ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন Parineeti Chopra তবে এবার প্রথমবারের মতো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘরের দরজা খুলে দিলেন তিনি শান্ত স্নিগ্ধ অন্দরসজ্জায় ভরা সেই ঘরেই লুকিয়ে তাঁর নিরবচ্ছিন্ন স্বস্তির আশ্রয়।
ব্যক্তিগত পরিসরকে সব সময় আড়ালে রাখতেই স্বচ্ছন্দ Parineeti Chopra। আলোঝলমলে ক্যামেরা, রেড কার্পেট, প্রচারের ভিড়— সবই তাঁর পেশার অংশ, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই থেকেছে সযত্নে সুরক্ষিত। তাই যখন তিনি নিজেই ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেখালেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘর— তখন তা নিছক একটি ‘হোম ট্যুর’ নয়, বরং এক গভীর আবেগের প্রকাশ।
এই ঘরটি তাঁর ও তাঁর স্বামী Raghav Chadha–র সদ্যোজাত পুত্র নীরের জন্য তৈরি নার্সারি। কিন্তু এটি কেবল একটি শিশুর ঘর নয়। এটি এক নতুন পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা, আশ্রয় ও মানসিক শান্তির প্রতীক।
পরিণীতি দীর্ঘদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত মুহূর্ত খুব কমই ভাগ করে নেন। বাড়ির অন্দরমহল, ব্যক্তিগত কোণ, এমনকি গাড়ির ভিতরের দৃশ্য— এসবও প্রায় অনুপস্থিত। কিন্তু মাতৃত্ব তাঁর জীবনে এক নতুন সংবেদনশীলতা এনে দিয়েছে।
এই প্রথম তিনি অনুরাগীদের সামনে খুলে দিলেন সেই ঘরের দরজা, যেখানে দিনের ৯৯ শতাংশ সময় কাটান তিনি। তাঁর কথায়, “নীর এখনই হয়তো বুঝবে না এই অন্দরসজ্জার নান্দনিকতা। কিন্তু আমি বুঝি। এই ঘর আমাকে শান্ত রাখে।”
অর্থাৎ, এই ঘরটি শুধু শিশুর জন্য নয়— মায়ের মানসিক প্রশান্তির জন্যও তৈরি।
বাড়ির অধিকাংশ পরিবারেই এমন একটি জায়গা থাকে, যা আবেগের প্রতিচ্ছবি। কারও জন্য তা বাগান, কারও জন্য ছাদ, কারও পড়ার ঘর। পরিণীতি ও রাঘবের ক্ষেত্রে সেই জায়গাটি তাঁদের সন্তানের ঘর।
এই নার্সারি তৈরি হয়েছে সুপরিকল্পিত ভাবনায়। মেঝে থেকে ছাদ, রঙের প্যালেট থেকে আসবাবের টেক্সচার— সব কিছুতে রয়েছে সামঞ্জস্য ও সংযম।
শিশুর ঘরে সাধারণত উজ্জ্বল রং ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এখানে তার উল্টো ছবি।
নরম বেইজ
মিউটেড ক্রিম
হালকা ধূসর
ফিকে প্যাস্টেল
চোখ ধাঁধানো রঙের বদলে বেছে নেওয়া হয়েছে শান্ত ও স্নিগ্ধ শেড। কারণ, শিশুর ঘুম ও মানসিক আরাম এখানে প্রাধান্য পেয়েছে।
এই ঘর সাজানোর সময় দম্পতি চেয়েছিলেন ‘জেন’ ভাবধারার ছোঁয়া আনতে। জাপানি জেন দর্শন সরলতা, ভারসাম্য ও অন্তর্গত শান্তির উপর জোর দেয়।
অপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাহুল্য নেই। অতিরিক্ত সাজসজ্জা নেই। বরং প্রতিটি বস্তু ব্যবহারিক ও অর্থপূর্ণ।
এই মিনিমালিস্ট নান্দনিকতা ঘরটিকে এক ধরনের ধ্যানমগ্ন আবহ দেয়।
ঘরে লম্বা, সাদা, স্বচ্ছ পর্দা লাগানো হয়েছে।
এর ফলে—
প্রাকৃতিক আলো সহজে প্রবেশ করে
ঘর উজ্জ্বল থাকে
কিন্তু তীব্র আলো সরাসরি শিশুর চোখে পড়ে না
নরম আলো ও ছায়ার ভারসাম্য তৈরি হয়েছে ঘরে।
নার্সারির জানলার নীচে প্যানেলিংয়ে রয়েছে ব্রিটিশ নকশার অনুপ্রেরণা। কাঠের সূক্ষ্ম কাজ ঘরে এক ধ্রুপদি ভাব এনেছে।
মেঝেতে পাতা গালিচাটি পারসিক সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত। তবে তা রঙিন বা চটকদার নয়। বরং চোখে আরাম দেয় এমন রং ও নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে।
শিশুসুলভ কার্টুন প্রিন্ট নয়— বরং ক্লাসিক মোটিফ।
বেবি কটের চাদরেও হালকা ডোরাকাটা বা পোলকা ডটের নকশা।
উপর থেকে ঝোলানো খেলনাগুলিও শান্ত রঙের।
কোনও তীক্ষ্ণ ধার নেই
নরম উপাদান
চোখে আরামদায়ক ডিজাইন
বেতের তৈরি আলমারি ঘরের অন্যতম আকর্ষণ। আর্চ-শেপ ডিজাইন, প্রাকৃতিক টেক্সচার— সব মিলিয়ে ঘরে উষ্ণতা এনে দিয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনকে যতটা সম্ভব আড়ালে রাখতেই স্বচ্ছন্দ Parineeti Chopra। অথচ মাতৃত্বের স্পর্শে বদলে গেছে অগ্রাধিকারের মানচিত্র। জীবনের যে ঘরটি এখন তাঁর দিন-রাতের কেন্দ্রবিন্দু, সেই নার্সারির অন্দরসজ্জার প্রতিটি খুঁটিনাটি যেন এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষ্য বহন করছে। এই ঘরটি কেবল সন্তানের জন্য সাজানো একটি পরিসর নয়— এটি আবেগ, রুচি, মনস্তত্ত্ব ও ভবিষ্যতের স্বপ্নের এক সুনিপুণ স্থাপত্য।
নার্সারির দেওয়ালে ভিন্টেজ গাড়ির ছবি ফ্রেম করে টাঙানো হয়েছে। প্রথম দর্শনে হয়তো মনে হতে পারে, এটি নিছক এক অভিনব সাজসজ্জা। কিন্তু একটু গভীরভাবে ভাবলে বোঝা যায়, এই নির্বাচন মোটেই আকস্মিক নয়।
শিশুর ঘরে সাধারণত কার্টুন চরিত্র, প্রাণী-পাখি বা রঙিন অ্যানিমেটেড চিত্র দেখা যায়। সেখানে ভিন্টেজ গাড়ির শিল্পচিত্র একেবারেই ব্যতিক্রমী। এই ব্যতিক্রমই ঘরটির স্বর নির্ধারণ করে দেয়। এখানে চটক নয়, বরং সময়াতীত নান্দনিকতার প্রতি ঝোঁক স্পষ্ট।
ভিন্টেজ মোটিফে থাকে স্মৃতির আবেশ, ইতিহাসের ছাপ, আর এক ধরনের ধীর, স্থির সৌন্দর্য। হয়তো এই শিল্পচিত্রের মাধ্যমে ভবিষ্যতের সন্তানের জন্য এক ভিন্ন রুচির বীজ বপন করতে চেয়েছেন পরিণীতি ও তাঁর স্বামী। আবার এটাও হতে পারে, এটি তাঁদের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতিফলন— এমন এক শিল্পরুচি, যা কোলাহলের বদলে পরিশীলিত স্থিরতাকে প্রাধান্য দেয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, এই ফ্রেমগুলো ঘরের সামগ্রিক রঙের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেওয়ালের হালকা রঙ, নরম আলো এবং মিউটেড টোনের কার্পেট— সব কিছুর সঙ্গে মিল রেখে নির্বাচিত হয়েছে ছবির রঙ। ফলে শিল্পকর্ম আলাদা করে চোখে পড়ে না, বরং ঘরের পরিবেশের অংশ হয়ে ওঠে। এই মিশে যাওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ঘরের শান্ত সৌন্দর্য।
এই নার্সারির সবচেয়ে বড় শক্তি তার সংযম। এখানে কোনও তীব্র রঙের বিস্ফোরণ নেই, নেই অতিরিক্ত সাজসজ্জার চাপ। বরং প্রতিটি জিনিস যেন নিঃশব্দে কথা বলে।
হালকা রঙের দেওয়াল ঘরটিকে প্রশস্ত দেখায়। নরম টেক্সচারের কার্পেট পায়ের শব্দ শোষণ করে, ফলে ঘরে একটি ধীর, নরম পরিবেশ তৈরি হয়। স্বচ্ছ সাদা পর্দা জানলার আলোকে ছেঁকে এনে এক ধরনের ছায়া-আলো খেলা তৈরি করে।
এই সমস্ত উপাদান মিলিয়ে যে আবহ তৈরি হয়, তা শিশুর জন্য যেমন আরামদায়ক, তেমনই নতুন মায়ের মানসিক স্বস্তির জন্যও সহায়ক। ঘরে প্রবেশ করলেই যেন বাইরের পৃথিবীর তাড়াহুড়ো থেমে যায়।
পরিণীতির কথায়, “এ ঘরে ঢুকলেই মন শান্ত হয়ে যায়।” এই একটি বাক্যেই ধরা পড়ে ঘরটির প্রকৃত তাৎপর্য।
মাতৃত্বের প্রথম পর্যায় অনেক সময়ই রোম্যান্টিক কল্পনার মতো সহজ নয়। রাতজাগা, অনিয়মিত ঘুম, নতুন দায়িত্বের চাপ, শরীরের পরিবর্তন— সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত মানসিক ওঠাপড়া তৈরি হয়। আনন্দ যেমন আছে, তেমনই ক্লান্তিও আছে। উচ্ছ্বাস যেমন আছে, তেমনই অনিশ্চয়তাও।
এই সময় একটি নির্ভরযোগ্য, শান্ত পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। এমন একটি জায়গা, যেখানে মা নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারেন। যেখানে বসে সন্তানের দিকে তাকিয়ে গভীর শ্বাস নেওয়া যায়। যেখানে চারপাশের রং ও আলো মনের অস্থিরতা কমিয়ে আনে।
এই নার্সারি ঠিক সেই কাজটিই করছে। এটি কেবল শিশুর ঘুমের জায়গা নয়; এটি এক নতুন মায়ের মানসিক ভারসাম্যের কেন্দ্র। এখানে সন্তানের প্রতিটি ছোট্ট নড়াচড়া, প্রতিটি হাসি, প্রতিটি কান্না— সবই সযত্নে ধরা পড়ছে। আর সেই অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে রয়েছে ঘরের দেওয়াল, আসবাব, আলো।
একটি ঘর কখনও কেবল ইট-কাঠ-পাথরের সমষ্টি নয়। এটি স্মৃতি তৈরির ক্ষেত্র।
এই নার্সারিতে একদিন প্রথমবার উল্টে শোবে নীর।
একদিন প্রথমবার বসবে।
হয়তো এখানেই প্রথমবার শব্দ উচ্চারণ করবে।
প্রতিটি মুহূর্ত এই ঘরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে।
ঘরের মেঝে সেই প্রথম হামাগুড়ির সাক্ষী থাকবে। দেওয়াল মনে রাখবে প্রথম আঁকিবুকির চিহ্ন। আলমারির বেতের গায়ে হয়তো একদিন লেগে থাকবে শিশুর ছোট্ট হাতের স্পর্শ।
এই সব মিলিয়ে ঘরটি হয়ে উঠবে স্মৃতির ভাণ্ডার। আজ যে ঘর এত নিখুঁত ও পরিপাটি, কয়েক বছরের মধ্যেই হয়তো তা ভরে উঠবে খেলনার বিশৃঙ্খলায়। কিন্তু সেই বিশৃঙ্খলাতেই থাকবে জীবনের উচ্ছ্বাস।
পরিণীতি ও তাঁর স্বামী যে ভাবনা নিয়ে এই ঘরটি তৈরি করেছেন, তাতে স্পষ্ট— তাঁরা চান এটি নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠুক। এখানে যেন ভয় না থাকে, তাড়া না থাকে, অস্থিরতা না থাকে। বরং থাকুক ধীর, স্থির বেড়ে ওঠা।
এই নার্সারির প্রতিটি কোণে ভালোবাসার ছাপ। বেবি কটের নরম বিছানা, যত্ন নিয়ে বাছাই করা খেলনা, বেতের আলমারির আর্চ-ডিজাইন— সব কিছুতেই এক ধরনের কোমলতা আছে।
এ যেন এমন এক ভাষা, যা শব্দের প্রয়োজন করে না। শিশুটি এখন হয়তো কিছুই বোঝে না। কিন্তু পরিবেশ অনুভব করে। শান্ত রং, নরম আলো, নিরাপদ বিন্যাস— এগুলোই তার প্রথম পৃথিবী।
একটি শিশুর পৃথিবী শুরু হয় তার ঘর থেকে। সেই পৃথিবী যদি হয় শান্ত, সুরক্ষিত ও ভালোবাসায় মোড়া— তবে তার বেড়ে ওঠাও হবে ভারসাম্যপূর্ণ।
পরিণীতি ও রাঘবের এই নার্সারি কেবল এক সেলিব্রিটি দম্পতির সাজানো ঘর নয়। এটি নতুন জীবনের সূচনার প্রতীক। এখানে নান্দনিকতা আছে, কিন্তু তা প্রদর্শনের জন্য নয়; আছে শান্তি, কিন্তু তা বাহুল্যের আড়ালে ঢাকা নয়।
এই ঘর প্রমাণ করে— অন্দরসজ্জা শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও জরুরি। একটি সযত্নে গড়া পরিবেশ আমাদের মনকে প্রভাবিত করে, আমাদের অনুভূতিকে স্থির করে, আমাদের সম্পর্ককে গভীর করে।
এই নার্সারি তাই এক আবেগের স্থাপত্য— যেখানে ভালোবাসা দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়, শান্তি জানলা দিয়ে ঢোকে, আর ভবিষ্যৎ নীরবে বেড়ে ওঠে।