Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

নির্বাচন আসে যায় সেতু আর হয় না খড়ী নদী পারাপারে প্রতিদিন জীবন বাজি

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে এখনও উন্নয়নের বড় ফাঁক স্পষ্ট। বাহিরঘন্যা সংলগ্ন খড়ী নদীর উপর অস্থায়ী কাঠের সেতু দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন কয়েকশো মানুষ। বহু বছর ধরে পাকা সেতুর দাবি উঠলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি মিললেও কাজের অগ্রগতি নেই—এমন অভিযোগেই ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় ব্যস্ততা। কেউ কাজে বেরোন, কেউ স্কুলের উদ্দেশে, কেউ বা বাজারের দিকে। সবার গন্তব্য আলাদা হলেও পথ একটাই—বাহিরঘন্যা সংলগ্ন খড়ী নদীর উপর তৈরি একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু। এই সেতুই বহু গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা।

প্রতিদিন শত শত মানুষ এই দুলতে থাকা সেতু পার হন বুক ধড়ফড় নিয়ে। কাঠের তক্তা আর বাঁশের ভরসায় দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতু যে কোনও সময় বড় বিপদের কারণ হতে পারে, তা জানেন সবাই। তবুও জীবনের তাগিদে থেমে থাকে না চলাচল। সাইকেল, মোটরসাইকেল, টোটো—এমনকি কখনও কখনও চারচাকা গাড়িও ঝুঁকি নিয়েই এই সেতু পার হয়।

এই পথ গলসি ও আউসগ্রাম বিধানসভা এলাকাকে যুক্ত করে এবং বিল্লগ্রাম, বনপাশ, ভোতা, তকিপুর-সহ একাধিক গ্রামের মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, পড়াশোনা, চিকিৎসা—সব কিছুই এই সেতুর উপর নির্ভরশীল।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় বর্ষাকালে। নদীর জলস্তর বাড়লেই সেতু পার হওয়া হয়ে ওঠে আরও বিপজ্জনক। অনেক সময় জল উঠে আসে সেতুর গায়ে, কাঠের তক্তাগুলি পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, আর তখন প্রতিটি পদক্ষেপ যেন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। স্থানীয়দের কথায়, বর্ষায় এই সেতু পার হওয়া মানেই জীবন বাজি রাখা।

এই সমস্যার নতুনত্ব নেই। বহু বছর ধরে স্থানীয়রা পাকা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, প্রতি নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি মিললেও ভোটের পর তা আর বাস্তবায়িত হয় না। সরকারি আধিকারিকরা এসে মাপজোক করেছেন বহুবার, কিন্তু সেই কাজ আর এগোয়নি। কেন নির্মাণ থমকে গেল, তার কোনও স্পষ্ট উত্তর পাননি গ্রামবাসীরা।

এই দীর্ঘদিনের অবহেলায় ক্ষোভ জমেছে মানুষের মনে। প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবের ফারাক তাদের হতাশ করে তুলেছে। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে—যেমন অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া—এই সেতুই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

তবে এবারের নির্বাচনি আবহে আবারও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। গলসি কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অলোক কুমার মাঝি পাকা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবে রূপ পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

স্থানীয়দের একটাই দাবি—এবার যেন শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থাকে উন্নয়ন। বাস্তবে যেন তৈরি হয় একটি নিরাপদ, পাকা সেতু, যা তাদের প্রতিদিনের জীবনকে সহজ ও সুরক্ষিত করে তুলবে।

এখন সময়ই বলবে, বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটবে কি না। মাপজোকের গণ্ডি পেরিয়ে আদৌ কি বাস্তবে গড়ে উঠবে সেই কাঙ্ক্ষিত সেতু, নাকি আবারও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির ভিড়ে হারিয়ে যাবে এই স্বপ্ন—সেই উত্তর খুঁজছে খড়ী নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষ।
 

স্থানীয়দের কাছে এই সেতু শুধুমাত্র একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, এটি তাদের জীবনরেখা। গলসি ও আউসগ্রাম বিধানসভা এলাকাকে যুক্ত করা এই পথের উপর নির্ভর করে বিল্লগ্রাম, বনপাশ, ভোতা, তকিপুর-সহ আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ। এই সেতু না থাকলে তাঁদের দৈনন্দিন জীবন প্রায় থমকে যাবে।

সকালে অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল পড়ুয়া, কৃষক, ব্যবসায়ী—সবাইকে এই সেতুর উপর দিয়েই যেতে হয়। এক হাতে সাইকেল, অন্য হাতে বাজারের ব্যাগ—এই দৃশ্য এখানে খুবই স্বাভাবিক। মোটরসাইকেল বা টোটো চালকরাও জানেন ঝুঁকির কথা, তবুও অন্য কোনও বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই এই সেতু ব্যবহার করেন। মাঝে মাঝে চারচাকা গাড়িও পার হওয়ার চেষ্টা করে, তখন সেতুর কাঠামো যেন কেঁপে ওঠে—আর সেই সঙ্গে কেঁপে ওঠে মানুষের মনও।

সবচেয়ে ভয়ংকর হয়ে ওঠে বর্ষাকাল। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলেই খড়ী নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যায়। নদীর স্রোত তীব্র হয়ে ওঠে, আর সেই স্রোতের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এই অস্থায়ী সেতু হয়ে ওঠে মৃত্যুফাঁদ। অনেক সময় জল উঠে আসে সেতুর উপর, কাঠের তক্তাগুলি ভিজে পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। তখন প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া মানে যেন জীবনের সঙ্গে জুয়া খেলা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বর্ষাকালে অনেকেই বাধ্য হয়ে সেতু পারাপার বন্ধ রাখেন। স্কুল পড়ুয়ারা দিনের পর দিন স্কুলে যেতে পারে না, অসুস্থ মানুষদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়ে ওঠে দুঃসাধ্য। জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রেও এই সেতু একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এই পরিস্থিতি আজকের নয়। বহু বছর ধরে এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন এলাকাবাসী। পাকা সেতুর দাবি নতুন নয়, বরং বহুবার এই দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের কথায়, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের তরফে আশ্বাস মিলেছে—“সেতু হবে, খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।” এমনকি একাধিকবার সরকারি আধিকারিকরা এসে জায়গা পরিদর্শন করেছেন, মাপজোকও করেছেন।

কিন্তু সেই মাপজোকের পর আর কিছুই হয়নি। কাগজে-কলমে পরিকল্পনা আটকে গেছে, বাস্তবে কোনও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। কেন কাজ থেমে গেল, কোথায় গিয়ে আটকে গেল প্রকল্প—এই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা গ্রামবাসীদের কাছে।

এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা ধীরে ধীরে ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, নির্বাচন এলেই এই সেতুর কথা মনে পড়ে নেতাদের। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি, উন্নয়নের আশ্বাস—সবই শোনা যায়। কিন্তু ভোট মিটতেই সেই প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে যায়।

এই পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে বাড়ছে অবিশ্বাস। অনেকেই মনে করেন, তাদের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। উন্নয়নের বড় বড় কথা বলা হলেও বাস্তবে গ্রামাঞ্চলের এই মৌলিক সমস্যাগুলি অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে।

তবে এবারের নির্বাচনি আবহে আবারও নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। গলসি কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অলোক কুমার মাঝি এই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।

এই আশ্বাসে কিছুটা আশাবাদী হয়েছেন স্থানীয়রা, কিন্তু একই সঙ্গে রয়েছেন সংশয়েও। কারণ, অতীতে এমন প্রতিশ্রুতি বহুবারই শুনেছেন তারা। তাই এখন আর শুধু কথায় ভরসা রাখতে রাজি নন অনেকেই—তাদের দাবি, কাজ শুরু হোক, তারপরই বিশ্বাস।

আরও খবর

এই সেতুর অভাব শুধু যাতায়াতের অসুবিধা তৈরি করছে না, এর প্রভাব পড়ছে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের উপরও। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় নতুন বিনিয়োগ বা কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পাকা সেতু তৈরি হলে এই এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র অনেকটাই বদলে যেতে পারে। যাতায়াত সহজ হবে, সময় বাঁচবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, এবং সবচেয়ে বড় কথা—মানুষের জীবনে আসবে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, এবার আর শুধু প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না উন্নয়নের কথা। বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাস্তবে গড়ে উঠবে একটি মজবুত, পাকা সেতু।

আজ খড়ী নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন একটাই প্রশ্ন করছেন—আর কতদিন? মাপজোক আর আশ্বাসের মধ্যে আটকে থাকবে কি তাদের স্বপ্ন, নাকি সত্যিই একদিন সেই স্বপ্ন বাস্তবের রূপ পাবে?

সময়ের স্রোতের মতোই বয়ে চলেছে অপেক্ষা। আর সেই অপেক্ষার মধ্যেই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছেন মানুষ—কারণ তাদের কাছে থেমে থাকার কোনও বিকল্প নেই।
 

? উপসংহার (বিস্তৃত):

খড়ী নদীর উপর একটি পাকা সেতুর দাবি শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশ্ন নয়—এটি আসলে মানুষের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদার সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়। প্রতিদিন যে সেতু দিয়ে শত শত মানুষ জীবন বাজি রেখে পারাপার করছেন, সেটি কেবল একটি কাঠের কাঠামো নয়, বরং এটি বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা অবহেলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং উন্নয়নের অসম বণ্টনের এক জীবন্ত প্রতীক।

একটি সভ্য সমাজে যেখানে উন্নয়নের আলো পৌঁছানোর কথা প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত, সেখানে এখনও যদি মানুষকে একটি নড়বড়ে কাঠের সেতুর উপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সেই উন্নয়নের দাবিই প্রশ্নের মুখে পড়ে। এই সেতুর অভাব শুধু যাতায়াতের সমস্যাই তৈরি করছে না, এটি প্রতিদিন মানুষের মনে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং হতাশার জন্ম দিচ্ছে।

বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই সেতু যেন এক আতঙ্কের নাম। স্কুল পড়ুয়াদের প্রতিদিন এই সেতু পার হয়ে যেতে হয়, অনেক সময় অভিভাবকদের বুক কাঁপতে থাকে যতক্ষণ না সন্তান নিরাপদে ফিরে আসে। অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রয়োজন হলে এই সেতুই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বাধা। কখনও কখনও এই বিলম্বই জীবন-মৃত্যুর ফারাক গড়ে দেয়—যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। নদীর ফুলে ওঠা জল আর সেতুর নড়বড়ে অবস্থা মিলিয়ে তৈরি হয় এক অনিশ্চিত পরিবেশ। তখন এই সেতু শুধু একটি ঝুঁকিপূর্ণ পথ নয়, বরং একপ্রকার মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। তবুও মানুষ বাধ্য—কারণ বিকল্প নেই। এই “বিকল্পহীনতা”ই সবচেয়ে বড় সমস্যা, যা স্থানীয়দের প্রতিদিনের বাস্তবতা।

বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনিক স্তরে এই সমস্যার কথা জানানো হয়েছে, বহুবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, পরিকল্পনাও হয়েছে—কিন্তু বাস্তবায়নের অভাবেই সবকিছু থেমে রয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রিতা এবং অদক্ষতার ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এতে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ, অবিশ্বাস এবং হতাশা তৈরি হয়েছে, তা আর অস্বীকার করার উপায় নেই।

নির্বাচনের সময় এই সেতু যেন এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে। নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে উন্নয়নের কথা, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় দ্রুত কাজ শুরু করার। কিন্তু ভোট মিটলেই সেই প্রতিশ্রুতি হারিয়ে যায় বাস্তবতার ভিড়ে। এই চক্র বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকায় মানুষের মনে জন্ম নিয়েছে গভীর সংশয়—“এবার কি সত্যিই কিছু হবে?”

তবে এই প্রশ্নের উত্তর শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়। এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে বাস্তব কাজের মধ্যে, প্রশাসনিক সদিচ্ছার মধ্যে এবং সর্বোপরি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্যে। একটি পাকা সেতু নির্মাণ কোনও বিলাসিতা নয়, এটি এই এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি প্রয়োজন।

এই সেতু তৈরি হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, এর প্রভাব পড়বে সামগ্রিক উন্নয়নের উপর। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, শিক্ষার সুযোগ আরও সহজলভ্য হবে, স্বাস্থ্য পরিষেবায় পৌঁছনো সহজ হবে। অর্থাৎ, একটি সেতু পুরো এলাকার জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে।

আজ খড়ী নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন শুধু একটি সেতু চান না, তারা চান নিরাপত্তা, নিশ্চয়তা এবং সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার। তারা চান এমন একটি ভবিষ্যৎ, যেখানে প্রতিদিন সেতু পার হওয়ার আগে বুক ধড়ফড় করবে না, যেখানে বর্ষা মানেই আতঙ্ক নয়, বরং স্বাভাবিক জীবনেরই একটি অংশ।

এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি। উন্নয়নের আলো যেন কেবল শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে পৌঁছে যায় এইসব গ্রামাঞ্চলেও। কারণ উন্নয়ন তখনই প্রকৃত অর্থে সফল হয়, যখন তা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

এখন দেখার, প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবের এই দীর্ঘ ব্যবধান শেষ পর্যন্ত ঘুচবে কি না। মাপজোক, পরিকল্পনা আর কথার গণ্ডি পেরিয়ে সত্যিই কি গড়ে উঠবে সেই বহুল প্রতীক্ষিত পাকা সেতু? নাকি আবারও সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাবে এই স্বপ্ন?

উত্তরের অপেক্ষায় আজও দাঁড়িয়ে খড়ী নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষ—প্রতিদিনের ঝুঁকি নিয়েই, কিন্তু একদিন নিশ্চয়ই পরিবর্তন আসবে এই আশাতেই।

 

Preview image