শুভমান গিলের ঘাড়ের চোট পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। রাতেই তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে, যেখানে তিনি আইসিইউতে ছিলেন বলে সূত্রের দাবি। এমআরআই-সহ একাধিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার আপডেটে ক্রিকেটমহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
শুভমান গিলকে ঘিরে হঠাৎ তৈরি হওয়া শারীরিক সংকট গোটা ক্রিকেটমহলে এক প্রবল উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় ক্রিকেটের তরুণ সেনাপতি এবং ভবিষ্যতের অন্যতম ভরসা গিলকে একটি সাধারণ অনুশীলন সেশনের পরেই গুরুতর ঘাড়ের ব্যথায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের দর্শক, প্রত্যেকেই চমকে ওঠে। রাতের অন্ধকারে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ফুটেজ যখন সামনে আসে, অনেক ভক্ত ভুলেও আন্দাজ করতে পারেননি যে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছিল যে তাঁকে নাকি আইসিইউ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ইডেন গার্ডেন্সে। ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্টের আগে টিম ইন্ডিয়া প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অন্যান্য সময়ের মতোই গিল ব্যাটিং প্র্যাকটিস করছিলেন। তবে হঠাৎই দেখা যায়, একটি শট খেলার পর তিনি হাত দিয়ে ঘাড় চেপে ধরে অস্বস্তি প্রকাশ করছেন। প্রথমে মনে করা হয়েছিল হালকা মাংসপেশির টান, যা সাধারণত ওয়ার্ম আপ বা ম্যাচের চাপের ফলে হয়ে থাকে। কিন্তু গিল যখন ক্রমশ ব্যথায় নুয়ে পড়তে থাকেন এবং চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে যেতে বাধ্য হন, তখনই বোঝা যায় ঘটনাটি একেবারে স্বাভাবিক নয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ শুরু করেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গিলের অবস্থা ঘনিষ্ঠভাবে বোঝার জন্য তাঁকে আইসিইউতে রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যদিও এটি জীবন-সংকটের কারণে নয়, বরং যেহেতু ঘাড়ের স্নায়ু ও মেরুদণ্ড অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই চিকিৎসকেরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি। রাতেই এমআরআই এবং অন্যান্য স্ক্যান করা হয়। এই সমস্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সরাসরি বোর্ডের মেডিক্যাল দলের কাছে পাঠানো হয় এবং সেখানে জানানো হয় যে চোটটি যদিও প্রাথমিকভাবে স্নায়ু-সংক্রান্ত স্প্যাজমের মতো মনে হচ্ছে, তবুও আরও কিছু পর্যবেক্ষণ না হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্রিকেটমহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শুভমান গিল যে শুধু ভারতীয় ক্রিকেটের বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের অন্যতম স্তম্ভ, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। গত দুই বছরে তাঁর পারফরম্যান্স ভারতীয় দলকে বহুবার ম্যাচ জিতিয়েছে। ওপেনিংয়ে তাঁর স্থিরতা, মধ্যভাগে ব্যাট করার ক্ষমতা, ম্যাচ পড়ার দক্ষতা—সবই তাঁকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ঠিক এই সময়ে তাঁর এমন চোট, সেটি ভারতের জন্য যে বড় ধাক্কা, তা বলাই বাহুল্য।
হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয় যে গিলের চোটকে আপাতত ‘নেক স্প্যাজম উইথ শার্প পেইন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর অর্থ হল তাঁর ঘাড়ের স্নায়ু এবং মাংসপেশির মধ্যে আকস্মিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই ধরনের স্প্যাজমের ফলে মাথা নাড়ানো, ঘাড় ডান–বাঁ দিকে ঘোরানো, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শুয়ে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকা পর্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। চিকিৎসকেরা জানান যে এই ধরনের চোট সাধারণত অতিরিক্ত পরিশ্রম, ভুল ব্যাটিং পজিশন, স্ট্রেন বা পুরনো কোনও আঘাতের পুনরাবৃত্তির কারণে হতে পারে। যদিও তাঁরা পরবর্তী রিপোর্টের প্রতীক্ষায় রয়েছেন।
টিম ইন্ডিয়ার কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং সহ-খেলোয়াড়রাও হাসপাতালে এসে গিলের কাছে যান। তাঁদের মুখেও আতঙ্ক স্পষ্ট ছিল। রোহিত শর্মা নিজেই হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেন এবং গিলকে দেখার পর আশ্বস্ত করেন যে দল তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে। হাসপাতালের বাইরে ইতিমধ্যেই সাংবাদিকদের ভিড় জমে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জানায় যে গিলের চিকিৎসা এবং পরীক্ষার ওপর তাঁদের নজর রয়েছে।
গিলের পরিবারের সদস্যরাও রাতে হাসপাতালে পৌঁছান। তাঁর মা ও বোন তাঁকে সান্ত্বনা দেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের তরফে জানানো হয় যে গিল কিছুটা ব্যথা অনুভব করছেন ঠিকই, কিন্তু কথা বলতে পারছেন এবং মানসিকভাবে স্থির রয়েছেন। তিনি নাকি দলকে বলেও দিয়েছেন যে ব্যথা কিছুটা কমলেই তিনি আবার মাঠে ফিরবেন। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে কড়া ভাষায় বিশ্রারের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর চোটের প্রকৃতি এমন যে তাড়াহুড়ো করে খেলায় ফিরলে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এই ঘটনার পর ক্রিকেটবিশ্বে নানা আলোচনা শুরু হয়। কেউ বলছেন ব্যস্ত সূচির কারণে খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকেন। আবার কেউ মনে করছেন, ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিভাধর তরুণ গিলের প্রতি বোর্ডের নজর দেওয়া উচিত, যাতে তাঁর ভবিষ্যৎ অক্ষুণ্ন থাকে। বিশেষত যেহেতু তিনি বর্তমানে দলের অন্যতম নেতৃত্বের স্তম্ভ, তাঁর ওপর চাপও অনেক বেশি।
ইডেন গার্ডেন্সের দর্শকরাও এই ঘটনায় চমকে ওঠেন। তাঁরা আশা করেছিলেন প্রথম টেস্টে গিল নিজের ব্যাটিং দক্ষতার ঝলক দেখাবেন। কিন্তু পরিবর্তে তাঁরা শুনলেন যে তাঁর চোট ম্যাচ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিল। অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “গিল সুস্থ না হলে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের শক্তি কমে যাবে।” আবার কেউ কেউ তাঁদের সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, “তুমি শুধু সুস্থ হয়ে ফিরে এসো, আমরা অপেক্ষা করব।”
হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গিলের অবস্থা যদিও স্থিতিশীল, কিন্তু তাঁকে আরও কিছু পরীক্ষা করাতে হবে। চিকিৎসকেরা তাঁর ঘাড় ও মেরুদণ্ডের নড়াচড়ার ওপর বিশেষ পর্যবেক্ষণ রাখছেন। তাঁকে ঘাড়ের জন্য একটি বিশেষ সাপোর্টও দেওয়া হয়েছে। যেহেতু স্প্যাজমের সঙ্গে স্নায়ুর চাপ জড়িত থাকে, তাই তাঁকে কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হতে পারে।
চিকিৎসকদের একজন জানান, “গিলের চোট আপাতত গুরুতর নয়, তবে এটিকে হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না। ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের সময় ঘাড়ের নড়াচড়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা নিশ্চিত হতে চাই যে ভবিষ্যতে তাঁর কোনও স্নায়ুজনিত সমস্যা না হয়।” এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, “বিশ্রার পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি, বরফ সেক এবং প্রয়োজন হলে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।”
গিলের চোট ভারতের টেস্ট পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কোচ ড্রাভিড জানান যে দল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে গিলের মতো একজন নিয়মিত ওপেনারের অনুপস্থিতি কোনও দলের জন্যই বড় ধাক্কা।
সমস্ত মিলিয়ে বলা যায়, শুভমান গিলের চোট শুধুই একটি খেলোয়াড়ের আঘাতের ঘটনা নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এই তরুণ প্রতিভাকে যে যত্ন এবং বিশ্রার প্রয়োজন, সেটি বোর্ডের বুঝে নেওয়াই জরুরি। ভবিষ্যতের জন্য তাঁকে আরও শক্তিশালী করে মাঠে ফেরানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। ভক্তরা তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন এবং আশা করছেন যে খুব তাড়াতাড়ি তাঁদের প্রিয় তারকা আবারও ইডেনের সবুজ ময়দানে ব্যাট হাতে ঝড় তুলবেন।
শুভমান গিলকে ঘিরে তৈরি হওয়া হঠাৎ চোটের পরিস্থিতি ভারতীয় ক্রিকেটমহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্টকে সামনে রেখে ইডেন গার্ডেন্সে চলছিল প্রস্তুতি। ঠিক সেই সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। নেট প্র্যাকটিসে একটি শট খেলার পরেই গিলকে হঠাৎ ঘাড়ে হাত দিয়ে ব্যথায় কুঁকড়ে যেতে দেখা যায়। প্রথমে মনে করা হয়েছিল হালকা টান বা সাধারণ মাংসপেশির ব্যথা, যা ব্যস্ত সূচিতে প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর অস্বস্তি বাড়তে থাকায় চিকিৎসকরা কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে দ্রুত মাঠের বাইরে নিয়ে যান এবং পরে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তাঁকে পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। যদিও এটি জীবন-সংকটজনিত কারণ নয়, তথাপি ঘাড়ের স্নায়ু ও মেরুদণ্ড অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় চিকিৎসকেরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেন। রাতেই তাঁর এমআরআই-সহ একাধিক স্ক্যান করা হয় যাতে বোঝা যায় ঠিক কী ধরনের স্প্যাজম বা স্নায়ুচাপ তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, গিলের চোট আপাতত ঘাড়ের স্প্যাজম হিসেবেই চিহ্নিত হলেও তাঁকে আরও কিছু পরীক্ষা করাতে হতে পারে।
খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখেন যে ভারতের ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা বহুাংশে গিলের ওপর নির্ভর করে। তাঁর ফর্ম, ব্যাটিং কৌশল এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা ভারতীয় দলের অন্যতম শক্তি। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ভক্তদের পাশাপাশি দলকেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়। দলের অনেক সদস্য হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখে আসেন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। পরিবারের সদস্যরাও রাতে হাসপাতালে পৌঁছে তাঁর পাশে থাকেন।
চিকিৎসকদের মতে, গিলকে কয়েক দিন বিশ্রামে রাখতে হতে পারে। যতক্ষণ না স্নায়ু পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তাঁকে খেলায় ফেরানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফিজিওথেরাপি, বরফ সেক এবং ওষুধের মাধ্যমে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফেও ঘোষণা করা হয়েছে যে গিলের শারীরিক অবস্থার ওপর তারা নিবিড় নজর রাখছে এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
সব মিলিয়ে শুভমান গিলের আকস্মিক চোট ভারতীয় ক্রিকেট শিবিরে এক বড় ধাক্কা হলেও আশা করা হচ্ছে দ্রুতই তিনি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন। ভক্তদের প্রার্থনা এবং দলের সমর্থন তাঁর দ্রুত আরোগ্যের পথে বড় শক্তি হয়ে উঠছে।
ChatGPT can make mistakes. Check important inf