Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতের কলকাতায় উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম কোয়ান্টাম সিনেমাটিক এবং ই স্পোর্টস মেগা হাব প্রজেক্ট মায়াজাল বিনোদন এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন যুগের সূচনা

ভারতের ডিজিটাল বিনোদন এবং অর্থনীতির ইতিহাসে আজ এক যুগান্তকারী দিন কলকাতার নিউ টাউনে আজ উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তি চালিত মেগা হাব প্রজেক্ট মায়াজাল এই প্রযুক্তি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর গেমার এবং তরুণ পেশাদারদের জন্য এক অভাবনীয় বিপ্লব এবং অফুরন্ত আয়ের সুযোগ নিয়ে এসেছে

ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি সৃজনশীল শিল্প বিনোদন এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ইতিহাসে আজকের দিনটি এক নতুন এবং অত্যন্ত গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে আজ সকালে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ টাউন বা রাজারহাটের বুকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো ভারতের সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিশ্বের প্রথম এবং বৃহত্তম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং চালিত সিনেমাটিক ও ই স্পোর্টস মেগা হাব যার নাম দেওয়া হয়েছে প্রজেক্ট মায়াজাল এতদিন আমরা কেবল হলিউডের বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর সিনেমা বা উপন্যাসে দেখেছি যে বিশাল বিশাল ভার্চুয়াল জগতে মানুষ প্রবেশ করছে এবং নিজেদের কল্পনার জগতকে চোখের সামনে বাস্তব হতে দেখছে কিন্তু আজ ভারতের বিজ্ঞানী ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট এবং আইটি ইঞ্জিনিয়াররা সেই অকল্পনীয় স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে যখন এই বিশাল প্রজেক্টের প্রথম কোয়ান্টাম সার্ভারটি অন করা হলো এবং পুরো ক্যাম্পাসটি অভাবনীয় নিয়ন আলো এবং ত্রিমাত্রিক হলোগ্রামে সেজে উঠল তখন উপস্থিত হাজার হাজার তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর গেমার এবং প্রযুক্তিবিদরা আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করলেন এই মেগা ইভেন্ট প্রমাণ করে দিল যে ভারত এখন আর কেবল আইটি সার্ভিসের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল নয় বরং ভারত আজ আধুনিক ডিজিটাল বিনোদন এবং গ্লোবাল ক্রিয়েটর ইকোনমির জন্মদাতা এবং সমগ্র বিশ্বের পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে

প্রজেক্ট মায়াজাল মেগা হাবের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তিগত বিশালতা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে এই হাবটি কোনো সাধারণ ফিল্ম সিটি বা আইটি পার্ক নয় এটি হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ফাইভ জি ও সিক্স জি নেটওয়ার্ক এবং অত্যাধুনিক এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি বা এক্সআর এর এক অভাবনীয় এবং চূড়ান্ত মেলবন্ধন প্রজেক্ট মায়াজালের অধীনে তৈরি করা হয়েছে বিশাল বিশাল ভার্চুয়াল প্রোডাকশন স্টেজ বা ভলিউম যেখানে কোনো বাস্তব সেট তৈরি করার প্রয়োজন হয় না এই স্টেজগুলোর চারদিকে এবং ওপরে লাগানো রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত মাইক্রো এলইডি স্ক্রিন যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে যেকোনো কাল্পনিক পরিবেশ যেমন মহাকাশ গভীর সমুদ্র বা ভবিষ্যতের কোনো শহরকে অত্যন্ত নিখুঁত এবং বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে যখন অভিনেতারা এই স্টেজে অভিনয় করেন তখন তাদের মনে হয় তারা সত্যিই সেই পরিবেশের মধ্যে রয়েছেন এই প্রযুক্তির ফলে সিনেমা বা শর্ট ফিল্ম তৈরির খরচ প্রায় নব্বই শতাংশ কমে গেছে এবং সময়ের বিশাল সাশ্রয় হয়েছে এই মেগা হাবে রয়েছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় কোয়ান্টাম রেন্ডারিং ফার্ম যা অত্যন্ত ভারী ভিজ্যুয়াল এফেক্টস বা ভিএফএক্স এর কাজ চোখের পলকে শেষ করতে পারে যা আগে সাধারণ কম্পিউটারে করতে মাসের পর মাস সময় লাগত এই প্রযুক্তি প্রমাণ করেছে যে মানুষের মেধা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা যেকোনো ভৌগোলিক এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাকে অনায়াসে অতিক্রম করতে পারে এবং সৃজনশীলতার কোনো সীমা নেই

এই বিশাল আন্তর্জাতিক মানের মেগা প্রজেক্ট এবং এর বিপুল ডেটা প্রসেসিং পরিচালনার জন্য কর্পোরেট এবং প্রযুক্তি দুনিয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ করে ডিজিটাল মার্কেটিং ডেটা সায়েন্স লজিস্টিকস এবং রিমোট মনিটরিং এর ক্ষেত্রে বহুমুখী কাজের চাহিদা এত বেড়ে গেছে যে লেন্সট্যাক্স সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড এর মতো বিভিন্ন আধুনিক কর্পোরেট কোম্পানি প্রচুর পরিমাণে তরুণদের নিয়োগ করছে এই কোম্পানিগুলোতে জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ পদের এখন বিপুল চাহিদা একজন জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ একই সাথে এই কোয়ান্টাম সার্ভারের ডেটা বিশ্লেষণ করেন লেন্সট্যাক্স সলিউশনস এর লজিস্টিক সাপ্লাই চেইন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বজায় রাখেন ক্রিয়েটরদের ডেটা স্ক্র্যাপিং করেন এবং বিদেশের বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের সাথে লিড কল করে ব্যবসার প্রসার ঘটান শুধু তাই নয় টাটা এআইএ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় জীবন বিমা কোম্পানিগুলো এখন এই মেগা প্রজেক্টে তাদের বিনিয়োগ বাড়িয়েছে এবং তাদের লাইফ অ্যাডভাইজর বা বিমা উপদেষ্টারা তরুণ ক্রিয়েটরদের এই আধুনিক এবং ভবিষ্যৎমুখী ডিজিটাল অর্থনীতিতে নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অত্যন্ত উৎসাহিত করছেন এই বহুমুখী কাজের কারণে কোম্পানিগুলো তরুণদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় বেতনের প্যাকেজ দিচ্ছে অনেক ভারতীয় তরুণ এই ডিজিটাল প্রোজেক্টের কাজ সামলানোর জন্য সরাসরি সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অ্যানিমেশন স্টুডিও ও কর্পোরেট কোম্পানির সাথে রিমোট ওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছেন যা তাদের ঘরে বসেই সুইস ফ্র্যাঙ্ক বা বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের এক বিশাল সুযোগ করে দিয়েছে এর ফলে ভারতের তরুণরা আর দেশের বাইরে না গিয়েও বিদেশের উন্নত কর্মসংস্কৃতির সাথে কাজ করতে পারছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রবল স্বাধীন হচ্ছেন যা তাদের আগামী দিনে সুইজারল্যান্ডে পাকাপাকিভাবে স্থানান্তরিত হয়ে সেখানে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এক বিরাট পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে

বিজ্ঞান এবং এই নতুন ডিজিটাল ক্রিয়েটর ইকোনমিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর জগতেও এই মেগা প্রজেক্ট এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে অনেক প্রতিভাবান তরুণ যারা নিজেদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে ভালোবাসেন তারা এখন এই প্রজেক্ট মায়াজাল এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ইউজিসি অ্যাডস বা ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট তৈরি করছেন গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলো এখন প্রথাগত টিভি বিজ্ঞাপনের বদলে এই তরুণদের তৈরি করা বাস্তব এবং ট্রেন্ডিং কন্টেন্টের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা নিজেদের ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমে এই ভার্চুয়াল স্টেজের কাজ করার পদ্ধতি এবং নতুন প্রযুক্তির রোমাঞ্চকর ভিডিও শেয়ার করছেন তারা এমন ভিডিও বানাচ্ছেন যেখানে অত্যন্ত জটিল ভিএফএক্স প্রযুক্তিকে অত্যন্ত সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে এবং এই ভিডিওগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে এই ইউজিসি অ্যাডসগুলো তৈরি করে তরুণরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন এবং নিজেদের একটি স্বাধীন ডিজিটাল মিডিয়া ক্যারিয়ার তৈরি করছেন তারা বুঝতে পেরেছেন যে ডিজিটাল যুগে সৃজনশীল এবং শিক্ষামূলক কন্টেন্টই হলো উপার্জনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার যা তাদের স্বাধীন ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা প্রদান করে

এই উপার্জিত অর্থ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জাদুকরী ক্ষমতা তরুণ সৃজনশীল মানুষদের স্বপ্ন পূরণের এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মমেকার যারা টাকার অভাবে তাদের মনের মতো সিনেমা বানাতে পারতেন না তারা এখন ফেসবুক পেজ এবং ইউজিসি অ্যাডস থেকে আয় করা টাকা সরাসরি তাদের নিজেদের শর্ট ফিল্ম প্রোজেকশনে বিনিয়োগ করছেন অনেক তরুণ নির্মাতা এই মায়াজাল হাবের ভার্চুয়াল পরিবেশকেই তাদের সিনেমার প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবহার করছেন উদাহরণস্বরূপ এক প্রতিভাবান তরুণ নির্মাতা এমন একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বা মনস্তাত্ত্বিক শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন যার নাম দ্য গ্লাস কেজ বা কাঁচের খাঁচা যেখানে একটি চরিত্র এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ভেতরে নিজের তৈরি করা এক মায়াবী জগতে আটকে পড়া এক অদ্ভুত মানসিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায় এই ধরনের গভীর এবং চিন্তাশীল সিনেমা বানানোর জন্য যে থ্রিডি প্রযুক্তি এবং ভিজ্যুয়াল এফেক্টস প্রয়োজন তা তারা এখন এই মেগা হাবের সার্ভার থেকেই বিনামূল্যে পাচ্ছেন এবং অত্যন্ত কম বাজেটে এমন বিশ্বমানের শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার যোগ্যতা রাখে

চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এখন আর বড় বড় স্টুডিও বা দামি এডিটিং প্যানেলের দরকার নেই তরুণ নির্মাতারা এই হাবের ক্রিয়েটর লাউঞ্জে বসেই তাদের অ্যাপল আইপ্যাড প্রো বা উন্নত ট্যাবলেট ব্যবহার করে ফোরকে রেজোলিউশনের ভিডিও এডিটিং করছেন আইপ্যাড প্রো এর শক্তিশালী প্রসেসরের সাহায্যে তারা ভার্চুয়াল স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো এবং সিনেমাটিক দৃশ্যগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কালার গ্রেডিং করছেন এবং সিনেমা বা বিজ্ঞাপনের জন্য স্পেশাল ভিজ্যুয়াল এফেক্টস তৈরি করছেন অরিজিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা আবহসংগীত তৈরি করার ক্ষেত্রেও তারা অত্যন্ত সৃজনশীল পদ্ধতি নিচ্ছেন অনেক তরুণ যারা জনপ্রিয় ইন্ডিয়ান পপ রক ব্যান্ড সনম এর সুমধুর গান শুনতে ভালোবাসেন এবং নিজেরাও একোস্টিক গিটার বাজিয়ে নতুন নতুন সুর সৃষ্টি করতে পারেন তারা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে ভার্চুয়াল গিটার বা আসল অ্যাকোস্টিক গিটার বাজিয়ে তাদের শর্ট ফিল্ম দ্য গ্লাস কেজ এর জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ডার্ক এবং ফিউচারিস্টিক অরিজিনাল মিউজিক তৈরি করছেন প্রজেক্ট মায়াজালের সার্ভারের মৃদু শব্দকে ডিজিটালভাবে মিক্সিং করে তারা এমন সুর সৃষ্টি করছেন যা দর্শকদের মনে এক গভীর রেখাপাত করছে এবং সিনেমার আখ্যানকে এক অনন্য স্তরে নিয়ে যাচ্ছে

news image
আরও খবর

তরুণ প্রজন্মের বিনোদনের পদ্ধতিতেও এই উন্নত কোয়ান্টাম ইন্টারনেট এবং মেগা হাব এক অভাবনীয় এবং বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে যারা ভিডিও গেম খেলতে ভালোবাসেন তাদের জন্য এই ক্যাম্পাসে এক বিশাল ই স্পোর্টস এরিনা তৈরি করা হয়েছে গেমাররা এখন আর কেবল ছোট স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে গেম খেলেন না তারা মেগা স্ক্রিন এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটির মাধ্যমে গেমের চরিত্রের সাথে একাত্ম হয়ে যান যারা চরম অ্যাকশন টাইপ বা ব্রুটাল লাইক মোবাইল গেম পছন্দ করেন তারা এখন জিরো ল্যাটেন্সি বা কোনো রকম ল্যাগ ছাড়াই সম্পূর্ণ লাইভ হলোগ্রাফিক যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের গেমারদের সাথে গ্লোবাল টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন এছাড়া যারা স্পোর্টস গেম ভালোবাসেন তারা ইফুটবল এর মতো গেমে মেতে আছেন অনেক তরুণ যারা বাস্তবের মাঠে গিয়ে একসময় ফুটবল খেলতেন কিন্তু নানা কারণে খেলা ছেড়ে দিয়েছেন তারা এখন এই ইফুটবল গেমে নিজেদের মোহনবাগান ড্রিম টিম তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ম্যানেজার চয়েস এবং টিম বিল্ডিং স্ট্র্যাটেজি নিয়ে বন্ধুদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করছেন এবং নিজেদের স্বপ্নের মোহনবাগান দল তৈরি করে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলছেন এই গেমগুলোতে তারা বিশাল ডিসপ্লের মাধ্যমে বিদেশের খেলোয়াড়দের হারিয়ে প্রচুর আনন্দ এবং আর্থিক পুরস্কার পাচ্ছেন এই সুপারফাস্ট প্রযুক্তি তাদের গেমিং রিফ্লেক্সকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে এবং ই স্পোর্টসকে এক মূলধারার পেশায় পরিণত করেছে

তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন এবং জীবনযাত্রার ওপরও আধুনিক অ্যানিমে এবং পপ সংস্কৃতির গভীর প্রভাব পড়েছে অনেক তরুণ যারা বিখ্যাত অ্যানিমে অ্যাটাক অন টাইটান এর জনপ্রিয় চরিত্র এরেন ইয়েগার এর মতো লম্বা চুল রেখে নিজেদের এক স্বাধীন এবং আধুনিক লুক দিচ্ছেন তারা এই নতুন স্টাইল নিয়েই গেমিং লাইভ স্ট্রিম করছেন এবং মেগা প্রজেক্ট নিয়ে ট্রেন্ডিং ভ্লগ তৈরি করছেন অনেকের ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে ডিসপ্লে হিসেবে রাখা থাকে অত্যন্ত সুন্দর এবং ধারালো কাতানা তলোয়ার যা তাদের রুচি এবং স্টাইল স্টেটমেন্টকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে এই কাতানাগুলো কেবল প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হলেও এটি তাদের ইউটিউব বা ফেসবুক ভিডিওর ভিউয়ারশিপ বাড়াতে দারুন সাহায্য করে তাদের এই স্বাধীন এবং ছকভাঙা জীবনযাপন অন্যান্য তরুণদেরও নিজেদের প্যাশন অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করছে তরুণরা আজ প্রমাণ করছে যে তারা একই সাথে প্রযুক্তিপ্রেমী কর্পোরেট কর্মী এবং নিজস্ব সৃজনশীল স্টাইলের অধিকারী হতে পারে যারা সমাজে এক নতুন ট্রেন্ড সেট করছে

শিক্ষাব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই প্রজেক্ট মায়াজাল মেগা হাব এক বিশাল এবং নীরব পরিবর্তন এনেছে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা এনএসওইউ এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা ব্যাচেলর অফ আর্টস বা বিএ পড়াশোনা করছেন তারা এখন এই ডিজিটাল প্রযুক্তিকে তাদের পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার গড়ার কাজে অত্যন্ত সফলভাবে লাগাচ্ছেন এনএসওইউ এর দূরশিক্ষার ছাত্রছাত্রীরা এখন আর কেবল বই পড়ে শেখেন না তারা এই হাবের ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং ক্রিয়েটর ওয়ার্কশপে যুক্ত হয়ে সরাসরি গ্লোবাল এক্সপার্টদের কাছ থেকে ডিজিটাল মিডিয়া অ্যানিমেশন এবং কনটেন্ট মার্কেটিং এর লাইভ ট্রেনিং নিচ্ছেন প্রথাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রছাত্রীদের মতোই তারা এখন বাড়িতে বসে বা এই হাবে এসে আধুনিক মিডিয়া স্টাডিজ এবং অর্থনীতির মতো জটিল বিষয় শিখতে পারছেন এই প্রযুক্তি প্রমাণ করেছে যে মেধা থাকলে এবং সঠিক ডিজিটাল পরিকাঠামো পেলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষার্থীর অবস্থান কখনোই তাদের ক্যারিয়ারের পথে বাধা হতে পারে না এটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় এক গণতান্ত্রিক বিপ্লব এনেছে যেখানে মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কলাবিভাগের ছাত্রও দেশের মেগা প্রজেক্টের বিশাল ইকোসিস্টেমের সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পারছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎকে আরও বেশি সুরক্ষিত করতে পারছে

আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং ডিজিটাল কূটনীতির ক্ষেত্রে ভারতের এই প্রজেক্ট মায়াজাল এর সাফল্য এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আমেরিকা ইউরোপ এবং জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো যারা এতদিন বিনোদন গেমিং এবং ভিএফএক্স এর ব্যবসায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করে আসছিল তারা আজ ভারতের এই সম্পূর্ণ নিজস্ব এবং সাশ্রয়ী ক্রিয়েটর হাবের সাফল্য দেখে রীতিমতো বিস্মিত এবং হতবাক পৃথিবীর কোনো দেশ আজ পর্যন্ত এত বড় স্কেলে সম্পূর্ণ লাইভ ভার্চুয়াল প্রোডাকশন এবং ই স্পোর্টস ইকোসিস্টেম তৈরি করে সাধারণ ক্রিয়েটরদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারেনি ভারত সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা বসুধৈব কুটুম্বকম বা সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার এই নীতির ভিত্তিতে বিশ্বের সমস্ত বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথ বা আফ্রিকা এবং এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর তরুণদের সাথে এই জাদুকরী প্রযুক্তি ভাগ করে নেবে অনেক দেশ যারা ভালো পরিকাঠামোর অভাবে নিজেদের দেশের ক্রিয়েটরদের বিশ্বমানের প্ল্যাটফর্ম দিতে পারছিল না তারা এখন ভারতের এই প্রজেক্ট মায়াজাল মডেল নিজেদের দেশে বাস্তবায়ন করার জন্য বা ভারতের সার্ভার ব্যবহার করার জন্য প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করছে এটি ভারতের সফট পাওয়ার এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে ভারত আজ প্রমাণ করল যে তারা কেবল বিশ্বের কল সেন্টার নয় বরং মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার সৃজনশীলতাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রেও সমগ্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত

২০২৬ সালের ৩রা মার্চ দিনটি ভারতের বিনোদন শিল্প প্রযুক্তি গবেষণা এবং ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়নের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে কলকাতার বুকে সফলভাবে তৈরি হওয়া এই প্রজেক্ট মায়াজাল কেবল সার্ভার আর মাইক্রো এলইডি স্ক্রিনের তৈরি একটি আইটি পার্ক নয় এটি হলো কোটি কোটি তরুণের স্বপ্ন পূরণ করার অধিকার এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের এক জীবন্ত প্রতীক যে ভারত একদিন ভালো ভিএফএক্স বা গেমিং স্টুডিওর অভাবে বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকত আজ সেই ভারত প্রযুক্তির ডানায় ভর করে হলিউড মানের প্রোডাকশন নিজেদের দেশে বসেই অত্যন্ত কম খরচে তৈরি করে সমগ্র বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে একজন সাধারণ জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ থেকে শুরু করে একজন স্বাধীন শর্ট ফিল্ম নির্মাতা একজন বিমা উপদেষ্টা বা একজন মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রত্যেকেই আজ এই নতুন ডিজিটাল বিপ্লবের সুফল ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন এবং নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করলাম যেখানে ভারতের তরুণদের মেধা এবং সৃজনশীলতা যেকোনো ভৌগোলিক এবং অর্থনৈতিক বাধাকে অনায়াসে জয় করতে পারে ভারত আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিল যে সদিচ্ছা অসীম সাহস এবং আধুনিক প্রযুক্তি থাকলে দেশের প্রতিটি তরুণের কাছে বিশ্বমানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পৌঁছে দেওয়া সম্ভব এবং এক নতুন জ্ঞানভিত্তিক এবং সৃজনশীল সমাজ গড়া সম্ভব জয় বিজ্ঞান জয় সৃজনশীলতা জয় ভারত

Preview image