপনা, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা এবং সৃজনশীল স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
‘রামায়ণ’-এর মতো বড় মাপের ছবিকে ঘিরে তাই শুধু অভিনয় বা ভিএফএক্স নয়, কাহিনি কীভাবে বলা হচ্ছে, চরিত্রগুলি কতটা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে এবং নির্মাতারা পরিচিত মহাকাব্যকে কীভাবে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করছেন—এসব বিষয়ও দর্শকদের আলোচনায় থাকবে।
‘রামায়ণ’ ছবিতে রামের চরিত্রে অভিনয় করছেন রণবীর কপূর। তাঁর অভিনয়জীবনে এই চরিত্র বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। সমসাময়িক হিন্দি ছবিতে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া রণবীরের কাছে রামের মতো বহুল পরিচিত পৌরাণিক চরিত্রে অভিনয় করা একটি আলাদা দায়িত্ব।
রামায়ণের কাহিনিতে রাম শুধু প্রধান চরিত্র নন; তাঁকে ঘিরে কর্তব্য, ন্যায়, আদর্শ, আত্মসংযম এবং পারিবারিক সম্পর্কের মতো নানা বিষয় উঠে আসে। ফলে এই চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে অভিনয়ের পাশাপাশি চরিত্রের আবেগ ও অন্তর্নিহিত মূল্যবোধের উপস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।
দর্শকদের একাংশের কাছে রামের চরিত্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচিতি জড়িয়ে রয়েছে। তাই এই চরিত্রের পর্দায় উপস্থাপনা নিয়ে প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনই আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। রণবীর কীভাবে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে এই চরিত্রকে তুলে ধরেন, তা ছবিটি মুক্তির পর বোঝা যাবে।
কলকাতার দশেরার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রণবীর শহরে আসার অভিজ্ঞতা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে উৎসবের তাৎপর্যও উঠে আসে।
কলকাতায় এসে দর্শকদের সঙ্গে দশেরা উদ্যাপন করতে পেরে খুশি রণবীর কপূর। তিনি বলেন, কলকাতার এই পবিত্র ভূমিতে এসে সকলের সঙ্গে দশেরা উদ্যাপন করা তাঁদের কাছে আনন্দ ও সৌভাগ্যের বিষয়।
দশেরার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনেতা অশুভ শক্তির উপর সত্য ও ভালোর জয়ের কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে সত্যের পথে চলার বার্তাও ছিল। ‘রামায়ণ’ ছবির কলাকুশলীদের তরফে তিনি উপস্থিত সকলকে দশেরার শুভেচ্ছা জানান এবং ‘জয় শ্রীরাম’ বলেন।
দশেরা উৎসবের সঙ্গে রামায়ণের কাহিনির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন রাবণের উপর রামের জয়ের স্মরণে উৎসব পালিত হয়। সেই কারণে রামায়ণ নিয়ে তৈরি ছবির প্রচারের সময় দশেরার অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
রণবীরের বক্তব্যেও এই উৎসবের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব উঠে আসে। ছবির প্রচারের পাশাপাশি দর্শকদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
‘রামায়ণ’ ছবিতে রাবণের চরিত্রে অভিনয় করছেন দক্ষিণী তারকা যশ। ‘কেজিএফ’ ছবির মাধ্যমে সর্বভারতীয় স্তরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই অভিনেতাকে এবার একেবারে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখতে পাবেন দর্শক। রাবণ রামায়ণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাঁকে ঘিরে রয়েছে শক্তি, জ্ঞান, অহংকার, সংঘাত এবং কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। তাই এই চরিত্রে যশের অভিনয় ছবির অন্যতম আকর্ষণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কলকাতায় এসে নিজের পুরনো স্মৃতির কথাও ভাগ করে নেন যশ। তিনি জানান, আগে ট্রেনে করে এই শহরে এসেছিলেন। তাঁর স্মৃতিতে রয়েছে কলকাতায় নাটকের সফরের সময় কাটানো দিনগুলিও। সকালের জলখাবার থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা ধরনের মিষ্টি খাওয়ার স্মৃতি আজও তাঁর মনে রয়েছে বলে জানান অভিনেতা।
যশ বলেন, তিনি আগে ২০০৪ বা ২০০৫ সালে কলকাতায় এসেছিলেন এবং তাঁর নাটকের সফরের সঙ্গে এই শহরের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। এবার অভিনেতা হিসেবে কলকাতায় ফিরে আসতে পেরে তাঁর ভালো লাগছে বলেও জানান তিনি।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে কলকাতার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগের একটি দিক সামনে আসে। ছবির প্রচারের অনুষ্ঠানে এমন ব্যক্তিগত স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া দর্শকদের কাছে তারকাদের আরও কাছের করে তোলে।
‘রামায়ণ’ ছবিতে সীতার চরিত্রে অভিনয় করছেন সাই পল্লবী। ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয় ও স্বাভাবিক পর্দা-উপস্থিতির জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রীকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক চরিত্রে দেখা যাবে। রামায়ণের কাহিনিতে সীতা কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলির অন্যতম। তাঁর চরিত্রের সঙ্গে আত্মমর্যাদা, সাহস, ধৈর্য এবং নানা কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলার বিষয়গুলি জড়িয়ে রয়েছে।
সাই পল্লবীর অভিনয়ের মাধ্যমে সীতার চরিত্র কীভাবে বড় পর্দায় ফুটে উঠবে, তা নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল রয়েছে। ছবির নির্মাতারা কীভাবে পরিচিত কাহিনিকে উপস্থাপন করেন এবং চরিত্রগুলির আবেগকে কতটা গুরুত্ব দেন, সেটিও ছবির গ্রহণযোগ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
রণবীর, সাই পল্লবী এবং যশের মতো অভিনেতাদের একসঙ্গে নিয়ে তৈরি হওয়া এই ছবির ক্ষেত্রে অভিনয়শিল্পীদের নির্বাচন অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য ছবিটি দেখা এবং তার সম্পূর্ণ উপস্থাপনা বিচার করা প্রয়োজন।
নীতেশ তিওয়ারী পরিচালিত ‘রামায়ণ’ ছবিটি দু’টি পর্বে মুক্তি পাওয়ার কথা। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্বটি চলতি বছরের ৫ নভেম্বর মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। হিন্দির পাশাপাশি তামিল, তেলুগু, কন্নড় এবং মালয়ালম ভাষাতেও ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা। দ্বিতীয় পর্বটি ২০২৭ সালের দীপাবলিতে মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দু’টি পর্বে ছবিটি তৈরি করার ফলে মহাকাব্যের বিস্তৃত কাহিনি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। রামায়ণের বিভিন্ন চরিত্র, ঘটনা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের বিশদ উপস্থাপনা একটি ছবির সময়সীমার মধ্যে করা কঠিন হতে পারে। একাধিক পর্বে কাহিনি ভাগ করলে নির্মাতারা চরিত্রগুলির বিকাশ এবং ঘটনাপ্রবাহের জন্য বেশি সময় পেতে পারেন।
তবে দুটি পর্বের মুক্তির পরিকল্পনা, চূড়ান্ত তারিখ এবং বিভিন্ন ভাষায় প্রদর্শনের সময়সূচি সম্পর্কে দর্শকদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার উপর নজর রাখা উচিত। ছবির মুক্তির তারিখ বা পরিকল্পনায় পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট নির্মাতা ও পরিবেশকদের ঘোষণাই হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র।
‘রামায়ণ’ ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত মহাকাব্য। বহু ভাষায় এই কাহিনি বলা হয়েছে, নানা অঞ্চলে এর নিজস্ব ব্যাখ্যা ও পরিবেশনা রয়েছে। ফলে এই কাহিনি নিয়ে নতুন করে বড় বাজেটের চলচ্চিত্র তৈরি হলে দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
একদিকে রয়েছে পরিচিত কাহিনির আবেগ, অন্যদিকে আধুনিক সিনেমার প্রযুক্তি, দৃশ্য নির্মাণ এবং বড় মাপের প্রযোজনার সম্ভাবনা। পাশাপাশি রণবীর কপূর, সাই পল্লবী ও যশের মতো জনপ্রিয় অভিনেতাদের উপস্থিতি ছবিটির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে।
তবে ছবির সাফল্য শুধু তারকাদের জনপ্রিয়তা বা বাজেটের উপর নির্ভর করে না। চিত্রনাট্য, অভিনয়, পরিচালনা, সংগীত, দৃশ্যপ্রভাব এবং কাহিনির আবেগ দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করবে। রামায়ণের মতো পরিচিত মহাকাব্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করাও নির্মাতাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
কলকাতায় দশেরার অনুষ্ঠানে ছবির প্রচার এবং করমুক্তির ঘোষণা সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দর্শকদের নজর ছবির মুক্তি, ট্রেলার, প্রচার এবং শেষ পর্যন্ত বড় পর্দায় কাহিনির উপস্থাপনার দিকে।
কলকাতায় ‘রামায়ণ’ ছবির প্রচারে এসে রণবীর কপূর ও যশ দর্শকদের সঙ্গে দশেরার আনন্দ ভাগ করে নিলেন। সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছবিটিকে করমুক্ত করার ঘোষণা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় পুরাণ ও মহাকাব্য নিয়ে ভবিষ্যতে আরও ছবি তৈরির আশার কথাও উঠে এসেছে।
রামের ভূমিকায় রণবীর, সীতার চরিত্রে সাই পল্লবী এবং রাবণের ভূমিকায় যশ—এই তারকা-সমাবেশ ‘রামায়ণ’ ছবিকে ঘিরে আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে। ছবিটি দু’টি পর্বে মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার প্রথম পর্বের সম্ভাব্য মুক্তির তারিখ ৫ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় পর্বের পরিকল্পিত মুক্তি ২০২৭ সালের দীপাবলি।
করমুক্তির ঘোষণা বাস্তবে দর্শকদের টিকিটের দামে কী প্রভাব ফেলবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে। আপাতত ছবির প্রচার, তারকাদের বক্তব্য এবং মুক্তির পরিকল্পনা ঘিরেই ‘রামায়ণ’ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।