৭ই মে ২০২৬ পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পালাবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বহু কর্মী সমর্থক ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিতে যোগদান করছেন এর ফলে এলাকায় চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অরুন হালদারকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা
বর্ধমান এবং জামালপুর ৭ই মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ এর ফলাফলের পর সমগ্র রাজ্য জুড়ে যে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে তার প্রভাব পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রতিটি কোণায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে এই জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন কেন্দ্র হলো জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্র গত পনেরো বছর ধরে এই এলাকা শাসক দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক অবিসংবাদিত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল কিন্তু এইবারের নির্বাচনের পর জামালপুরের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল এবং নজিরবিহীন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই জামালপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বহু সক্রিয় কর্মী সমর্থক এবং এমনকি কিছু স্থানীয় স্তরের নেতাও দল ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিতে যোগদান করছেন এই ব্যাপক রাজনৈতিক দল পরিবর্তন বা রাজনৈতিক পালাবদলকে ঘিরে জামালপুরে এখন চরম উত্তেজনা থমথমে পরিবেশ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে
পূর্ব বর্ধমান জেলার এই কৃষিপ্রধান অঞ্চল জামালপুর বরাবরই বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল কিন্তু ২০১১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে গত পনেরো বছর ধরে এখানে তৃণমূলের সংগঠন ছিল অত্যন্ত মজবুত এবং বিরোধীদের কোনো রকম অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর জামালপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে যে কর্মীরা এতদিন জোড়া ফুল চিহ্নের জন্য দিনরাত এক করে কাজ করতেন তারা আজ গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিচ্ছেন এই ব্যাপক দল পরিবর্তনের পেছনের কারণগুলো অত্যন্ত গভীর এবং বহুমুখী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দীর্ঘ পনেরো বছরের একনাগাড়ে শাসনের ফলে স্থানীয় স্তরের তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এবং এমনকি দলের কর্মীদের মনেও এক প্রবল প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া বা অ্যান্টি ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর তৈরি হয়েছিল দুর্নীতি কাটমানি সংস্কৃতি এবং সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ সাধারণ মানুষকে তৃণমূল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে এর পাশাপাশি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো সরাসরি জামালপুরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে এবং এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন হবে এই আশা নিয়েই বহু কর্মী সমর্থক বিজেপিতে যোগদান করছেন
এই ব্যাপক রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের ফলে জামালপুর এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে এখন এক চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে বিজেপি কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় দেখিয়ে এবং বিপুল অর্থের প্রলোভন দিয়ে তাদের কর্মীদের জোরপূর্বক দলত্যাগ করতে বাধ্য করছে তাদের অভিযোগ নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীরা এলাকার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে এবং তৃণমূল কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিজেপির জেলা নেতৃত্বের দাবি যে তৃণমূলের অত্যাচার এবং দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়েই তাদের কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গেরুয়া শিবিরে শামিল হচ্ছেন তারা বলছেন জামালপুরের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং তারা সোনার বাংলা গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়িত করার সদিচ্ছা রাখেন
এই রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের জেরে জামালপুরে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি যে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে তা মাঠের বিপুল ভিড় দেখলেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে আজ লেন্সপিডিয়া এর পক্ষ থেকে জামালপুরে একটি বিশেষ রাজনৈতিক টকশো বা আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল যেখানে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এই টকশোতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির স্থানীয় এবং জেলা স্তরের নেতৃত্ব যারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন টকশোতে এক সিনিয়র বিজেপি নেতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দাবি করেন জামালপুরের মানুষ তৃণমূলের স্বৈরাচারী শাসনের হাত থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন এবং তারা বিজেপিকে নিজেদের আসল বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছেন নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে যে জামালপুরের মানুষ মোদীজির উন্নয়ন মডেল এবং ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতি প্রবল আস্থা রেখেছেন তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেন জামালপুরে বিজেপির দলীয় সংগঠন এখন আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং আমরা নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি
বিজেপি নেতার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে জামালপুরে বিজেপি এখন নিজেদের অস্তিত্ব আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর তিনি আরও বলেন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো জামালপুরের প্রতিটি গ্রাম এবং প্রতিটি ঘরে ঘরে বিজেপির রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে আমাদের দলের সাথে যুক্ত করা তৃণমূল কংগ্রেস যে ভয় এবং সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিল আমরা তা চিরতরে নির্মূল করতে চাই আমরা চাই জামালপুরের মানুষ অত্যন্ত নির্ভয়ে এবং স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে পারেন বিজেপির এই সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি আগামী দিনে এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে এক অভাবনীয় এবং বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা তারা আশা করছেন যে নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে জামালপুরে নতুন আইটি পার্ক তৈরি হবে সেমিকন্ডাক্টর হাব গড়ে উঠবে এবং শিল্পায়নের এক নতুন যুগের সূচনা হবে
জামালপুরে বিজেপির এই উত্থান এবং রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের আলোচনার পাশাপাশি এখন যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক চর্চা এবং জল্পনা শুরু হয়েছে তা হলো জামালপুরের বিজেপি প্রার্থী অরুন হালদারের নাম অরুন হালদার জামালপুরের এক পরিচিত মুখ এবং সাধারণ মানুষের অত্যন্ত কাছের মানুষ হিসেবে তার এক বিশাল সুনাম রয়েছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার সামাজিক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত এবং সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শোনার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকেন নির্বাচনের প্রচারে অরুন হালদার এলাকার উন্নয়ন মহিলাদের নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো নিয়ে অত্যন্ত সোচ্চার হয়েছিলেন তার এই স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে এই নির্বাচনে এক অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে অরুন হালদারের এই জনপ্রিয়তাই জামালপুরে বিজেপির সাফল্যের এক অন্যতম প্রধান কারণ সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম অরুন হালদারের ওপর প্রবল আস্থা রেখেছেন তারা আশা করছেন যে অরুন হালদার ক্ষমতায় এলে জামালপুরের প্রকৃত উন্নয়ন হবে এবং এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হবে তবে অরুন হালদারের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা যাচ্ছে কেউ কেউ তাকে পরিবর্তনের আসল কান্ডারি হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছেন আবার কেউ কেউ তার রাজনৈতিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা বলছেন অরুন হালদার একজন ভালো মানুষ হতে পারেন কিন্তু একটি বিধানসভা কেন্দ্র পরিচালনা করার মতো রাজনৈতিক জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা তার আছে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে
জামালপুরের এই অভাবনীয় রাজনৈতিক পালাবদল এবং অরুন হালদারকে ঘিরে জল্পনার জেরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রখর রোদ এবং তীব্র গরম উপেক্ষা করে জামালপুরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ আজ এই রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন আমরা কথা বললাম জামালপুর বাজারের এক স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দা রামকান্ত ঘোষের সাথে তিনি আমাদের জানালেন আমরা সাধারণ গরিব মানুষ রাজনৈতিক দল বদলের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই আমরা চাই এলাকায় শান্তি বজায় থাক এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা হোক যাতে আমরা নিজেদের রুটিরুজি অত্যন্ত নিশ্চিন্তে চালাতে পারি যেকোনো রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন আমাদের প্রধান দাবি হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা তিনি আরও জানান যে জামালপুরে যদি একটি আধুনিক মিষ্টি হাব বা ল্যাংচা হাব তৈরি করা হয় তবে এলাকার তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য এই ধরনের সরকারি উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন
জামালপুরের তরুণ প্রজন্মের সাথে কথা বলে তাদের এক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আধুনিক চিন্তাধারার পরিচয় পাওয়া গেল গ্রামের তরুণরা এখন আর কেবল কৃষিকাজ বা ছোট ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল থাকতে চান না তারা উচ্চশিক্ষিত এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সম্পূর্ণভাবে পরিচিত আমরা কথা বললাম অতনু নামের এক স্থানীয় তরুণের সাথে যিনি বর্তমানে লেন্সট্যাক্স সলিউশনস এর মতো একটি আধুনিক কর্পোরেট সংস্থায় জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করেন অতনু জানালেন যে জামালপুর এলাকায় এখন প্রচুর প্রতিভাবান তরুণ রয়েছেন যারা ডিজিটাল মার্কেটিং সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এবং ডেটা এন্ট্রির কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করতে পারেন কিন্তু এলাকায় ভালো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা এবং ওয়াইফাই জোন না থাকার কারণে তাদের কাজের চরম ক্ষতি হয় তিনি বলেন আমাদের জামালপুরে যদি একটি আধুনিক আইটি পার্ক বা টেকনোলজি হাব তৈরি করা হয় তবে এই এলাকার তরুণদের আর কাজের খোঁজে ব্যাঙ্গালোর বা হায়দ্রাবাদে পাড়ি দিতে হবে না আমরা চাই রাজনৈতিক নেতারা কেবল ভোটের সময় বড় বড় প্রতিশ্রুতি না দিয়ে এলাকার ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর দিন অরুন হালদার যদি ক্ষমতায় আসেন তবে আমরা আশা করি তিনি এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবেন
জামালপুরের এই রাজনৈতিক পালাবদলের পেছনের কারণগুলো অত্যন্ত গভীর এবং বহুমুখী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পেছনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দুর্নীতি কাটমানি সংস্কৃতি এবং দলের স্থানীয় স্তরের নেতাদের স্বৈরাচারী আচরণ সাধারণ মানুষ এই সমস্ত দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়েই বিজেপিকে নিজেদের আসল বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছেন এর পাশাপাশি বিজেপি ক্ষমতার আসার পর ডাবল ইঞ্জিন সরকার অর্থাৎ কেন্দ্রে এবং রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে রাজ্যের উন্নয়নে এক বিশাল গতি আসবে বলে তারা দাবি করেছেন বাংলার সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতি প্রবল আস্থা রেখেছেন তারা আশা করছেন যে নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে রাজ্যে নতুন আইটি পার্ক তৈরি হবে সেমিকন্ডাক্টর হাব গড়ে উঠবে এবং শিল্পায়নের এক নতুন যুগের সূচনা হবে যার ফলে রাজ্যের তরুণদের আর কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে যেতে হবে না বরং তারা নিজেদের রাজ্যেই এক সম্মানজনক এবং উচ্চ বেতনের চাকরি পাবেন
এত বিশাল একটি জনসভাকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয় গলসি থানার পুলিশ সকাল থেকেই মাঠের চারদিকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল যাতে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে মঞ্চের আশেপাশে এবং ভিআইপি প্রবেশের রাস্তায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এত গরমের মধ্যেও যাতে সাধারণ মানুষের কোনো কষ্ট না হয় তার জন্য সভাস্থলের চারদিকে প্রচুর পরিমাণে পানীয় জলের পাউচ এবং ওআরএস এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল স্থানীয় যুব তৃণমূল কর্মীরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে মানুষের সুবিধা অসুবিধার দিকে নজর রাখছিলেন প্রচুর সংখ্যক মহিলা পুলিশ কর্মীও মাঠে উপস্থিত ছিলেন যাতে মহিলা दर्शकों ভিড় সামলাতে কোনো অসুবিধা না হয় একটি রাজনৈতিক সভা যে কতটা সুসংগঠিত এবং সুশৃঙ্খল হতে পারে আজকের এই গলসি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের সমাবেশ তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের এই সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নির্বাচনের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য
জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই এলাকার সাধারণ মানুষের প্রধান জীবিকা হলো কৃষিকাজ তাই যেকোনো রাজনৈতিক দলের কাছেই কৃষকদের মন জয় করা অত্যন্ত জরুরি অলোক কুমার মাঝি তার বক্তব্যে রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের কথা বারবার উল্লেখ করেন যার মাধ্যমে কৃষকরা বছরে দশ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন এছাড়াও বিনামূল্যে ফসল বিমা এবং সেচের জলের সুবিধার কথা তিনি তুলে ধরেন বিরোধী দলগুলো অনেক সময় কৃষকদের বঞ্চনার কথা বলে প্রচার করলেও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে তারা কেবল প্রতিশ্রুতি দেয় না বরং তা কাজে করে দেখায় কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়া এবং সারের ভর্তুকি নিয়েও তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রটি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য অত্যন্ত প্রেস্টিজ ফাইট বা সম্মানের লড়াই এবং আজকের এই বিশাল জনসভা প্রমাণ করে যে তারা ভোটের ময়দানে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে কোনো খামতি রাখছে না গ্রামীণ বাংলার কৃষি অর্থনীতি এবং সাধারণ কৃষকদের উন্নয়নই যে তাদের প্রধান লক্ষ্য তা আজকের এই প্রচার সভা থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে
নির্বাচনী প্রচারের এই উন্মাদনার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি এবং গ্রামীণ মানুষের আবেগকেও অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই সভায় তুলে ধরা হয়েছে সভার শুরুতে স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারা পরিবেশিত বাউল গান এবং আদিবাসী নৃত্য পরিবেশকে আরও মনোরম করে তুলেছিল রাজনীতি যে কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয় বরং তা মানুষের সংস্কৃতির সাথে মিশে যাওয়ার এক মাধ্যম তা এই ধরনের আয়োজন থেকে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় জুন মালিয়া নিজে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং শিল্পীদের উৎসাহিত করেন বাংলার রাজনীতি বরাবরই সাংস্কৃতিক দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং আজকের এই গলসির সভা সেই ঐতিহ্যকেই বহন করে চলেছে সাধারণ মানুষ যখন তাদের নিজেদের সংস্কৃতির প্রতিফলন রাজনৈতিক মঞ্চে দেখতে পান তখন দলের প্রতি তাদের বিশ্বাস এবং ভরসা আরও দৃঢ় হয়
পরিশেষে বলা যায় গলসি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত আজকের এই নির্বাচনী জনসভা এবং জুন মালিয়ার তারকাখচিত উপস্থিতি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারের পালে এক বিশাল হাওয়া জুগিয়ে গেল প্রখর রোদ উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক উত্তাপ যতই বাড়ুক না কেন মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক উৎসবে অংশগ্রহণ করার উৎসাহ বিন্দুমাত্র কমেনি অলোক কুমার মাঝির মতো একজন পরিচিত এবং পরিশ্রমী প্রার্থীর পক্ষে জুন মালিয়ার মতো একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর প্রচার সাধারণ ভোটারদের মনে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে এই প্রচারের ঝাঁঝ আরও বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত গলসিবাসী কার মাথায় জয়ের মুকুট পরিয়ে দেন তা দেখার জন্য আমাদের ভোটের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তবে আজকের এই সরাসরি সম্প্রচারিত বিশাল জনসভা যে গলসির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায় গণতন্ত্রের এই বিশাল উৎসবে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই হলো ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং আগামী দিনেও এই ধারা এভাবেই বজায় থাকবে বলে আমরা আশা করি বিস্তারিত খবরের জন্য কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে ক্লিক করুন