টলিউডে সম্পর্কের ওঠাপড়া নতুন নয়, কিন্তু জীতু কমল এবং দিতিপ্রিয়া রায়ের সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত কলহ যতটা প্রকাশ্যে এসেছে, তা গোটা টেলিপাড়াকেই আলোড়িত করে দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই একটি প্রোজেক্টকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে সৃজনশীল মতবিরোধ তৈরি হয়। প্রথমে বিষয়টি কাজের জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে সেই মনোমালিন্য ব্যক্তিগত আবেগে রূপ নেয়। শুটিং সেটে বিব্রত পরিস্থিতি, উপেক্ষার অভিযোগ, অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের দাবি—সব মিলিয়ে দুই শিল্পীর মধ্যে দূরত্ব বাড়ছিল দিনদিন। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় অস্পষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টের মাধ্যমে তাঁদের অভিমান ও ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে আসে। দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রির সদস্যরা তখনই বুঝতে পারেন, সম্পর্কের ভাঙন আর শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেই। দিতিপ্রিয়ার একটি সাক্ষাৎকারে সম্মানহানির অভিযোগ উঠে আসে, আর তার পরেই জীতুর পাল্টা পোস্টে ‘সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস’ নিয়ে মন্তব্য—দু’জনের বিরোধ স্পষ্ট হয়ে পড়ে সবার চোখে। প্রযোজক ও পরিচালকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এই কলহ ইতিমধ্যেই কয়েকটি পরিকল্পিত প্রোজেক্টে প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে একটি ব্র্যান্ড ইভেন্টে দিতিপ্রিয়ার শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানো জল্পনা আরও বাড়িয়ে দেয়। টেলিপাড়ার অভ্যন্তরে সিনিয়র শিল্পীরা সমঝোতার চেষ্টা করছেন, কারণ তাঁদের মতে এই উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদে ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবে দর্শকেরা হতাশ—প্রিয় দুই তারকার ব্যক্তিগত বিবাদ তাঁদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়েও সন্দেহ তৈরি করেছে। আপাতত টলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—জীতু-দিতিপ্রিয়ার এই কোন্দলের শেষ কোথায়।
টলিউডে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, মতবিরোধ—এসব নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জীতু কমল এবং দিতিপ্রিয়া রায়ের মধ্যকার ব্যক্তিগত বিবাদ যতটা প্রকাশ্যে এসেছে, ততটাই যেন উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা টেলিপাড়া। দু’জনেই জনপ্রিয়, দু’জনেই প্রতিশ্রুতিশীল, এবং দু’জনেরই অনুগামী সংখ্যা বিপুল। তাই তাঁদের ব্যক্তিগত কলহে যে বিনোদন শিল্পে এমন আলোড়ন সৃষ্টি হবে, তা অবাক করার মতো নয়। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—অভ্যন্তরীণ এই বিবাদ কীভাবে এতদূর গড়াল? কেনই বা প্রকাশ্যে আসতে বাধ্য হল তাদের মনোমালিন্য? আর সবচেয়ে বড় কথা—এই বিতর্ক টলিউডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে? ঘটনার সূত্রপাত কয়েক সপ্তাহ আগেই। শোনা যাচ্ছে, একটি প্রোজেক্টকে কেন্দ্র করে জীতু ও দিতিপ্রিয়ার মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। প্রথমে সেটি খুবই ব্যক্তিগত স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল। টিমের সদস্যরা বলছেন, শুটিং সেটে দু'জনের মধ্যে বিব্রত পরিস্থিতি তৈরি হতো, তবে কোনও উত্তপ্ত কথা বা বড়সড় ঝগড়া সে সময় শোনা যায়নি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায়। যখন ব্যক্তিগত মনোমালিন্য কাজের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই সেই চাপ অনুভব করেন। একটি সূত্র জানায়, মতবিরোধের কেন্দ্রে ছিল একটি চরিত্র নিয়ে সৃজনশীল বিভ্রান্তি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কাদের নেওয়া উচিত, কার মত গ্রহণযোগ্য হবে—এই বিষয়ে দুই শিল্পীর অবস্থান ক্রমশ কঠোর হতে শুরু করে। দিতিপ্রিয়া লিখিতভাবে অভিযোগ করেন যে তাঁর পরামর্শ উপেক্ষা করা হচ্ছে, অন্যদিকে জীতুর ঘনিষ্ঠ মহল বলে, দিতিপ্রিয়া নাকি অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছিলেন। কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, কিন্তু প্রযোজনা সংস্থার অভ্যন্তরে এই খবর আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এতদিন পর্যন্ত যা গুঞ্জন ছিল, সেটাই যেন প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হয় যখন দু’জনের তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অস্পষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দেখা যেতে শুরু করে। পোষ্টগুলোতে কারওই নাম উল্লেখ নেই, কিন্তু অভিমান, অভিযোগ, সম্পর্কের দূরত্ব—সবই স্পষ্ট। দর্শকদের একাংশ তখন থেকেই বুঝতে পারেন, টলিউডের নতুন একটি ঝড় যেন আসতে চলেছে। যা হওয়ার তাই হলো—একদিন হঠাৎ দিতিপ্রিয়ার একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘‘কাজ করার সময় পেশাদার সম্পর্কের পাশাপাশি সম্মান বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। সবাই সেটা বজায় রাখতে পারে না।’’ যদিও তিনি কখনও কোনো নাম নেননি, তাঁর মন্তব্যের পরই টেলিপাড়ায় কানাঘুষো শুরু হয়—এ মন্তব্য কি জীতুকে উদ্দেশ্য করেই করা? ঠিক তার পরদিনই জীতুও একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোষ্ট দেন—‘‘মিথ্যের ওপর সম্পর্ক কখনও দাঁড়ায় না। সত্যির মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস সবার থাকে না।’’ এভাবেই ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব যেন প্রকাশ্যে এসে পড়ে। দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল উস্কে ওঠে—আসলে ঘটছে কী? কেনই বা সম্পর্কের অবনতি? শিল্পীদের কাছ থেকেও ভিন্ন মত শোনা যায়। কিছু সিনিয়র অভিনেতা বলেন, ‘‘আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ব্যক্তিগত ক্ষোভ সহজেই বাইরে চলে আসে। তরুণ শিল্পীদের উচিত আবেগ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা নেওয়া।’’ আবার অন্য এক অভিনেত্রীর মতে, ‘‘জীতু-দিতিপ্রিয়ার মধ্যে যা হয়েছে তা পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি থেকেও হতে পারে। কিন্তু এই বিষয়গুলো টেনে বাইরে আনলে ক্ষতি শুধু তাঁদেরই নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রির।’’ এই পরিস্থিতিতে প্রযোজনা সংস্থাগুলিও অস্বস্তিতে পড়েছে। কারণ সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রোজেক্টে দু’জনকে একসঙ্গে কাস্ট করার পরিকল্পনা ছিল। এখন সেই পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে। কেউই প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে চাননি, তবে টলিউডের এক প্রযোজক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন—‘‘দু’জনই খুব প্রতিভাবান শিল্পী। কিন্তু কাজের জায়গায় মতবিরোধ থাকলে সেটার সমাধান প্রথমেই আনা প্রয়োজন। নাহলে পুরো টিম বিপাকে পড়ে।’’ ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয় যখন জানা যায়, একটি ব্র্যান্ড ইভেন্টে দু'জনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে দিতিপ্রিয়া নাকি নিজেকে সরিয়ে নেন। এর পরই এই জল্পনা আরও গাঢ় হয়—দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে একই ফ্রেমে থাকা পর্যন্ত তাঁরা অনিচ্ছুক। তবে শিল্পী মহলের অনেকে মনে করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভেঙে গেলেও একজন পেশাদার শিল্পীর উচিত ব্যক্তিগত বিষয়কে আলাদা রাখা। একজন পরিচালক বলেন, ‘‘আমরা সবাই একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি। তিক্ততা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা যেন পেশাদার সিদ্ধান্তে প্রভাব না ফেলে।’’
অন্যদিকে দর্শকেরা বলছেন, দুই প্রিয় শিল্পীর এমন প্রকাশ্য বিরোধ দেখে তাঁরা হতাশ। অনেকে মন্তব্য করছেন—‘‘এই দুই জনের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি দারুণ। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন কাজের ওপর প্রভাব ফেললে সেটা দর্শকেরই ক্ষতি।’’ সোশ্যাল মিডিয়া আরও আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। কেউ জীতুর পাশে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ দিতিপ্রিয়ার। কেউ বলছেন দিতিপ্রিয়া নাকি অতিরিক্ত সেন্টিমেন্টাল, কেউ আবার মনে করেন জীতু অহংকারী হয়ে পড়েছেন। কিন্তু আসল সত্যিটা কী? সত্যিই কি দুই তারকার মনোমালিন্য এই পর্যায়ে পৌঁছেছে? ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সম্পর্কের তিক্ততা শুধু পেশাদার কারণে নয়, ব্যক্তিগত ভুল বোঝাবুঝিও রয়েছে সেই তালিকায়। একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, ‘‘ওদের দু’জনের বন্ধুত্ব বরাবরই গভীর ছিল। তাতে ভাঙন ধরতেই এই তিক্ততা বেড়েছে।’’ কারও মতে, বন্ধুত্বের জায়গায় অবিশ্বাস জায়গা করে নিয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন, দু’জনের ব্যক্তিগত জীবনে কিছু পরিবর্তনের কারণে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যা-ই হোক, টলিউড আজ যে এই বিতর্কে টালমাটাল, তা বলাই বাহুল্য। জীতু এবং দিতিপ্রিয়া দু’জনেই নতুন প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন দর্শকদের আবেগকেও প্রভাবিত করছে। এদিকে টেলিপাড়ার অভ্যন্তরে এই বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে। নেপথ্যে আছেন কিছু সিনিয়র শিল্পী ও পরিচালক। তাঁরা চান, দু’জনের সম্পর্ক আবার আগের মতো স্বাভাবিক হোক। কারণ এই উত্তেজনা শুধু দুই শিল্পীর কাজ নয়, টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক পরিবেশকেও প্রভাবিত করছে। অনেকে মনে করেন, এ ধরনের কলহ হয়তো অস্থায়ী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি যেভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে, তা টলিউডের জন্য শুভ সংকেত নয়। কাজের পরিবেশ, সহকর্মীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পেশাদারিত্ব—সবই এই বিতর্কে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তবে এর মধ্যেও আশার আলো দেখছেন কেউ কেউ। তাঁদের মতে, দু’জনেই তরুণ, সফল এবং ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে সচেতন। তাই আবেগের বশে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, শেষ পর্যন্ত তাঁরা পরিপক্বতার পথেই হাটবেন। অনেকে বলেন—‘‘টলিউডে অহং, ঈর্ষা, রাজনীতি সবই আছে। কিন্তু দিনের শেষে সবাই কাজই করে। কাজই মানুষকে জুড়ে দেয়।’’ শেষ পর্যন্ত কি হবে? সময়ই বলবে। তবে আপাতত এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জীতু ও দিতিপ্রিয়া, আর তাঁদের মধ্যকার এই কোন্দলই টেলিপাড়ায় নতুন ‘ডিবেট টপিক’। একদিকে সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল, অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে উদ্বেগ—এই দ্বন্দ্বে যেন দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত। সব মিলিয়ে, টেলিপাড়ার এই ব্যক্তিগত কলহ টলিউডের স্বাভাবিকতার ওপরই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সম্পর্কের টানাপোড়েন, অহংকার, ভুল বোঝাবুঝি এবং প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়ার মিশ্রণে একটি তুফান তৈরি হয়েছে। দর্শক, শিল্পী, প্রযোজনা সংস্থা—সবার নজর এখন জীতু ও দিতিপ্রিয়ার দিকে। তাঁরা নিজেরাই ঠিক করবেন, এই সম্পর্কের গল্প এখানেই শেষ, নাকি নতুন মোড় নেবে। দিতিপ্রিয়ার একটি সাক্ষাৎকারে সম্মানহানির অভিযোগ উঠে আসে, আর তার পরেই জীতুর পাল্টা পোস্টে ‘সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস’ নিয়ে মন্তব্য—দু’জনের বিরোধ স্পষ্ট হয়ে পড়ে সবার চোখে। প্রযোজক ও পরিচালকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এই কলহ ইতিমধ্যেই কয়েকটি পরিকল্পিত প্রোজেক্টে প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে একটি ব্র্যান্ড ইভেন্টে দিতিপ্রিয়ার শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানো জল্পনা আরও বাড়িয়ে দেয়। টেলিপাড়ার অভ্যন্তরে সিনিয়র শিল্পীরা সমঝোতার চেষ্টা করছেন, কারণ তাঁদের মতে এই উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদে ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবে দর্শকেরা হতাশ—প্রিয় দুই তারকার ব্যক্তিগত বিবাদ তাঁদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়েও সন্দেহ তৈরি করেছে। আপাতত টলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—জীতু-দিতিপ্রিয়ার এই কোন্দলের শেষ কোথায়। দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রির সদস্যরা তখনই বুঝতে পারেন, সম্পর্কের ভাঙন আর শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেই।