আজ ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ভারতের শেয়ারবাজারে একটি অস্থির দিনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। Sensex এবং Nifty 50 উভয়ই পতন দেখেছে, যেখানে Sensex ৩৩১ পয়েন্ট কমে ৮৪,৯০০ পয়েন্টে এবং Nifty 50 ১০৮ পয়েন্ট কমে ২৫,৯৫৯ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে বিদেশী ফান্ডের বিক্রির প্রবণতা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। আজকের বাজারের পতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে Metal, FMCG, Realty, এবং Media সেক্টরগুলো। তবে, IT খাত ছিল একমাত্র সেক্টর, যা আজ উত্থান দেখিয়েছে। Tech Mahindra এবং Infosys এর মতো শেয়ারগুলো ভালো পারফর্ম করেছে, যা বাজারের জন্য কিছুটা আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের শেয়ারবাজার আজ একটি চ্যালেঞ্জিং দিনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। শুরুর দিকে কিছুটা উত্থান হলেও, পরে তা নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। এই প্রতিবেদনটি বাজারের বর্তমান অবস্থা এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করবে। আজকের ব্যবসায়িক পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক, কারণ এই মুহূর্তে শেয়ারবাজার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ব্যবসার পরিবেশের জন্য একটি শক্তিশালী সূচক।
বিশ্বের অন্যান্য বাজারের অস্থিরতার কারণে, ভারতের শেয়ারবাজারে সাময়িক পতন হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বাজারে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উত্থান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদি বিদেশী বিনিয়োগ এবং মুদ্রানীতি উন্নতির দিকে যায়। শেয়ারবাজারের ভবিষ্যত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করবে, যেমন ফেডেরাল রেট এবং গ্লোবাল মার্কেট মুভমেন্ট।
এছাড়া, শেয়ারবাজারের পরবর্তী স্তর হিসেবে Nifty-এর ২৬,০০০ পয়েন্ট এবং Sensex-এর ৮৫,০০০ পয়েন্ট কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা হিসেবে ধরা হচ্ছে। যদি বাজার এই স্তরগুলি ধরে রাখতে পারে, তাহলে পরবর্তী সময়ে একটি বড় উত্থান দেখা যেতে পারে। তবে, যদি বাজার আরও নিচে যায়, তবে শেয়ারবাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
ভারতের শেয়ারবাজার বর্তমানে বিদেশী ফান্ডের প্রবাহ, মুদ্রানীতি এবং বিশ্ব বাজারের দিকনির্দেশনার দিকে নজর রাখছে। সাময়িক পতনের পরেও ভারতের বাজারে দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে, যদি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দেশীয় অর্থনীতি শক্তিশালী থাকে।
আজ, ২৪ নভেম্বর ২০২৫, Sensex এবং Nifty উভয় সূচকই নেমে এসেছে। সকাল থেকে বাজারের সূচকগুলো কিছুটা উত্থান দেখালেও, তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
Sensex ছিল ৮৪,৯০০.৭১ পয়েন্ট, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩৩১ পয়েন্ট বা ০.৩৯ % কম।
Nifty 50 বন্ধ করেছে ২৫,৯৫৯.৫০ পয়েন্টে, কমেছে প্রায় ১০৮.৬৫ পয়েন্ট বা ০.৪২ %।
এই পতন বাজারের জন্য একটি নতুন সংকেত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশী ফান্ডের প্রবাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিবেশের পরিবর্তন এর পিছনে রয়েছে। তবে, আজকের পতন হলেও, বাজারের এই অবস্থাকে সাময়িক বলে মনে করছেন বেশিরভাগ বিশ্লেষকরা।
আজকের পতনের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে বিদেশী ফান্ডের বিক্রি অন্যতম প্রধান কারণ। ফিনান্সিয়াল অ্যানালিস্টদের মতে, বিদেশী ফান্ডের নেতিবাচক প্রবাহ শেয়ারবাজারের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিদেশী ইনভেস্টররা যখন নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে, তখন সাধারণত বাজারে একটি চাপ তৈরি হয়। এর ফলে মূল্য পতন ঘটে এবং বাজার সাময়িকভাবে নেতিবাচক দিকে চলে যায়।
অন্যদিকে, বাজারের মান ও মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভারতের বাজারে অনেক সময় মূল্য বেড়ে যেতে পারে, যা বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। তবে, যদি মূল্যবৃদ্ধি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটে, তবে তা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকের দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল সেক্টর ছিল IT খাত। এই খাতের শীর্ষস্থানীয় শেয়ার যেমন Tech Mahindra, Infosys, এরা আজ বাজারে ভালো পারফর্ম করেছে। তবে, সেক্টর ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, Metal, FMCG, এবং Realty সেক্টরগুলো আজ খারাপ পারফর্ম করেছে।
আইটি খাতের শক্তিশালী পারফর্ম্যান্সের জন্য দুটি প্রধান কারণ বলা যেতে পারে:
মার্কিন মুদ্রানীতি: আমেরিকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা সুদের হার কমাতে পারে। এর ফলে, আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির শেয়ার মূল্য বাড়তে পারে, এবং এর প্রভাব ভারতীয় আইটি খাতে পড়েছে।
ডলারের মান: আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে ডলারের মান কিছুটা শক্তিশালী হওয়া, ভারতীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্ববাজারে ভারতীয় শেয়ারবাজারের অবস্থান আগামী কয়েক মাসে কী হবে, তা অনেকটা নির্ভর করবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরের উপর। বিশেষ করে, Fed Rate Cut এবং Global Market Movements—এই দুটি বিষয় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মুদ্রানীতি, জিওপলিটিক্যাল অবস্থা এবং চলতি বছরের শেষে আর্থিক রিপোর্টগুলি বাজারের জন্য বড় গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।
এছাড়া, Nifty ৫০ এবং Sensex এর বর্তমান অবস্থা অনেকটাই নির্ভর করবে ভারতের Rupee-Dollar Exchange Rate এবং Inflation Rate-এর উপর। ভারতের অর্থনৈতিক নীতির পাশাপাশি, কাঁচামালের দাম এবং আন্তর্জাতিক পণ্যের সরবরাহও এই শেয়ারবাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাবিত করবে।
বিশ্ব অর্থনীতি স্থিতিশীল হওয়ার পর, ভারতীয় শেয়ারবাজারে উত্থান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাজারের পতন সাময়িক, এবং এটি একটি উন্নত ব্যবসার পরিবেশের জন্য একটি পদক্ষেপ হতে পারে। ইতিমধ্যে, FII Investments আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে, এবং GST Revenue Collection-এর উন্নতি শেয়ারবাজারে নতুন উত্থান ঘটাতে পারে।
বিশ্বজুড়ে সবগুলো বড় বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য ভারতীয় শেয়ারবাজারকে অবশ্যই কিছু মূল পদক্ষেপ নিতে হবে:
খুব শীঘ্রই সুদের হার কমানো।
ভারতের ফিনান্সিয়াল নীতি আরও সুসংহত করা।
এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট এবং স্মার্ট ইনভেস্টমেন্ট উদ্যোগ বৃদ্ধি করা।
বিশ্বজুড়ে সঙ্কট কাটিয়ে ভারতীয় শেয়ারবাজার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যদি সরকার কার্যকরী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, Sensex ৮৫,০০০ পয়েন্টের দিকে এগোতে পারে, এবং Nifty ২৬,০০০ পয়েন্টের আশপাশে পৌঁছাতে পারে। তবে এই উত্থান শুধুমাত্র International Policy Support, Government Reforms, এবং Smart Investments-এর উপর নির্ভরশীল থাকবে।
আইটি খাতের উত্থান
আজকের শেয়ারবাজারে একমাত্র আইটি খাত ছিল যে সেক্টরে উত্থান দেখা গেছে। Tech Mahindra এবং Infosys এর মতো শেয়ার আজ ভালো পারফর্ম করেছে। সেক্টরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, IT ছাড়া প্রায় সকল সেক্টর লাল রঙে ছিল। Metal, FMCG, Real Estate এবং Media সেক্টরগুলো আজ ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইটি খাতের উত্থান অনেকটাই Federal Reserve এর সুদের হারের পরিবর্তন এবং ডলারের মানের ওঠানামার সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব ইকোনমিক ফ্যাক্টরগুলি আইটি সেক্টরের শেয়ারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ফিউচার আউটলুক: আগামী কয়েকদিন কী হবে?
বিশ্ববাজারে চলমান অস্থিরতা এবং বিদেশী ফান্ডের প্রবাহের পরিবর্তন শেয়ারবাজারের জন্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শেয়ারবাজারের জন্য দুটি বড় স্তর ২৬,০০০ পয়েন্ট এবং ২৫,৮০০ পয়েন্ট। যদি Nifty ২৬,০০০ পয়েন্টের উপরে ওঠে, তবে একটি র্যালি শুরু হতে পারে। তবে, যদি বাজার ২৫,৮০০ পয়েন্টের নিচে চলে যায়, তাহলে আরো বড় পতন হতে পারে।
তবে, এটি মনে রাখতে হবে যে শেয়ারবাজারের এই পতন সাময়িক হতে পারে, এবং আগামী সপ্তাহে বাজারে আবারও উত্থান দেখা যেতে পারে। দেশের অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তন, বিদেশী বিনিয়োগের প্রবাহ, এবং অন্যান্য বৈশ্বিক ঘটনার উপর ভিত্তি করে শেয়ারবাজার নতুন দিশায় যেতে পারে।
বাজারের পিছনের কারণ
আজকের পতনের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশী ফান্ডের বিক্রির প্রবণতা। FII (Foreign Institutional Investors) এর বড় বিক্রির কারণেই শেয়ারবাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশী ইনভেস্টররা যখন শেয়ার বিক্রি করে, তখন বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং শেয়ারবাজার নিম্নমুখী হয়।
এর সঙ্গে আরও যোগ হয়েছে অন্যান্য কিছু অর্থনৈতিক কারণ, যেমন:
সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা: বিশ্বে কিছু রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাজারের উপর প্রভাব ফেলেছে।
গ্লোবাল মার্কেট মুভমেন্টস: বিশ্বের অন্যান্য শেয়ারবাজারে কোনো অস্থিরতা বা নেতিবাচক প্রবণতা ভারতের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আজকের শেয়ারবাজারের অবস্থা একটি পরীক্ষার সময়। বিশেষ করে, বিদেশী ফান্ডের প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, শেয়ারবাজারে পতনের পরেও এই বাজারের ভবিষ্যত উজ্জ্বল হতে পারে, যদি ভারতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যায়। এই মুহূর্তে, Nifty 50 এবং Sensex -এর পরবর্তী পথ নির্ভর করছে তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার উপর।