Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ডলার ছুঁল রেকর্ড, রুপি ধসে বিদেশে পড়াশোনা ও ভ্রমণে চড়া খরচ

ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের এক নিম্নতম পর্যায়ে পৌঁছেছে। রুপি যখন ৮৯-এর কাছাকাছি চলে যায়, তখন শুধুমাত্র আমদানি খরচই নয়, বিদেশে পড়াশোনা ও বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনাতেও গভীর প্রভাব পড়ে। রুপি দুর্বল হলে সব ধরনের ডলার-নির্ভর খরচ রুপিতে বাড়তে থাকে ফলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া, বিদেশ সফর, টিউশন ফি, বাসস্থান, আন্তর্জাতিক ভাড়া সবই ভারতীয়দের কাছে আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি আঘাত করছে মধ্যবিত্ত পরিবারকে, যারা বহু বছর সঞ্চয় করে বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা করেন।

রুপি রেকর্ড নিম্নে: বিদেশে পড়াশোনা ও বিদেশ ভ্রমণে আঘাত—ভারতীয়দের বাজেটে তীব্র চাপ, ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

ভারতীয় অর্থনীতি আজ এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক শিক্ষা এবং বিদেশ ভ্রমণ—সবই ক্রমশ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ভারতীয় রুপির রেকর্ড পতন। ডলারের বিপরীতে রুপি যখন ৮৯–এর ঘর স্পর্শ করল, ঠিক তখনই বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখছেন এমন হাজার হাজার ভারতীয় ছাত্রছাত্রী এবং বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পরিবারগুলো নতুন করে হিসেব কষতে বাধ্য হলেন। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের অস্বাভাবিক শক্তি, মার্কিন অর্থনীতির জটিল পরিস্থিতি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আমদানি–নির্ভরতার চাপ—সব মিলিয়ে ভারতীয় মুদ্রা দুর্বল হতে শুরু করেছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মধ্যবিত্তের পকেটে।

এই পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি বড় জাতীয় উদ্বেগের বিষয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপের অন্যান্য দেশে ভর্তি হওয়া ভারতীয়দের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। কিন্তু রুপির এই পতন ছাত্রছাত্রীদের স্বপ্নের মাঝে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে বিদেশে পড়াশোনার বাজেট একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা সম্ভব ছিল, আজ সেই একই খরচে ১০% থেকে ২০% অবধি বাড়তি বোঝা যোগ হচ্ছে। টিউশন ফি, থাকা–খাওয়ার খরচ, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত খরচ—সবকিছুই ডলারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় রুপির পতনে প্রতিটি খরচই রুপিতে বেশি পড়ছে।

টেলিভিশন নিউজ চ্যানেলের দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে গেলে—এটি এখন “জাতীয় অর্থনৈতিক সংকটের একটি সংবেদনশীল অধ্যায়”। বিশেষ করে বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের বাবা–মা, যারা বহু বছর ধরে জমানো টাকা বা গৃহঋণ বন্ধক রেখে সন্তানকে বিদেশে পাঠান, তারা এখন রীতিমতো সমস্যায় পড়ছেন। টাকা বদলানোর সময় এক ডলারে মাত্র কয়েকটি রুপি ওঠানামাই একটি পরিবারের বাজেটকে বদলে দিতে পারে। আগের বছরে যেখানে একটি $40,000–এর কোর্সে মোট খরচ হত প্রায় ₹33–34 লক্ষ, আজ রুপির দাম ৮৯ হলে সেই একই কোর্সে খরচ বেড়ে হয়েছে ₹36 লক্ষ বা তারও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—“এই দামে আগামী বছর বিদেশে পড়াশোনা করা ভারতীয়দের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠবে।”

বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। ইউরোপ, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করা আজ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কারণ বিদেশে ভ্রমণের সময় যেসব খরচ হয়—হোটেল বুকিং, স্থানীয় পরিবহণ, আন্তর্জাতিক প্লেন ভাড়া, ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স—সবই ডলারের ভিত্তিতে নির্ধারিত। ফলে রুপি কমলেই সাধারণ পর্যটককে তার চেয়েও বেশি টাকা দিতে হয়। উদাহরণস্বরূপ: কয়েক বছর আগে যেখানে একটি ইউরোপ ট্রিপে মোট খরচ হত ₹2.2 লক্ষ, আজ রুপির দুর্বলতায় একই ট্রিপে₹2.6 লক্ষেরও বেশি খরচ পড়ছে। ফলে ট্রাভেল এজেন্সিগুলিও জানাচ্ছে—“বিদেশ ভ্রমণের চাহিদা বাড়লেও বাজেট–সংক্রান্ত কারণে গ্রাহকেরা পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন।”

এখন প্রশ্ন হলো—হঠাৎ করে রুপি এত নীচে নেমে গেল কেন? এর মূল কারণ বেশ কয়েকটি। প্রথমত, মার্কিন ডলার এখন বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি, মার্কিন সঞ্চয়কাঠামোর পরিবর্তন, সুদের হার বৃদ্ধির উপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। যখন ডলার শক্তিশালী হয়, অন্যান্য দেশের মুদ্রা স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হয়। ভারতের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ভারত বৈদেশিক আমদানিতে অত্যন্ত নির্ভরশীল—বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিতে। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ বাড়ে এবং সেই সাথে রুপির উপর চাপ বাড়ে। জ্বালানির জন্য ডলারের প্রয়োজন বেশি থাকার কারণে রুপি চাপে পড়ে আরও দুর্বল হয়।

তৃতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FII) যখন ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলে নেয় এবং সেগুলো ডলামে রূপান্তর করে, তখন রুপির উপর আরও চাপ সৃষ্টি হয়। গত কয়েক মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড়সড় মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখা গেছে, যার ফলে শেয়ারবাজারে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং রুপির দামও চাপে পড়েছে। দেশজুড়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল—এসবই বিনিয়োগকারীদের মানসিকতা প্রভাবিত করছে।

চতুর্থত, ভারতের রপ্তানি বাজারও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা দুর্বল। বিশেষ করে টেক্সটাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ধাতু ও স্টিল রপ্তানি আগের মতো নেই। রপ্তানি কম হলে বাজারে ডলার প্রবাহ কমে এবং রুপি দুর্বল হয়। এর পাশাপাশি রয়েছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, চীনের অর্থনৈতিক মন্দা—সবই ডলারের দিকে ঝোঁক বাড়িয়ে রুপিকে চাপে ফেলছে।

বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের ওপর এর প্রভাব বিস্তর। ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে এখন প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লক্ষের বেশি ছাত্রছাত্রী বিদেশে পড়তে যায়। এর মধ্যে ৪০% যাওয়া হয় আমেরিকায়, ১৫% কানাডায়, ১০% অস্ট্রেলিয়ায়, বাকি UK এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশে। এই দেশগুলোর টিউশন ফি ডলারে নির্ধারিত থাকায় রুপি দুর্বল হলেই খরচ বাড়ে। ভারতের সবচেয়ে বড় বেসরকারি শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থাগুলি জানিয়েছে—এই বছর বিদেশে পড়াশোনার আবেদন সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। অনেকে এখন সস্তা বিকল্প যেমন মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, জার্মানি বা UAE বেছে নিচ্ছেন।

বিদেশ ভ্রমণেও একই চাপ। ট্রাভেল এজেন্টদের মতে—“রুপি দুর্বল হওয়ার কারণে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের দাম ১২–১৬% পর্যন্ত বেড়েছে।” এর ফলে মানুষ এখন কম সময়ের জন্য ভ্রমণ করছেন বা সম্পূর্ণ পরিকল্পনাই পিছিয়ে দিচ্ছেন। বিশেষ করে ইউরোপ ভ্রমণ অনেকের হাতের বাইরে চলে গেছে। হোটেল বুকিং, স্থানীয় পরিবহণ, ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স সব কিছুর দামই বেড়েছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—রুপি এখন দুর্বল হলেও ভারতের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে চাঙ্গা রয়েছে। দেশের GDP বৃদ্ধি এখনও শক্ত অবস্থানে এবং ভারত বিশ্বের দ্রুততম উন্নয়নশীল অর্থনীতির মধ্যে একটি। তবে রুপির এই পতন মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রায় বড় চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে বিদেশে পড়াশোনা ও বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগামী ১ বছর বাজেট আরও বাড়তে পারে।

news image
আরও খবর

অন্যদিকে ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি বড় পরামর্শ হলো—যারা বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করছেন, তারা টিউশন ফি যতটা সম্ভব আগে রিজার্ভ করে রাখতে পারেন। এতে ভবিষ্যতে রুপির আরও পতন হলে অতিরিক্ত খরচের চাপ কমবে। ব্যাংক লোন নেওয়ার ক্ষেত্রেও রেট–লক সুবিধা রয়েছে—যেখানে নির্দিষ্ট সুদের হারে লোন নেওয়া যায়।

পরিবারগুলিকে সতর্ক করে বিশেষজ্ঞরা আরও একটি কথা বলছেন—“ইমার্জেন্সি ফান্ড থাকা এখন অত্যন্ত জরুরি।” কারণ রুপির ওঠানামা অনিশ্চিত; যেকোনো সময়ে ডলার আরও শক্তিশালী হতে পারে। ছাত্র–পরিবারদের উচিত খরচ কমানো, দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রা পরিকল্পনা করা এবং রুপি–ডলার রেট নিয়মিত নজরে রাখা।

এখন প্রশ্ন হলো—আগামী দিনে রুপির পরিস্থিতি কোথায় যাবে? RBI রুপিকে স্থিতিশীল রাখতে বাজারে হস্তক্ষেপ করছে, ডলার বিক্রি করছে, বিদেশি মুদ্রা রিজার্ভ ব্যবহার করছে। ফলে সাময়িক স্থিতিশীলতা আসতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ২০২৫–এর মাঝামাঝি পর্যন্ত ডলারের শক্তি অব্যাহত থাকবে। ফলে রুপির দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়—রুপি দুর্বল হওয়ায় বিদেশে পড়াশোনা এবং বিদেশ ভ্রমণের খরচ আরও বাড়বে। পরিবারের বাজেট বদলে যাবে, আর যারা বাইরে পড়তে যেতে চাইছেন তাদের জন্য সাহায্যের একমাত্র উপায় হলো—আগেভাগে প্ল্যান করা, সঠিক মুদ্রা–পরামর্শ নেওয়া এবং বাড়তি খরচের জন্য প্রস্তুত থাকা।

বিদেশে পড়াশোনার টিউশন ফি সাধারণত বছরে $30,000 থেকে $60,000 পর্যন্ত হতে পারে। রুপি যখন ₹৮৩ ছিল, তখন যেখানে $40,000 খরচ মানে প্রায় ₹৩৩ লক্ষ, এখন সেই একই খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ₹৩৬ লক্ষ বা তারও বেশি। শুধু টিউশন না, বিদেশে থাকার খরচ—হোস্টেল, খাবার, পরিবহণ, স্বাস্থ্যবিমা—সবকিছুই ডলারে নির্ধারিত হওয়ায় প্রতিটি খরচই রুপিতে ৭–১২% পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। ফলে যারা বিদেশে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করেছেন, তারা নতুন করে বাজেট কষতে বাধ্য হচ্ছেন। শিক্ষা–লোনের পরিমাণ বাড়াতে হচ্ছে, কেউ কেউ সস্তা দেশ যেমন জার্মানি, মালয়েশিয়া বা ভিয়েতনাম বেছে নিচ্ছেন।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই চাপ। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় মুদ্রার ওঠানামায়। যেকোনো বিদেশ সফরে ডলার ভিত্তিক খরচ থাকে—হোটেল, খাবার, পরিবহণ, ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স, স্থানীয় ট্যাক্স। ফলে রুপি দুর্বল হলেই বিদেশ ভ্রমণ ১০–১৮% পর্যন্ত বেশি খরচে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ: কয়েক বছর আগে ইউরোপ সফরের গড় খরচ ছিল ₹২.২ লক্ষ; এখন সেই খরচ বেড়ে হয়েছে ₹২.৬ লক্ষেরও বেশি। এর ফলে অনেক পরিবার ভ্রমণের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন বা কম দিন থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ট্রাভেল এজেন্সিগুলি বলছে—"দাম বাড়ায় এখন মানুষ কম ব্যয়ের জায়গা খুঁজছে, যেমন থাইল্যান্ড বা ভিয়েতনাম।"

রুপি এত দুর্বল হওয়ার কারণও স্পষ্ট। প্রথমত, মার্কিন ডলার বর্তমানে শক্তিশালী, কারণ ফেডারেল রিজার্ভ উচ্চ সুদের হার ধরে রেখেছে, ফলে ডলারের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, ভারত তেল-আমদানির ওপর নির্ভরশীল। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং রুপি দুর্বল হয়। তৃতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FII) সম্প্রতি ভারতের শেয়ারবাজার থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নিচ্ছেন, যা ডলারে পরিণত হওয়ায় রুপির ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, চীনের অর্থনৈতিক মন্দা—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সতর্ক পরামর্শ দিচ্ছেন। বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা পরিবারগুলিকে আগেভাগে টিউশন ফি রিজার্ভ করতে, মুদ্রা বিনিময় কম রেটে করার সুযোগ খুঁজতে এবং অতিরিক্ত খরচের জন্য ইমার্জেন্সি ফান্ড রাখতে বলা হচ্ছে। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগে থেকে বুকিং করা, সস্তা দেশ বেছে নেওয়া বা ছোট মেয়াদের ট্রিপ বেছে নেওয়া লাভজনক হতে পারে। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে—“রুপি এখন দুর্বল হলেও ভারতের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী। তবে ১–১.৫ বছর রুপির ওপর চাপ থাকবে। এই সময়ে পরিকল্পনামাফিক খরচ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।”

সব মিলিয়ে বলা যায়—রুপির পতন শুধু একটি অর্থনৈতিক সংখ্যা নয়; এটি মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলছে। বিদেশে পড়াশোনা এবং বিদেশ ভ্রমণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গেলে এখন আরও সঠিক পরিকল্পনা, আরও বেশি সঞ্চয় এবং আরও সতর্কতা প্রয়োজন।

Preview image