সরকারি ভাবে ঘোষণা না হলেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা তৈরি। এ বারের তালিকায় জায়গা হয়নি বাংলার দুই ক্রিকেটার মহম্মদ শামি এবং মুকেশ কুমারের। জায়গা পাননি ঈশান কিশনও।ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কেন্দ্রীয় চুক্তির নতুন তালিকা এখনও প্রকাশ করেনি। তবে ২০২৫-২৬ মরসুমের চুক্তির জন্য প্রাথমিক তালিকা হয়ে গিয়েছে। মোট ৩০ জন ক্রিকেটারের নাম রয়েছে তালিকায়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত মতো ‘এ+’ ক্যাটেগরি থাকছে না এ বার। বাংলার দুই ক্রিকেটার মহম্মদ শামি এবং মুকেশ কুমার এ বার জায়গা পাচ্ছেন না। তালিকায় নাম নেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্যতম ভরসা ঈশান কিশনেরও।
সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিসিআইয়ের চুক্তিতে গুরুত্ব অনেকটাই কমছে বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার। এক দিন তাঁরা ছিলেন ‘এ+’ ক্যাটেগরিতে। দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের এ বার জায়গা হচ্ছে না ‘এ’ ক্যাটেগরিতেও। টি-টোয়েন্টি এবং টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া দুই সিনিয়র ব্যাটারকে রাখা হবে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে। জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকরের মতামত গুরুত্ব পেয়েছে কেন্দ্রীয় চুক্তির ক্ষেত্রে।
সর্বোচ্চ ‘এ’ ক্যাটেগরিতে থাকবেন তিন জন। তাঁরা হলেন শুভমন গিল, রবীন্দ্র জাডেজা এবং জসপ্রীত বুমরাহ। ‘বি’ ক্যাটেগরিতে থাকতে পারেন মোট ১১ জন। কোহলি-রোহিতের সঙ্গে নাম থাকতে পারে লোকেশ রাহুল, ওয়াশিংটন সুন্দর, মহম্মদ সিরাজ, হার্দিক পাণ্ড্য, ঋষভ পন্থ, কুলদীপ যাদব, সূর্যকুমার যাদব, যশস্বী জয়সওয়াল এবং শ্রেয়স আয়ারের।
‘সি’ ক্যাটেগরিতে থাকবেন ১৬ জন ক্রিকেটার। তাঁরা হলেন অক্ষর পটেল, তিলক বর্মা, রিঙ্কু সিংহ, শিবম দুবে, সঞ্জু স্যামসন, অর্শদীপ সিংহ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, আকাশদীপ, ধ্রুব জুরেল, হর্ষিত রানা, বরুণ চক্রবর্তী, নীতীশ কুমার রেড্ডি, অভিষেক শর্মা, সাই সুদর্শন, রবি বিশ্নোই এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড়।
মহিলা ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও থাকছে তিনটি ক্যাটেগরি। ‘এ’ ক্যাটেগরিতে নাম রয়েছে হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মন্ধানা, দীপ্তি শর্মা এবং জেমাইমা রদ্রিগজ়ের। জেমাইমাকে প্রথম বার ‘এ’ ক্যাটেগরিতে রাখা হল। ‘বি’ ক্যাটেগরিতে রয়েছেন রেণুকা ঠাকুর, শেফালি বর্মা, রিচা ঘোষ এবং স্নেহ রানা।
সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড বা বিসিসিআইয়ের (BCCI) নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ভারতীয় ক্রিকেটের মুখ হয়ে থাকা দুই মহাতারকা বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার চুক্তির গুরুত্ব কমতে চলেছে—এই খবর ইতিমধ্যেই ক্রিকেটমহলে তুমুল আলোচনা তৈরি করেছে। এক সময় যাঁরা ছিলেন সর্বোচ্চ ‘এ+’ ক্যাটেগরির অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাঁদের এবার ‘এ’ ক্যাটেগরিতেও রাখা হচ্ছে না বলে জানা যাচ্ছে। টি–টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার প্রেক্ষাপটে তাঁদের নাম নেমে আসতে পারে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে।
এই পরিবর্তন কেবল আর্থিক অঙ্কের হেরফের নয়—এটি ভারতীয় ক্রিকেটের প্রজন্ম পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তাও বহন করছে। জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকরের মতামত এই কেন্দ্রীয় চুক্তি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বোর্ড যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাথায় রেখে চুক্তির তালিকা সাজাচ্ছে, তা বেশ পরিষ্কার।
বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা—গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপের মেরুদণ্ড। তিন ফরম্যাটেই তাঁদের আধিপত্য, অসংখ্য ম্যাচজয়ী ইনিংস, আইসিসি টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে তাঁরা ভারতীয় ক্রিকেটকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।
১. ফরম্যাট থেকে অবসর: টি–টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ানোয় ম্যাচ সংখ্যা কমবে।
২. ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট: বোর্ড এখন তরুণদের বেশি সুযোগ দিতে চাইছে।
৩. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ২০২৭ বিশ্বকাপ ও পরবর্তী চক্র মাথায় রেখে দল গঠন।
৪. পারফরম্যান্স নয়, উপস্থিতি ফ্যাক্টর: কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সব ফরম্যাটে সক্রিয় থাকা বড় মাপকাঠি।
তবে এটা স্পষ্ট—ক্যাটেগরি কমলেও তাঁদের ব্র্যান্ড ভ্যালু, অভিজ্ঞতা ও ম্যাচ-উইনিং ক্ষমতার গুরুত্ব কমছে না। বিশেষ করে একদিনের ক্রিকেটে তাঁরা এখনও দলের প্রধান স্তম্ভ।
বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা—গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপের মেরুদণ্ড। তিন ফরম্যাটেই তাঁদের আধিপত্য, অসংখ্য ম্যাচজয়ী ইনিংস, আইসিসি টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে তাঁরা ভারতীয় ক্রিকেটকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।
১. ফরম্যাট থেকে অবসর: টি–টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ানোয় ম্যাচ সংখ্যা কমবে।
২. ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট: বোর্ড এখন তরুণদের বেশি সুযোগ দিতে চাইছে।
৩. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ২০২৭ বিশ্বকাপ ও পরবর্তী চক্র মাথায় রেখে দল গঠন।
৪. পারফরম্যান্স নয়, উপস্থিতি ফ্যাক্টর: কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সব ফরম্যাটে সক্রিয় থাকা বড় মাপকাঠি।
তবে এটা স্পষ্ট—ক্যাটেগরি কমলেও তাঁদের ব্র্যান্ড ভ্যালু, অভিজ্ঞতা ও ম্যাচ-উইনিং ক্ষমতার গুরুত্ব কমছে না। বিশেষ করে একদিনের ক্রিকেটে তাঁরা এখনও দলের প্রধান স্তম্ভ।
সর্বোচ্চ ‘এ+’ ক্যাটেগরিতে এবার থাকছেন তিন জন—শুভমন গিল, রবীন্দ্র জাডেজা এবং জসপ্রীত বুমরাহ। এটি প্রজন্ম বদলের সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত।
তিন ফরম্যাটেই ধারাবাহিক পারফরমার
ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে ভাবা হচ্ছে
টেকনিক ও স্ট্রোকপ্লে—দুইয়ের মিশ্রণ
বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন
ব্যাট, বল, ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই প্রভাব
টেস্ট ক্রিকেটে ম্যাচ উইনার
ভারতীয় পেস আক্রমণের নেতা
তিন ফরম্যাটেই কার্যকর
আইসিসি টুর্নামেন্টে এক্স-ফ্যাক্টর
বোর্ডের বার্তা স্পষ্ট—যাঁরা সব ফরম্যাটে নিয়মিত খেলছেন এবং ম্যাচে সরাসরি প্রভাব ফেলছেন, তাঁরাই সর্বোচ্চ চুক্তিতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বি’ ক্যাটেগরিতে থাকতে পারেন মোট ১১ জন ক্রিকেটার। এই তালিকাই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ—এখানে আছেন সিনিয়র তারকা, ইনজুরি-কামব্যাক প্লেয়ার এবং উদীয়মান ম্যাচ উইনার।
বিরাট কোহলি
রোহিত শর্মা
লোকেশ রাহুল
ওয়াশিংটন সুন্দর
মহম্মদ সিরাজ
হার্দিক পাণ্ড্য
ঋষভ পন্থ
কুলদীপ যাদব
সূর্যকুমার যাদব
যশস্বী জয়সওয়াল
শ্রেয়স আয়ার
হার্দিক পাণ্ড্য: সাদা বলের ক্রিকেটে নেতৃত্বের বিকল্প।
ঋষভ পন্থ: কামব্যাকের পর ভবিষ্যতের প্রধান উইকেটকিপার।
সিরাজ: তিন ফরম্যাটে পেস ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
সূর্যকুমার: টি–টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট হলেও প্রভাব বিশাল।
জয়সওয়াল: টেস্ট ও টি–টোয়েন্টির ভবিষ্যৎ ওপেনিং স্তম্ভ।
এই ক্যাটেগরি মূলত সেই ক্রিকেটারদের জন্য, যারা নিয়মিত স্কোয়াডে থাকেন কিন্তু সব ফরম্যাটে স্থায়ী নন বা রোটেশনে খেলেন।
‘সি’ ক্যাটেগরিতে থাকবেন ১৬ জন ক্রিকেটার—যাঁরা ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে বিবেচিত।
অক্ষর পটেল
তিলক বর্মা
রিঙ্কু সিংহ
শিবম দুবে
সঞ্জু স্যামসন
অর্শদীপ সিংহ
প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ
আকাশদীপ
ধ্রুব জুরেল
হর্ষিত রানা
বরুণ চক্রবর্তী
নীতীশ কুমার রেড্ডি
অভিষেক শর্মা
সাই সুদর্শন
রবি বিশ্নোই
রুতুরাজ গায়কোয়াড়
১. বেঞ্চ স্ট্রেংথ তৈরি
২. সিরিজ রোটেশন
৩. আইপিএল পারফরম্যান্সের পুরস্কার
৪. ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের কোর গঠন
বিশেষ করে রিঙ্কু সিংহ, তিলক বর্মা, রুতুরাজ—সাদা বলের ক্রিকেটে বড় ভূমিকা নিতে পারেন।
পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা ক্রিকেটেও বিসিসিআই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তিনটি ক্যাটেগরি রাখা হয়েছে।
হরমনপ্রীত কৌর
স্মৃতি মন্ধানা
দীপ্তি শর্মা
জেমাইমা রদ্রিগজ়
জেমাইমাকে প্রথমবার ‘এ’ ক্যাটেগরিতে রাখা হয়েছে—যা তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি।
মহিলা ক্রিকেটে বিনিয়োগ বাড়ছে
WPL (Women’s Premier League) প্রভাব
আন্তর্জাতিক সাফল্যের স্বীকৃতি
রেণুকা ঠাকুর
শেফালি বর্মা
রিচা ঘোষ
স্নেহ রানা
শেফালি: আগ্রাসী ওপেনার
রিচা ঘোষ: ফিনিশার + উইকেটকিপার
রেণুকা: নতুন বলের স্পেশালিস্ট
বিসিসিআই কেন্দ্রীয় চুক্তি মূলত চার স্তরে (পুরুষদের ক্ষেত্রে আগে A+, A, B, C) ভাগ করা হয়। প্রতিটি স্তরে নির্দিষ্ট বার্ষিক পারিশ্রমিক থাকে।
A+ : ₹৭ কোটি
A : ₹৫ কোটি
B : ₹৩ কোটি
C : ₹১ কোটি
(সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে, তবে কাঠামো প্রায় একই থাকে)
১. তিন ফরম্যাটে উপস্থিতি
২. গত বছরের পারফরম্যান্স
৩. ফিটনেস ও অ্যাভেলেবিলিটি
৪. দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ভূমিকা
৫. আইসিসি ও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে প্রভাব
এই চুক্তির তালিকা ভারতীয় ক্রিকেটে তিনটি স্তর স্পষ্ট করছে—
লিজেন্ড ফেজ: কোহলি, রোহিত
প্রাইম কোর: বুমরাহ, জাডেজা, গিল
ফিউচার কোর: জয়সওয়াল, তিলক, রিঙ্কু, রুতুরাজ
বোর্ড এখন ২০২৬–২০২৮ চক্রকে লক্ষ্য করছে।
ক্যাটেগরি কমা মানেই কেরিয়ার শেষ নয়। উদাহরণ:
পারফরম্যান্স বোনাস থাকে
ম্যাচ ফি আলাদা
আইপিএল আয় বিশাল
ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট অপরিবর্তিত
কোহলি এখনও বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেটার।
রোহিত-কোহলির ক্যাটেগরি কমা মানে:
ভবিষ্যৎ ODI অধিনায়ক গিল?
T20 নেতৃত্ব হার্দিক?
টেস্টে বুমরাহ/রাহুল?
বোর্ড ধীরে ধীরে নেতৃত্ব বদলাচ্ছে।
সিনিয়ররা ‘বি’ ক্যাটেগরিতে গেলেও—
মেন্টরশিপ ভূমিকা বাড়বে
আইসিসি টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে
তরুণদের গাইড করবেন
অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড—সব দলেই এই ট্রানজিশন দেখা যায়।
সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া তিন ভাগে—
১. আবেগপ্রবণ বিরোধিতা
২. বাস্তববাদী সমর্থন
৩. ভবিষ্যৎমুখী আশাবাদ
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই আলোচনা তুঙ্গে।
বিসিসিআইয়ের কেন্দ্রীয় চুক্তির এই সম্ভাব্য রদবদল ভারতীয় ক্রিকেটের এক যুগসন্ধিক্ষণের প্রতিচ্ছবি। কোহলি ও রোহিতের অবদান অমলিন—ক্যাটেগরি বদল সেই ইতিহাস মুছতে পারে না। বরং এটি দেখায় ভারতীয় ক্রিকেট কতটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে, যেখানে নতুন তারকারা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।
শুভমন গিল, বুমরাহ, জাডেজাদের হাতে এখন বর্তমান; জয়সওয়াল-রিঙ্কুদের হাতে ভবিষ্যৎ। আর কোহলি-রোহিত? তাঁরা রয়ে যাবেন ভারতীয় ক্রিকেটের সোনালি অধ্যায়ের চিরস্থায়ী প্রতীক হয়ে।