অবশেষে মেঘ কাটল! পশ্চিমবঙ্গের কোটি গ্রামীণ শ্রমিকের মুখে ফুটল হাসি। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে ফের শুরু হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প (MGNREGS)। কেন্দ্রকে তহবিল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত — যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়।
তিন বছর—হ্যাঁ, টানা তিন বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের লাখো শ্রমিক অপেক্ষা করছিলেন কাজের আশায়।
কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় MGNREGS (মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি স্কিম) কার্যত থেমে গিয়েছিল।
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে!
দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল — “মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না, কর্মসংস্থান সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক ন্যায্যতা।”
ফলত, কেন্দ্রীয় সরকার বাধ্য হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে ফের তহবিল ছাড়তে এবং ১০০ দিনের কাজ পুনরায় শুরু করতে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে,
“তিন বছর ধরে কর্মসূচি বন্ধ রাখা সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী। জনস্বার্থে এই প্রকল্প অবিলম্বে চালু করতে হবে।”
এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় ঢেউ।
তৃণমূল কংগ্রেস একে বলছে — “মানুষের জয়, ন্যায়বিচারের জয়!”
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের শিবিরে শুরু হয়েছে নীরব চাপা অস্বস্তি।
এই প্রকল্পে কাজ পান গ্রামের গরিব কৃষক, দিনমজুর, নারী ও বিধবা শ্রমিকরা।
২০২২ সালের মার্চ মাসে যখন তহবিল বন্ধ হয়ে যায়, তখন থেকে হাজারো পরিবার বেকার হয়ে পড়েছিল।
তাদের একমাত্র জীবিকার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়—কেউ কেউ শহরে পাড়ি জমায়, কেউ বা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে।
এবার সেই পরিবারগুলো আবার নতুন করে আশার আলো দেখছে।
“তিন বছর পরে আবার কাজের কাগজ হাতে পাব, এই আনন্দ ভাষায় বোঝানো যাবে না,”—বলছেন মুর্শিদাবাদের এক মহিলা শ্রমিক।
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন,
“এটা কেবল রাজ্যের নয়, সাধারণ মানুষেরও জয়। কেন্দ্রের অহঙ্কার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতের এই রায় একটা ঐতিহাসিক বার্তা।”
![]()
আরও খবর
অন্যদিকে বিজেপি শিবির বলছে,
“রাজ্যে অনিয়ম বন্ধ হলেই কেন্দ্র নিয়মিত টাকা দেবে। এবার দেখা যাক রাজ্য কীভাবে সৎভাবে প্রকল্প চালায়।”
সূত্রের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা ছাড়বে।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা ছাড় হতে পারে, যা দিয়ে রাজ্যের ২৩টি জেলার প্রায় ২৫ মিলিয়ন শ্রমিক কাজের সুযোগ পাবেন।
রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ফের শুরু হবে খাল খনন, রাস্তা সংস্কার, জলাধার নির্মাণ, ও গৃহনির্মাণের মতো কাজ।
স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানরা জানিয়েছেন, “কাজ শুরু হলে শুধু রোজগার নয়, গ্রামীণ অবকাঠামোতেও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।”
সারসংক্ষেপ
?️ নির্দেশ দিয়েছে: সুপ্রিম কোর্ট
? তহবিল ছাড়ছে: কেন্দ্রীয় সরকার
? প্রভাবিত হবে: প্রায় ২৫ মিলিয়ন শ্রমিক পরিবার
?️ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: তৃণমূলের “মানুষের জয়” বনাম বিজেপির “দুর্নীতি রোধের দাবি”