অভিনেত্রী রানি তার ১০ বছরের মেয়ে আদিরাকে সবসময় সাধারণ জীবনে রেখেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি মেয়েকে মানুষ করার ও বড় করার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।
২০১৫ সালে জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়। মা হওয়ার পর তাঁর জীবনের অগ্রাধিকার বদলে যায় অনেকটাই। রানি ও প্রখ্যাত পরিচালক-প্রযোজক আদিত্য চোপড়ার কন্যা আদিরা আজ ১০ বছরের। বলিউডে যেখানে তারকা সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই সমাজমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি, ক্যামেরার ঝলকানি এবং প্রচারের আলোয় বড় হয়ে ওঠা প্রায় স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে আদিরা একেবারেই ব্যতিক্রম। এত বছর কেটে গেলেও রানি ও আদিত্য সচেতন ভাবেই মেয়েকে লোকচক্ষুর আড়ালেই রেখেছেন।
অন্যান্য তারকা সন্তানদের মতো আদিরাকে কখনওই ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য সমাজমাধ্যমে দেখা যায় না। নেই পাপারাজ়িদের নিয়মিত ছবি, নেই বিলাসবহুল জীবনযাপনের প্রদর্শনী। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছেন খোদ রানি মুখোপাধ্যায় নিজেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মেয়েকে নিয়ে অকপট ভাবে নানা কথা বলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, মা হিসেবে রানি কতটা সচেতন এবং সংবেদনশীল।
জেনারেশন আলফার প্রতিনিধি আদিরা
আদিরা এই সময়ের তথাকথিত ‘জেনারেশন আলফা’-র প্রতিনিধি। প্রযুক্তি, তথ্য এবং সামাজিক সচেতনতার দিক থেকে এই প্রজন্ম আগের প্রজন্মগুলির থেকে অনেক বেশি এগিয়ে। রানি নিজেই স্বীকার করেছেন, তাঁর নিজের ছোটবেলার সঙ্গে আদিরার বেড়ে ওঠার পার্থক্য আকাশপাতাল।
রানি বলেন,
“আমি যেভাবে বড় হয়েছি, আদিরার বড় হওয়াটা একেবারেই আলাদা। ও জেনারেশন আলফার প্রতিনিধি। ও আমাকে রাগারাগি করে, বকাবকি করে, আর আমাকে সেটা শুনতেও হয়।”
এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আজকের দিনের অভিভাবকত্বের বাস্তবতা। রানি মনে করেন, প্রতিটি প্রজন্মের সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকত্বের ধরনও বদলাতে হয়। তিনি অকপটে বলেন,
“ছোটবেলায় অন্যায় করলে আমার মা আমাকে চড় মারতেন। কিন্তু এখন সেই পদ্ধতি আর কাজ করে না। আমি যদি আদিরাকে মারি, ও উল্টে আমাকেই মারবে!”
এই রসিকতার আড়ালেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বর্তমান প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস এবং মতপ্রকাশের ক্ষমতা। রানি জানান, আদিরা খুবই মিষ্টি মেয়ে, কিন্তু সে যে প্রজন্মে জন্মেছে, তাতে তাকে নিয়ে একটু ‘ভয়ে ভয়ে’ থাকতেই হয়।
আজকের শিশুরা অনেক বেশি পরিণত
রানির মতে, আজকের দিনের শিশুরা বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত। তাদের চিন্তাভাবনা, যুক্তি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি উন্নত। অভিনেত্রীর কথায়, এই পরিণত মানসিকতা শুধু কথাবার্তাতেই নয়, তাদের হাবেভাবেও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
রানি নিজের জীবনের একটি সংবেদনশীল অধ্যায়ের কথা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, বাবার মৃত্যুর পর তিনি দীর্ঘদিন তাঁর অভাব অনুভব করেছিলেন। বাবা ছিলেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা। প্রতিটি কাজের খুঁটিনাটি নিয়ে বাবার সঙ্গে আলোচনা করতেন তিনি।
অভিনেত্রী বলেন,
“বাবার মৃত্যুর পর আমি খুবই তাঁর অভাব বোধ করতাম। কিন্তু ভগবান সেই শূন্যতা পূরণ করে দিয়েছেন। আমার মেয়েকে আমার জীবনে পাঠিয়েছেন।”
রানির কথায়, আজ আদিরাই তাঁর জীবনে বাবার জায়গা নিয়ে নিয়েছে। প্রতিটি কাজে, প্রতিটি সিদ্ধান্তে আদিরা তাঁকে উৎসাহ দেয়। মায়ের পেশাগত জীবনের প্রতিটি ওঠানামায় আদিরার সমর্থন তাঁর কাছে অমূল্য।
মেকআপ নয়, ‘মা’ হিসেবেই চান রানিকে
রানি মুখোপাধ্যায় মানেই গ্ল্যামার, স্টাইল এবং পর্দার শক্তিশালী উপস্থিতি। কিন্তু আদিরার চোখে রানি কোনও তারকা নন, তিনি শুধুই ‘মা’। মায়ের মেকআপ একেবারেই পছন্দ করে না আদিরা।
এই প্রসঙ্গে হাসতে হাসতে রানি বলেন,
“আমি মেকআপ করলে আদিরা বলে, ও নাকি আমাকে আমার মতো দেখছে না। যখন মেকআপ তুলে ফেলি, তখন ও এসে বলে— ‘এখন তোমাকে দেখে আমার মায়ের মতো লাগছে।’”
এই ছোট্ট ঘটনাই প্রমাণ করে, আদিরার কাছে রানি মুখোপাধ্যায় মানে কোনও তারকা পরিচিতি নয়, বরং নিখাদ মায়ের ভালোবাসা এবং সান্নিধ্য।
তারকা সন্তানের ‘বিশেষ খাতির’ একেবারেই অপছন্দ
বলিউডে তারকা সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই বিশেষ সুবিধা পাওয়া নতুন কিছু নয়। স্কুল থেকে শুরু করে সামাজিক পরিসর— সর্বত্রই তারা আলাদা গুরুত্ব পায়। কিন্তু এই বিষয়টি একেবারেই পছন্দ নয় রানির।
তিনি চান না, আদিরা বাবা-মায়ের খ্যাতির আলোয় বড় হোক। বরং মেয়েকে ‘ছাপোষা’, সাধারণ জীবনের স্বাদ দিতে চান তিনি। এই বিষয়ে রানি ও আদিত্য দু’জনেই একমত।
রানি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন,
“আমি চাই না ও ছোটবেলা থেকেই বুঝে যাক, ওর বাবা-মা বিশেষ কেউ। আমি চাই ও একেবারে সাধারণ জীবন যাপন করুক।”
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে রানির নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা। তিনি জানেন, অতিরিক্ত প্রচার এবং অযাচিত মনোযোগ শিশুদের মানসিক বিকাশে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখার সচেতন প্রয়াস
পাপারাজ়িদের ক্যামেরা থেকে আদিরাকে দূরে রাখতে রানি সবসময় সচেতন। অনেক সময় নিজেই অনুরোধ করেন ছবি না তোলার জন্য। অভিনেত্রীর কথায়,
“আমি সবিনয়ে অনুরোধ করি ছবি না তোলার জন্য। আমার চোখটা দেখে কিছু আন্দাজ করতে পারেন ছবিশিকারিরা, তাই আর তোলেন না।”
এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, মা হিসেবে মেয়ের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ জীবনে বড় করার সংকল্প
রানি মুখোপাধ্যায় বারবারই জানিয়েছেন, আদিরাকে তিনি একেবারে সাধারণ ভাবেই বড় করতে চান। সমাজমাধ্যমের চকচকে দুনিয়া থেকে দূরে রেখে, বাস্তব জীবনের মূল্যবোধ শেখাতে চান মেয়েকে। তিনি চান, আদিরা নিজের পরিচয় নিজেই তৈরি করুক, বাবা-মায়ের নামের ভারে নয়।
তারকা মা হয়েও রানির এই দৃষ্টিভঙ্গি আজকের দিনে ব্যতিক্রমী বলাই যায়। যেখানে খ্যাতিকে অনেকেই উত্তরাধিকার হিসেবে তুলে দিতে চান, সেখানে রানি চান তাঁর মেয়ে নিজের যোগ্যতায়, নিজের চেষ্টায় জীবন গড়ে তুলুক।
২০১৫ সালের একটি সৌভাগ্যশালী দিনে, রানি মুখোপাধ্যায় মা হন। ছোট্ট এক কন্যা—আদিরা—জন্ম নেয় তাঁর জীবনে। সেই মুহূর্ত থেকেই রানি ও তাঁর স্বামী আদিত্য চোপড়ার জীবনের অগ্রাধিকার বদলে যায়। একদিকে ক্যারিয়ারের চাপ, অন্যদিকে নতুন দায়িত্ব—এমন সংমিশ্রণে রানি প্রতিদিন এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। কিন্তু এই নতুন অধ্যায় শুধু দায়িত্ব নয়; এটি রানি জীবনের সবচেয়ে গভীর প্রেম, স্বপ্ন ও আশা এনে দেয়।
আজ আদিরা ১০ বছরের। বয়সে ছোট হলেও চরিত্রে মজবুত, ধৈর্যশীল এবং স্বাধীন চিন্তাধারার। তবে যেটি সবচেয়ে আলাদা তা হলো, সমাজমাধ্যমের অতিরিক্ত আলোয় না থেকে আদিরা একেবারেই সাধারণ জীবনের স্বাদ পায়। অন্যান্য তারকা সন্তানদের মতো ক্যামেরার সামনে আত্মপ্রকাশ নেই, পাপারাজ়ি বা ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারদের কাছে পরিচিতি নেই—এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছেন রানি মুখোপাধ্যায় নিজেই। তিনি চান, মেয়েকে বড় হতে হবে নিজের মতো করে, পরিচিতির চাপে নয়।
আদিরা আজকের দিনে ‘জেনারেশন আলফা’-র প্রতিনিধিত্ব করে। এই প্রজন্মের শিশুরা জন্ম থেকেই প্রযুক্তিতে দক্ষ, তথ্যবহুল এবং আত্মনির্ভর। তাঁদের চিন্তাভাবনা প্রাচীন প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীন এবং যুক্তিশীল। রানি মুখোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন, তাঁর নিজের ছোটবেলার সঙ্গে আদিরার বেড়ে ওঠার ধরণ তুলনা করা যায় না।
রানি বলেন,
"আমি ছোটবেলায় যেখানে সবকিছু নিজের মা-বাবার নির্দেশনা মেনে করতাম, আদিরা সেই প্রক্রিয়ায় নেই। ও আমাকে বকাবকি করে, রাগ করে, আবারও নিজের মতামত প্রকাশ করে। প্রতিটি প্রজন্মের সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকত্বের ধরনও বদলাতে হয়।"
রানি একরকম হালকা হাসি মিশিয়ে বলেন, ছোটবেলায় অন্যায় করলে তাঁর মা চড় মারতেন, কিন্তু আজ তিনি সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারছেন না। যদি তিনি চেষ্টাই করেন, আদিরা তাকে উল্টে দিতে পারে। এই কথাই প্রমাণ করে, আদিরা নিজের মত করে বাঁচতে চায়, এবং তার মা সেই স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
রানি মুখোপাধ্যায় শুধু মা নন, তিনি আদিরার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রতিটি কাজে আদিরা তাঁর পাশে থাকে, উৎসাহ দেয় এবং সমর্থন করে। এমনকি বাবা-মায়ের মৃত্যুর অভাবকে পূরণ করছে এই ছোট্ট মেয়ে। রানি স্বীকার করেছেন, বাবার মৃত্যুর পর তিনি অনেক সময় শূন্যতার অনুভূতি করতেন। কিন্তু ভগবান তাঁকে সেই শূন্যতা পূরণ করার জন্য আদিরাকে দিয়েছেন।
রানি বলেন,
"আমার প্রতিটি কাজেই আদিরা আমাকে উৎসাহিত করে। ও শুধু আমার মেয়ে নয়, আমার জীবনের শক্তি।"
মা-মেয়ের সম্পর্ক শুধুই ভালোবাসার নয়, বরং বন্ধুত্বেরও। আদিরা রানিকে শুধুই মেকআপ করা বা তারকা হিসেবে দেখে না। তিনি মাকে চান ‘মায়ের মতো’—যেমন আদিরা জানে, সবসময় সত্যিকারের ভালোবাসা সেই পরিচয়ের বাইরে। রানি বলেন,
"আমি মেকআপ করলে আদিরা বলে, 'মা, এখন তুমি আমার মায়ের মতো লাগছো না।' যখন মেকআপ তুলে ফেলি, তখন ও আসে আর বলে— 'এখন তুমি আমার মায়ের মতো লাগছো।'"
এই ছোট্ট কথোপকথনই প্রমাণ করে, আদিরার কাছে রানি শুধুই একজন মায়ের পরিচয়, তারকা নয়।
বলিউডে তারকা সন্তানরা ছোটবেলা থেকেই আলাদা মনোযোগ পায়। স্কুল থেকে শুরু করে সামাজিক পরিসর—সবখানে তারা আলাদা। কিন্তু এই বিশেষ খাতির রানি চান না তাঁর মেয়ের জন্য। তিনি চান আদিরা বেড়ে উঠুক সাধারণ জীবনযাপন করে, পরিচিতির চাপে নয়।
রানি বলেন,
"আমি চাই না আদিরা বাবা-মায়ের খ্যাতির আলোয় বড় হোক। আমি চাই ও একেবারে সাধারণ জীবন যাপন করুক।"
এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধুমাত্র মা হিসেবে নয়, সামাজিক সচেতন নাগরিক হিসেবে তাঁর দায়িত্বও প্রমাণ করে। তিনি চান, মেয়ের আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠুক বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, লাইমলাইটের বাইরে থেকে।
রানি মুখোপাধ্যায় সবসময় সচেতন থাকেন মেয়ের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে। পাপারাজ়িদের ক্যামেরা থেকে আদিরাকে দূরে রাখতে তিনি নিজের চোখে সিগন্যাল দেন এবং ছবি না তুলতে অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন,
"আমি সবিনয়ে অনুরোধ করি ছবি না তোলার জন্য। আমার চোখটা দেখে কিছু আন্দাজ করতে পারেন ছবিশিকারিরা, তাই আর তোলেন না।"
এই দায়িত্বশীল মনোভাব প্রমাণ করে, একজন মা হিসেবে তিনি মেয়ের জীবনের মানসিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন।
রানি শুধুই আদিরাকে বড় করছেন না, বরং জীবনের শিক্ষাও দিচ্ছেন। ছোট্ট ছোট্ট উদাহরণের মাধ্যমে আদিরা শিখছে সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ, এবং আত্মমর্যাদা। এই শিক্ষাগুলো তাকে করে তুলছে এক আত্মনির্ভরশীল, মানবিক এবং পরিণত মানুষ।
আদিরার জেনারেশন আলফা হওয়া মানে কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়; সেই সঙ্গে রয়েছে দায়িত্ববোধ, যুক্তিশীল চিন্তাভাবনা এবং সমাজের প্রতি সচেতনতা। রানি সচেতনভাবে নিশ্চিত করছেন, আদিরা এই দিকগুলো শিখুক বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে, শুধুই ক্যামেরার আলোয় নয়।
রানি একা নয় এই পথে। স্বামী আদিত্য চোপড়াও এই বিষয়ে সম্পূর্ণ সমর্থক। উভয়েই চাইছেন আদিরা বড় হোক সাধারণভাবে, লাইমলাইটের বাইরে। পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের এই সমন্বয়ই তৈরি করছে একটি সুস্থ, সুনির্দিষ্ট এবং নিরাপদ পরিবেশ।
রানি বলেন,
"আমরা চাই আদিরা জানুক আমরা বিশেষ কেউ—তবে সেই বিশেষত্বের বোঝা সে বহন করবে না। সে নিজের পরিচয় নিজেই গড়ে তুলবে।"
প্রতিটি প্রজন্মের সঙ্গে অভিভাবকত্বের ধরনও পরিবর্তিত হয়। রানি বলেন, ছোটবেলায় শাস্তি ছিল শারীরিক, কিন্তু এখন সেটি কার্যকর নয়। আজকের শিশুরা অনেক স্বাধীন, পরিণত, এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাশীল। মায়ের প্রতি তারা সমানভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম।
রানি জানেন, এই পরিবর্তনকে স্বীকার করা এবং মেয়েকে তার স্বাধীনতা দেবার মাধ্যমে তিনি আদিরাকে সঠিকভাবে মানুষ করছেন।
রানি মুখোপাধ্যায়ের কথায়, আদিরা শুধু তাঁর মেয়ে নয়, জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। জেনারেশন আলফার প্রতিনিধি হয়েও আদিরা বেড়ে উঠছে সাধারণ মূল্যবোধ, ভালোবাসা এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। লাইমলাইটের বাইরে রেখে মেয়েকে মানুষ করার এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।
একজন সফল অভিনেত্রী হয়েও রানি প্রমাণ করেছেন—তারকা পরিচয়ের চেয়েও বড় পরিচয়, তিনি একজন মা। আর সেই মায়ের চোখ দিয়েই তিনি গড়ে তুলছেন আদিরার আগামীদিন। রানির এই দায়িত্বশীল, সংবেদনশীল ও সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই একটি অনুপ্রেরণার গল্প।