ছেলের হঠাৎ অসুস্থতায় গত কয়েকটা দিন ভীষণ উদ্বেগে কেটেছে গায়িকা Jojo Mukherjee-র। ধুম জ্বরের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় ছোট্ট সন্তানকে। কঠিন সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ও মানসিক চাপের কথাই ভাগ করে নিলেন গায়িকা।
টলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা Jojo Mukherjee-র জীবনে গত কয়েকটা দিন যেন এক কঠিন পরীক্ষার সময় হয়ে উঠেছিল। মঞ্চের আলো, গান আর ব্যস্ততার মাঝেও একজন মায়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় হল তাঁর সন্তানের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও উদ্বেগ। আর সেই কারণেই ছেলের হঠাৎ অসুস্থতা গায়িকার জীবনকে এক মুহূর্তে চিন্তা ও উৎকণ্ঠায় ভরে দেয়। ধুম জ্বর নিয়ে ছোট্ট সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কথাই অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন গায়িকা।
পরিবারের কাছের মানুষদের মতে, কয়েক দিন আগেই আচমকা জ্বরে আক্রান্ত হয় ছোট্ট সন্তান। প্রথমদিকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর বলেই মনে হয়েছিল। বাড়িতেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় যত্ন চলছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্বরের মাত্রা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ে। সন্তানের শারীরিক অবস্থার ওঠানামা দেখে পরিবারের সকলেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একজন মা হিসেবে সেই মুহূর্তটা কতটা কঠিন ছিল, তা নিজের বক্তব্যেই বুঝিয়ে দিয়েছেন গায়িকা। তিনি জানান, সন্তানের অসুস্থতার সময় বাইরের সব কাজ, শো কিংবা ব্যস্ততা যেন এক মুহূর্তে অর্থহীন হয়ে যায়। সারাক্ষণ শুধু একটাই চিন্তা— কখন ছেলে সুস্থ হবে, কখন আবার আগের মতো হাসিখুশি হয়ে উঠবে। হাসপাতালের কেবিনে বসে কাটানো প্রতিটি রাত তাঁর কাছে ছিল ভীষণ মানসিক চাপের।
গায়িকা আরও জানিয়েছেন, ছোট্ট সন্তানের শরীরে বারবার জ্বর আসতে দেখে তিনি নিজেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন। চিকিৎসকেরা যদিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন, তবুও মায়ের মন তো সবসময় আশঙ্কায় ভরা থাকে। হাসপাতালের পরিবেশ, বিভিন্ন পরীক্ষা, ওষুধ— সব মিলিয়ে একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়েই যেতে হয়েছে পরিবারকে।
এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি সমাজের সব বাবা-মায়ের প্রতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, শিশুদের শরীর খারাপকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। প্রথমদিকে সাধারণ জ্বর মনে হলেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে সন্তানের পাশে মানসিকভাবে শক্ত হয়ে থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুরাগীরাও গায়িকার এই পোস্ট বা মন্তব্যের পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই ছোট্ট সন্তানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য শুভেচ্ছাবার্তা ও প্রার্থনায় ভরে ওঠে তাঁর কমেন্ট বক্স। কেউ লিখেছেন, “ছোট্ট বাচ্চাটা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক”, আবার কেউ গায়িকাকে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে অনুরাগীদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিনোদন জগতের অনেক সহকর্মীও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফোন, মেসেজ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খোঁজ নিয়েছেন সন্তানের শারীরিক অবস্থার। কারণ, পর্দার বাইরে তারকারাও আসলে সাধারণ মানুষের মতোই পরিবার আর সন্তানের চিন্তায় দিন কাটান। একজন জনপ্রিয় শিল্পী হয়েও সেই মানবিক দিকটাই আরও একবার সামনে এনে দিলেন Jojo Mukherjee।
বর্তমানে সন্তানের শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল বলেই জানা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে ছোট্ট ছেলে। যদিও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকছেন পরিবার। গায়িকাও আপাতত নিজের কাজের ব্যস্ততা কিছুটা কমিয়ে সন্তানের সঙ্গেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, একজন মায়ের কাছে তাঁর সন্তানের সুস্থতার চেয়ে বড় কিছুই হতে পারে না। খ্যাতি, সাফল্য কিংবা পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানের একটুখানি অসুস্থতা একজন মায়ের পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দিতে পারে। আর সেই অনুভূতিই খুব আন্তরিকভাবে তুলে ধরলেন গায়িকা Jojo Mukherjee।
সন্তানের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, সাধারণত ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি প্রকাশ্যে কথা বলতে পছন্দ করেন না গায়িকা Jojo Mukherjee। কিন্তু এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের মনের কথা তিনি আর চেপে রাখতে পারেননি। একজন মা হিসেবে তাঁর ভয়, দুশ্চিন্তা এবং অসহায় অনুভূতির কথাই উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। আর সেই কারণেই গোটা বিষয়টি আরও বেশি আবেগঘন হয়ে উঠেছে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছেলের জ্বর প্রথমে মাঝারি মাত্রায় থাকলেও পরে তা দ্রুত বেড়ে যায়। খাওয়াদাওয়া কমে যাওয়া, দুর্বল হয়ে পড়া এবং সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সন্তানের এই অবস্থা দেখে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন গায়িকা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হয়। চিকিৎসকেরা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখলেও একজন মায়ের মনের ভয় সহজে কাটে না।
হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই প্রায় সারাক্ষণ ছেলের পাশেই ছিলেন তিনি। হাসপাতালের কেবিনে বসে কাটানো দীর্ঘ সময় যেন তাঁকে নতুনভাবে জীবনের বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। তিনি উপলব্ধি করেন, মানুষের জীবনে সবথেকে মূল্যবান জিনিস হল পরিবারের সুস্থতা ও ভালো থাকা। বাইরের পৃথিবীর সাফল্য, ব্যস্ততা কিংবা জনপ্রিয়তা— সবকিছুই তখন গৌণ হয়ে যায়।
গায়িকার কথায়, সন্তান অসুস্থ থাকলে সময় যেন থেমে যায়। প্রতিটি মিনিট দীর্ঘ মনে হয়। চিকিৎসকদের প্রতিটি আপডেট, প্রতিটি রিপোর্টের অপেক্ষা— সবকিছুই মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। এমনকি মাঝরাতে সামান্য জ্বর বাড়লেও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছিল। সেই সময়টায় নিজের আবেগ সামলে রাখা সত্যিই কঠিন ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও অনেকটা পরিবর্তন এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা অনেক সময় কাজের ব্যস্ততায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারি না। কিন্তু এই কয়েকটা দিন বুঝিয়ে দিল, পরিবারের মানুষদের সুস্থতা আর পাশে থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর মতে, সন্তানদের সঙ্গে ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করা উচিত, কারণ জীবনের অনিশ্চয়তা কখন কোন পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করাবে, তা কেউ জানে না।
অনেক বাবা-মায়ের মতো তিনিও প্রথমদিকে ভেবেছিলেন হয়তো সাধারণ ভাইরাল জ্বর। কিন্তু পরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি অন্য অভিভাবকদেরও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলেই মত তাঁর। বিশেষ করে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক সময় কমে যায়, ফলে সংক্রমণের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অনুভূতির কথা জানানোর পর অসংখ্য মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ প্রার্থনা করেছেন সন্তানের দ্রুত সুস্থতার জন্য, কেউ আবার নিজের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, তাঁরাও একই ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন এবং সেই সময়ের ভয় ও মানসিক চাপ তাঁরা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারেন। এই সমর্থন ও ভালোবাসা গায়িকাকে অনেকটাই মানসিক শক্তি জুগিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিনোদন জগতের সহকর্মীরাও নিয়মিত তাঁর খোঁজ নিচ্ছেন। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে সন্তানের শারীরিক অবস্থার খবর নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল, প্রতিযোগিতার জগত হলেও কঠিন সময়ে শিল্পীরা একে অপরের পাশে দাঁড়ান।
গায়িকার অনুরাগীরা মনে করছেন, একজন তারকা হয়েও তিনি নিজের আবেগকে খুব সাধারণ এবং বাস্তবভাবে তুলে ধরেছেন। অনেক সময় তারকাদের জীবনকে বাইরে থেকে নিখুঁত বলে মনে হলেও বাস্তবে তাঁদের জীবনেও থাকে একই রকম ভয়, দুশ্চিন্তা এবং পারিবারিক সমস্যা। আর সেই মানবিক দিকটাই আরও একবার সামনে এল এই ঘটনার মাধ্যমে।
বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে ছোট্ট ছেলে। জ্বর আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পরিবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা চলছে। গায়িকাও আপাতত কাজের সূচি কিছুটা বদলে ছেলের যত্নেই বেশি সময় দিচ্ছেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই কঠিন সময় তাঁকে মানসিকভাবে অনেক বেশি শক্ত করেছে। যদিও পরিস্থিতি ভীষণ কঠিন ছিল, তবুও পরিবারের সমর্থন এবং অনুরাগীদের ভালোবাসা তাঁকে সাহস জুগিয়েছে। বিশেষ করে সন্তানের ছোট্ট হাসি বা সামান্য সুস্থতার লক্ষণই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি হয়ে উঠেছিল।
এই ঘটনার পর অনেকেই আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ব্যস্ত জীবনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় বের করা কতটা জরুরি। কারণ, শেষ পর্যন্ত মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা তাঁর নিজের পরিবারই। একজন শিল্পী হিসেবে হাজার মানুষের ভালোবাসা পেলেও, একজন মা হিসেবে সন্তানের সুস্থতার জন্য তাঁর উদ্বেগ আর প্রার্থনাই সবচেয়ে বড় সত্য।
সব মিলিয়ে, গত কয়েকটা দিন Jojo Mukherjee-র জীবনে ছিল গভীর উদ্বেগ, মানসিক চাপ এবং আবেগের সময়। তবে এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছে বলেই আশাবাদী পরিবার। অনুরাগীরাও চাইছেন, খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আবার আগের ছন্দে ফিরুক ছোট্ট সন্তান, আর হাসিমুখে নিজের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন গায়িকাও।