টলি অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত কলকাতার শুটিং সেটে পায়ে চোট পান।‘বানসারা’ ছবির শুটিং চলাকালীন গুরুতর আহত হন তিনি।শুটিং বন্ধ করে অভিনেতার চিকিৎসা করা হয়।পরিচালক আতিউল ইসলাম জানিয়েছেন, ছবিটি পরের পুজোতে মুক্তি পাবে।বনি এখন সুস্থ, শুটিং সাময়িকভাবে বিরতিতে রয়েছে।
টলি ইন্ডাস্ট্রির একজন জনপ্রিয় মুখ এবং দর্শকদের প্রিয় অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত সম্প্রতি একটি গুরুতর চোটে আক্রান্ত হয়েছেন। ঠিক সময়টা ছিল ‘বানসারা’ ছবির শেষ পর্যায়ের শুটিং চলাকালীন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার, কলকাতার একটি গোডাউনে পরিচালিত শুটিং সেটে। অভিনেতার প্রায় মাঝরাত পর্যন্ত চলা কঠোর শুটিং এবং একটিমাত্র অ্যাকশন দৃশ্যে চোট পাওয়ার ঘটনা টলিপাড়ায় যথেষ্ট উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দুই দিন আগেই দীপাবলির আনন্দ উদযাপন করেছিলেন বনি। তিনি প্রেমিকার বাড়িতে গা ভাসিয়েছিলেন এবং উৎসবের খুশিতে মেতে উঠেছিলেন। কিন্তু সেই উৎসবের আবহ কাটতে না কাটতেই তিনি সরাসরি শুটিং সেটে যোগ দেন। প্রায় ৭০০ টেকনিশিয়ান নিয়ে পরিচালিত শুটিংয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে অংশগ্রহণ করছিলেন। ‘বানসারা’ ছবিটি পরিচালক আতিউল ইসলামের পরিচালনায় তৈরি হচ্ছে, এবং এটি টলিপাড়ায় এক প্রত্যাশিত ছবি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
শুটিংয়ের শেষ দিনের ঘটনা অনুসারে, বুধবার প্রায় রাতের ১২টা পর্যন্ত শুটিং চলে। অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন হঠাৎই বনি পায়ে গুরুতর চোট পান। তার গোড়ালির একটি বড় অংশ কেটে যায়। শুটিং সেটের প্রোডাকশন দল সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিসেপটিক ওষুধ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরিচালক আতিউল ইসলামও শুটিংয়ের মাঝে অভিনেতার পাশে দাঁড়ান এবং অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। চোটের তীব্রতা এবং শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনার কারণে সেটে সকলেরই উদ্বেগ দেখা দেয়।
চোট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুটিং প্যাকআপ করা হয়। তবে এখন আনন্দের খবর হলো, অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত বর্তমানে সুস্থ। চিকিৎসা চলমান থাকলেও প্রাথমিকভাবে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছেন। তবে এই চোটের কারণে ছবির শুটিং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
পরিচালক আতিউল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “পরের বছর পুজোতে ছবিটি মুক্তি পাবে। প্রতিদিন প্রায় ৭০০ টেকনিশিয়ান নিয়ে শুটিং হচ্ছে। ছবিতে তিনটি গান রয়েছে। দর্শকরা অপ্রত্যাশিত চরিত্রে আমাদের দুই প্রধান অভিনেতা—অপরাজিতা এবং বনি—কিভাবে অভিনয় করেছেন, তা দেখে চমকে উঠবেন। এটি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। তবে শুটিংয়ের মাঝে এমন দুর্ঘটনা ঘটায় আমরা সকলেই উদ্বিগ্ন। আমাদের প্রথম প্রাধান্য ছিল অভিনেতার নিরাপত্তা।”
‘বানসারা’ ছবিটি ইতিমধ্যেই টলিপাড়ায় প্রচুর প্রত্যাশা তৈরি করেছে। বনি সেনগুপ্ত এবং অপরাজিতা আঠারের কেমিস্ট্রি এই ছবিতে বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে ধরা হচ্ছে। ছবি পরিচালনার ক্ষেত্রে আতিউল ইসলাম তার অভিনব ধারণা এবং দৃশ্যমান নকশার জন্য সুপরিচিত। তবে এই দুর্ঘটনা ছবির শুটিং পরিকল্পনায় কিছুটা বিলম্ব আনতে পারে।
টলি ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেতার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। ফ্যান পেজ, অভিনেতা-অভিনেত্রী সহকর্মী এবং প্রোডাকশন স্টাফরা সবাই অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া, টলি সাংবাদিকদের মতে, এমন চোটের কারণে প্রায়শই অ্যাকশন দৃশ্যে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আবারও প্রমাণিত হলো।
চোটের প্রকৃতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গোড়ালিতে এমন বড় চোট দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। কিন্তু শুটিং সেটের প্রাথমিক ব্যবস্থা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার কারণে অভিনেতার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। বনি সেনগুপ্ত ইতিমধ্যেই শুটিংয়ের জন্য তার ফিটনেস পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
‘বানসারা’ ছবির শুটিং শুরু হওয়ার আগে থেকে প্রায় প্রতিদিনই কঠোর পরিশ্রম এবং দীর্ঘ শুটিং সেশনের মধ্য দিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ছবিতে তিনটি গান এবং একাধিক অ্যাকশন দৃশ্য রয়েছে, যা শুটিং প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করেছে। তবে পরিচালক আতিউল ইসলাম এবং প্রোডাকশন টিমের একাগ্র প্রচেষ্টায় সবকিছু সমন্বয় করা হয়েছে। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, বনি সেনগুপ্ত সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত শুটিং পুনরায় শুরু করা।
টলি মিডিয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর হিসেবে ধরা হচ্ছে। অভিনেতার আহত হওয়া, শুটিং বন্ধ হওয়া এবং ছবির মুক্তির সম্ভাব্য বিলম্ব—এসব বিষয় ফ্যানদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে। কিন্তু একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ছবিটি আগামী পুজোতে দর্শকদের সামনে আসবে।
এই দুর্ঘটনা টলি ইন্ডাস্ট্রির জন্যও একটি সতর্কবার্তা। শুটিং সেটে নিরাপত্তার গুরুত্ব, বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যে, আরও বেশি করে মাথায় রাখা প্রয়োজন। বনি সেনগুপ্তের এই ঘটনা প্রমাণ করল যে, প্রিয় অভিনেতা হলেও তারা শারীরিক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। তবে, সতর্কতা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
চোট পাওয়ার পর বনি সেনগুপ্ত ফ্যানদের উদ্দেশ্যে একটি ছোট বার্তাও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “শুটিংয়ে ছোটখাটো চোট সাধারণ ঘটনা। কিন্তু আমাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার কাজ শুরু করব।” এই বার্তা ফ্যানদের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছে।
পরিচালক আতিউল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, “শুটিং সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও আমরা পুনরায় পরিকল্পনা করছি। বনি সেনগুপ্তের সুস্থতা আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছবি মুক্তির সময়সূচি অনুযায়ী আমরা শুটিং শেষ করব।”
ফ্যানদের পাশাপাশি টলি ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই এই দুর্ঘটনার পর শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যে প্রোডাকশন দলের প্রস্তুতি এবং মেডিকেল সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক। ‘বানসারা’ ছবির শুটিংয়ে এই বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
বনি সেনগুপ্তের এই চোট এবং তার দ্রুত সুস্থ হওয়া যে কেবল তার নিজস্ব জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, টলি ইন্ডাস্ট্রিয়ার জন্যও তা এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, জনপ্রিয়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অপরিহার্য।
সবশেষে, ‘বানসারা’ ছবির দর্শকরা এখন একদিকে যেমন শুটিংয়ের বিষয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে তেমনই ছবির মুক্তির অপেক্ষায় উত্তেজিত। বনি সেনগুপ্ত এবং অপরাজিতা আঠারের অভিনয়, তিনটি গান, এবং আকর্ষণীয় গল্প—এসব উপাদান দর্শকদের মন জয় করার জন্য প্রস্তুত। শুটিং সাময়িকভাবে বিরতি পেলেও ছবির চূড়ান্ত প্রোডাকশন দ্রুত পুনরায় শুরু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এভাবে, বনি সেনগুপ্তের দুর্ঘটনা, চিকিৎসা, এবং শুটিংয়ের সাময়িক বন্ধ—সবকিছু মিলিয়ে টলিপাড়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, অভিনেতার দ্রুত সুস্থ হওয়া এবং ছবি মুক্তির পরিকল্পনা অনুসারে কাজ এগোচ্ছে। টলি ফ্যানরা এখন অধীর আগ্রহে ছবির মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছেন, এবং আশাবাদী যে ‘বানসারা’ তাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে।