Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভাইফোঁটায় কোয়েল মল্লিকের কন্যা কাব্যের চমক! মায়ের কোলে বসে দাদা কবীরকে ফোঁটা দিল ছোট্ট রাজকন্যা

দুর্গাপুজোর পর ফের একসঙ্গে মল্লিক পরিবার। ভাইফোঁটার সকালে কোয়েল মল্লিকের মেয়ে কাব্যের প্রথম ফোঁটা দাদার কপালে— ভালোবাসায় ভরা সেই মুহূর্তে মুগ্ধ নেটিজেনরা।

ভাইফোঁটার সকালে মল্লিক পরিবারে খুশির আমেজ, কাব্যের মিষ্টি মুহূর্তে মাত সোশ্যাল মিডিয়া

দুর্গাপুজো শেষ হতে না হতেই শহরের আকাশে যেন অন্য এক উৎসবের গন্ধ। বিজয়ার পর বাংলার ঘরে ঘরে যখন ভাইবোনেদের হাসি, খাওয়া-দাওয়া আর মিষ্টির ভাগাভাগি শুরু হয়, তখনই মল্লিক পরিবারের বাড়িতেও ফিরে আসে সেই চেনা উষ্ণতা। রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে বছরের এই সময়টা মানেই নতুন উদ্যম, পারিবারিক আনন্দ আর অন্তহীন ভালোবাসা। আর এবার সেই ভালোবাসার কেন্দ্রে ছিলেন পরিবারের নতুন সদস্য— কোয়েল মল্লিকের কন্যা, ছোট্ট কাব্য।

প্রথম প্রকাশ্যে কাব্যের আবির্ভাব

গত দুর্গাপুজোর সপ্তমীতে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে কোয়েল মল্লিক ও নিসপাল সিং রানের মেয়ের মুখ। এতদিন যাকে ভক্তরা শুধু কোয়েলের পোস্টের আড়ালে, বা পর্দার পিছনের ইঙ্গিতে দেখেছেন, সে দিনেই ছোট্ট কাব্য যেন হয়ে উঠেছিল শহরের নতুন প্রিয় মুখ। মিষ্টি হাসি, দুটো ঝুঁটি আর নির্ভেজাল চোখে কৌতূহলের ছোঁয়া— মুহূর্তেই মন জয় করেছিল সকলের। সেই থেকেই যেন মল্লিক পরিবারের এই খুদে সদস্য আরও কাছের হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের কাছে।

ভাইফোঁটার সকালে মধুর দৃশ্য

এবারের ভাইফোঁটার সকালে সেই কাব্যকেই দেখা গেল এক অন্য রূপে। গোলাপি রঙের লেহেঙ্গায় সেজে, মাথায় দুটো ঝুঁটি, চোখেমুখে অগাধ নিষ্পাপ আনন্দ— মায়ের কোলে বসে দাদা কবীরকে ফোঁটা দিচ্ছে ছোট্ট রাজকন্যা। কোয়েল নিজেই সেই মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবির ক্যাপশনটিও ছিল যথাযথ— “আমাদের ছোট্ট ভালোবাসা, ভাইবোনের প্রথম বন্ধন।”
ছবিটি প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়া ভরে ওঠে শুভেচ্ছা, প্রশংসা আর হাসিমুখে। নেটিজেনরা লিখেছেন, “এই ভালোবাসাই বাংলার আসল চেহারা”, “দারুণ সুন্দর লাগছে কাব্যকে”, “কোয়েলের চোখেমুখে যেন মায়ের ছায়া”।

পরিবারের একত্রতা

মল্লিক বাড়িতে ভাইফোঁটার দিনটি ছিল পুরোপুরি উৎসবের আমেজে ভরা। কোয়েল মল্লিক, তাঁর স্বামী নিসপাল সিং রানে, তাঁদের দুই সন্তান কাব্য ও কবীর— সকলে মিলেই দিনটিকে বিশেষ করে তুলেছিলেন। রঞ্জিত মল্লিক নিজেও উপস্থিত ছিলেন, হাসিমুখে মেয়ের কাছ থেকে ফোঁটা নিচ্ছেন— এমন দৃশ্যই যেন বলে দিচ্ছিল, সময় বদলালেও ভালোবাসার ঐতিহ্য কখনও বদলায় না।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। কোয়েলের কাকিমা, ভাই-বোনেরা— সকলেই একসঙ্গে বসে হাসিঠাট্টায় কাটিয়েছেন দিনটি। কোয়েল নিজেও দাদাদের ফোঁটা দিয়েছেন, ছোটবেলার সেই স্মৃতিগুলোকেও নতুন করে ফিরে পেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোয়েল লিখেছেন, “আজও মনে পড়ে ছোটবেলায় কেমন করে আমি আর দাদারা সারাদিন উৎসব করতাম। এখন সময় বদলেছে, কিন্তু আনন্দটা এক রকম রয়ে গেছে।”

শৈশবের রঙে মেতে কোয়েল

কোয়েল মল্লিকের জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে তাঁর পরিবার। যত ব্যস্ত থাকুন না কেন, প্রতি বছরই দুর্গাপুজো ও ভাইফোঁটার সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। কোয়েল সবসময় বলেছেন, পরিবারের ভালোবাসাই তাঁর জীবনের শক্তি।
ভাইফোঁটার সকালে তাই তাঁকে দেখা গেল ঠিক ছোটবেলার মতো উচ্ছ্বসিত। রঞ্জিত মল্লিক, যিনি বাংলা চলচ্চিত্রের এক জীবন্ত কিংবদন্তি, তিনিও মেয়ের উৎসাহে মেতে উঠেছিলেন।
কোয়েল জানান, “এই দিনটা আমার কাছে খুব আবেগের। ছোটবেলায় বাবাকে ভাইফোঁটা দিতে পারতাম না, কারণ বাবা আমার দাদা নয়। কিন্তু এখন যখন দেখি কাব্য দাদাকে ফোঁটা দিচ্ছে, তখন নিজের ছোটবেলা যেন ফিরে পাই।”

কাব্য ও কবীরের বন্ধন

দাদা কবীরের সঙ্গে কাব্যের সম্পর্কও বেশ মজার। কোয়েল ও রানের পুত্র কবীরের বয়স কিছুটা বেশি, তাই সে বুঝতে পারে এই আচার-অনুষ্ঠানের গুরুত্ব। কিন্তু কাব্যের কাছে এটি নিছক খেলার দিন। তবু মায়ের কোলে বসে, হাসতে হাসতে, দাদার কপালে তিলক এঁকে দিচ্ছিল সে।
কবীরও তাতে খুশি— তার প্রিয় খেলার সঙ্গী এখন সেই ছোট্ট বোনই। কোয়েল হাসতে হাসতে বলেন, “ওরা দু’জন একসঙ্গে থাকলে ঘর ভরে যায় শব্দে, হাসিতে, অস্থিরতায়— কিন্তু ওটাই তো আসল আনন্দ।”

এই ভাইবোনের মুহূর্তকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘নিখাদ ভালোবাসার ছবি’ বলেই বর্ণনা করেছেন নেটিজেনরা। কেউ লিখেছেন, “কাব্যের চোখে যে মমতা, তা একদিন কোয়েলের মধ্যেও দেখেছি।” আবার কেউ বলেছেন, “রঞ্জিতবাবুর নাতনিকে দেখে মনে হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মও সমান মিষ্টি।”

বাংলা তারকাদের শুভেচ্ছা

শুধু সাধারণ মানুষই নন, টলিউডের তারকারাও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কোয়েল ও রাণেকে। অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি লিখেছেন, “কাব্য একেবারে পুতুলের মতো! ভাইফোঁটা মানেই ভালোবাসা, আর তোমাদের পরিবারে সেটা দেখলেই মন ভরে যায়।”
অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়ও মন্তব্য করেছেন, “রঞ্জিতদার মুখে হাসি দেখে বুঝলাম, পরিবারই আসল শক্তি।”
টলিউডের আরও অনেক তারকা— মিমি চক্রবর্তী, নুসরৎ জাহান, তনুশ্রী চক্রবর্তী— সকলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসা জানিয়েছেন কাব্যের জন্য।

news image
আরও খবর

কোয়েল মল্লিক: মা, অভিনেত্রী ও নারী

কোয়েল মল্লিক আজ শুধু জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন, বরং এক উষ্ণ মা, দায়িত্বশীল কন্যা ও ভালোবাসায় ভরা এক মানুষ। মা হওয়ার পর থেকেই তাঁর জীবনের অগ্রাধিকার বদলে গেছে। সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো, পরিবারকে সময় দেওয়া— এগুলোই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
এক সাক্ষাৎকারে কোয়েল একবার বলেছিলেন, “শিল্পী হিসেবে আমি যতটুকু অর্জন করেছি, মা হিসেবে আমি আরও বেশি শিখেছি। সন্তানরা আমাকে ধৈর্য, ভালোবাসা আর নিঃস্বার্থতার মানে শিখিয়েছে।”

এই ভাইফোঁটার মুহূর্তে কোয়েলের সেই মাতৃত্ব যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। কাব্যের হাত ধরে তিনি যেন প্রমাণ করলেন, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ভূমিকা হলো মা হওয়া।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার ঢল

কোয়েলের শেয়ার করা ছবিগুলির কমেন্ট সেকশন ভরে উঠেছে শুভেচ্ছায়। এক ভক্ত লিখেছেন, “এমন ছবিই দেখলে মন ভরে যায়। এই সময়ের দৌড়ঝাঁপের মাঝে এমন পারিবারিক দৃশ্য খুব দরকার।”
আরেকজন লিখেছেন, “কোয়েল, তুমি শুধু ভালো অভিনেত্রী নও, তুমি একজন দারুণ মা। কাব্যকে সব সময় এমন হাসিখুশি রেখো।”

মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই পোস্টে লাইক ও শেয়ারের সংখ্যা ছুঁয়ে যায় লাখের ঘর। সংবাদমাধ্যমগুলিও ছবিগুলি তুলে ধরে শিরোনামে— “মল্লিক বাড়িতে ভাইফোঁটার আনন্দ, কাব্যের মিষ্টি মুহূর্তে মাত নেটপাড়া।”

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন

আজকের প্রজন্মে যখন অনেকেই উৎসবের ঐতিহ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, তখন কোয়েল ও তাঁর পরিবার সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। রঞ্জিত মল্লিক বহুবার বলেছেন, “আমাদের সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”
এই ভাইফোঁটার সকালে তাই মল্লিক পরিবারে শুধু আচার নয়, ছিল এক গভীর বার্তাও— ভালোবাসা, ঐক্য আর প্রজন্মান্তরের বন্ধন।

কাব্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা

ভক্তদের মধ্যে এখন থেকেই প্রশ্ন, ছোটবেলায় যেমন কোয়েল পর্দায় সকলের প্রিয় ছিলেন, তেমনি কি একদিন কাব্যও অভিনয়ের জগতে আসবে?
কোয়েল অবশ্য হাসতে হাসতে বলেন, “ও এখনো খেলনা আর আঁকিবুকির দুনিয়ায় আছে। ওর জীবনের প্রথম ও একমাত্র কাজ এখন আনন্দ করা। ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যতেই ভাবব।”

তবে কাব্যের মিষ্টি মুখ আর প্রকাশভঙ্গি দেখে অনেকে বলছেন, “এ তো মল্লিক পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের তারকা।”

ভাইফোঁটা শুধু একটি আচার নয়, এটি এক গভীর সম্পর্কের প্রতীক— ভাইবোনের চিরন্তন বন্ধন। কোয়েল মল্লিকের পরিবারের এই দিনটি যেন সেই বন্ধনেরই প্রতিরূপ। মা, কন্যা, ভাই, দাদা— প্রত্যেকে মিলেমিশে যেন সাজিয়ে তুলেছিলেন ভালোবাসার এক রঙিন ছবি।
রঞ্জিত মল্লিকের হাসিমুখ, কোয়েলের উচ্ছ্বাস, কাব্যের মিষ্টি অভিব্যক্তি আর কবীরের আদুরে উপস্থিতি— সব মিলিয়ে যেন এক নিখুঁত পারিবারিক মুহূর্ত।

যেখানে গ্ল্যামার, খ্যাতি, আলো— সবকিছুর ওপরে জায়গা নেয় শুধুই ভালোবাসা ও পরিবার।
আর সেই কারণেই হয়তো এই ভাইফোঁটার সকালে মল্লিক বাড়ির ছবিগুলি হয়ে উঠেছে সারা বাংলার হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি।

Preview image