সমুদ্রের জলস্তর নিয়ে সম্প্রতি গবেষণা করেছেন ইউরোপের একদল বিজ্ঞানী। তাঁদের বক্তব্য বুধবার নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। দেখা গিয়েছে, জলস্তরের বৃদ্ধি গণনা করে যে পরিকল্পনা ছকে রাখা হয়েছিল, তাতে গলদ রয়েছে।
পরিবেশ দূষণ, শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং মানুষের অতি ভোগবাদী জীবনযাত্রার ফলে পৃথিবীর জলবায়ু দ্রুত বদলে যাচ্ছে। গত কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে এবং তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সমুদ্রের উপর। বরফগলা, তাপীয় সম্প্রসারণ এবং বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে। এতদিন পর্যন্ত যে পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দিচ্ছিলেন, নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে সেই হিসাবেও বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের বিপদের মাত্রা হয়তো আরও বেশি ভয়াবহ হতে পারে।
সম্প্রতি ইউরোপের একদল বিজ্ঞানী সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন। তাঁদের গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Nature-এ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এতদিন যে পদ্ধতিতে উপকূলীয় অঞ্চলের উচ্চতা এবং সমুদ্রের জলস্তর মাপা হচ্ছিল, সেই পদ্ধতিতে কিছু মৌলিক ত্রুটি ছিল। ফলে প্রকৃত জলস্তরের উচ্চতা বাস্তবের তুলনায় কম হিসাব করা হয়েছে। নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রের জলস্তর গড়ে প্রায় এক ফুট বেশি। কোথাও কোথাও এই বৃদ্ধি আরও বেশি।
বিশেষ করে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। এই অঞ্চলের কয়েকটি উপকূলে সমুদ্রের জলস্তর প্রায় তিন ফুট পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। অথচ আগের হিসাব অনুযায়ী এই বৃদ্ধি এতটা ধরা পড়েনি। অর্থাৎ বাস্তবে যে বিপদ সামনে আসছে, তা এতদিন যে ভাবে কল্পনা করা হয়েছিল তার চেয়েও অনেক বেশি।
এই ত্রুটির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নেদারল্যান্ডসের অধ্যাপক ফিলিপ মিন্ডারহুড জানিয়েছেন, সমুদ্র এবং স্থলভাগের উচ্চতা মাপার ক্ষেত্রে আগে দুটি আলাদা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। সমুদ্রের জলস্তর মাপা হয়েছিল স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে এবং স্থলভাগের উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছিল ভৌগোলিক পরিমাপের ভিত্তিতে। কিন্তু যেখানে সমুদ্র ও স্থলভাগ একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়, সেই উপকূলীয় অঞ্চল অত্যন্ত জটিল। সেখানে কেবল সমুদ্রের জল নয়, নদীর প্রবাহ, মাটির গঠন, ভূমির অবনমন, বালুকাবেলার পরিবর্তন এবং স্থানীয় জলবায়ু— সব মিলিয়ে একটি জটিল পরিবেশ তৈরি হয়। স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনের সবকিছু সঠিকভাবে ধরতে পারেনি। ফলে হিসাবের মধ্যে গলদ থেকে গিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলছে। অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বিশাল বরফস্তর ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে। এই গলিত জল সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল তাপীয় সম্প্রসারণ। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়লে সমুদ্রের জলও উষ্ণ হয়ে ওঠে। উষ্ণ জল স্বাভাবিকভাবেই প্রসারিত হয়। ফলে সমুদ্রের আয়তন এবং জলস্তর বৃদ্ধি পায়।
গত একশো বছরে পৃথিবীর সমুদ্রের জলস্তর প্রায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় জানা গিয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দশকে এই বৃদ্ধি আরও দ্রুত হয়েছে। নতুন গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, যদি একই হারে জলবায়ু পরিবর্তন চলতে থাকে, তবে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রের জলস্তর আরও অনেকটা বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে। পৃথিবীর বহু বড় শহর, জনপদ এবং কৃষিজমি সমুদ্রের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। সমুদ্রের জলস্তর বাড়লে সেই সব অঞ্চল ধীরে ধীরে জলের নিচে চলে যেতে পারে। বিজ্ঞানীদের নতুন হিসাব বলছে, আগের তুলনায় প্রায় ৩৭ শতাংশ বেশি উপকূলীয় ভূমি ভবিষ্যতে সমুদ্রের তলায় চলে যেতে পারে।
এই সম্ভাব্য বিপর্যয়ের ফলে বিপন্ন হতে পারে প্রায় ৭ থেকে ১৩ কোটি মানুষের জীবন। তাঁদের বসবাসের জায়গা, জীবিকা, কৃষিজমি, পানীয় জলের উৎস— সবই হুমকির মুখে পড়বে। বহু মানুষ বাধ্য হবেন নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে। ফলে তৈরি হতে পারে এক নতুন ধরনের মানবিক সঙ্কট— জলবায়ু উদ্বাস্তু বা ‘ক্লাইমেট রিফিউজি’।
বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ শহর এই বিপদের মুখে রয়েছে। যেমন— ঢাকা, কলকাতা, মুম্বই, ব্যাংকক, জাকার্তা, সাংহাই, নিউ ইয়র্ক, মায়ামি, টোকিও প্রভৃতি শহরের বড় অংশই সমুদ্রের খুব কাছে অবস্থিত। যদি সমুদ্রের জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকে, তবে এই শহরগুলির নিম্নাঞ্চল জলের তলায় চলে যেতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির জন্য এই বিপদ আরও গুরুতর। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের মতো দেশগুলিতে বিশাল জনসংখ্যা উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাস করে। বিশেষ করে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বদ্বীপ অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলির মধ্যে একটি। সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পেলে এই অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সুন্দরবন অঞ্চল ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করছে। গত কয়েক দশকে সুন্দরবনের বেশ কয়েকটি দ্বীপ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে জলের তলায় চলে গেছে। সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততার কারণে এই অঞ্চলের মানুষ ক্রমশ জীবিকা হারাচ্ছেন।
শুধু বসতি বা কৃষিজমিই নয়, সমুদ্রের জলস্তর বাড়লে প্রভাব পড়বে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের উপরেও। ম্যানগ্রোভ বন, উপকূলীয় জলাভূমি, প্রবাল প্রাচীর— এগুলি পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদ। এগুলি প্রাকৃতিকভাবে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে উপকূলকে রক্ষা করে। কিন্তু জলস্তর বৃদ্ধি পেলে এই বাস্তুতন্ত্রগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রবাল প্রাচীরের ক্ষয় ইতিমধ্যেই একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অম্লতা বাড়ার ফলে প্রবাল প্রাচীর ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে। এর ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যও বিপন্ন হচ্ছে।
জলস্তর বৃদ্ধির আরেকটি বড় প্রভাব পড়বে পানীয় জলের উপর। উপকূলবর্তী অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তরে সমুদ্রের লবণাক্ত জল ঢুকে পড়তে পারে। এতে পানীয় জলের উৎস নষ্ট হয়ে যায়। কৃষিকাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ লবণাক্ত মাটিতে ফসল উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিজ্ঞানীরা এবং নীতিনির্ধারকেরা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপের কথা বলছেন। প্রথমত, বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন দ্রুত কমাতে হবে। কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে এগোতে হবে।
দ্বিতীয়ত, উপকূলীয় অঞ্চলে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। সমুদ্র বাঁধ, বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং উন্নত নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে কিছুটা ক্ষতি রোধ করা সম্ভব।
তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে বসবাসকারী মানুষদের ধীরে ধীরে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক দেশ ইতিমধ্যেই এই ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে।
তবে বিজ্ঞানীদের মতে, সমস্যার মূল সমাধান হল জলবায়ু পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করা। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। নতুন গবেষণা আমাদের সেই সতর্কবার্তাই আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি এখন আর ভবিষ্যতের দূরবর্তী আশঙ্কা নয়; এটি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে এবং ধীরে ধীরে পৃথিবীর বহু অঞ্চলের জন্য বাস্তব বিপদ হয়ে উঠছে। পুরনো হিসাবের ভুল সামনে আসায় বোঝা যাচ্ছে, আমরা হয়তো এতদিন বিপদের মাত্রাকে কম করে দেখছিলাম। তাই এখনই সচেতন হওয়া এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পরিবেশ রক্ষা, দূষণ কমানো এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগোনোই একমাত্র উপায় যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই ভয়াবহ বিপদের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। পৃথিবী আমাদের একমাত্র বাসস্থান, তাই তাকে রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের সবার।
উপসংহার:
সব মিলিয়ে বলা যায়, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির যে আশঙ্কা এতদিন বিজ্ঞানীরা তুলে ধরছিলেন, নতুন গবেষণা সেই আশঙ্কাকে আরও স্পষ্ট এবং ভয়াবহ করে তুলেছে। এতদিন যে হিসাবের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, সেখানে যদি প্রকৃতপক্ষে ত্রুটি থেকে থাকে, তবে তা মানবসভ্যতার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। কারণ উপকূলীয় অঞ্চলগুলি শুধু ভৌগোলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়, সেগুলি অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্যশিল্প, বন্দর ও জনবসতির কেন্দ্র হিসেবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ তাদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ এই উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলির উপর নির্ভর করেই গড়ে তুলেছে। তাই সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির অর্থ কেবল জমি ডুবে যাওয়া নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক কাঠামোর উপর সরাসরি আঘাত।
নতুন গবেষণার ফলাফল আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমরা যতটা ভাবছিলাম, বাস্তবে তা তার থেকেও দ্রুত এবং গভীর হতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ এবং খরার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এর সঙ্গে যদি সমুদ্রের জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তবে উপকূলবর্তী দেশগুলির উপর চাপ বহুগুণে বাড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলির জন্য এই বিপদ আরও বড়।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যারা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং যাদের জীবিকা সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল। কৃষক, জেলে, উপকূলবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দারা প্রথমেই এই পরিবর্তনের ধাক্কা অনুভব করবেন। তাঁদের জমি লবণাক্ত হয়ে যেতে পারে, পানীয় জলের উৎস নষ্ট হয়ে যেতে পারে, ঘন ঘন বন্যা ও ঝড়ে বসতি ভেসে যেতে পারে। ফলে অনেক মানুষ বাধ্য হবেন নিজের জন্মভিটে ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে। এর ফলে তৈরি হতে পারে এক নতুন ধরনের সামাজিক সমস্যা— জলবায়ু উদ্বাস্তুদের সমস্যা।
একই সঙ্গে এই সংকট আমাদের উন্নয়নের ধরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলে। গত কয়েক দশকে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে আমরা প্রকৃতির উপর যে চাপ সৃষ্টি করেছি, তার ফল এখন ধীরে ধীরে সামনে আসছে। কারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের দূষণ, বন উজাড়, অতি মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার— সব মিলিয়ে পৃথিবীর পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়েছে এবং তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে সমুদ্রের উপর।
তাই এই সংকটের সমাধান কেবল প্রযুক্তিগত বা বৈজ্ঞানিক উদ্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রয়োজন বৈশ্বিক সহযোগিতা, সচেতনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। পৃথিবীর প্রতিটি দেশকে একযোগে এগিয়ে এসে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথে হাঁটতে হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলে উন্নত অবকাঠামো, সমুদ্রবাঁধ, বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং বৈজ্ঞানিক নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— সময় এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বিজ্ঞানীদের এই নতুন গবেষণা আসলে আমাদের সামনে একটি সতর্কবার্তা তুলে ধরেছে। এটি ভয় পাওয়ার বার্তা নয়, বরং সচেতন হওয়ার আহ্বান। মানবসভ্যতা অতীতে বহু সংকটের মুখোমুখি হয়েছে এবং প্রতিবারই জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সেই সংকট কাটিয়ে উঠেছে।
অতএব, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটকে মোকাবিলা করার জন্য এখনই আমাদের সচেতন হতে হবে। পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, দূষণ কমানো, বন সংরক্ষণ, শক্তির সঠিক ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়ন— এই সবকিছুর মধ্য দিয়েই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব। পৃথিবী আমাদের সবার, তাই তাকে রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের সবার। আজকের সচেতন সিদ্ধান্তই আগামী দিনের পৃথিবীকে নিরাপদ করে তুলতে পারে।