Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অস্ত্র-মাদক সহ ২৮৫ জন আটক, নিউ ইয়ারের আগে দিল্লিতে পুলিশের বড় অভিযান

নতুন বছরের আগে দিল্লিতে অপরাধ দমনে বড়সড় অভিযান চালাল দিল্লি পুলিশ। অপারেশন আঘাত 3.0-এর আওতায় রাজধানী জুড়ে তল্লাশি চালিয়ে ২৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ সামগ্রী। উৎসবের আগে শহরের নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই বিশেষ অভিযান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নতুন বছরের ঠিক আগে রাজধানী দিল্লিতে অপরাধ দমনে এক অভূতপূর্ব অভিযান চালাল দিল্লি পুলিশ। “অপারেশন আঘাত 3.0” নামের এই বিশেষ অভিযানে রাজধানী জুড়ে একযোগে তল্লাশি চালিয়ে ২৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, নিষিদ্ধ সামগ্রী ও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম। দিল্লি পুলিশের দাবি, উৎসবের মরশুমে যাতে কোনওরকম অশান্তি বা অপরাধমূলক ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই এই সুপরিকল্পিত অভিযান চালানো হয়েছে। ‘অপারেশন আঘাত 3.0’ নামের এই বিশেষ অভিযানে নতুন বছরের ঠিক আগে রাজধানী জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে ২৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নানা ধরনের নিষিদ্ধ সামগ্রী। পুলিশের দাবি, এই অভিযান শুধু তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অপরাধচক্রের শিকড়ে আঘাত হানার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।

নতুন বছর মানেই রাজধানীতে বাড়তি ভিড়, রাতভর উদযাপন, পার্টি, আতশবাজি ও জনসমাগম। এই সময় অপরাধের ঝুঁকিও বেড়ে যায় বহু গুণ। সেই আশঙ্কাকে মাথায় রেখেই ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে দিল্লি পুলিশ একাধিক ধাপে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তারই অংশ হিসেবে চালু করা হয় “অপারেশন আঘাত 3.0”। পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে এই অভিযানে অংশ নেন বিভিন্ন থানার পুলিশকর্মী, স্পেশাল সেল, ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ, ব্যবসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে শহরে আসেন। বিশেষ করে বছরের শেষ সময়ে রাজধানীর রাস্তায় মানুষের ভিড় বেড়ে যায় কয়েক গুণ। হোটেল, ক্লাব, পার্টি স্পট ও খোলা জায়গাগুলিতে চলে রাতভর উদযাপন। এই ভিড়ের সুযোগ নিয়েই অনেক সময় সক্রিয় হয় ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও বিভিন্ন অপরাধচক্র। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই দিল্লি পুলিশ আগেভাগে সতর্কতা অবলম্বন করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল বেশ কয়েক সপ্তাহ আগেই। রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকা, সংবেদনশীল অঞ্চল, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং ব্যস্ত বাজার ও নাইটলাইফ জোনগুলো চিহ্নিত করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয় সম্ভাব্য অপরাধীদের একটি তালিকা। সেই তালিকা অনুযায়ী একযোগে অভিযান চালানো হয় বিভিন্ন এলাকায়, যাতে অপরাধীরা পালানোর সুযোগ না পায়।

অভিযান চলাকালীন দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে নাকা চেকিং জোরদার করা হয়। সন্দেহভাজন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, গাড়ি ও বাইকের ভেতর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশি পিস্তল, ছুরি, ধারালো অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিষিদ্ধ নেশাজাত দ্রব্য ও বড় অঙ্কের নগদ অর্থও পাওয়া গেছে। পূর্ববর্তী বছরগুলির তথ্য, অপরাধ পরিসংখ্যান এবং গোয়েন্দা রিপোর্ট খতিয়ে দেখে তৈরি করা হয় একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা। এতে যুক্ত ছিল বিভিন্ন জেলা পুলিশ, স্পেশাল সেল, ক্রাইম ব্রাঞ্চ, নারকোটিক্স ইউনিট এবং ট্রাফিক পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ২৮৫ জনের মধ্যে অনেকেই পুরনো অপরাধী। কেউ জড়িত ছিল ছিনতাই, কেউ মাদক পাচার, কেউ আবার বেআইনি অস্ত্র কারবারের সঙ্গে যুক্ত। নতুন বছরের আগে এই ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পারা রাজধানীর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন। প্রধান সড়ক, অলিগলি, রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা, বাস টার্মিনাল এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাড়ানো হয় পুলিশি নজরদারি। রাতের দিকে অভিযান আরও জোরদার হয়, কারণ পুলিশ জানত, অপরাধীদের একটি বড় অংশ রাতের অন্ধকারকেই ব্যবহার করে।

এই অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মাদকবিরোধী অভিযান। দিল্লি পুলিশ দীর্ঘদিন ধরেই মাদক চক্র ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছে। “অপারেশন আঘাত 3.0”-এর সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে গাঁজা, হেরোইন, সিন্থেটিক ড্রাগস এবং নিষিদ্ধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের মতে, উৎসবের সময় তরুণ সমাজের মধ্যে মাদকের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয় মাদক পাচারকারীরা। তাই আগেভাগেই এই চক্রে আঘাত হানাই ছিল পুলিশের অন্যতম লক্ষ্য। পুলিশের দাবি, অনেকের বিরুদ্ধেই আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। কেউ যুক্ত ছিল বেআইনি অস্ত্র ব্যবসায়, কেউ মাদক পাচারে, কেউ আবার ছিনতাই ও চুরির মতো অপরাধে। নতুন বছরের আগে এই সব অপরাধীকে আটক করতে পারা পুলিশের কাছে বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

অভিযান ঘিরে রাজধানীর সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নতুন বছরের আনন্দ যাতে ভয়ের মধ্যে না কাটে, তার জন্য এমন কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে নারী নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ থাকে, এই ধরনের অভিযান সেই আশঙ্কা অনেকটাই কমাবে বলে মত নাগরিকদের একাংশের। ভিনরাজ্য থেকে আসা মাদক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় গাঁজা, হেরোইন, কোকেন ও সিন্থেটিক ড্রাগ উদ্ধার হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, তরুণদের লক্ষ্য করেই এই মাদক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।

দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, “অপারেশন আঘাত 3.0 শুধুমাত্র একটি দিনের অভিযান নয়। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নতুন বছরের আগে এবং পরে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

news image
আরও খবর

এই অভিযানের সময় প্রযুক্তির ব্যবহারও ছিল উল্লেখযোগ্য। সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি এবং ডিজিটাল ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুলিশ অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়েছে। রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অভিযান অপরাধীদের মনে ভয় সৃষ্টি করে। যখন তারা বুঝতে পারে যে পুলিশ সক্রিয় এবং সতর্ক, তখন অপরাধের প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে। নতুন বছরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই অভিযান অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

তবে সমালোচনার সুরও শোনা গেছে কিছু মহলে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এই ধরনের অভিযান কি দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ কমাতে সক্ষম? পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র গ্রেফতার নয়, অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করাও তাদের লক্ষ্য। এজন্য সামাজিক সচেতনতা, পুনর্বাসন এবং নিয়মিত নজরদারির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযানের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সাধারণ মানুষের মনেও। বহু নাগরিক পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নতুন বছরের রাতে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিশ্চিন্তে সময় কাটানোর জন্য এমন কড়া পুলিশি নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে নারী নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ থাকে, এই ধরনের অভিযান সেই ভয় অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

তবে কিছু মানবাধিকার সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে, এই ধরনের ব্যাপক তল্লাশিতে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন মেনেই সমস্ত অভিযান চালানো হয়েছে এবং নিরীহ নাগরিকদের কোনওভাবে বিরক্ত না করার নির্দেশ ছিল।

রাজনৈতিক মহলেও এই অভিযান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশ পুলিশের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানালেও কেউ কেউ দাবি করেছেন, অপরাধ দমনে আরও স্থায়ী পরিকল্পনা প্রয়োজন। তবে দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা কোনওরকম আপস করবে না।

নতুন বছরের রাতে দিল্লিতে যাতে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করা যায়, সেই লক্ষ্যেই পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা, জননিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে “অপারেশন আঘাত 3.0” দিল্লি পুলিশের একটি বড়সড় ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। ২৮৫ জন গ্রেফতার, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এই অভিযানের সাফল্যের প্রমাণ। নতুন বছরের সূচনালগ্নে রাজধানীর বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ যে কোনও ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত, এই অভিযান তারই স্পষ্ট বার্তা দেয়। তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশ আশা করছে, আগামী দিনে এই অভিযানের মাধ্যমে আরও অনেক অপরাধচক্রের পর্দাফাঁস হবে।

Preview image