Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

উপলক্ষ বিজয়-রশ্মিকার বিয়ে, উদয়পুরে পর্যটকদের নাজেহাল অবস্থা! হোটেলের ঘর পাওয়া হচ্ছে মুশকিল

এখন যদি কেউ উদয়পুর ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তা হলে মুশকিলে পড়তে পারেন। কারণ, বিজয়-রশ্মিকার বিয়ে উপলক্ষে ওই এলাকার সব হোটেলের ঘর ইতিমধ্যেই সংরক্ষিত হয়ে গিয়েছে।বিজয় দেবরকোন্ডা এবং রশ্মিকা মন্দানার বিয়ে নিয়ে সরগরম চারিদিক। শোনা যাচ্ছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হবে তাঁদের। সেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। উদয়পুরে বসবে বিয়ের আসর। ইতিমধ্যেই বর-কনের ঘনিষ্ঠরা অনেকেই পৌঁছে গিয়েছেন সেখানে। এখন শোনা যাচ্ছে, যে এলাকায় বিয়ের আসর বসবে তারকাযুগলের, সেখানে নাকি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ঘুরতে যাওয়া খুব বিপদের!

এখন যদি কেউ উদয়পুর ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তা হলে মুশকিলে পড়তে পারেন। কারণ, বিজয়-রশ্মিকার বিয়ে উপলক্ষে ওই এলাকার সব হোটেলের ঘর ইতিমধ্যেই সংরক্ষিত হয়ে গিয়েছে। কেউ যদি দ্বিগুণ টাকা দিয়েও হোটেলের ঘর ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাতেও ব্যর্থ হচ্ছেন। অন্দরের খবর, গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য নায়ক-নায়িকার টিমের তরফে বেশি করে ঘর ভাড়া নিয়ে রাখা হয়েছে। যাতে বাইরের বিশেষ কেউ ওই এলাকায় প্রবেশ না করেন। কারণ, দুই তরফের কেউই চান না, তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের কোনও মুহূর্ত ফাঁস হয়ে যাক।সোমবারই উদয়পুরে পৌঁছে গিয়েছেন বিজয় ও রশ্মিকা। বিবাহ-পূর্ববর্তী অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই খবর। তারকাযুগলের সমাজমাধ্যমের পাতায়, কখনও পুলের ধারে সারি সারি গ্লাসের ছবি, কখনও নৈশভোজের আলোআঁধারি ছবি। বিজয়ের সঙ্গে বিয়ের আগে পাঁচ বছর একত্রবাস করেছেন রশ্মিকা। আপাতত নায়ক, নায়িকার বিয়ের ছবি দেখার অপেক্ষায় সবাই।

সোমবারই রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী শহর উদয়পুরে পৌঁছে গিয়েছেন দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় দুই তারকা—বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং রশ্মিকা মন্দানা। বহুদিনের জল্পনা, গুঞ্জন, অনুরাগীদের কৌতূহল—সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁদের বিবাহ-পূর্ববর্তী অনুষ্ঠান। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের ঘোষণা নিয়ে তারকাযুগল এখনও মুখ খোলেননি, তবু সমাজমাধ্যমের ইঙ্গিত, ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর এবং উদয়পুরের বিলাসবহুল আয়োজন—সব মিলিয়ে স্পষ্ট, বলিউড-টলিউড-দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম আলোচিত জুটির জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।

উদয়পুর, যাকে ‘লেক সিটি’ বলেও ডাকা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই সেলিব্রিটি বিয়ের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। রাজকীয় প্রাসাদ, হ্রদের ধারে সূর্যাস্ত, ঐতিহ্যবাহী রাজস্থানি আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে স্বপ্নের মতো পরিবেশ। শোনা যাচ্ছে, শহরের এক বিলাসবহুল হেরিটেজ প্যালেসে আয়োজিত হয়েছে বিজয়-রশ্মিকার বিয়ের যাবতীয় অনুষ্ঠান। অতিথি তালিকায় রয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার একাধিক তারকা, প্রযোজক-পরিচালক থেকে শুরু করে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা। নিরাপত্তার কড়াকড়িও চোখে পড়ার মতো, যাতে ব্যক্তিগত মুহূর্তের গোপনীয়তা বজায় থাকে।

সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভেসে উঠেছে কিছু ঝলক। কখনও পুলের ধারে সারি সারি সজ্জিত গ্লাস—যেন ককটেল নাইটের প্রস্তুতি। কখনও আলো-আঁধারি নৈশভোজের টেবিল, মোমবাতির আলোয় সজ্জিত দীর্ঘ ডাইনিং সেট-আপ। যদিও সরাসরি বিয়ের অনুষ্ঠান বা রীতিনীতি সংক্রান্ত কোনও ছবি প্রকাশ পায়নি, তবু ইঙ্গিতগুলো যথেষ্ট স্পষ্ট। অনুরাগীরা প্রতিটি পোস্ট বিশ্লেষণ করছেন, ক্যাপশন পড়ছেন, এমনকি পেছনের সাজসজ্জা দেখে অনুমান করছেন কোন অনুষ্ঠান চলছে—মেহেন্দি, সঙ্গীত না কি হালদি।

বিজয় ও রশ্মিকার সম্পর্ক বরাবরই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁদের প্রথম একসঙ্গে কাজ করা ছবির সময় থেকেই অনুরাগীরা তাঁদের রসায়ন লক্ষ্য করেছিলেন। পর্দায় প্রেমের গল্প যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, তেমনই বাস্তব জীবনের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও শুরু হয়েছিল জল্পনা। যদিও দু’জনেই বহুবার বলেছেন তাঁরা “ভালো বন্ধু”, তবু বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিতি, ছুটির দিন একসঙ্গে কাটানো, পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগদান—সব মিলিয়ে সম্পর্কের গভীরতা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আগে প্রায় পাঁচ বছর একত্রবাস করেছেন এই তারকাযুগল। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে এমন খোলামেলা সহবাসের বিষয়টি এখনও খুব সাধারণ নয়। ফলে তাঁদের সিদ্ধান্ত নিয়ে যেমন কৌতূহল ছিল, তেমনই ছিল আলোচনা। তবে বিজয় ও রশ্মিকা কখনওই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযথা প্রচারে বিশ্বাসী নন। তাঁরা বরাবরই কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে বলেই মনে করছেন অনুরাগীরা।

এই পাঁচ বছরের সম্পর্কে নানান উত্থান-পতন এসেছে। কাজের চাপ, আলাদা শহরে শুটিং, ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা—সব সামলেই সম্পর্ককে সময় দিয়েছেন দু’জন। অনেক সময় গুঞ্জন উঠেছে বিচ্ছেদের, কখনও বলা হয়েছে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবারই কোনও না কোনওভাবে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেছে—হয় বিমানবন্দরে, নয় কোনও পার্টিতে, কিংবা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বেড়াতে। ফলে গুজবের জবাব তাঁরা দিয়েছেন নীরব উপস্থিতির মাধ্যমেই।

উদয়পুরে বিয়ের আয়োজন নিয়েও রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। জানা গিয়েছে, রাজস্থানি ঐতিহ্য বজায় রেখে অনুষ্ঠিত হবে কয়েকটি অনুষ্ঠান। মেহেন্দি ও সঙ্গীতের রাতে দক্ষিণী ও উত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো হবে। বিশেষ নৃত্য পরিবেশনার পরিকল্পনাও রয়েছে। ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা নাচ-গান, আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ—সব মিলিয়ে সাজিয়ে তুলছেন এই বিশেষ মুহূর্ত। খাবারের মেনুতেও রয়েছে বৈচিত্র্য—দক্ষিণ ভারতীয় পদ থেকে রাজস্থানি থালি, সঙ্গে আন্তর্জাতিক কুইজিন।

তারকাযুগলের সমাজমাধ্যমে শেয়ার করা ছবিগুলিতে যে আভিজাত্যের ছাপ দেখা যাচ্ছে, তা থেকে অনুমান করা যায়—এই বিয়ে নিছক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান নয়, বরং এক রাজকীয় আয়োজন। তবু যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা। সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ সীমিত, অতিথিদের মোবাইল ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে।

news image
আরও খবর

অনুরাগীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ—বিয়ের পোশাক। বিজয় তাঁর স্বতন্ত্র স্টাইল স্টেটমেন্টের জন্য পরিচিত। কখনও সাহসী ফ্যাশন, কখনও সাদামাটা অথচ প্রভাবশালী উপস্থিতি—সবসময়ই আলোচনায় থাকেন। অন্যদিকে রশ্মিকা ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে নিজস্ব ফ্যাশনধারা তৈরি করেছেন। ফলে বিয়ের আসরে তাঁরা কী পরবেন—তা নিয়েও কৌতূহল তুঙ্গে। দক্ষিণী ডিজাইনার নাকি বলিউডের জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস—কাদের হাতে তৈরি হবে বিয়ের পোশাক, তা নিয়ে চলছে জল্পনা।

বিয়ের আনুষ্ঠানিক তারিখ নিয়ে যদিও কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই, তবে শোনা যাচ্ছে সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনেই মূল পর্ব সম্পন্ন হবে। ঘনিষ্ঠ পরিবার ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ হবে সাত পাকে বাঁধা। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে, পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে, অগ্নিসাক্ষী রেখে প্রতিজ্ঞা করবেন একে অপরের প্রতি।

এই বিয়ে শুধু দুই ব্যক্তির মিলন নয়, বরং দুই জনপ্রিয় তারকার জীবনযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। বিজয় দক্ষিণী সিনেমার ‘রাইজিং স্টার’ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠিত। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, এবং স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি তাঁকে অনন্য করেছে। অন্যদিকে রশ্মিকা ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’ তকমা পেয়েছেন অনুরাগীদের কাছ থেকে। দক্ষিণী ছবির পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রেও নিজের জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। ফলে তাঁদের মিলন যেন দুই জনপ্রিয় ধারার সংযোগ।

তবে ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার মাঝেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। দু’জনেই একাধিক বড় প্রজেক্টে যুক্ত। শুটিং, প্রচার, আন্তর্জাতিক সফর—সব মিলিয়ে সময় বের করা কঠিন। তবু ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্ব বুঝেই এই আয়োজন। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সামাজিক স্বীকৃতি দিতেই এই বিয়ের আয়োজন।

অনুরাগীরা এখন অপেক্ষা করছেন অফিসিয়াল বিয়ের ছবির জন্য। ইনস্টাগ্রাম, এক্স, ফেসবুক—সব প্ল্যাটফর্মেই চলছে কাউন্টডাউন। ফ্যান পেজগুলোতে তৈরি হচ্ছে কোলাজ, পুরনো সাক্ষাৎকারের ক্লিপ, একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ভিডিও। কেউ লিখছেন, “ফাইনালি!”, কেউ বলছেন, “ড্রিম ওয়েডিং!”, আবার কেউ শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিচ্ছেন কমেন্ট সেকশন।

এই বিয়ের সামাজিক তাৎপর্যও কম নয়। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে সহবাস বা লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে এখনও অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে। বিজয়-রশ্মিকা সেই বাঁধাধরা ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন। পাঁচ বছর একত্রবাসের পর বিয়ে—এ যেন আধুনিক সম্পর্কের এক বাস্তব উদাহরণ। পারস্পরিক বোঝাপড়া, সময় নেওয়া, এবং পরিণত সিদ্ধান্ত—এই বার্তাই যেন তুলে ধরছেন তাঁরা।

পরিবারের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। জানা গেছে, দুই পরিবারের সম্মতিতেই এই বিয়ে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারগুলির মধ্যে যোগাযোগ ছিল। উৎসব-পার্বণে একসঙ্গে সময় কাটানো, পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে।

উদয়পুরের প্রাসাদে যখন আলো জ্বলছে, সঙ্গীতের সুর ভেসে আসছে, তখন দূরে বসে লক্ষ লক্ষ অনুরাগী অপেক্ষা করছেন সেই এক ঝলকের জন্য—বিয়ের আসরে বিজয় ও রশ্মিকার প্রথম ছবি। হয়তো সাদা-সোনালি শেরওয়ানিতে বিজয়, লাল বা অফ-হোয়াইট কাঁসা-বোনা শাড়িতে রশ্মিকা—হাতে হাত রেখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন। সেই ছবি মুহূর্তে ভাইরাল হবে, ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বজুড়ে।

সব মিলিয়ে, উদয়পুরে শুরু হওয়া এই বিবাহ-পূর্ববর্তী অনুষ্ঠান কেবল একটি ব্যক্তিগত আয়োজন নয়; এটি এক সাংস্কৃতিক মুহূর্ত। দুই তারকার দীর্ঘ সম্পর্কের পরিণতি, আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সঙ্গে জনসমক্ষে উপস্থিতির ভারসাম্য—সবকিছুর সংমিশ্রণ। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা—কবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিজয় ও রশ্মিকা, আর কবে সেই বহুল প্রতীক্ষিত ছবিতে ভরে ওঠে সমাজমাধ্যমের পাতা।

Preview image