Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

‘৯/১১ -র মতো বিপর্যয় রুখেছেন’, ভারতীয় পাইলট স্মিতের প্রশংসায় মোদি-ট্রাম্প-নেতানিয়াহু

মাঝ আকাশে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন এক ওমানি পাইলট। সেই মুহূর্তে পরিস্থিতি সামাল দিতে মরণপণ লড়াই করেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। তাঁর তৎপরতা ও সাহসিকতায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা গিয়েছে।

‘৯/১১ -র মতো বিপর্যয় রুখেছেন’, ভারতীয় পাইলট স্মিতের প্রশংসায় মোদি-ট্রাম্প-নেতানিয়াহু
দুর্ঘটনা

মাঝ আকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানের ভিতরে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং এক পাইলটকে আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছে অন্য পাইলটের বিরুদ্ধে। সেই সময় ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন, তা নিয়েই এখন সর্বত্র আলোচনা। তাঁর তৎপরতার কারণেই বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রুর জীবন রক্ষা পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর গুরুতর আহত হন। তাঁকে প্রথমে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করেন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন—এই ঘটনাই তাঁকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আবেগ তৈরি করেছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক স্তরে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও ৯/১১-এর প্রসঙ্গ এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে ৯/১১ হামলার সরাসরি যোগ বা এটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা ছিল কি না, সেই বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের ওমানি কো-পাইলটের আচরণ এবং ঘটনার নেপথ্যে কোনো সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য বা নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

এই ঘটনার পর ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সাহস ও যাত্রীদের জীবন বাঁচানোর প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও স্মিতকে ‘হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্মিত মচ্ছরের পরিবারের কথোপকথন হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

গুজরাত প্রশাসনের তরফে স্মিত মচ্ছরকে ‘বিশিষ্ট গুজরাত গরিমা’ সম্মানে ভূষিত করার সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর অসাধারণ সাহসিকতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে শৌর্য পুরস্কার দেওয়ার দাবিও উঠেছে। এমনকি কয়েকজন তাঁর জন্য দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্ন দেওয়ার দাবিও তুলেছেন। তবে এই ধরনের পুরস্কার বা সম্মানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়।

ঘটনার পর মুম্বইয়ের তিলক নগরে স্মিত মচ্ছরের বাড়ির সামনেও বহু মানুষ জড়ো হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের প্রতি সমর্থন জানাতে এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করতে স্থানীয় মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। জাতীয় পতাকা হাতে মানুষকে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতেও দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাঝ আকাশে কো-পাইলট অন্য পাইলটকে আক্রমণ করেছিলেন এবং বিমানটি ক্র্যাশ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বিমানের কাচ ভাঙার জন্য রাখা কুঠার দিয়ে স্মিত মচ্ছরকে আঘাত করা হয়েছিল বলে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ৯/১১-এর পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ভবন বা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বিমানটি পরিচালিত হচ্ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে ঘটনার সঙ্গে কোনো রাষ্ট্র বা সংগঠনের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প ভারতীয় পাইলটকে ‘হিরো’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর গুরুতর আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। কো-পাইলটের আচরণ নিয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্য বা কোনো সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

news image
আরও খবর

ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিমানের যাত্রীদের নিরাপত্তা। মাঝ আকাশে কোনো বিমানে পাইলটদের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে কয়েকশো মানুষের জীবন মুহূর্তের মধ্যে বিপন্ন হতে পারে। এই অবস্থায় বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং বিমানটিকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্মিত মচ্ছরের ভূমিকা নিয়ে তাই আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার সঙ্গে ৯/১১-এর তুলনা ইতিমধ্যে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বক্তব্যে উঠে এলেও দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগ স্থাপনের আগে তদন্তের ফলাফল জানা জরুরি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা ছিল একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা, যেখানে একাধিক বিমান ছিনতাই করে হামলা চালানো হয়েছিল। অন্যদিকে, বর্তমান ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য এবং নেপথ্যের কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। ফলে দুই ঘটনাকে এক করে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও এই ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশজুড়ে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। পরিবার, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের নজর এখন তাঁর চিকিৎসার দিকেই।

এই ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ককপিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পাইলটদের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ, বিমানের ভিতরে থাকা নিরাপত্তা সরঞ্জামের ব্যবহার এবং এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা—সবকিছু নিয়েই বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে। তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

বর্তমানে যে তথ্যগুলি সামনে এসেছে, তার মধ্যে কিছু তথ্য বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। তাই তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যাকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে কো-পাইলটের উদ্দেশ্য, কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিমানটি নির্দিষ্ট কোনো স্থাপনায় আঘাত করার জন্য পরিচালিত হচ্ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

তবে একটি বিষয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই যে, ঘটনাটি বিমানে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের জন্য অত্যন্ত আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। সেই সংকটের মধ্যে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর সাহসিকতা এবং দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ফ্লাইদুবাই বিমানের এই ঘটনাকে ঘিরে এখন আন্তর্জাতিক তদন্ত, পাইলটের চিকিৎসা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ—এই তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, কো-পাইলটের আচরণের পেছনে কী কারণ ছিল এবং ঘটনাটি নিছক ব্যক্তিগত সংঘর্ষ, নাকি এর পিছনে অন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল—তা ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে।

এদিকে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং অসংখ্য মানুষ। তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে সরকারি পর্যায়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে। পুরো ঘটনাটি এখন ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মহলের নজরে।

স্মিত মচ্ছর, ফ্লাইদুবাই বিমান, ওমানি কো-পাইলট, বিমানের ককপিটে সংঘর্ষ, ১৭৪ যাত্রীর নিরাপত্তা, ৯/১১-এর প্রসঙ্গ, নরেন্দ্র মোদি, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, ডোনাল্ড ট্রাম্প, দ্রৌপদী মুর্মু এবং আন্তর্জাতিক তদন্ত—এই সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অন্যতম আলোচিত বিষয়।

Preview image