Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আইপিএল শেষ হওয়ার আগেই জানা যাবে রোহিত কোহলির বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ মন্তব্য গম্ভীরের

২০২৭ সালের বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গতি এবং বাউন্সপূর্ণ উইকেট থাকবে। নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়ে আয়োজক হিসেবে থাকবে। গম্ভীর জানান, তিনি এবং তাঁর দল বিশ্বকাপের জন্য নির্দিষ্ট ক্রিকেটারদের চিহ্নিত করবেন।

গৌতম গম্ভীরের মাথায় যখন ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের ভাবনা ঘুরছিল, তখন বিশ্বকাপ জয় থেকে ফিরে আসার পর সেই পরিকল্পনাটি আরও দৃঢ় হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে গম্ভীর জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে ইতোমধ্যেই, এবং ২০২৭ সালের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কাজ শুরু হচ্ছে আইপিএল ২০২৬-এ, যেখানে ভারতীয় দল বিভিন্ন একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ম্যাচ খেলবে।

২০২৭ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা:

২০২৭ সালের বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গতি এবং বাউন্স থাকবে। এই দুটি ফিচার দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে বিশেষভাবে প্রভাব ফেলবে, যা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। যুগ্ম আয়োজক হিসেবে নামিবিয়া এবং জিম্বাবুয়ে থাকবে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি নতুন দিক উন্মোচন করবে। এই বিশ্বকাপের জন্য গম্ভীর এবং তার দল ইতোমধ্যেই নির্দিষ্ট ক্রিকেটারদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছেন, যার মধ্যে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের নির্বাচন করা হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশ এবং প্রস্তুতি:

গম্ভীর দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন এবং জানিয়েছেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিকেট খেলা সহজ নয়। সেখানকার উইকেটের গতি এবং বাউন্সের কারণে ভারতীয় দলের জন্য উপযুক্ত কম্বিনেশন খুঁজে বের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। নির্বাচক এবং কোচরা এটি নিশ্চিত করবেন যে, উপযুক্ত ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত হবেন।

আইপিএল ২০২৬ এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতি:

২০২৬ সালের আইপিএল শেষ হওয়ার মধ্যে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের জন্য একটি ব্লুপ্রিন্ট প্রস্তুত থাকবে। আইপিএল ২০২৬-এ ভারতীয় দল কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে এবং সেখানে কোহলি এবং রোহিতের মতো প্রধান খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। গম্ভীরের মতে, এই আইপিএল ম্যাচগুলিই তাদের জন্য বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সময় হতে পারে, যেখানে দলের সেরা ক্রিকেটাররা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করবে।

কোহলি ও রোহিতের ভবিষ্যৎ:

ভারতীয় দলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গম্ভীর জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তুতি এবং পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে ভারতের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা। তবে, কোহলি এবং রোহিতের মতো তারকা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি নতুন মুখেরও সুযোগ দেওয়া হবে। ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য কোচ এবং নির্বাচকরা প্রস্তুতির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী দল তৈরি করতে চান।

ভারতীয় দলের একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) সিরিজ:

ভারতীয় দল ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে ২৫-৩০টি একদিনের ম্যাচ খেলবে, যা বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গম্ভীর জানিয়েছেন যে, এই সিরিজগুলোর মাধ্যমে তাদের দল শক্তিশালী হবে এবং বিশ্বকাপে জয়ী হওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে। ১৪ জুন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ শুরু হবে, এরপর ভারত ইংল্যান্ডে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলবে। এই সিরিজগুলো ভারতীয় দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ভারতীয় দলের কোচের দৃষ্টিভঙ্গি:

গম্ভীরের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, তিনি চিরকালই একজন দলের নেতা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য তার পরিকল্পনা সঠিক খেলোয়াড় নির্বাচন এবং সঠিক কম্বিনেশন তৈরি করার ওপর নির্ভরশীল। তিনি জানেন যে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করার আগেই দলের জন্য সঠিক ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খেলোয়াড়দের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ:

ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে গম্ভীরের লক্ষ্য শুধুমাত্র বিশ্বকাপ জয় নয়, বরং দলের ভবিষ্যতেও সঠিক উন্নয়ন করা। খেলোয়াড়দের ক্ষমতা, মনোযোগ এবং প্রস্তুতিতে যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। গম্ভীরের কথায়, খেলোয়াড়দের কেবলমাত্র বিশ্বকাপের জন্য নয়, তাদের দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার এবং ক্রিকেটে সফলতা অর্জনের জন্য প্রস্তুত করা হবে।

গৌতম গম্ভীর, ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার কাজ শুধু ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের জয় নিশ্চিত করাই নয়, বরং দলের ভবিষ্যত প্রস্তুতিও তার প্রধান লক্ষ্য। ক্রিকেটে সাফল্য শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্টের জয়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি খেলোয়াড়কে তার পূর্ণ সম্ভাবনাতে পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়া হয়। গম্ভীরের লক্ষ্য হলো এমন একটি দল গঠন করা, যেটি শুধু বিশ্বকাপই নয়, সমস্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফরম্যাটে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম।

ক্রিকেটারদের সঠিক উন্নয়ন

গম্ভীর বিশ্বাস করেন, একমাত্র বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিলেই চলবে না, বরং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত এবং দলগত উন্নয়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের অনেক বড় খেলোয়াড়দের যেমন, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা, তাদের ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নত করা এবং তাদের ক্রিকেটীয় চিন্তাভাবনা আরও গভীর করা প্রয়োজন। গম্ভীরের উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি ক্রিকেটারকে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য নয়, তাদের দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার এবং ক্রিকেটে সফলতা অর্জনের জন্য প্রস্তুত করা।

news image
আরও খবর

এছাড়া, গম্ভীরের নজর থাকবে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের ওপর, যারা ভবিষ্যতে ভারতের জন্য বড় নাম হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নয়ন, তাদের মানসিক দৃঢ়তা তৈরি করা, এবং তাদেরকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করা। এই প্রক্রিয়া শুধু খেলোয়াড়দের শারীরিক দক্ষতা উন্নত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মানসিক শক্তি, দলের মধ্যে সহযোগিতা এবং চাপের মধ্যে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম হওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করা।

মনোযোগ এবং প্রস্তুতিতে ঘাটতি না থাকা

গম্ভীরের মতে, সঠিক মনোযোগ এবং প্রস্তুতি হল যে কোনও দলের সফলতার চাবিকাঠি। যেহেতু ক্রিকেট একটি টিম স্পোর্ট, একাধিক খেলোয়াড়ের প্রস্তুতি এবং তাদের মনোযোগের ওপর নির্ভর করে পুরো দলের সাফল্য। গম্ভীর ইতোমধ্যে তার কোচিং ক্যারিয়ারে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি খেলোয়াড়দের প্রতি একটি আস্থা এবং বিশ্বাস রাখতে চান, তবে তাদের জন্য কড়া অনুশীলন এবং প্রস্তুতিও জরুরি। একটি খেলা বা একটি বিশ্বকাপের জন্য দলের প্রস্তুতি অনেক বড় বিষয় হলেও, খেলোয়াড়দের তাদের ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য অভ্যন্তরীণ কৌশল ও মনোযোগ প্রয়োজন।

গম্ভীরের পরিকল্পনায় খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন একটি খেলোয়াড় চাপের মধ্যে থাকে বা দুর্দশাগ্রস্ত হয়, তখন তার মনোযোগের অভাব এবং ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গম্ভীর মনে করেন, যদি খেলোয়াড়রা প্রতিটি পরিস্থিতিতে নিজের ওপর আস্থা রাখতে শিখে, তবে তারা তাদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে সক্ষম হবে। এজন্য গম্ভীর নানা প্রকারের মানসিক প্রশিক্ষণ এবং চাপ মোকাবেলার কৌশল দলের সঙ্গে শেয়ার করতে চান।

একাডেমিক এবং ফিজিক্যাল উন্নয়ন

গম্ভীরের মতে, একাডেমিক এবং ফিজিক্যাল প্রস্তুতির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ক্রিকেটের স্কিল উন্নত করলেই হবে না, খেলার মধ্যে খেলোয়াড়ের শারীরিক সুস্থতা এবং ফিটনেসও নিশ্চিত করতে হবে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের আধুনিক শারীরিক প্রস্তুতি এবং উন্নত ফিজিক্যাল ট্রেনিং দেওয়া হবে, যাতে তারা দীর্ঘসময় ধরে ইনজুরি ছাড়াই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফলভাবে খেলতে পারে।

এছাড়া, গম্ভীরের উদ্যোগে, দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও উন্নত করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ফিজিক্যাল এবং মানসিক শক্তি একসাথে কাজ করলে একজন খেলোয়াড় সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হতে পারে এবং নিজের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে পারে। এসব ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ কোচদের সাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে খেলোয়াড়রা তাদের গুণগত মান উন্নয়ন করতে পারে।

ব্যালান্সড এবং শক্তিশালী দল তৈরি

গম্ভীর একাধিকবার বলেছেন যে, একটি দলের মধ্যে ব্যালান্স থাকা জরুরি। শুধু ভালো ব্যাটসম্যান, বোলার বা অলরাউন্ডার থাকা দলকে সফল করার জন্য যথেষ্ট নয়। সমস্ত বিভাগে শক্তিশালী দল গঠনের জন্য অভিজ্ঞ এবং তরুণ খেলোয়াড়দের মিশ্রণ তৈরি করা উচিত। ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য দলের কাঠামো সাজানোর সময়, গম্ভীর পছন্দ করবেন এমন খেলোয়াড়দের যারা দলের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম।

তিনি বলেন, “প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের নিজস্ব শক্তি রয়েছে। আমাদের কাজ হলো তাদের সেই শক্তিগুলোর ওপর নির্ভর করে দল গঠন করা। ব্যাটিং, বোলিং এবং অলরাউন্ডারদের মধ্যে শক্তিশালী ভারসাম্য তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য।”

দলের মধ্যে একতা এবং সহযোগিতা

গম্ভীর জানেন, একটি দলের সাফল্য নির্ভর করে তাদের একতা এবং সহযোগিতার ওপর। তার লক্ষ্য থাকবে একটি শক্তিশালী এবং সহযোগিতাপূর্ণ দল গঠন করা, যেখানে প্রত্যেকটা খেলোয়াড় একে অপরকে সমর্থন করবে এবং দলের জন্য একযোগে কাজ করবে। দলের মধ্যে আস্থা এবং সম্পর্কের উন্নতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি ভালো সম্পর্ক দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য প্রস্তুতি

গম্ভীর শুধু ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিই নয়, বরং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যও দৃষ্টি রেখেছেন। তার লক্ষ্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে নতুন খেলোয়াড়দের উন্নয়ন হবে এবং তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের জন্য জায়গা তৈরি করতে পারবে। এজন্য তিনি একাডেমি এবং উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য উদ্যোগী।

অবশ্যই, গম্ভীরের এই পরিকল্পনা শুধুমাত্র এক বছরের প্রস্তুতির জন্য নয়, বরং ভারতের ক্রিকেট ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা।

Preview image