Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রানের খাতায় শূন্যতা, বিতর্কে নাম ব্যর্থ রোহিতকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে

রানের খাতায় শূন্যতা, বিতর্কে নাম ব্যর্থ রোহিতকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। সাম্প্রতিক ম্যাচে আরও একবার ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন রোহিত শর্মা। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর উপস্থিতি ও অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বারবার রান না পাওয়া তাঁর পারফরম্যান্সকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ক্রিকেট মহলে। মাঠে নামার আগে যেমন প্রত্যাশা থাকে, তেমনই ব্যর্থতার পর সমালোচনাও অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। রোহিতের ক্ষেত্রে সেই সমালোচনা এখন আরও তীব্র, কারণ তিনি শুধুমাত্র একজন ব্যাটার নন, দলের কৌশল নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুখও। দীর্ঘদিন ধরেই রোহিতের ফর্ম ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। কখনও দুর্দান্ত শতরান, আবার কখনও একের পর এক ব্যর্থ ইনিংস এই অনিশ্চয়তা ভক্তদের হতাশ করছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রানের খাতায় শূন্যতা তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। কেউ বলছেন, বয়স ও চাপ একসঙ্গে কাজ করছে, আবার কারও মতে, অতিরিক্ত দায়িত্বই তাঁর ব্যাটিং ছন্দ নষ্ট করছে। সামাজিক মাধ্যমে এই বিতর্ক আরও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সমর্থন ও সমালোচনা পাশাপাশি চলছে।

রানের খাতায় শূন্যতা, বিতর্কে নাম ব্যর্থ রোহিতকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। ভারতীয় ক্রিকেটে এমন খুব কম মুহূর্ত আসে, যখন একজন প্রতিষ্ঠিত তারকা ব্যাটারের পারফরম্যান্স নিয়ে এত বিস্তৃত ও গভীর আলোচনা শুরু হয়। রোহিত শর্মা সেই বিরল তালিকার একজন, যাঁর ব্যর্থতাও শিরোনাম হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে আবারও রান না আসায় ক্রিকেটপ্রেমী থেকে বিশেষজ্ঞ সবার মধ্যেই প্রশ্নের ঢেউ উঠেছে। রোহিত শর্মা কি সত্যিই ফর্ম হারাচ্ছেন, নাকি এটি সাময়িক খারাপ সময়, যা প্রতিটি বড় ক্রিকেটারের জীবনেই আসে।

রোহিত শর্মার নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য রেকর্ড, স্মরণীয় ইনিংস ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। একসময় যিনি প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য আতঙ্কের কারণ ছিলেন, আজ তাঁর ব্যাটিং নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়াটাই আলোচনার মূল বিষয়। মাঠে নামার সময় দর্শকদের চোখ থাকে তাঁর ব্যাটের দিকে। সবাই অপেক্ষা করে কখন ছক্কা-চারের বন্যা বইবে, কখন স্টেডিয়াম গর্জে উঠবে। কিন্তু যখন সেই প্রত্যাশার বদলে আসে রানের খাতায় শূন্যতা, তখন হতাশা ও ক্ষোভ একসঙ্গে জন্ম নেয়। সেই হতাশাই ধীরে ধীরে বিতর্কে রূপ নেয়।

রোহিতের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা শুধু একটি ম্যাচ বা একটি সিরিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কিছুদিন ধরেই তাঁর পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে। কখনও তিনি ভালো শুরু করেন, কিন্তু বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হন, আবার কখনও একেবারে শুরুতেই উইকেট হারান। এই অনিশ্চয়তাই দলের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। একজন ওপেনার হিসেবে তাঁর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইনিংসের শুরুটাই অনেক সময় ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। সেই জায়গায় যদি ধারাবাহিকতা না থাকে, তবে চাপ বাড়ে দলের বাকি ব্যাটারদের ওপরও।

অধিনায়ক হিসেবে রোহিত শর্মার ভূমিকা আরও জটিল। তিনি শুধু নিজের ব্যাটিং নয়, গোটা দলের কৌশল, মাঠে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা সব কিছুর দায় নিজের কাঁধে বহন করেন। অনেকেই মনে করছেন, এই অতিরিক্ত দায়িত্ব তাঁর ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলছে। অধিনায়কত্বের চাপ যে কোনও ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সে ছাপ ফেলতে পারে, আর রোহিতও তার ব্যতিক্রম নন। মাঠে দাঁড়িয়ে একদিকে তাঁকে বোলার বদলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজের ব্যাটিং ছন্দ ধরে রাখার লড়াই চালাতে হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ব্যর্থতা আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। রোহিতের ব্যর্থ ইনিংসের পর মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় আলোচনা, সমালোচনা, ট্রোল ও বিশ্লেষণ। কেউ তাঁকে সমর্থন করেন, কেউ আবার কঠোর ভাষায় প্রশ্ন তোলেন তাঁর জায়গা নিয়ে। কেউ বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রিফ্লেক্স কমে আসছে, আবার কেউ বলেন, ফিটনেস ও মানসিক চাপের বিষয়টি উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। এই সমস্ত মতামত মিলিয়ে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম নেয়, যা শুধু মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, ছড়িয়ে পড়ে সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।

তবে সমালোচনার মাঝেও রোহিত শর্মার অতীত সাফল্যের কথা ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি এমন একজন ব্যাটার, যিনি একদিনে ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন। তিনটি দ্বিশতরান, অসংখ্য শতরান, আইসিসি টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস এই সবই তাঁর কেরিয়ারের অমূল্য সম্পদ। অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটার ও বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই অভিজ্ঞতা ও ক্লাস কখনও হারিয়ে যায় না। খারাপ সময় আসতেই পারে, কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই একজন বড় ক্রিকেটারকে আলাদা করে চেনায়।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচনী সমীকরণেও রোহিতের ফর্ম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। দলে তরুণ ব্যাটারদের অভাব নেই, যারা নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স করছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যর্থ হলে কি রোহিতের জায়গা নিয়ে ভাবা উচিত। আবার অনেকে বলেন, শুধু পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নয়, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের দিকটাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বড় টুর্নামেন্টের আগে একজন অভিজ্ঞ অধিনায়ককে বাইরে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।

দর্শকদের আবেগ এই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলছে। কেউ রোহিতকে ভালোবাসেন তাঁর আগের সাফল্যের জন্য, কেউ আবার হতাশ হন বর্তমান ব্যর্থতায়। ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ মনে করেন, একজন তারকা ক্রিকেটারকে সব সময় সমর্থন করা উচিত, বিশেষ করে খারাপ সময়েই। আবার অন্য অংশের দাবি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা ধরে রাখতে হলে পারফরম্যান্সই শেষ কথা। এই দ্বন্দ্বই ক্রিকেটের আবেগকে আরও জটিল ও আকর্ষণীয় করে তোলে।                                                                                                                                                                                                                 

একসময় যে রোহিত শর্মা প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্ন ছিলেন, আজ তাঁর ব্যাট নীরব থাকায় বিস্মিত ক্রিকেটপ্রেমীরা। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক থেকে শুরু করে টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসে থাকা কোটি কোটি সমর্থক সবাই যেন অপেক্ষা করে থাকেন সেই পুরনো দৃশ্যের জন্য, যেখানে রোহিতের ব্যাট থেকে একের পর এক শট বেরিয়ে আসে। কিন্তু বাস্তবতা যখন সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মিল খায় না, তখন হতাশা জমে ওঠে। এই হতাশাই ধীরে ধীরে রূপ নেয় বিতর্কে, যেখানে আবেগ, যুক্তি এবং সমালোচনা একসঙ্গে মিশে যায়।

রোহিত শর্মার ব্যর্থতাকে ঘিরে আলোচনা আরও তীব্র হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ তাঁর অবস্থান। তিনি শুধু একজন ব্যাটার নন, তিনি দলের অধিনায়ক, অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার এবং তরুণদের পথপ্রদর্শক। তাই তাঁর প্রতিটি ইনিংস আলাদা গুরুত্ব বহন করে। একজন সাধারণ খেলোয়াড়ের শূন্য রান হয়তো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভুলে যাওয়া যায়, কিন্তু রোহিতের ক্ষেত্রে তা হয় না। তাঁর ব্যাটিং ব্যর্থ হলে দলের কৌশল থেকে শুরু করে ম্যাচের গতি সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়ে। এই কারণেই তাঁর রানের খাতায় শূন্যতা এত বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক সময়ে রোহিতের ব্যাটিংয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে, তা নতুন নয়। কখনও তিনি ভালো শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারছেন না, আবার কখনও শুরুতেই উইকেট বিলিয়ে দিচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতার অভাব দলকে অস্বস্তিতে ফেলছে। ওপেনার হিসেবে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইনিংসের প্রথম কয়েক ওভারই ঠিক করে দেয় দলের ভিত্তি কতটা শক্ত হবে। সেখানে যদি বারবার ধাক্কা লাগে, তবে চাপ গিয়ে পড়ে মধ্যক্রমের ওপর। সেই চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক সময় পুরো ব্যাটিং লাইনআপই ভেঙে পড়ে।

news image
আরও খবর

অধিনায়কত্বের চাপও এই ব্যর্থতার পেছনে বড় কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়া, বোলার পরিবর্তন, ফিল্ড সেট করা, খেলোয়াড়দের মনোবল ধরে রাখা এই সব কিছুর সঙ্গে নিজের ব্যাটিং ছন্দ বজায় রাখা সহজ কাজ নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে, যেখানে প্রতিটি ভুল সিদ্ধান্ত বড় মূল্য চুকিয়ে দেয়। রোহিতের ক্ষেত্রে এই দ্বৈত দায়িত্ব তাঁকে মানসিকভাবে আরও চাপে ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই চাপ ব্যাটিংয়ের সময় তাঁর স্বাভাবিক আগ্রাসন ও আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা আলাদা করে উল্লেখযোগ্য। রোহিতের ব্যর্থতার পর মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় বিশ্লেষণ, সমালোচনা এবং নানা ধরনের মন্তব্য। কেউ তাঁকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, কেউ আবার কঠোর ভাষায় তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অতীতের সাফল্যের ভিডিও শেয়ার করে কেউ তাঁকে সমর্থন জানান, আবার কেউ পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন পরিবর্তনের সময় এসে গেছে। এই ভার্চুয়াল বিতর্ক বাস্তব আলোচনাকেও প্রভাবিত করে, কারণ আজকের দিনে ক্রিকেট আলোচনা শুধু মাঠ বা স্টুডিওতেই সীমাবদ্ধ নেই।

তবু এই সব বিতর্কের মাঝেও রোহিত শর্মার কেরিয়ারকে এক ঝলকে বিচার করা যায় না। তিনি এমন একজন ক্রিকেটার, যিনি বারবার প্রমাণ করেছেন বড় মঞ্চে বড় ইনিংস খেলতে জানেন। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে এমন সব ইনিংস, যা ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশ্বকাপ, আইসিসি টুর্নামেন্ট, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজের ছাপ রেখে গেছেন। এই অতীতই অনেকের কাছে তাঁর পক্ষে বড় যুক্তি। তাঁদের মতে, এমন একজন ক্রিকেটারকে কয়েকটি ব্যর্থতার ভিত্তিতে বিচার করা অন্যায়।

রোহিত শর্মার নিজের মনোভাবও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অতীতেও খারাপ সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর শান্ত স্বভাব ও অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে সাহায্য করতে পারে। অনেক সময় একটি বড় ইনিংসই সব বিতর্কের অবসান ঘটায়। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে, যেখানে একটিমাত্র ম্যাচে ফিরে এসে সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তারকারা।

সব মিলিয়ে, রানের খাতায় শূন্যতা শুধু একটি সংখ্যাই নয়, এটি রোহিত শর্মার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বড় চ্যালেঞ্জের প্রতীক। এই ব্যর্থতা তাঁকে আরও কঠোর পরিশ্রমে উদ্বুদ্ধ করবে নাকি বিতর্ক আরও বাড়বে, তা নির্ভর করছে তাঁর পরবর্তী পারফরম্যান্সের ওপর। আপাতত ক্রিকেট মহলের দৃষ্টি তাঁর দিকেই, অপেক্ষা একটাই কবে আবার ব্যাট হাতে পুরনো রোহিত শর্মাকে দেখা যাবে, যিনি একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন।               

 

 

 

 

 

 

Preview image