গাউটের ব্যথা ও ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জলপান ও নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস কীভাবে উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে, জেনে নিন ৫টি কার্যকর উপায়। তবে ৭ দিনে ব্যথা কমবেই, এমন নিশ্চয়তা নেই।
রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকেরই গাঁটে গাঁটে ব্যথা, ফোলাভাব ও প্রদাহের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুল, গোড়ালি ও হাঁটুর মতো জয়েন্টে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হলে হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যাকে বলা হয় গাউট বা গেঁটে বাত। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে জয়েন্টের আশপাশে ইউরেট ক্রিস্টাল জমতে পারে। এর ফলেই গাউটের আক্রমণ ঘটে।
তবে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলেই যে প্রত্যেকের গাউট হবে, এমন নয়। আবার গাউটের ব্যথা শুরু হলে শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে তাৎক্ষণিকভাবে উপশম পাওয়া সব সময় সম্ভব হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভবিষ্যতে গাউটের আক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
পর্যাপ্ত জল পান, সঠিক খাবার বেছে নেওয়া, মদ্যপান এড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার মতো অভ্যাস এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মাত্র সাত দিনে ইউরিক অ্যাসিড স্বাভাবিক হয়ে যাবে বা গাউটের ব্যথা সম্পূর্ণ সেরে যাবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। জেনে নিন, ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন পাঁচটি বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয় মূলত পিউরিন নামের একটি উপাদান ভাঙার প্রক্রিয়ায়। পিউরিন শরীরের কোষে স্বাভাবিকভাবেই থাকে এবং কিছু খাবারেও পাওয়া যায়। কিডনি রক্ত থেকে ইউরিক অ্যাসিড ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। কিডনি পর্যাপ্ত পরিমাণে ইউরিক অ্যাসিড বের করতে না পারলে অথবা শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত জল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে জলের ঘাটতি হলে ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। নিয়মিত জল পান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং কিডনির মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।
অনেকে প্রতিদিন ৮-১২ গ্লাস জল পান করার পরামর্শ দেন। তবে প্রত্যেকের জন্য একই পরিমাণ জল প্রয়োজন হয় না। আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম, বয়স এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী জলের চাহিদা বদলে যায়। কিডনি বা হৃদ্যন্ত্রের অসুখ থাকলে কিংবা চিকিৎসক জল পানের পরিমাণ সীমিত করতে বললে সেই নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
কী করবেন? দিনের বিভিন্ন সময়ে নিয়মিত জল পান করুন। তৃষ্ণার অনুভূতি, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং নিজের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখুন। তবে মনে রাখবেন, শুধু বেশি জল পান করলেই ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, এমন নয়।
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে পিউরিনসমৃদ্ধ কিছু খাবার অতিরিক্ত খেলে গাউটের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই খাদ্যতালিকা থেকে সব ধরনের প্রোটিন বাদ দেওয়ার পরিবর্তে প্রোটিনের উপযুক্ত উৎস বেছে নেওয়া বেশি জরুরি।
মেটে, কলিজা-সহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংসে পিউরিনের পরিমাণ বেশি থাকে। রেড মিট, যেমন পাঁঠা বা খাসির মাংস এবং গরুর মাংসও সীমিত রাখা প্রয়োজন। কিছু সামুদ্রিক খাবার, যেমন সার্ডিন, অ্যাঙ্কোভি ও নির্দিষ্ট ধরনের শেলফিশেও পিউরিন বেশি থাকতে পারে। গাউটের সমস্যা থাকলে এই খাবারগুলি নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
তার বদলে ডিম, দুধ, কম ফ্যাটযুক্ত দই এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার থেকে প্রোটিন নেওয়া যেতে পারে। ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎসও সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। উদ্ভিজ্জ খাবারে পিউরিন থাকলেও সেগুলি খাওয়ার সঙ্গে গাউটের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক প্রাণিজ পিউরিনের মতো নয়। তাই পুষ্টিকর ডাল বা শাকসবজি অকারণে বাদ দেওয়া উচিত নয়।
চিকেনের মতো পোলট্রির মাংসও পরিমাণ বুঝে খেতে হবে। শুধু প্রোটিন রয়েছে বলেই কোনও খাবার সম্পূর্ণ নিরাপদ, আবার পিউরিন রয়েছে বলেই কোনও খাবার পুরোপুরি নিষিদ্ধ—এমন সরল নিয়ম সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
কী করবেন? প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য রাখুন। অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস ও অতিরিক্ত রেড মিট কমান। সুষম পরিমাণে ডিম, কম ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বেছে নিন। প্রয়োজন হলে পুষ্টিবিদের সাহায্যে নিজের উপযোগী খাদ্যতালিকা তৈরি করুন।
ভিটামিন সি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভিটামিন সি গ্রহণের সঙ্গে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রার সামান্য হ্রাসের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে শুধু ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খেলেই গাউটের চিকিৎসা হয়ে যাবে, এমন প্রমাণ নেই।
আমলকি, পেয়ারা, কমলালেবু, পাতিলেবু ও অন্যান্য ফল ভিটামিন সি-র ভালো উৎস। এগুলি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি পাওয়া যায়। তবে ফল খাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
ফলের রসের বদলে গোটা ফল খাওয়া অনেক ক্ষেত্রে ভালো, কারণ গোটা ফলে ফাইবার থাকে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া ফলের পানীয় বা প্যাকেটজাত জুস নিয়মিত খেলে অপ্রয়োজনীয় চিনি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। ফ্রুক্টোজযুক্ত অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ও গাউটের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
কী করবেন? প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে গোটা ফল রাখুন। ভিটামিন সি পাওয়ার জন্য একাধিক ফল খেতে পারেন, তবে কোনও একটি ফলকে ইউরিক অ্যাসিড কমানোর ওষুধের বিকল্প ভাববেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্টও শুরু করবেন না।
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে মদ্যপানের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। অ্যালকোহল শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের উৎপাদন ও নিষ্কাশনের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গাউটের আক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিয়মিত বা অতিরিক্ত মদ্যপান সমস্যা বাড়াতে পারে।
বিয়ার এবং কিছু অন্যান্য অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় গাউটের রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাই ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে মদ্যপান এড়িয়ে চলাই ভালো। গাউটের আক্রমণ চলাকালীন অ্যালকোহল পান না করাই উচিত।
শুধু মদ্যপান নয়, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া সফট ড্রিঙ্কস, এনার্জি ড্রিঙ্কস এবং মিষ্টি পানীয়ও কমানো প্রয়োজন। এই ধরনের পানীয়তে থাকা অতিরিক্ত চিনি, বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ, ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে মিষ্টি পানীয় খাওয়ার অভ্যাস ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
কী করবেন? তৃষ্ণা মেটাতে জল বেছে নিন। মিষ্টি পানীয়ের পরিবর্তে চিনি ছাড়া পানীয় গ্রহণ করুন। অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার সঙ্গে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি এবং গাউটের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে। তবে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকা, ক্র্যাশ ডায়েট করা বা হঠাৎ কঠোর শরীরচর্চা শুরু করা ঠিক নয়। খুব দ্রুত ওজন কমানো বা দীর্ঘক্ষণ উপবাসের কারণে কোনও কোনও ক্ষেত্রে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে, হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। হাঁটা, সাইকেল চালানো বা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।
তবে গাউটের তীব্র আক্রমণের সময় ব্যথাযুক্ত জয়েন্টে চাপ দেওয়া উচিত নয়। তখন বিশ্রাম নেওয়া এবং আক্রান্ত জায়গায় কাপড়ে মোড়ানো বরফ অল্প সময়ের জন্য প্রয়োগ করলে ব্যথা ও ফোলাভাব কিছুটা কমতে পারে। বরফ সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না। ব্যথা কমে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক শরীরচর্চায় ফিরুন।
কী করবেন? নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার এবং ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন। ব্যথা না থাকলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শরীরচর্চা করুন। তীব্র ব্যথার সময় জোর করে হাঁটা বা ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন।
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকে অ্যাপল সিডার ভিনিগার, হলুদ, শসার রস বা আদার রস খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু এই উপাদানগুলি মানুষের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড কমায় বা গাউটের আক্রমণ প্রতিরোধ করে—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বর্তমানে সীমিত।
হলুদ ও আদা খাবারের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। একইভাবে শসা সুষম খাদ্যের উপকারী অংশ হতে পারে। কিন্তু এগুলিকে গাউটের নির্দিষ্ট চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। অ্যাপল সিডার ভিনিগার সরাসরি খেলে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং গলা বা পাকস্থলীতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই কোনও ঘরোয়া উপাদানকে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া বা ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
গাউটের আক্রমণ হলে চিকিৎসক প্রদাহ ও ব্যথা কমানোর জন্য উপযুক্ত ওষুধ দিতে পারেন। দীর্ঘদিন ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে বা বারবার গাউটের আক্রমণ হলে ইউরিক অ্যাসিড কমানোর নির্দিষ্ট ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। এই ওষুধগুলি চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হয়।
গাউটের তীব্র আক্রমণে ব্যথা ও ফোলাভাব কয়েক দিন থেকে একাধিক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। উপযুক্ত চিকিৎসায় অনেকের উপসর্গ কয়েক দিনের মধ্যে কমতে শুরু করে। কিন্তু প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই সময়ের মধ্যে ব্যথা কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, তবে এগুলি তাৎক্ষণিক চিকিৎসার বিকল্প নয়।
রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিক সীমায় রাখার জন্য কারও কারও নিয়মিত ওষুধ প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা, মাত্রা পরিবর্তন করা বা শুধু ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর করা উচিত নয়।
জয়েন্টে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, লালচে ভাব ও ফোলাভাব দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে প্রথমবার এমন ব্যথা হলে বা জয়েন্ট গরম হয়ে যাওয়ার সঙ্গে জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন, কারণ জয়েন্টের সংক্রমণও একই রকম উপসর্গ তৈরি করতে পারে।
১. ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কী কী সমস্যা হয়?
রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলেও সব সময় উপসর্গ দেখা যায় না। তবে ইউরেট ক্রিস্টাল জমলে গাউটের কারণে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা, ফোলাভাব, লালচে ভাব ও প্রদাহ হতে পারে। পায়ের বুড়ো আঙুল, গোড়ালি ও হাঁটুতে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
২. ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে দিনে কতটা জল পান করা উচিত?
জলের প্রয়োজন ব্যক্তিভেদে আলাদা। নিয়মিত পর্যাপ্ত জল পান করুন। তবে কিডনি বা হৃদ্যন্ত্রের অসুখ থাকলে এবং জল পানের পরিমাণ সীমিত রাখার নির্দেশ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
৩. ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?
মেটে ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস, অতিরিক্ত রেড মিট, নির্দিষ্ট পিউরিনসমৃদ্ধ সামুদ্রিক খাবার, মদ্যপান এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় সীমিত রাখা বা এড়ানো উপকারী হতে পারে।
৪. ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে কোন ফল খাওয়া ভালো?
আমলকি, পেয়ারা ও কমলালেবুর মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল সুষম খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। তবে শুধু ফল খেয়ে গাউটের চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।
৫. ঘরোয়া উপায়ে কি ইউরিক অ্যাসিড কমানো যায়?
সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত জল, স্বাস্থ্যকর ওজন এবং মদ্যপান এড়ানোর মতো অভ্যাস উপকারী। তবে অ্যাপল সিডার ভিনিগার, হলুদ বা শসার রস ইউরিক অ্যাসিড কমানোর প্রমাণিত চিকিৎসা নয়।
ইউরিক অ্যাসিড ও গাউটের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত জল পান, পিউরিনসমৃদ্ধ কিছু খাবার সীমিত রাখা, ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খাওয়া, মদ্যপান ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদে সাহায্য করতে পারে।
তবে মনে রাখবেন, গাউটের ব্যথা সাত দিনের মধ্যে কমবেই বা শুধু ঘরোয়া উপায়েই ইউরিক অ্যাসিড স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যথা তীব্র হলে বা বারবার ফিরে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সমন্বয়েই গাউট নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।