Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পূর্ব বর্ধমানের বড়বাজারে গভীর রাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড ভস্মীভূত কয়েক ডজন পাইকারি কাপড়ের দোকান কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি এবং দমকল বাহিনীর দীর্ঘ লড়াই

পূর্ব বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়বাজার এলাকায় গভীর রাতে এক ভয়াবহ এবং বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে যেখানে কাপড়ের পাইকারি বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভয়ানক আগুনে কয়েক ডজন দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে এবং দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের একটানা প্রায় দশ ঘণ্টার দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এই মর্মান্তিক ঘটনায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির খবর নেই তবে আসন্ন নববর্ষের আগে এই বিপর্যয় ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে দিয়েছে  

পূর্ব বর্ধমান জেলার সদর শহর বর্ধমানের প্রাণকেন্দ্র এবং দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক এলাকা বড়বাজারে গতকাল গভীর রাতে এক ভয়াবহ এবং বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গেল যা সমগ্র শহরের বুকে এক গভীর আতঙ্ক এবং কান্নার রোল ফেলে দিয়েছে শহরের সবচেয়ে পুরনো এবং ব্যস্ততম এই পাইকারি বাজারে এমন ভয়ানক আগুনের গ্রাস আগে কখনো দেখা যায়নি আগুনের লেলিহান শিখা এবং কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে রাতের আকাশ সম্পূর্ণ ঢেকে যায় এবং কয়েক ডজন দোকান চোখের পলকে পুড়ে ছাই হয়ে যায় যদিও এই ভয়াবহ ঘটনায় কোনো মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি কিন্তু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বিশাল যে তা পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লেগে যাবে আসন্ন বাংলা নববর্ষ এবং ঈদের আগে গুদামে মজুত করা কোটি কোটি টাকার নতুন জামাকাপড় এবং কাঁচামাল পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় বহু ব্যবসায়ী আক্ষরিক অর্থেই সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছেন এই অগ্নিকাণ্ড আমাদের রাজ্যের পুরনো বাজারগুলোর অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামোগত দুর্বলতার দিকটি আবারও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল

স্থানীয় সূত্র বাজার কমিটির সদস্য এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানা গিয়েছে যে গতকাল রাত আনুমানিক দেড়টা নাগাদ যখন গোটা বর্ধমান শহর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন বড়বাজারের ভেতরের দিকে থাকা একটি কাপড়ের পাইকারি দোকান থেকে প্রথম ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় বাজারের পাহারায় থাকা নৈশপ্রহরীরা প্রথমে পোড়া গন্ধ পান এবং তারপর হঠাৎ করেই একটি দোকানের ভেতর থেকে আগুনের ঝলকানি দেখতে পান কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আশেপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে বড়বাজার এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি এবং এখানকার বেশিরভাগ দোকানই কাপড় সুতো প্লাস্টিক এবং অন্যান্য দাহ্য পদার্থে ঠাসা থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে এক বিশাল আকার ধারণ করে নৈশপ্রহরীরা তৎক্ষণাৎ চিৎকার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের জাগিয়ে তোলেন এবং বর্ধমান দমকল কেন্দ্রে খবর দেন স্থানীয় মানুষজন প্রথমে নিজেদের বাড়ির পাম্প এবং বালতি করে জল এনে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তার ধারেকাছে যাওয়াও অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়

খবর পাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বর্ধমান ফায়ার স্টেশন থেকে দমকলের প্রথম তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় কিন্তু বড়বাজারের রাস্তাগুলো অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং রাস্তার দুপাশে অবৈধ নির্মাণের কারণে দমকলের বড় গাড়িগুলোর ভেতরে প্রবেশ করতে চরম বাধার সম্মুখীন হতে হয় তার ওপর মাথার ওপরে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা বিদ্যুতের তার এবং টেলিফোনের তারগুলো আগুনের তাপে গলে গিয়ে রাস্তায় খসে পড়তে শুরু করে যা উদ্ধারকাজে এক ভয়ানক বিপদের সৃষ্টি করে দমকল কর্মীরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংকীর্ণ গলির ভেতর দিয়ে জলের পাইপ টেনে নিয়ে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন কিন্তু ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং পরপর প্রায় কুড়ি থেকে পঁচিশটি পাইকারি কাপড়ের দোকান এবং গুদামে দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করেছে আগুনের ভয়াবহতা এবং ব্যাপ্তি দেখে বর্ধমান দমকল কেন্দ্রের আধিকারিকরা অবিলম্বে আশেপাশের এলাকা যেমন মেমারি গলসি পানাগড় এবং গুসকরা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দমকলের ইঞ্জিন তলব করেন

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মোট ১২টি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় এবং চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আগুন নেভানোর এক নিরলস এবং মরিয়া সংগ্রাম শুরু করে দমকল কর্মীদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছিল বাতাসের গতিবেগ এবং গুদামের ভেতরে থাকা সিন্থেটিক কাপড় যা একবার আগুন ধরলে নেভানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে দমকল কর্মীরা ফোম এবং বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন এই অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতের অন্ধকারেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ব্যবসায়ী এবং দোকান মালিকরা বড়বাজারে ছুটে আসেন নিজেদের চোখের সামনে তিল তিল করে গড়ে তোলা ব্যবসা এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা দোকানগুলোকে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখে অনেক ব্যবসায়ী কান্নায় ভেঙে পড়েন কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জ্বলন্ত দোকানের ভেতর থেকে কিছু জিনিসপত্র বা ক্যাশ বাক্স বের করে আনার মরিয়া চেষ্টা করেন কিন্তু পুলিশ এবং দমকল কর্মীরা নিরাপত্তার খাতিরে তাদের আটকে দেন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় যেখানে ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ এবং আগুনের গর্জনে রাতের স্তব্ধতা সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়

বর্ধমান জেলা পুলিশ এবং প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেন বিশাল পুলিশ বাহিনী পুরো বড়বাজার এলাকাটি কর্ডন করে দেয় যাতে সাধারণ মানুষ বা উৎসুক জনতা আগুনের খুব কাছাকাছি গিয়ে কোনো বিপদে না পড়েন জিটি রোড এবং বিসি রোডের মতো শহরের প্রধান রাস্তাগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং শুধুমাত্র দমকল ও জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলোর যাতায়াতের জন্য রাস্তা ফাঁকা রাখা হয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশেপাশের আবাসিক ভবনগুলোতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষদের অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কারণ আগুনের তাপ এবং বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ওই এলাকায় শ্বাস নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল কর্মীদের সর্বতোভাবে সাহায্য করতে শুরু করে এবং কোনো মানুষ যাতে ভেতরে আটকে না থাকেন তা নিশ্চিত করার জন্য থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা ব্যবহার করে তল্লাশি চালায়

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে যে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ এবং তারপর ঈদ এই উৎসবের মরশুমকে সামনে রেখে বড়বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা কলকাতা সুরাট আহমেদাবাদ এবং মুম্বাই থেকে কোটি কোটি টাকার নতুন পোশাক শাড়ি এবং অন্যান্য বস্ত্রসামগ্রী এনে নিজেদের গুদাম এবং দোকানগুলোতে মজুত করেছিলেন উৎসবের এই সময়টাতেই তাদের সারা বছরের সবচেয়ে বেশি বিক্রিবাট্টা হয় কিন্তু এক রাতের বিধ্বংসী আগুনে সেই সমস্ত স্বপ্ন এবং বিনিয়োগ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ অন্তত পঞ্চাশ থেকে ষাট কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বা মহাজনের কাছ থেকে ধার করে মাল তুলেছিলেন তারা এখন ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন তাদের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত এবং কীভাবে তারা এই বিপুল ক্ষতি সামলে আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবেন তা নিয়ে এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে

news image
আরও খবর

আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও প্রাথমিক তদন্তে দমকল এবং পুলিশের অনুমান যে কোনো দোকানের ভেতরের পুরনো এবং ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার থেকে শর্ট সার্কিট হয়েই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বড়বাজারের মতো পুরনো এবং ঘিঞ্জি বাজারগুলোতে বছরের পর বছর ধরে বৈদ্যুতিক লাইনের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না যত্রতত্র তার ঝুলে থাকে এবং একটি মিটার থেকে বেআইনিভাবে একাধিক সংযোগ নেওয়া হয় যা অত্যন্ত বিপজ্জনক এর পাশাপাশি এই বাজারে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার চরম গাফিলতির দিকটিও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এত বড় একটি পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র জলের রিজার্ভার বা ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেমের কোনো অস্তিত্বই ছিল না দমকল কর্মীদের আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় জলের জোগান পেতে চরম বেগ পেতে হয় এবং তাদের বহু দূর থেকে পাম্প করে জল আনতে হয় বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও বাজার কমিটি বা স্থানীয় পুরসভার পক্ষ থেকে এই পুরনো বাজারগুলোর অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কঠোর এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি যার খেসারত আজ এই সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে দিতে হচ্ছে

আজ সকালের দিকে প্রায় দশ ঘণ্টার একটানা হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর দমকল কর্মীরা আগুনকে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তবে আগুন নিভে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো ধোঁয়া বেরোচ্ছে এবং দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন কুলিং প্রসেস বা ধ্বংসস্তূপ ঠান্ডা করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে যাতে ভেতরের চাপা পড়ে থাকা আগুন আবার নতুন করে জ্বলে উঠতে না পারে পুরো এলাকাটি এখন কালো ছাই পোড়া কাপড় এবং বাঁশ ও টিনের কাঠামোর এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রাজ্য পুলিশের ফরেনসিক দল আজ বিকেলের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আগুন লাগার আসল কারণ এবং এর উৎসস্থল বিজ্ঞানসম্মতভাবে তদন্ত করে দেখবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো অন্তর্ঘাত বা ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা স্পষ্ট হবে এবং যদি কারোর গাফিলতি প্রমাণিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এই বিপদের সময় বর্ধমান শহরের সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় যুবকদের যে অদম্য মানবিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার দৃশ্য দেখা গেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয় সারারাত ধরে যখন দমকল কর্মীরা আগুনের সাথে লড়াই করছিলেন তখন স্থানীয় যুবকরা তাদের জন্য পানীয় জল চা এবং শুকন খাবারের ব্যবস্থা করেছেন ব্যবসায়ীরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এই চরম বিপদের মুহূর্তে নিজেদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব সংহতি প্রদর্শন করেছেন বর্ধমান চেম্বার অফ কমার্স এবং অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আজ সকালে এক জরুরি বৈঠকে বসেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি ত্রাণ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অবিলম্বে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় এবং ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ ছাড় বা সহজ কিস্তির ব্যবস্থা করা হয় যাতে তারা আবার নতুন করে নিজেদের ব্যবসা শুরু করতে পারেন

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আমাদের রাজ্যের সমস্ত পুরনো এবং ঘিঞ্জি বাজারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে এক বিশাল এবং জরুরি সতর্কবার্তা দিয়ে গেল কেবল বর্ধমান নয় কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এমন অসংখ্য বাজার রয়েছে যেখানে অগ্নি সুরক্ষার কোনো ন্যূনতম নিয়ম মানা হয় না সরু গলি মাথার ওপর বিদ্যুতের তারের জঞ্জাল এবং যত্রতত্র দাহ্য পদার্থের মজুত এই বাজারগুলোকে আক্ষরিক অর্থেই এক একটি জতুগৃহে পরিণত করেছে প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই সমস্ত বাজারগুলোতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার অডিট বা অগ্নি নিরাপত্তা সমীক্ষা চালানো এবং যে সমস্ত দোকান বা গুদামে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা স্থানীয় পুরসভা এবং বিদ্যুৎ দপ্তরকে যৌথভাবে কাজ করে এই বাজারগুলোর পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে বৈদ্যুতিক তারগুলোকে মাটির নিচ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং বাজারের ভেতরে পর্যাপ্ত জলের রিজার্ভার তৈরি করতে হবে যাতে ভবিষ্যতের যেকোনো দুর্ঘটনাকে প্রাথমিক পর্যায়েই রুখে দেওয়া যায়

পূর্ব বর্ধমানের বড়বাজারে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড কেবল কয়েক কোটি টাকার জিনিসপত্র পুড়িয়ে দেয়নি এটি বহু মানুষের স্বপ্ন আশা এবং ভবিষ্যৎকে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে আমরা আশা করি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা খুব দ্রুত এই মানসিক এবং আর্থিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠে আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবেন এবং প্রশাসন তাদের সর্বতোভাবে সাহায্য করবে এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই যেন এক নতুন এবং সুরক্ষিত বড়বাজারের জন্ম হয় যেখানে আধুনিক পরিকাঠামো এবং অগ্নি নিরাপত্তার সমস্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হবে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ববোধ এবং প্রশাসনের কড়া নজরদারি এই তিনের মেলবন্ধনেই আমাদের শহরের পুরনো বাজারগুলো একদিন এই ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে চিরতরে রক্ষা পাবে এবং এক অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং নিরাপদ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে এই অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে আমাদের আরও অনেক বেশি সতর্ক এবং প্রস্তুত থাকতে হবে যাতে এমন ভয়াবহ দিন আমাদের আর কখনো দেখতে না হয়

Preview image