কানাডায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আন্তর্জাতিক স্তরে গভীর উদ্বেগ ও শোকের আবহ তৈরি করেছে। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় গুলিতে নিহত হয়েছেন এক ভারতীয় পড়ুয়া। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া এক তরুণের এমন আকস্মিক ও নির্মম পরিণতি স্বাভাবিকভাবেই নাড়িয়ে দিয়েছে দেশ বিদেশের মানুষকে। প্রাথমিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে গভীর রাতে, যখন ওই পড়ুয়া ক্যাম্পাসের কাছাকাছি এলাকায় ছিলেন। আচমকাই গুলির শব্দে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা করা যায়নি। নিহত পড়ুয়া ভারতের কোন রাজ্যের বাসিন্দা, তিনি কোন বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন এই সমস্ত তথ্য ধীরে ধীরে সামনে আসছে। তবে তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া বহু ভারতীয় পড়ুয়া ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যেও নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কানাডার মতো উন্নত দেশে এমন সহিংস ঘটনা ঘটায় প্রশ্ন উঠছে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। এখনও পর্যন্ত কোনও সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের খবর মেলেনি। পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা নাকি আচমকা কোনও অপরাধমূলক ঘটনার জেরে তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে গ্যাং সহিংসতা বা ব্যক্তিগত শত্রুতার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কানাডায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে উচ্চশিক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসের কাছাকাছি এলাকায় এক ভারতীয় পড়ুয়ার গুলিতে নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোক ও উদ্বেগের আবহ তৈরি হয়েছে। বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী যেমন কানাডার মতো দেশে পাড়ি দেন, তেমনই তাঁদের পরিবারও বিশ্বাস করেন যে উন্নত দেশ মানেই তুলনামূলক বেশি নিরাপত্তা। কিন্তু এই ঘটনার পর সেই বিশ্বাসে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে।
নিহত ওই ভারতীয় পড়ুয়া উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে কানাডায় গিয়েছিলেন। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের অগাধ আশা নিয়ে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় শুধু কানাডা নয়, গোটা বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকাতেই এমন সহিংস ঘটনা ঘটবে, তা অনেকেই কল্পনা করতে পারেননি। ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হচ্ছে এবং ভারতীয় পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী এক এলাকায়। সেই সময় এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ছিল। হঠাৎ করেই গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই পড়ুয়াকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই আকস্মিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়নি, বরং বিদেশে থাকা অসংখ্য ভারতীয় পড়ুয়ার মনেও ভয় ধরিয়ে দিয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এটি পরিকল্পিত হামলা ছিল নাকি আচমকা কোনও অপরাধমূলক ঘটনার জেরে এই গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি, গ্যাং সহিংসতা, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা ডাকাতির মতো কোনও ঘটনার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোনও নির্দিষ্ট কারণ বা সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করেনি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আবারও আলোচনায় এসেছে কানাডায় সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে চলা অপরাধের প্রবণতা। যদিও কানাডা সাধারণত একটি নিরাপদ দেশ হিসেবেই পরিচিত, তবুও বড় শহরগুলিতে মাঝেমধ্যে সহিংস ঘটনার খবর সামনে আসছে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের আবাসস্থল ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি উঠছে। অনেকের মতে, শুধু পুলিশি নজরদারি বাড়ালেই হবে না, বরং ছাত্রদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
ভারতীয় কনস্যুলেট ও দূতাবাসের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার দিকে নজর রাখা হচ্ছে। নিহত পড়ুয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া, দেহ প্রত্যাবর্তন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংক্রান্ত সহায়তার বিষয়েও কনস্যুলেট সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। প্রবাসী ভারতীয় মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়েছেন এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
ভারতে বসবাসকারী পরিবারটির কাছে এই খবর পৌঁছনোর পর থেকেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে যে আশঙ্কা অনেক অভিভাবকের মনে থাকে, এই ঘটনা সেই আশঙ্কাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া আজকের দিনে অনেক তরুণের স্বপ্ন। উন্নত শিক্ষা, ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার জন্যই তাঁরা দেশ ছাড়েন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ যে এতটা অনিশ্চিত হতে পারে, তা এই মর্মান্তিক ঘটনাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে পড়তে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের শুধু পড়াশোনার দিকেই নয়, মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ এবং ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে অনেক পড়ুয়াই মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। তার ওপর যদি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ যোগ হয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং বিদেশি দূতাবাসগুলির মধ্যে আরও সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই।
টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এই ঘটনার পর শোকপ্রকাশ করেছে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁরা জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা তাঁদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এই ঘটনার পর ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। যদিও ঘটনাটি ক্যাম্পাসের ভেতরে ঘটেনি, তবুও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ছাত্রছাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। তাই নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
ভারতীয় কনস্যুলেট ও দূতাবাসের তরফ থেকেও বিষয়টির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। নিহত পড়ুয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী ভারতীয় মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। অনেকেই দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
এই ঘটনার পর আবারও উঠে আসছে বিদেশে পড়তে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা, মানসিক চাপ ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্ন। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে যেন আর কোনও তরুণ প্রাণ এভাবে ঝরে না যায় এই আশাই করছে সবাই।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ কানাডার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে ছাত্রছাত্রীদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, শুধু ব্যক্তিগত সতর্কতা যথেষ্ট নয়, বরং রাষ্ট্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিদেশে পড়তে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশের দায়িত্ব নয়, বরং প্রেরক দেশ হিসেবেও ভারতের উচিত এই বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের আড়ালেও বাস্তবের কঠিন দিক লুকিয়ে থাকে। এক তরুণের জীবন, তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পরিবারের আশা সব কিছু মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি অপূরণীয় ক্ষতি। এই ঘটনার সঠিক তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপই হতে পারে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
সব মিলিয়ে, টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কাছে এই ভারতীয় পড়ুয়ার গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা গোটা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। এটি শুধুই একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এর থেকে শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা, মানসিক সুরক্ষা এবং সামাজিক সহায়তার বিষয়গুলো নতুন করে ভাবা জরুরি। ভবিষ্যতে যেন আর কোনও তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়ে গিয়ে এমন নির্মম পরিণতির শিকার না হন, সেই আশাই করছে সমাজ।