Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বৈশাখের শুরুতেই কালবৈশাখীর পূর্বাভাস কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে! উত্তরেও সতর্কতা, তবে আরও বাড়বে গরম

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দু’দিন রাজ্যের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। তার পরের পাঁচ দিন তাপমাত্রার হেরফের হবে না।চৈত্রের শেষ ভাগ থেকেই রাজ্যে পারদ ঊর্ধ্বমুখী। বৈশাখের প্রথম দিন অস্বস্তি আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে বাড়বে তাপমাত্রাও। দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলায় গরমের জন্য রয়েছে হলুদ সতর্কতা। তবে ওই পাঁচ জেলায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনাও রয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বৃহস্পতিবার। যদিও তার জন্য তাপমাত্রার হেরফের হবে না। উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলাতেও পয়লা বৈশাখে হতে পারে কালবৈশাখী। সেখানে বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি চলবে সপ্তাহ জুড়েই।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দু’দিন রাজ্যের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। তার পরের পাঁচ দিন তাপমাত্রার হেরফের হবে না। বুধবার পয়লা বৈশাখে কলকাতায় রাত এবং দিনের তাপমাত্রা থাকবে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তবে জেলার সব জায়গায় ঝড়বৃষ্টি হবে না। ওই পাঁচ জেলায় হলুদ সতর্কতা রয়েছে। ওই পাঁচ জেলায় একই সঙ্গে অস্বস্তিকর গরমের জন্যও সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও থাকবে অস্বস্তি।

বৃহস্পতি এবং শুক্রবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। যদিও জেলার সব জায়গায় বৃষ্টি হবে না। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূমে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বাকি জেলায় হালকা বৃষ্টি হলেও সতর্কতা জারি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের ওই জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার থেকে ওই জেলাগুলিতে আর বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। উল্টে সেখানে বাড়বে গরম। অস্বস্তির জন্য হলুদ সতর্কতা রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রয়েছে সেই সতর্কতা।

উত্তরবঙ্গের আট জেলাতেই আগামী শনিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পয়লা বৈশাখে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারে কালবৈশাখীর পূর্বভাস রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবার সব জেলাতেই ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা রয়েছে। হালকা বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার গতি হতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার-এই পাঁচ জেলায় শনিবার পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে আবহাওয়ার বদল: বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও তাপমাত্রার ওঠানামার পূর্বাভাস

বসন্তের শেষ লগ্নে এসে আবারও বদলাচ্ছে বাংলার আবহাওয়া। গরমের তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়লেও তার মাঝেই হঠাৎ করে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আগমন কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। তবে এই স্বস্তির সঙ্গেই রয়েছে কিছু সতর্কবার্তা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতি ও শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। যদিও সব জেলায় সমানভাবে বৃষ্টি হবে না, তবুও কিছু জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতি

দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে বৃহস্পতি ও শুক্রবার—এই দুই দিন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়কালে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বীরভূম—এই জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এই হলুদ সতর্কতার অর্থ হলো, আবহাওয়া পরিস্থিতি কিছুটা অস্থির হতে পারে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। এই জেলাগুলিতে শুধু বৃষ্টিই নয়, তার সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় এবং খোলা জায়গায় থাকা মানুষদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সেখানে তেমন বিপজ্জনক পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই। তাই সেই জেলাগুলিতে কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে হালকা বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


শুক্রবারের আবহাওয়া

শুক্রবারও একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের সেই একই জেলাগুলিতে আবারও ঝড়বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি রয়েছে। এর ফলে এই দুই দিন ধরে আবহাওয়ার অস্থিরতা বজায় থাকবে।

এই সময় কৃষিকাজ, যাতায়াত এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যারা খোলা মাঠে কাজ করেন বা যাদের যাতায়াতের জন্য বাইরের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাদের সতর্ক থাকা জরুরি।


শনিবার থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন

শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই দিন থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বরং আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে উঠবে এবং তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করবে।

এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির জন্যও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ, গরমের তীব্রতা এমন হতে পারে যা সাধারণ মানুষের জন্য অসুবিধাজনক হয়ে উঠবে।


গরমের সতর্কতা

শনিবার থেকে শুরু করে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় এই অস্বস্তিকর গরমের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। দিনের বেলা তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে গরম আরও বেশি অনুভূত হবে।

news image
আরও খবর

এই সময় বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত জল পান করা, রোদ এড়িয়ে চলা এবং হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতি

দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া কিছুটা আলাদা। সেখানে আগামী শনিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের আটটি জেলাতেই এই বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার—এই জেলাগুলিতে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে। পয়লা বৈশাখের সময় এই ঝড়বৃষ্টি হতে পারে, যা উৎসবের আমেজে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।


কালবৈশাখীর পূর্বাভাস

কালবৈশাখী মূলত একটি প্রাকৃতিক ঝড়, যা গ্রীষ্মকালে হঠাৎ করে আসে এবং প্রচণ্ড বেগে হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি নিয়ে আসে। এই ধরনের ঝড় উত্তরবঙ্গের পাঁচটি জেলায় দেখা যেতে পারে।

এই ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় মানুষের জন্য কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।


বৃহস্পতিবারের সতর্কতা

বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যদিও বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে, তবুও ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের কারণে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এই দিনে হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, যা কিছু জায়গায় গাছ পড়ে যাওয়া বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ হতে পারে।


শনিবার পর্যন্ত সতর্কতা

দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার—এই পাঁচটি জেলায় শনিবার পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি থাকবে। এই সময় আবহাওয়া অনিশ্চিত থাকতে পারে এবং মাঝে মাঝে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।


দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের এই জেলাগুলিতে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, দক্ষিণবঙ্গ যেখানে গরমে কাবু হবে, সেখানে উত্তরবঙ্গ কিছুটা স্বস্তি পাবে বৃষ্টির কারণে।


সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ

এই পরিবর্তিত আবহাওয়া পরিস্থিতিতে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি—

  • ঝড়বৃষ্টির সময় ঘরের বাইরে না বেরোনোই ভালো
  • বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলা
  • গরমের সময় বেশি করে জল পান করা
  • প্রয়োজন না হলে দুপুরের রোদে বাইরে না বেরোনো
  • বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকা

উপসংহার

বাংলার আবহাওয়া এই সময়টাতে এক অদ্ভুত বৈচিত্র্য দেখাচ্ছে। একদিকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পরপরই শুরু হবে তীব্র গরম, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে চলবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর দাপট।

এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, তেমনি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নানা প্রভাব ফেলে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, আগামী কয়েক দিন বাংলার আবহাওয়া বেশ নাটকীয় হতে চলেছে—কখনও বৃষ্টি, কখনও ঝড়, আবার কখনও তীব্র গরম। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হলে সচেতনতা এবং প্রস্তুতিই একমাত্র উপায়।

Preview image