Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শরীরে বাসা বেঁধেছে রোগ বুঝতেই পারেননি এক সময়ে কেন নিজেকে বন্দি করে রাখতেন ফাতিমা সানা শেখ

১১ জানুয়ারি অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখের জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে তিনি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন। এক সময় মানসিক চাপ এবং শারীরিক সমস্যার কারণে নিজেকে একেবারে বন্দি করে রেখেছিলেন। নায়িকার জীবনের সেই অন্ধকার সময় সম্পর্কে জানুন।

ফাতিমা সানা শেখ, যিনি 'দঙ্গল' ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেন, তাঁর জীবনের একটি অজানা ও কঠিন অধ্যায় রয়েছে যা বহু বছর ধরে তাঁকে চেপে ধরেছিল। ১১ জানুয়ারি, তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আবারও সামনে এসেছে অভিনেত্রীর পুরনো সেই কাহিনী, যখন এক সময় তিনি মানসিক এবং শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে বাড়ি থেকে বেরোনো বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

ফাতিমা সানা শেখের শারীরিক যাত্রা: এক অন্ধকার অধ্যায়
ফাতিমা সানা শেখ, যিনি ছোটবেলা থেকে নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার জীবনে নানা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। 'দঙ্গল' ছবির শুটিং সেটেই তার সাথে প্রথম পরিচয় হয় সান্য মলহোত্রের, যিনি পরবর্তীতে ফাতিমার অত্যন্ত কাছের বন্ধু হয়ে ওঠেন। সান্যই প্রথম বুঝতে পারেন ফাতিমার শারীরিক অবস্থা এবং তাকে সাহায্য করার জন্য আগ্রহী হন।

ফাতিমার শরীরের মধ্যে একটা সময় এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে, যা তাকে হতাশ ও শারীরিকভাবে দুর্বল করে তোলে। ফাতিমা জানান, "আমার সঙ্গে খাবারের সম্পর্কটা ভীষণ ‘টক্সিক’।" তার মানে, সে নিয়মিত খাবার খাচ্ছিল, কিন্তু তার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এই পরিস্থিতিতে, সে অবচেতনভাবে অতিরিক্ত খাবার খেতে শুরু করে, কিন্তু তার পর মন খারাপ হত। ফাতিমা বলছেন, "আমি এত বেশি কেন খেলাম? এটা আমার জন্য কঠিন ছিল।"

বুলিমিয়ার শিকার: খাবারের অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক
ফাতিমার শরীরের পরিবর্তন শুধু মৃগী রোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তার শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে যোগ হয় নতুন এক শারীরিক সমস্যা বুলিমিয়া। বুলিমিয়া একটি মানসিক রোগ, যেখানে ব্যক্তি অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন এবং তারপর নিজের শরীরের প্রতি অত্যধিক অপরাধবোধ অনুভব করেন। এটি একটি মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা যা খাবারের প্রতি অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরি করে।

ফাতিমা জানান, বুলিমিয়া তাকে একটি শারীরিক ও মানসিক যুদ্ধের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, "আমি যেহেতু বেশি খাচ্ছিলাম, তখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না। খাবার খাওয়ার পর মন খারাপ হয়ে যেত, নিজেকে অপরাধী মনে হতো। তখনই আমি বাড়ি থেকে বেরোনো বন্ধ করে দিয়েছিলাম, কারণ বাইরে বেরোলেই শুধু খাবার খেতাম।"

সান্য মলহোত্রের সহায়তা: প্রথম যে বোঝে ফাতিমার সমস্যা
ফাতিমা যখন এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সান্য মলহোত্রই প্রথম তাঁর শারীরিক অবস্থা বুঝতে পারেন। সান্য ফাতিমাকে বলেন, "তুমি যা খাচ্ছ, তা তোমার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তোমাকে সাহায্য করতে হবে নিজেকে।" এই মন্তব্যের জন্য ফাতিমা লজ্জাবোধ করেন, কারণ তিনি অনুভব করেন যে তার খাবারের প্রতি এই অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তাকে আরও বেশি দূরে ঠেলে দিচ্ছিল।

সান্য ফাতিমাকে এই সমস্যার বিরুদ্ধে সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেন এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে বলেন। ফাতিমা জানান, সান্যের সহায়তায় এবং তার ভালোবাসার কারণে তিনি নিজেকে ফিরে পেয়েছেন। তবে, এসবের পরও, তিনি এখনও অপরাধবোধে ভুগে খানিকটা কম খেতে শুরু করেছেন।

আত্মবিশ্বাসের পুনরুদ্ধার: নিজেকে সুস্থ রাখতে ফাতিমার সংগ্রাম
ফাতিমা সানা শেখ জানাচ্ছেন, এখন তিনি নিজেকে শারীরিকভাবে ফিট রাখার জন্য প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেন। তিনি নিয়মিত শরীরচর্চা করেন এবং নিজের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনেন। শারীরিক সুস্থতা তার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। ফাতিমা এখন শুধুমাত্র খাবার নিয়ে সচেতন নন, বরং তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও অনেক বেশি সচেতন। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, মানসিক সুস্থতা এবং শারীরিক সুস্থতা একে অপরের পরিপূরক।

এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, এবং নিজের মধ্যে সঠিক পরিবর্তন আনতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, এখন আমি নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য কাজ করছি। এটা আমার জীবনের একটি নতুন অধ্যায়।

news image
আরও খবর

বিগত সমস্যার প্রভাব: ফাতিমার জীবনের জন্য শিক্ষা
ফাতিমার শারীরিক এবং মানসিক যাত্রা আমাদের অনেক কিছু শেখায়। তার মতো একজন সফল অভিনেত্রী যিনি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত, সেই তার জীবনে যখন এত বড় মানসিক সমস্যা এসেছে, তখন তা সকলের কাছে একটি শিক্ষা হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। আমরা যে কোনো সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তা শারীরিক বা মানসিক তার সমাধান খুঁজে পেতে আমাদের উচিত বন্ধুদের সহায়তা নেওয়া, পরামর্শ নেওয়া, এবং নিজেকে ভালো রাখতে প্রতিদিন সংগ্রাম করা।

ফাতিমা সানা শেখের জীবনে এই কঠিন সময়গুলি তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই অভিজ্ঞতা তার জন্য শিক্ষা, এবং সেই শিক্ষা আমাদের সকলের জন্য একটি পথপ্রদর্শক।

ফাতিমা সানা শেখ, যিনি "দঙ্গল" ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেন, তার জীবন আজ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। তিনি নিজের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে এক দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন, যা তাকে আজকের সফল অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। তার এই সংগ্রাম এবং উত্থান শুধু তার নিজের জন্য নয়, বরং এটি আমাদের সকলের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা। ফাতিমার জীবনের কাহিনী আমাদের শেখায় যে, শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এবং তা বজায় রাখার জন্য যদি ইচ্ছাশক্তি এবং সহায়তা থাকে, তবে আমরা যেকোনো পরিস্থিতি থেকে পুনরায় উঠে দাঁড়াতে পারি।

ফাতিমা যখন শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন, তখন তার জীবন ছিল অন্ধকারে। তিনি মৃগী রোগের শিকার ছিলেন, এবং তার শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। তার পর, বুলিমিয়া নামক একটি নতুন মানসিক রোগ তাকে আরো ভুগিয়েছে। বুলিমিয়া তার জন্য একটি কঠিন সময় ছিল, কারণ এতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়ে গিয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে তার মন খারাপ হয়ে যেত। তার এই সমস্যা এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল, যেখানে তিনি বাড়ি থেকে বেরোনো বন্ধ করে দিয়েছিলেন, কারণ বাইরে গেলে তিনি শুধু খাবার খেতেই থাকতেন।

এমন সময়েই সান্য মলহোত্র, তার কাছের বন্ধু, তাকে বোঝান এবং সহায়তা করেন। সান্যের সহায়তায় ফাতিমা নিজেকে ফিরিয়ে আনেন। সান্য তাকে বলেন, "তুমি যেভাবে খাচ্ছ, তা তোমার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তোমাকে নিজের শরীরের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।" এই সহায়তার কারণে, ফাতিমা তার জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শুরু করেন এবং খাবারের প্রতি তার টক্সিক সম্পর্ক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন।

আজ, ফাতিমা সানা শেখ নিজেকে শারীরিকভাবে ফিট রাখতে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেন। তিনি যোগব্যায়াম, শারীরিক ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে নিজের স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেন। এখন তিনি তার মানসিক স্বাস্থ্যকেও গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, যা তার শারীরিক সুস্থতার জন্য সহায়ক। আজ ফাতিমা নিজের জীবনকে নতুন করে নির্মাণ করেছেন এবং তার জীবন এক প্রমাণ যে, কোনো পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা আমাদের জীবনকে পুনর্নির্মাণ করতে পারি, যদি আমাদের ইচ্ছাশক্তি এবং সহায়তা থাকে।

ফাতিমা সানা শেখের শারীরিক যাত্রা এবং জীবনের পরিবর্তন শুধুমাত্র তার একক অভিজ্ঞতা নয়, বরং এটি আমাদের সকলের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা। তিনি একসময় শারীরিক এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, কিন্তু তার সংগ্রাম এবং সাহসিকতা আজ তাকে সফলতার পথে নিয়ে এসেছে। ফাতিমা, যিনি মৃগী রোগ এবং বুলিমিয়ার শিকার ছিলেন, তার জীবন ছিল অন্ধকার, কিন্তু সঠিক সহায়তা এবং নিজের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি নিজেকে পুনরায় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

ফাতিমা আমাদের শেখান যে, জীবন কতই না কঠিন হোক, যদি নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকে এবং আশেপাশের মানুষের সহায়তা পাওয়া যায়, তবে আমরা সব বাধা অতিক্রম করতে পারি। তার সংগ্রাম এবং উত্থান প্রমাণ করে যে, যেকোনো পরিস্থিতি থেকে আমরা নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়তে পারি, যদি আমরা মনোবল হারিয়ে না ফেলি।

ফাতিমার জীবনের এই পরিবর্তন আমাদের সবাইকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় নিজেকে শক্তিশালী করতে, মানসিক এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। তার এই যাত্রা আমাদের জানান দেয়, যে কোনো কঠিন সময়ে আমরা আমাদের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারি।

Preview image