Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

টানা হারের জেরে মুম্বই শিবিরে অশান্তি! ফিল্ডিং সাজানো নিয়ে হার্দিক-বুমরাহ তর্ক, বোলারের দাবি মানলেন না অধিনায়ক

কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে শুরু করার পর আইপিএলে হেরেই চলেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ব্যর্থতার সঙ্গী হার্দিক পাণ্ড্যের দলের অশান্তি। ফিল্ডিং সাজানো নিয়ে জসপ্রীত বুমরাহের সঙ্গে তর্ক অধিনায়কের।আইপিএলে হেরেই চলেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। টানা চারটি ম্যাচ জিততে পারেনি হার্দিক পাণ্ড্যের দল। তাঁর নেতৃত্ব নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে দলের মধ্যে। পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে তা প্রকাশ্যে চলে এসেছে জসপ্রীত বুমরাহের বিরক্তি প্রকাশে।

ফিল্ডিং সাজানো নিয়ে হার্দিকের সঙ্গে বুমরাহের মতান্তর প্রকাশ্যে চলে এসেছে। পঞ্জাব ম্যাচে পছন্দ মতো ফিল্ডিং না পেয়ে অধিনায়কের উপর বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে বুমরাহকে। যা নিয়ে মুম্বই শিবিরের পরিবেশ নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা।

মুম্বই-পঞ্জাব ম্যাচের পর সমাজমাধ্যমে একটি ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বুমরাহ ওভার শুরু করার আগে হার্দিক নিজের পরিকল্পনা মতো ফিল্ডিং সাজাচ্ছেন। অধিনায়কের সাজানো ফিল্ডিং পছন্দ হয়নি জোরে বোলারের। তিনি বিরক্তি এবং অসন্তোষ প্রকাশ করে কিছু পরিবর্তন করতে বলেন। হার্দিকের সঙ্গে তর্কও করেন বুমরাহ। শেষ পর্যন্ত হার্দিকের সাজিয়ে দেওয়া ফিল্ডিং নিয়েই ওভার শুরু করেন। যদিও বুমরাহকে দেখে হতাশ লাগছিল।

ওই ওভারের পরের দিকে ফিল্ডারদের নির্দেশ দেওয়ার সময় হার্দিককে বেশ উত্তেজিত দেখিয়েছে। মুম্বই অধিনায়কের কথা বলার ধরন দেখে মনে হয়েছে, বেশ রেগে ছিলেন। সব কিছু দেখে ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ মনে করছেন, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শিবিরে শান্তির পরিবেশ নেই। দলের প্রধান বোলারের সঙ্গে ফিল্ডিং সাজানো নিয়ে হার্দিক আগে ঠিক ভাবে কথা বলেননি বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

পঞ্জাবের কাছে হারের পর টানা ব্যর্থতার দায় দলের উপর চাপিয়েছেন হার্দিক। নির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি মুম্বই অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘‘সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে কিছু বলার নেই। আমাদের সকলকে একসঙ্গে বসে কারণ খুঁজতে হবে। ব্যক্তিগত ব্যর্থতা না দলগত ব্যর্থতা না পরিকল্পনার ঘাটতি থাকছে, খুঁজে বের করতে হবে। আমরা আলোচনা করে দ্রুত সমাধান খোঁজার চেষ্টা করব।’’

এর পর ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে হার্দিক বলেন, ‘‘আমাদের হয়তো কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে একই দল নিয়ে পরিস্থিতি পরিবর্তনের কথা ভাবতে হবে। কয়েকটা প্রশ্ন বেশ কঠিন, যেগুলোর উত্তর আমাদেরই দিতে হবে। হ্যাঁ, ব্যর্থতার দায়ও নিতে হবে।’’হার্দিকের এই মন্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছে জল্পনা। মুম্বই অধিনায়ক কি কয়েক জনের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন? তাঁদের প্রথম একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবছেন? উল্লেখ্য, আইপিএলে পাঁচটি ম্যাচ খেলার পরও উইকেটহীন বুমরাহ।

হার্দিকের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই আইপিএল মহলে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা। Hardik Pandya-র নেতৃত্বে Mumbai Indians এ বছরের আইপিএলে যেভাবে পারফর্ম করছে, তা নিয়ে সমর্থক থেকে বিশেষজ্ঞ—সবাই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে যখন তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন দলের কিছু খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স নিয়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তা আরও বেশি গুরুত্ব পায়। প্রশ্ন উঠছে—মুম্বই অধিনায়ক কি সত্যিই কয়েক জন ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট? তিনি কি প্রথম একাদশে বড়সড় পরিবর্তনের কথা ভাবছেন?

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে Jasprit Bumrah-র নাম। আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে বুমরাহর মতো বোলারের পাঁচটি ম্যাচ খেলে একটিও উইকেট না পাওয়া নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর। যিনি বছরের পর বছর ধরে মুম্বইয়ের বোলিং আক্রমণের প্রধান ভরসা, সেই বুমরাহর এই পরিসংখ্যান শুধু দলকেই নয়, গোটা ক্রিকেট মহলকেই অবাক করে দিয়েছে।

হার্দিকের মন্তব্যের বিশ্লেষণ করতে গেলে প্রথমেই দেখতে হবে তিনি ঠিক কী বলেছেন। সরাসরি কারও নাম না করলেও, তিনি পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন যে দলের প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স আসছে না। একজন অধিনায়ক হিসেবে এটি বলা অস্বাভাবিক নয়, কারণ দলের ব্যর্থতার দায় অনেকাংশে নেতৃত্বের উপরেই বর্তায়। তবে তাঁর বক্তব্যের মধ্যে যে অসন্তোষের সুর ছিল, তা নজর এড়ায়নি কারও।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সবসময়ই এমন একটি দল, যারা স্টার ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত। রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদব, বুমরাহ—এদের মতো তারকারা দলে থাকলে প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। কিন্তু এই মৌসুমে দল হিসেবে তারা এখনও নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে পারেনি। ব্যাটিং কখনও জ্বলে উঠছে, আবার কখনও পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে। একইভাবে বোলিংয়েও ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট।

বুমরাহর প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। তাঁর ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি সবসময়ই চাপের মুহূর্তে দলের জন্য ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দিয়েছেন। ডেথ ওভারে তাঁর ইয়র্কার, স্লোয়ার ডেলিভারি, এবং লাইন-লেংথের নিখুঁততা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু এবারের আইপিএলে যেন সেই ধার নেই। তিনি রান খুব বেশি দিচ্ছেন না হয়তো, কিন্তু উইকেটও পাচ্ছেন না—যা একজন স্ট্রাইক বোলারের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা।

এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, ইনজুরির পর ফর্মে ফিরতে অনেক সময় লাগে। বুমরাহ সম্প্রতি চোট থেকে ফিরে এসেছেন, ফলে তাঁর শরীর এবং রিদম পুরোপুরি আগের অবস্থায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগতেই পারে। দ্বিতীয়ত, আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে ব্যাটসম্যানরা এখন অনেক বেশি প্রস্তুত থাকে। তারা বোলারদের স্ট্র্যাটেজি বিশ্লেষণ করে মাঠে নামে, ফলে বুমরাহর মতো বোলারকেও নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসতে হয়।

news image
আরও খবর

হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তিনি প্রথমবার মুম্বইয়ের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এবং এই পরিবর্তন দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। রোহিত শর্মার মতো অভিজ্ঞ অধিনায়কের জায়গায় হার্দিকের আসা সহজ ছিল না। ফলে দলকে একসঙ্গে ধরে রাখা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

একজন অধিনায়ক হিসেবে হার্দিকের কাজ শুধু নিজের পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁকে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সেরাটা বের করে আনতে হবে। কিন্তু যখন দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেন না, তখন অধিনায়কের উপর চাপ বেড়ে যায়। তাঁর মন্তব্যে সেই চাপের ছাপ স্পষ্ট।

এখন প্রশ্ন হলো—হার্দিক কি সত্যিই প্রথম একাদশে পরিবর্তন আনবেন? আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে দলগুলো প্রায়শই কম্বিনেশন বদলায়। যদি কোনও খেলোয়াড় ধারাবাহিকভাবে খারাপ পারফর্ম করেন, তাহলে তাঁকে বসিয়ে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে বুমরাহর মতো একজন সিনিয়র এবং ম্যাচ-উইনারকে হঠাৎ করে বাদ দেওয়া খুবই কঠিন সিদ্ধান্ত হবে।

অন্যদিকে, এটি মনে রাখতে হবে যে ক্রিকেট একটি দলগত খেলা। শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ের উপর পুরো দায় চাপানো ঠিক নয়। যদি ব্যাটিং ইউনিট বড় স্কোর করতে ব্যর্থ হয়, অথবা ফিল্ডিংয়ে ভুল হয়, তাহলে বোলারদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে বুমরাহর উইকেট না পাওয়ার পেছনে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সও একটি বড় কারণ হতে পারে।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কোচিং স্টাফও এই পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চয়ই চিন্তিত। তারা নিশ্চয়ই ভিডিও অ্যানালিসিস, প্র্যাকটিস সেশন এবং স্ট্র্যাটেজি মিটিংয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজছে। আইপিএলের দীর্ঘ টুর্নামেন্টে একটি খারাপ শুরু মানেই শেষ নয়। সঠিক সময়ে ফর্মে ফিরতে পারলে দল আবারও প্লে-অফের দৌড়ে ফিরে আসতে পারে।

হার্দিকের মন্তব্য তাই একদিকে যেমন সতর্কবার্তা, অন্যদিকে তেমনই দলের ভিতরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তিনি হয়তো খেলোয়াড়দের আরও দায়িত্বশীল হতে বলছেন, যাতে তারা নিজেদের সেরাটা দিতে পারে। এই ধরনের মন্তব্য অনেক সময় খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করে, আবার কখনও চাপও তৈরি করে। এখন দেখার বিষয়, মুম্বইয়ের ক্রিকেটাররা এই পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।

সমর্থকদের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তারা সবসময় দলের পাশে থাকেন, ভালো-মন্দ সব পরিস্থিতিতেই। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে তাদের হতাশা বাড়ছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। হার্দিক এবং তাঁর দলকে এই সমালোচনার মধ্য দিয়েই নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, হার্দিক পান্ডিয়ার এই মন্তব্য শুধু একটি সাধারণ প্রতিক্রিয়া নয়—এটি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিফলন। বুমরাহর ফর্ম, দলের অসংগতিপূর্ণ পারফরম্যান্স, এবং নেতৃত্বের পরিবর্তন—সবকিছু মিলিয়ে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন ধৈর্য, সঠিক পরিকল্পনা, এবং দলের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

আগামী ম্যাচগুলোই নির্ধারণ করবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এই সংকট থেকে বেরোতে পারে কি না। যদি বুমরাহ তাঁর পুরনো ফর্মে ফিরে আসেন এবং ব্যাটসম্যানরা ধারাবাহিকভাবে রান করতে পারেন, তাহলে দল আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। আর যদি সেই পরিবর্তন না আসে, তাহলে হার্দিকের মন্তব্য ভবিষ্যতে আরও বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই মুহূর্তে তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এটি কি সাময়িক সমস্যা, নাকি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জন্য একটি বড় সংকটের শুরু? সময়ই এর উত্তর দেবে।

Preview image