Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিহার: বিজেপি, জেডিইউ চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি(আরভি)-র জন্য উপমুখ্যমন্ত্রী পদ দাবির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করছে

২০২৫‑এর 2025 Bihar Legislative Assembly election‑র প্রেক্ষাপটে বিহারে রাজনীতির গতিবিধি বেশ তীব্র।   এই সময়ে জোট‑সিফারিং, নেতৃস্থানীয় আসন‑বন্টন, ক্ষমতার ভাগাভাগি‑সহ নানা বিষয় একসঙ্গে সমান্তরালভাবে চলে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে এলজেপি‑আরভি, যার নেতৃত্বে রয়েছেন চিরাগ পাসওয়ান, একটি সক্রিয় দাবির সঙ্গে এগিয়ে এসেছে — তাঁদের জোট অংশীদার হিসেবে নতুন সরকারের গঠনকালে উপমুখ্যমন্ত্রীর (Deputy Chief Minister) পদ দাবী করা। কিন্তু সেই দাবি বিজেপি ও জেডিইউ দুই পক্ষই ঝটনা নিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে বা অন্তত সেটিকে সহজে মঞ্জুরি দিচ্ছে না।  

চিরাগ পাসওয়ান এলজেপি‑আরভি ইতিমধ্যেই নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছে ও নতুন স politischen অবস্থানে নিজের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। নির্ধারিত তথ্য অনুযায়ী, এই জোটভুক্ত দল নতুন সরকারের অংশীদার হলেও, উপমুখ্যমন্ত্রী পদ দাবী করেছে — যা রাজনৈতিক শক্তি ও অংশীদারিত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই দাবীর পেছনে কিছু যুক্তি ও বাস্তবতা আছে:

  • প্রথমত, নির্বাচনী ফলাফল ও আসন‑সংখ্যার ভিত্তিতে এলজেপি‑আরভি‑র অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।
  • দ্বিতীয়ত, অংশীদারিত্বে শুধুই ছোট দল হিসেবে নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ পদে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
  • তৃতীয়ত, এই দাবি রাজনৈতিকভাবে জোটের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের একটা ইঙ্গিত বহন করছে।

এসব প্রেক্ষাপটে – উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করা একটা বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তবে দাবি তুলতেই রাজনীতিতে ‘কখন, কোন শর্তে, কী প্রেক্ষিতে’‑সেসব বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিহারে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর, এলজেপি (আরভি) প্রধান চিরাগ পাসওয়ান তার দলের জন্য উপমুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি তোলেন। তবে, বিজেপি এবং জেডিইউ দুই প্রধান জোট সঙ্গীই এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ঘটনা বিহারের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক কৌশলের একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।

চিরাগ পাসওয়ান তার দলের ক্ষমতা ও গুরুত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এই পদ দাবী করেছেন। এলজেপি (আরভি) এর নির্বাচনী ফলাফল বেশ ভালো এবং তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে চায়। চিরাগ পাসওয়ানের মতে, তার দলের শক্তি এবং ভোটব্যাংককে সামনে রেখে, উপমুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি সঠিক এবং যৌক্তিক। তবে, বিজেপি এবং জেডিইউ এই দাবিকে সমর্থন করতে নারাজ, কারণ তারা মনে করে, এটি তাদের নিজস্ব ক্ষমতাকে ক্ষুন্ন করবে এবং অন্যান্য ছোট দলেরও একই দাবি উঠতে পারে।

বিজেপি এবং জেডিইউ‑এর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, উপমুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য কোনো ছোট দলের দাবি মেনে নেওয়া হলে, তা বড় দলের নেতৃত্বের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তারা চান, বিহারের রাজনীতিতে ক্ষমতা ও প্রভাব তাদের হাতে থাকুক এবং ছোট দলগুলো তাদের নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করুক, কিন্তু বড় পদে অংশীদারিত্ব না নিয়ে।

চিরাগ পাসওয়ান অবশ্য তার অবস্থান স্পষ্ট রেখেছেন। তার দাবি, এলজেপি (আরভি) এখন একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল এবং তারা বিহারের রাজনীতিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত। তার মতে, এর মাধ্যমে বিহারের জনগণের জন্য আরও বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হবে।

এখনো পর্যন্ত, এই বিষয়টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার পথে রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ইস্যু কীভাবে সমাধান হবে, তা বিহারের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

চিরাগ পাসওয়ান তার দলের জন্য উপমুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি তোলার মাধ্যমে একটি বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তবে, বিজেপি এবং জেডিইউ‑এর এই দাবির প্রতি বিরোধিতা, রাজনৈতিক কৌশল এবং ক্ষমতার ভারসাম্যকে সামনে রেখে এসেছে। তারা মনে করে যে, ছোট দলগুলোর বৃহৎ পদে দাবি ওঠা, বিশেষ করে উপমুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য, বিহারের রাজনীতির বৃহৎ দলগুলোর জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে অন্য ছোট দলগুলোরও একই ধরনের দাবি উঠতে পারে, যা বৃহৎ দলের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

এই রাজনৈতিক ত্রিমুখী সংঘর্ষ কেবল উপমুখ্যমন্ত্রী পদ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিহারের রাজনীতির পরবর্তী গঠন, জোট এবং ক্ষমতার ভাগাভাগির দিকেও প্রভাব ফেলবে। চিরাগ পাসওয়ান হয়তো পরবর্তী সময়ে আরও কৌশলী ভাবে নিজের দাবির পক্ষে সমর্থন অর্জন করার চেষ্টা করবেন, কিন্তু বিজেপি ও জেডইউ একমত হয়ে যদি এই দাবির বিরোধিতা করতে থাকে, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফলে, বিহারের রাজনীতিতে ভবিষ্যতের জোট গঠন ও নেতৃত্বের কৌশল নিয়ে যে ধরনের আলোচনাগুলি চলছে, তা রাজ্যের রাজনৈতিক কাঠামোকে একটি নতুন রূপরেখা দেবে।

 

বিজেপি জেডিইউ প্রতিক্রিয়া

বিজেপি ও জেডিইউ — দুই প্রধান জোটসঙ্গী – ওই দাবীকে দ্রুত স্বীকার করতে নারাজ, বা অন্তত সেটিকে এমন সুচনায় গ্রহন করেনি যে তারা সহজে লড়াইয়ে নামবে। সংবাদসূত্র বলছে, এই দুই দল উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ ভাগাভাগি‑র ক্ষেত্রে এলজেপি‑আরভির দাবি মানতে আপত্তি জানিয়েছে।

এখানে মূল বিষয় হচ্ছে — অংশীদারিত্বের মধ্যে ‘পদবিভাজন’ ও ‘ক্ষমতার বিনিময়’ নিয়ে ইতিমধ্যে সংঘর্ষ দেখা দিচ্ছে। জোটের বড় অংশীদাররা উদ্বিগ্ন: যদি উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া হয় এলজেপি‑আরভিকে, তাহলে তাঁদের নিজস্ব শক্তি ও প্রভাব কমে যাবে— এমনটা মনে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক এক সংবাদে বলা হয়েছে:

news image
আরও খবর

মিত্র হলেও, বিজেপি এবং জেডিইউ reportedly ছোট মিত্র দলের সাথে এমন একটি শীর্ষ পদ ভাগ করার ব্যাপারে প্রতিরোধ করছে।"

এই বক্তব্যই স্পষ্ট করে দেয় যে, শুধু আসনের সংখ্যা নয় — আসন বা পদই বড়। জোটের বড় অংশীদার সূত্রে বলা হচ্ছে, এমন সিদ্ধান্ত হলে ভবিষ্যতে অন্য ছোট অংশীদারদেরও একইরকম দাবি করতে উৎসাহ পাওয়া যায়।

 

বিশ্লেষণ: কেন এই টানাপোড়েন?

এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে:

  1. ক্ষমতার ভারসাম্য
    জোট যেহেতু একাধিক দল নিয়ে গঠিত, তাই প্রতিটি অংশীদারই চায় ‘মৌলিক’ বা ‘রিয়ার্ক ফ্যাক্টর’ হতে। উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ একটি বড় পদ এবং সেটি পাওয়া মানে শুধুই সংখ্যা নয় — প্রতীকী গুরুত্বও বহন করে। তাই বড় দলগুলো আপাতত এমন পদ দেওয়া মিনতি করছে না।
  2. অভ্যন্তরীণ অংশীদারিত্ব ছায়া প্রতিযোগিতা
    এলজেপি‑আরভি দ্রুত বড় হচ্ছে— এটাই বড় অংশীদারদের উদ্বিগ্ন করছে হয়তো। বড় দল হিসেবে বিজেপি ও জেডিইউ চান, তাদেরই বিহারের রাজনীতিতে মূল নেতৃত্ব থাকবে। অন্যদিকে মাঝারি বা ছোট দল হিসেবে এলজেপি‑এর দাবি বাড়ছে—এটা একটা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।
  3. ভবিষ্যতের জোট গঠন দৃষ্টান্ত স্থাপন
    এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত যেকোনও ভাবে নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে তা একটি মানদণ্ড হয়ে দাঁড়াবে—অন্যান্য অংশীদার দলও দাবী করবে। তাই বড় দলগুলো শর্ত বেশ কঠোর করতে চাইছে।
  4. চিরাগ পাসওয়ানের রাজনৈতিক আসল উদ্দেশ্য
    এলজেপি‑এর তরফে দাবী তুলে ধরা হয়েছে একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে—নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার জন্য, ভোটব্যাংক আধিক্য দেখানোর জন্য, এবং জোট অংশীদারত্বকে শুধুই ছোট সম্মাননা নয় বরং প্রভাবশালী অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য।

 

সম্ভাব্য ফলাফল রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই দাবী ও বিরোধের ক্রমশঃ উত্তেজনা বাড়লে ভবিষ্যতে কিছু সম্ভাব্য পরিস্থিতি ঘটা সম্ভব:

  • যদি বিজেপি‑জেডিইউ একমত হয়ে না যায় — তাহলে এলজেপি হয়তো সংকুচিত অবস্থানে পড়বে বা বিকল্প পদ বা সম্মাননায় সন্তুষ্ট হবে।
  • অথবা, যদি বাৎসরিক আলোচনা শেষে কোনো সমাধানে পৌঁছায় — যেমন উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ না দিয়েই অন্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব বা কেন্দ্রীয় সদস্যপদ দেয়া হতে পারে।
  • একাধিক দলীয় জোটে এই ধরনের বিষয় আলোচনায় থাকে—এই পরিস্থিতিতে সমঝোতা বা আলোচনায় সমাধান বের করা হয় সাধারণত।
  • কিন্তু যদি এই দাবী নিয়ে জোটভঙ্গুর ভয় বাড়ে — তাহলে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সরকারি গঠন বা কার্যালয়ে টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে, যা শাসনকার্যকে ব্যাহত করতে পারে।

এই ঘটনা শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের জোট রাজনীতিও প্রতিফলিত করছে—কীভাবে ছোট‑মধ্যম দল‑গুলোর দাবি বাড়ছে, কীভাবে বড় দলগুলো নিজেদের শক্তি ধরে রাখতে চাইছে।

 

বিহারের রাজনৈতিক মানচিত্রে এই ঘটনাটির গুরুত্ব

বিহার রাজনীতি বহু বছর ধরে জটিল জোট‑রাজনীতি, বস্তুগত উন্নয়ন দাবী, সম্প্রদায়ভিত্তিক ভোটবাজার নিয়ে গড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে:

  • এলজেপি‑এর দাবি এই অর্থে গুরুত্বপূর্ণ যে—it signals that ছোট অংশীদাররাও মুখ্যমন্ত্রী বা উপমুখ্যমন্ত্রী পর্যায়ের পদ দাবী করতে পারে।
  • এছাড়া, এই ঘটনা ভোটারদের দেখাবে — অংশীদারিত্ব শুধু হাত মিলানোর বিষয় নয়, বরং তা ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়েও।
  • দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে আগামী রাজনীতিতে বড় দল‑মধ্যম দল‑ছোট দল সম্পর্কের নতুন কৌশল।
  • বিহার‑রাজনৈতিক ক্ষেত্রে “কী‑পদ দিয়ে কতটা সম্মান দেওয়া হয়” — সেটিই আজকের রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন।

 

সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই পদবির দুইধাপে টানাপোড়েন শুধু একটি দাবীর প্রতিফলন নয়—এটি একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করছে। Chirag Paswan‑র নেতৃত্বে এলজেপি‑আরভি যে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করেছে, তা শুধুই একটি পদ নয়—এটি রাজনৈতিক অবস্থান, প্রভাব, প্রত্যাশা ও অংশীদারিত্ব‑রূপক একটি চিহ্ন। অপরপক্ষে, Bharatiya Janata Party ও Janata Dal (United)‑র আগ্রহ ওই চিহ্ন যাতে খুব দ্রুত ছোট হয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করার—এটাই আজকের উত্তেজনার মূল।

আগামী কিছু দিন বা সপ্তাহে আলোচনার পর জোট গঠন ও ক্ষমতার ভাগাভাগি‑র চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ পাবে। সেই মুহূর্ত লোকসভা‑রাজনীতি নয়, রাজ্য রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ

Preview image