কল্যাণীতে সুমন্তর দুরন্ত বোলিংয়ে জমে উঠেছে বাংলা–দিল্লির লড়াই তাঁর বলের জাদুতে চাপে পড়লেও লাঞ্চ বিরতিতে বাংলার থেকে ১০ রানে এগিয়ে দিল্লি দলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আয়ুষ বাদোনি তাঁর প্রতিরোধ ভেঙে দিল্লির ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দেওয়াই এখন বাংলার লক্ষ্য
কল্যাণীতে বাংলা–দিল্লির রঞ্জি ম্যাচের শেষ দিনে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট এনে দিলেন সুমন্ত গুপ্ত। লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে তাঁর লেগস্পিনে ফিরলেন যশ ধূল। দিল্লির দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর তখন ১৯৯/৫ বাংলার চেয়ে এগিয়ে ১০ রানে। তবে দিল্লির অধিনায়ক আয়ুষ বাদোনি ১২৭ বলে ৮০ রান করে অপরাজিত থাকায় বাংলার সামনে লড়াই এখনও বাকি। বড় লিড থেকে সরাসরি জয়ের খোঁজে বাংলা প্রথম ইনিংসে বাংলা ৪২৯ রান করেছিল। তৃতীয় দিনের শেষে দিল্লি দ্বিতীয় ইনিংসে ১০১/৩ অবস্থায় ছিল, তখনও বাংলার থেকে পিছিয়ে ৮৮ রানে। সেই অবস্থান থেকে শেষ দিনে বাংলার লক্ষ্য ছিল দ্রুত উইকেট তুলে সরাসরি জয়ের সুযোগ তৈরি করা। দিল্লির প্রয়োজন ছিল প্রতিরোধ গড়ে তুলে প্রথম ইনিংসের ঘাটতি মেটানো। লাঞ্চের স্কোর থেকে বোঝা যাচ্ছে, দিল্লি সেই ঘাটতি কাটিয়ে উঠেছে। ফলে বাংলার ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়েছে। সরাসরি জিততে হলে এখন দিল্লির বাকি উইকেটগুলি নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে প্রয়োজনীয় রানও তুলতে হবে। শেষ দিনের ম্যাচে তাই রান এবং সময় দুই হিসাবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সুমন্তর বলে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য লাঞ্চের আগে শেষ ওভারে সুমন্তকে বল দেন বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ। তখন বাদোনি ও ধূলের জুটি বাংলার অগ্রগতি আটকে রেখেছিল। ওভারের দ্বিতীয় বলেই ধূলের ব্যাটের কানায় লেগে বল স্লিপে অভিমন্যুর হাতে যায়। অনিয়মিত লেগস্পিনারের এই সাফল্য লাঞ্চের আগে বাংলাকে প্রয়োজনীয় সুযোগ এনে দেয়। ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই উইকেটের মূল্য শুধু একটি ব্যাটসম্যানকে ফেরানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি জুটি ভাঙলে নতুন ব্যাটসম্যানকে শুরু থেকেই চাপের মধ্যে খেলতে হয়। বাংলার কাছে সেটিই পরবর্তী সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বোলারদের ধারাবাহিকভাবে চাপ ধরে রাখতে হবে।
দিল্লির প্রতিরোধের কেন্দ্রে বাদোনি অপরাজিত বাদোনিই লাঞ্চের সময়ে দিল্লির সবচেয়ে বড় ভরসা। তাঁর সামনে দায়িত্ব দলের লিড বাড়ানো এবং যতটা সম্ভব সময় ক্রিজে কাটানো। বাংলার দৃষ্টিতে তাঁর উইকেট নেওয়া জরুরি, কারণ সেটি দিল্লির প্রতিরোধ দুর্বল করার পাশাপাশি বাকি ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ বাড়াতে পারে। লাঞ্চের পর বাদোনির ব্যাটিংয়ের ধরনও ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি রান বাড়ানোর সুযোগ নিলে দিল্লির পুঁজি বাড়বে। আবার দীর্ঘ সময় উইকেট ধরে রাখতে পারলে বাংলার হাতে রান তাড়া করার সময় কমে আসবে। এগুলি লাঞ্চের পরিস্থিতির ভিত্তিতে সম্ভাব্য সমীকরণ ম্যাচের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহই ঠিক করবে কোন দল সুবিধা পাবে। বাংলার জন্য উইকেট ও সময়ের হিসাব এই অবস্থায় বাংলার সামনে প্রধান কাজ বাকি পাঁচটি উইকেট দ্রুত নেওয়া। শুধু রান আটকানো যথেষ্ট হবে না, কারণ দিল্লি যত বেশি সময় ব্যাট করবে, বাংলার জয়ের পরিকল্পনা তত কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে উইকেটের খোঁজে অতিরিক্ত রান দিলে সম্ভাব্য লক্ষ্যও বড় হয়ে যাবে। তাই আক্রমণ এবং রান নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন। লাঞ্চের আগে সুমন্তর সাফল্য বাংলাকে নতুন সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু জয় নিশ্চিত করেনি। দিল্লিও সামান্য লিড পেলেই নিরাপদ অবস্থায় পৌঁছে যায়নি। একদিকে বাদোনির প্রতিরোধ, অন্যদিকে বাংলার দ্রুত উইকেট নেওয়ার প্রয়োজন এই দুইয়ের মধ্যে শেষ দিনের পরবর্তী পর্বের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কল্যাণীতে ম্যাচের নিষ্পত্তি নির্ভর করছে কে এই সময়ের চাপ বেশি ভালভাবে সামলাতে পারে তার উপর।
কল্যাণীতে বাংলা–দিল্লির লড়াইয়ের লাঞ্চ বিরতির পরিস্থিতিতে আয়ুষ বাদোনির ব্যাটিং বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অপরাজিত দিল্লি অধিনায়কের সামনে দুটি দায়িত্ব দলের লিড বাড়ানো এবং যতটা সম্ভব সময় ক্রিজে কাটানো। অন্যদিকে বাংলার প্রয়োজন দ্রুত উইকেট নিয়ে ম্যাচ জেতার সুযোগ তৈরি করা। ফলে পরবর্তী সেশনে শুধু কত রান উঠবে তার পাশাপাশি কত সময় ব্যয় হবে, সেই হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির প্রতিরোধ ধরে রাখতে বাদোনির উপস্থিতি বড় ভরসা। একজন ব্যাটসম্যান দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকলে প্রতিপক্ষের বোলিং সামলানোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেন। তাঁর সঙ্গে নতুন ব্যাটসম্যান জুটি গড়ার সুযোগও পান। তবে লাঞ্চের পর আবার মনোযোগ ধরে রেখে শুরু করা জরুরি। বিরতির আগে তৈরি হওয়া ছন্দ ফিরে পেতে গিয়ে কোনও ভুল হলে বাংলার কাছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। বাদোনির সামনে আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রান করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দিল্লির লিড বাড়বে এবং বাংলার সম্ভাব্য লক্ষ্য কঠিন হবে। আবার অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিয়ে উইকেট হারালে দলের প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই পরিস্থিতি বুঝে বল নির্বাচন এবং সঙ্গী ব্যাটসম্যানের সঙ্গে বোঝাপড়া তাঁর ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে। দিল্লির জন্য সময় কাটানোর মূল্যও কম নয়। শেষ দিনে প্রতিটি ওভার ব্যাট করার অর্থ, বাংলার দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য উপলব্ধ সময় কমে আসা। ফলে খুব দ্রুত রান না উঠলেও একটি দীর্ঘ জুটি ম্যাচের সমীকরণ বদলাতে পারে। তবে শুধুই রক্ষণাত্মক হয়ে গেলে বোলাররা এক জায়গায় চাপ তৈরি করার সুযোগ পেতে পারেন। সেই কারণে সুযোগমতো সিঙ্গল নেওয়া এবং স্কোর সচল রাখাও দিল্লির পরিকল্পনায় কার্যকর হতে পারে। বাংলার দৃষ্টিতে বাদোনির উইকেট নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পুরো মনোযোগ শুধু তাঁর দিকে রাখলে অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যান সুবিধা পেতে পারেন। দুই প্রান্তেই চাপ তৈরি করতে হবে। বাদোনিকে কঠিন বল খেলার বাধ্যবাধকতায় রাখার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গীকেও স্বচ্ছন্দে জুটি গড়তে দেওয়া যাবে না। একটি প্রান্তে উইকেট এলেও দিল্লির ব্যাটিংয়ের উপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। এই অবস্থায় বাংলার অধিনায়কের বোলিং পরিবর্তন ও ফিল্ডিং সাজানোর সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। উইকেট নেওয়ার জন্য আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং প্রয়োজন হলেও রান আটকানোর দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। অতিরিক্ত আক্রমণ করতে গিয়ে সহজে রান দিলে দিল্লির লিড বাড়বে। আবার অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হলে ব্যাটসম্যানরা সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই ভারসাম্য বদলাতে হবে। লাঞ্চের আগে সুমন্তর সাফল্য বাংলার জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে। একটি জুটি ভাঙার পর নতুন ব্যাটসম্যানের শুরুটা কাজে লাগাতে পারলে দ্রুত আরও উইকেট আসার সম্ভাবনা থাকে। তবে আগের সাফল্যের উপর নির্ভর করে পরবর্তী উইকেট পাওয়া যায় না। প্রতিটি নতুন ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা এবং সেই পরিকল্পনার যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন।
বাংলার সামনে বাকি পাঁচটি উইকেট নেওয়ার কাজ রয়েছে। এখানে শুধু দিল্লিকে অলআউট করাই যথেষ্ট নয়; কত রানে এবং কত সময়ের মধ্যে ইনিংস শেষ হচ্ছে, সেটিও সরাসরি জয়ের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করবে। দ্রুত উইকেট পড়লে বাংলা তুলনামূলক বেশি সময় পাবে রান তাড়া করার জন্য। অন্যদিকে দিল্লি দীর্ঘ সময় প্রতিরোধ গড়লে ছোট লক্ষ্যও সময়ের অভাবে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। মাঠের প্রতিটি সুযোগ তাই মূল্যবান। বোলার কোনও ব্যাটসম্যানকে ভুল করতে বাধ্য করলে ক্যাচ বা রানআউটের সুযোগ কাজে লাগানো প্রয়োজন। শেষ দিনের সীমিত সময়ে একটি সুযোগ হাতছাড়া হলে প্রতিপক্ষ আরও কয়েকটি ওভার ব্যাট করার সুবিধা পেতে পারে। একইভাবে দিল্লির ব্যাটসম্যানদেরও রান নেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে, কারণ অপ্রয়োজনীয় রানআউট প্রতিরোধ ভেঙে দিতে পারে। এই লড়াইয়ে ধৈর্যের ভূমিকাও রয়েছে। কয়েকটি ওভার উইকেট না এলেই বাংলার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে গেছে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। ধারাবাহিক চাপ থেকে সুযোগ তৈরি হতে পারে। দিল্লির ক্ষেত্রেও একটি উইকেট হারানো মানেই লড়াই শেষ নয় নতুন জুটি আবার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। দুই দলকেই প্রতিটি পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। লাঞ্চের অবস্থান থেকে কয়েকটি সম্ভাব্য পথ সামনে রয়েছে। বাদোনি দীর্ঘ সময় ব্যাট করে লিড বাড়াতে পারলে দিল্লি ম্যাচ বাঁচানোর দিকে এগোতে পারে। বাংলা দ্রুত উইকেট নিতে পারলে সরাসরি জয়ের সুযোগ শক্তিশালী হতে পারে। আবার দিল্লির ইনিংস শেষ হলেও রান তাড়া করার জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে কি না, সেটি আলাদা প্রশ্ন হয়ে উঠবে। এগুলি সম্ভাব্য সমীকরণ; পরবর্তী খেলার ফল হিসেবে এগুলিকে ধরে নেওয়া যাবে না। কল্যাণীর এই পরিস্থিতিতে বাদোনির প্রতিরোধ এবং বাংলার উইকেট নেওয়ার চেষ্টা একই সঙ্গে ম্যাচকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সামান্য লিড দিল্লিকে নিশ্চিন্ত করেনি, সুমন্তর উইকেটও বাংলার জয় নিশ্চিত করেনি। পরবর্তী পর্বে কোন দল নিজের পরিকল্পনা বেশি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, সেই পরীক্ষাই সামনে। রান, উইকেট এবং অবশিষ্ট সময়ের সম্পর্ক বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া শেষ দিনের এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।