Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আইপিএলে ঝড় উর্বিলের! স্কুলশিক্ষকের ছেলের ব্যাটে রেকর্ডের হ্যাটট্রিক গড়ে চেন্নাইয়ের দুরন্ত জয়, হতাশ লখনউ

বৈভব সূর্যবংশী, আয়ুষ মাত্রেদের মাঝে আরও এক নতুন তারকার জন্ম দেখল আইপিএলে। রেকর্ডের হ্যাটট্রিক গড়ে চেন্নাই সুপার কিংসকে জেতালেন উর্বিল পটেল।

আইপিএলের ইতিহাসে এমন বিস্ফোরক ইনিংস খুব কমই দেখা গিয়েছে, যা এক মুহূর্তে পুরো ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিতে পারে। চিপকের মাঠে সেই অবিশ্বাস্য দৃশ্যই উপহার দিলেন তরুণ ব্যাটার Urvil Patel। লখনউ সুপার জায়ান্টস যখন মনে করেছিল ম্যাচ তাদের মুঠোয় চলে এসেছে, ঠিক তখনই ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন উর্বিল। মাত্র ২৩ বলে ৬৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে চেন্নাই সুপার কিংসকে এনে দিলেন স্মরণীয় জয়। তাঁর ব্যাট থেকে বেরিয়ে এল একের পর এক বিশাল ছক্কা, আগ্রাসী শট আর অবিশ্বাস্য টাইমিং। ক্রিকেটপ্রেমীরা যেন চোখের সামনে নতুন এক তারকার জন্ম দেখল।

ম্যাচের শুরুতেই Sanju Samson আউট হয়ে যাওয়ার পর লখনউ শিবিরে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। কারণ সঞ্জু ক্রিজে থাকলে ম্যাচ যে কোনও মুহূর্তে বদলে যেতে পারে, সেটা সবাই জানে। কিন্তু সঞ্জুর বিদায়ের পর কেউ ভাবতেই পারেনি, আরও ভয়ঙ্কর ঝড় অপেক্ষা করছে। সেই ঝড়ের নাম উর্বিল পটেল। ক্রিজে নামার পর থেকেই তাঁর চোখে ছিল অন্যরকম আত্মবিশ্বাস। প্রথম কয়েকটি বল থেকেই তিনি বুঝিয়ে দেন যে তিনি শুধু রান করতে নামেননি, ম্যাচ শেষ করতেই এসেছেন।

আবেশ খানকে পরপর তিনটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আগ্রাসনের বার্তা দেন উর্বিল। এরপর দিগ্বেশ রাঠীর ওভারেও একই ছবি। আবার টানা তিনটি ছক্কা। মাঠের চারপাশে তখন শুধু গর্জন। দর্শকরা নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। চিপকের মতো স্পিন সহায়ক মাঠেও এমন মারকাটারি ব্যাটিং বিরল। লখনউয়ের বোলারদের আত্মবিশ্বাস মুহূর্তে ভেঙে পড়ে। প্রতিটি বল যেন গ্যালারিতে পাঠানোর জন্যই খেলছিলেন উর্বিল।

মাত্র ১৩ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। আইপিএলের ইতিহাসে যুগ্ম দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়লেন এই তরুণ ব্যাটার। এর আগে Yashasvi Jaiswal ২০২৩ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ১৩ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করলেন উর্বিল। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও একাধিক নজির গড়লেন। ইনিংসের প্রথম আট বলের মধ্যে ছয়টি ছক্কা মারার রেকর্ড এর আগে আইপিএলে কেউ করতে পারেননি। মাত্র ৮ বলে ৪১ রান করে ফেলেন তিনি। যেন প্রতিটি বলকে সীমার বাইরে পাঠানোর মিশন নিয়েই নেমেছিলেন।

উর্বিলের ব্যাটিং শুধু শক্তির ছিল না, ছিল নিখুঁত পরিকল্পনারও। শর্ট বল পুল করেছেন, ফুল লেংথ ডেলিভারি তুলে মেরেছেন স্ট্যান্ডে, আবার স্পিনারদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছেন অসাধারণ ফুটওয়ার্ক। তাঁর শট নির্বাচনে ছিল পরিপক্বতার ছাপ। বয়সে তরুণ হলেও ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা যেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মতো। লখনউয়ের বোলাররা লাইন বদলেছে, লেংথ বদলেছে, ফিল্ড পাল্টেছে, কিন্তু কোনও কিছুতেই আটকানো যায়নি উর্বিলকে।

মাত্র ১০ বলে তাঁর রান ছিল ৪২। এটিও নতুন রেকর্ড। এর আগে AB de Villiers ২০১৫ সালে প্রথম ১০ বলে ৪১ রান করেছিলেন। যশস্বী জয়সওয়ালও নিজের ১৩ বলের ফিফটির ইনিংসে প্রথম ১০ বলে করেছিলেন ৪১ রান। তাঁদের সবাইকে পিছনে ফেলে দিলেন উর্বিল। এই রেকর্ড শুধু সংখ্যার নয়, এটি সাহসের, আত্মবিশ্বাসের এবং ভয়ডরহীন ক্রিকেটের প্রতীক।

চেন্নাইয়ের ড্রেসিংরুমেও তখন অন্যরকম আবহ। ডাগআউটে বসে থাকা ক্রিকেটারদের চোখেমুখে বিস্ময় স্পষ্ট ছিল। প্রত্যেকটি ছক্কার পর উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছিলেন সতীর্থরা। চিপকের দর্শকরাও যেন নতুন নায়ক খুঁজে পেলেন। হলুদ জার্সির সমর্থকেরা “উর্বিল উর্বিল” ধ্বনিতে গ্যালারি কাঁপিয়ে দেন। আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে এমন মুহূর্তই একজন ক্রিকেটারকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়।

তবে এই ইনিংসের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে অর্ধশতরান পূর্ণ হওয়ার পরে। পকেট থেকে একটি ছোট চিরকুট বের করেন উর্বিল। তাতে লেখা ছিল, “বাবা, এটা তোমার জন্য।” সেই দৃশ্য মুহূর্তে আবেগে ভাসিয়ে দেয় ক্রিকেট বিশ্বকে। কোটি দর্শকের সামনে ছেলের এই শ্রদ্ধা যেন এক বাবার ত্যাগের স্বীকৃতি হয়ে দাঁড়ায়।

উর্বিলের বাবা মুকেশ পটেল পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি গভীর ভালবাসা ছিল তাঁর। স্বপ্ন দেখতেন নিজে ক্রিকেটার হওয়ার। কিন্তু আর্থিক ও সামাজিক নানা বাধার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। পরে স্কুলে শারীরবিদ্যার শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন ছেলের মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। ছোট থেকেই উর্বিলের অনুশীলন, ফিটনেস, মানসিক প্রস্তুতি—সবকিছুর দিকে নজর রাখতেন মুকেশ।

news image
আরও খবর

পরিবারের আর্থিক চাপের মধ্যেও কখনও ছেলের ক্রিকেট বন্ধ হতে দেননি। অনেক সময় নিজের প্রয়োজন মেটাননি, কিন্তু ছেলের ব্যাট, গ্লাভস বা কোচিংয়ের খরচ জোগাড় করেছেন। সকালবেলা স্কুলে যাওয়ার আগে ছেলেকে প্র্যাকটিসে পৌঁছে দেওয়া, রাত পর্যন্ত ম্যাচ দেখে বিশ্লেষণ করা—সবই করতেন তিনি। সেই বাবার উদ্দেশেই আইপিএলের মঞ্চে নিজের ঐতিহাসিক ইনিংস উৎসর্গ করলেন উর্বিল।

এই ঘটনাই দেখিয়ে দেয় ক্রিকেট শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়, এটি আবেগের, সংগ্রামের এবং স্বপ্নপূরণের গল্প। একজন ছেলের সাফল্যের পেছনে কতটা পরিশ্রম লুকিয়ে থাকে, সেই চিত্রই সামনে নিয়ে এল এই মুহূর্ত। ক্রিকেটপ্রেমীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় উর্বিল ও তাঁর বাবাকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দেন। অনেকে লিখেছেন, “আজকের ম্যাচের আসল জয়ী একজন বাবা।”

চেন্নাই সুপার কিংসের জন্য এই জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লখনউকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় পাঁচ নম্বরে উঠে এল তারা। প্লে-অফের দৌড়ে নতুন করে আত্মবিশ্বাস পেল দল। অন্যদিকে লখনউয়ের অবস্থা আরও কঠিন হয়ে গেল। তালিকার একেবারে নীচে থেকে তাদের এখন প্রতিটি ম্যাচ জিততে হবে।

চিপকের এই ম্যাচ ভবিষ্যতে বহুদিন মনে রাখবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। কারণ এখানে শুধু একটি দুরন্ত ইনিংস হয়নি, জন্ম নিয়েছে নতুন এক নায়ক। উর্বিল পটেল বুঝিয়ে দিলেন, সুযোগ পেলে তরুণ ক্রিকেটাররাও ইতিহাস লিখতে পারে। তাঁর ব্যাট থেকে বেরিয়ে আসা প্রতিটি শট যেন ঘোষণা করছিল—ভারতীয় ক্রিকেট আরও এক নতুন তারকা পেয়ে গেছে।

আইপিএল বরাবরই তরুণ প্রতিভাদের মঞ্চ। এখান থেকেই উঠে এসেছেন বহু বড় ক্রিকেটার। উর্বিলের এই ইনিংসও হয়তো ভবিষ্যতের বড় কিছুর ইঙ্গিত। তাঁর ব্যাটিংয়ে যেমন ছিল ভয়হীনতা, তেমনই ছিল আত্মবিশ্বাস। সবচেয়ে বড় কথা, চাপের মুহূর্তে দলের দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা ছিল অসাধারণ।

এই ইনিংস শুধু রেকর্ডের জন্য মনে থাকবে না। মনে থাকবে সেই চিরকুটের জন্য, যেখানে লেখা ছিল বাবার উদ্দেশে ভালোবাসার কথা। মনে থাকবে একজন শিক্ষকের ত্যাগের গল্প। মনে থাকবে এক তরুণের স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। আর মনে থাকবে চিপকের সেই রাত, যখন উর্বিল পটেল নামের এক ঝড় লখনউয়ের সব স্বপ্ন উড়িয়ে দিয়েছিল। 

আইপিএলের মঞ্চে এমন বিস্ফোরক ইনিংস বহুবার দেখা গেলেও উর্বিল পটেলের এই ঝড় যেন আলাদা এক আবেগের গল্প লিখে দিল। চিপকের মাঠে যখন সঞ্জু স্যামসনের উইকেট পড়ল, তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচের রাশ অনেকটাই চলে এসেছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের হাতে। মাঠে তখন চাপা উত্তেজনা, গ্যালারিতে উদ্বেগ, আর চেন্নাই সমর্থকদের চোখে হতাশার ছাপ। কিন্তু ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার আরেক নাম, তা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন তরুণ ব্যাটার উর্বিল পটেল। কয়েক ওভারের মধ্যেই ম্যাচের রং বদলে গেল সম্পূর্ণভাবে। লখনউয়ের বোলাররা বুঝতেই পারলেন না ঠিক কীভাবে তাঁদের পরিকল্পনা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেল। ব্যাট হাতে নেমে যেন আগুন ঝরালেন উর্বিল। একের পর এক বিশাল ছক্কা, ভয়হীন শট আর অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাসে সাজানো তাঁর ইনিংস মুহূর্তের মধ্যে চিপককে পরিণত করল উৎসবের মঞ্চে। মাত্র ২৩ বলে ৬৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে শুধু দলকে জেতালেন না, আইপিএলের ইতিহাসেও নিজের নাম সোনার অক্ষরে লিখে ফেললেন তিনি।

লখনউ সুপার জায়ান্টস প্রথমে ভেবেছিল সঞ্জুর আউটই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। কিন্তু সেটাই হয়ে উঠল উর্বিল পটেলের আগমনের সংকেত। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে দেখা গেল তাঁকে। আবেশ খানের মতো অভিজ্ঞ বোলারের এক ওভারেই পরপর তিনটি ছক্কা মেরে নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দেন তিনি। এরপর দিগ্বেশ রাঠীর ওভারে আবার তিনটি ছক্কা। দর্শকরা তখন দাঁড়িয়ে পড়েছেন আসন ছেড়ে। প্রতিটি বল যেন সীমানার বাইরে পাঠানোর শপথ নিয়েছিলেন উর্বিল। তাঁর 

 

Preview image