Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সম্ভাবনার ডানা মেলছে টলিপাড়ার নতুন জুটি: দুবাই যাত্রায় ফের জল্পনার ঝড় সাহেব–সুস্মিতা

দুবাই বিমানবন্দরে একসঙ্গে দেখা গেল সাহেব ভট্টাচার্য ও সুস্মিতা দে ছবিই বাড়াল সম্পর্কের জল্পনা।টলিউড অ্যাওয়ার্ড শো নাকি ঘুরতেদুবাই যাত্রা ঘিরে কৌতূহল তুঙ্গে।কথা ধারাবাহিক থেকে শুরু ঘনিষ্ঠতা, বাগদানের কানাঘুষো উড়িয়েও থামছে না আলোচনা।

দুবাই উড়ানে সাহেব–সুস্মিতা: টলিপাড়ায় ফের তুঙ্গে সম্পর্কের জল্পনা

কলকাতা বিমানবন্দরের এক টুকরো সকাল যেন মুহূর্তেই বদলে দিল টলিপাড়ার পরিবেশ। শনিবার সকালে বিমানবন্দরে দেখা গেল জনপ্রিয় অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য এবং অভিনেত্রী সুস্মিতা দে–কে। দু’জনকে একসঙ্গে দেখার পর থেকেই দর্শক, অনুরাগী ও ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে-বাইরে জল্পনা যেন আরও উচ্চকিত। দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়া এই জুটিকে দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এ কি শুধুই কাজের টানে যাত্রা, নাকি ‘বন্ধুত্ব’-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে নতুন কোনও অধ্যায়ের সূচনা?

গত কয়েক মাস ধরে এই দুই তারকাকে ঘিরে নানা আলোচনার ঝড় উঠেছে। শ্যুটিং ফ্লোর থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া—যেখানেই তাঁদের দেখা গেছে, সেখানে গল্প-গুজবের মাত্রা দ্রুত বেড়েছে। যদিও দুজনেই সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলতে বরাবরই অনাগ্রহ দেখিয়েছেন, তবুও তাঁদের আচরণ, উপস্থিতি এবং কথার আড়ালে তৈরি হয়েছে এক বিশেষ রহস্যবৃত্ত।

বিমানবন্দরের সকাল: ছবিতে জমাট বাঁধা কৌতূহল

শনিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরের আগমনী-প্রস্থানের ভিড়ের মধ্যেই চোখে পড়ে দুই পরিচিত মুখ। সাহেব ভট্টাচার্য—টলিউডের স্থির ও পরিশীলিত অভিনয়ের অন্যতম ভরসা—একেবারে অল-ব্ল্যাক লুকে। তার সঙ্গে গলায় নীল স্কার্ফ, যা তাঁর লুককে আরও উজ্জ্বল করেছে। অন্যদিকে সুস্মিতা—গোলাপি টপ, ডেনিম কুর্তা আর প্যান্টে একেবারে ক্যাজুয়াল-চিক লুকে ঝলমল করছিলেন।

মুহূর্তের মধ্যেই এই দু’জনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কেউ লিখেছেন, “এবার কি অফিসিয়াল ঘোষণা আসছে?”, তো কেউ বলছেন, “দুবাই মানেই আবার নতুন খবর।” বিমানবন্দর থেকে সাহেবের শেয়ার করা ছবিতেও দেখা যায় সুস্মিতাকে। আর সেখান থেকেই ফের জল্পনার আগুনে ঘি পড়ে।

সহযোগীরা উড়ো ফিসফিস করে বলেন, “ওরা দুজনে একসঙ্গে গেলেই তো মানুষ ধরে নেয় কিছু একটা আছে। কিন্তু ওরা কিছুই কখনও স্পষ্ট করে না।” ফলে ধাঁধা আরও বাড়ছে।

দুবাই সফর—কাজ না কি ছুটি?

শোনা যাচ্ছে, দুবাইতে টলিউডের একটি বড়সড় অ্যাওয়ার্ড শো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ইন্ডাস্ট্রির বহু তারকাই এই বিশেষ ইভেন্টে যোগ দিতে পারেন বলে খবর। সাহেব ও সুস্মিতা কি সেই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি? নাকি তারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছেন?

এমনকি অনেকে বলছেন, শো-র পাশাপাশি তাঁরা হয়তো কয়েক দিনের ছুটিও কাটাতে পারেন। দুবাই মূলত উৎসব, শপিং এবং বিনোদনের স্বর্গ। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পর্যটক সেখানে যান। আর দুজনের ব্যস্ত শুটিং সূচির ফাঁকে কয়েকদিনের ছুটি কাটানোর ভাবনাটা খুব অযৌক্তিক নয়।

তবে আবার অনেকে বলছেন—যে দু’জন একসঙ্গে এত কম দেখা দেন, তাঁদের হঠাৎই একসঙ্গে বিদেশ যাত্রা কি শুধুই কাজের জন্য? হতেই পারে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

‘কথা’ ধারাবাহিক: সম্পর্কের সূচনা পয়েন্ট?

স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কথা’–তেই প্রথম একসঙ্গে কাজ করেন সাহেব ভট্টাচার্য ও সুস্মিতা দে। শুটিংয়ের দীর্ঘ দিনগুলোর মধ্যে তাঁদের মধ্যে তৈরি হয় গভীর বন্ধুত্ব। পরিচালকেরা বলেন, কাজের প্রতি ওদের ডিসিপ্লিন, কমিটমেন্ট এবং পরস্পরের প্রতি সম্মান খুবই প্রশংসনীয়। দু’জনের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি দর্শকদের মন জয় করেছিল।

ধারাবাহিকের সেট থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতার খবর উঠে আসতে শুরু করে। মাঝে-মধ্যেই দু’জনকে একসঙ্গে আড্ডায় বা শুটিং-পরবর্তী আউটিংয়ে দেখা যেত। কিন্তু সেসবকেই তাঁরা বন্ধুত্ব বলেই ব্যাখ্যা করেছেন সবসময়।

একটি সাক্ষাৎকারে সুস্মিতা একবার বলেছিলেন, “সাহেবদা খুব ভালো মানুষ। কাজের জায়গায় খুব সহযোগিতাপরায়ণ। আমাদের বন্ধুত্বটা খুব পরিষ্কার।”

অন্যদিকে সাহেব বলেছিলেন, “সুস্মিতা খুব প্রতিভাবান। আমরা দুজনে ভালো বন্ধু, এর বেশি কিছু নয়।”

তবে দর্শক বা অনুরাগীরা কথাগুলো মানলেও তাঁদের উপস্থিতির রসায়নে কিছু রহস্য লুকিয়ে আছে বলেই মনে করেছেন অনেকে।

জন্মদিনের মিষ্টি বার্তা—জল্পনায় নতুন রঙ

এ বছর সাহেব ভট্টাচার্যের জন্মদিনে সুস্মিতার শেয়ার করা একটি বিশেষ বার্তা নিয়ে শুরু হয় আরও বেশি আলোচনা। তিনি লিখেছিলেন—
“May you shine always. You deserve all the happiness in the world.”

সঙ্গে একটি হৃদয়ছোঁয়া ছবি। অনুরাগীরা তখনই বলেছিলেন—এত ভালোবাসা কি শুধুই বন্ধুত্ব?

অনেকেই সেই পোস্টকে তাঁদের সম্পর্কের সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।

বাগদানের কানাঘুষো—কী সত্য, কী গুজব?

টলিপাড়ার ভিতরে গত কয়েক সপ্তাহের আরও একটি গুঞ্জন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল—সাহেব ও সুস্মিতা নাকি বাগদান সেরে ফেলেছেন!

নানা সূত্রে দাবি করা হচ্ছিল, সামান্য কিছুদিন আগেই একটি নিরিবিলি অনুষ্ঠানে তাঁদের আংটি বদল হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছার বন্যা বইতে শুরু করে। কেউ লিখেছিলেন—“অবশেষে অফিসিয়াল!”, কেউ আবার বলছিলেন—“দুজনকে শুভেচ্ছা, দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছিলাম।”

তবে সেই দাবিকে পরে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেন সুস্মিতা। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন, “আমরা কিছু বলিনি, অন্যেরা বলছেন। গুজবের কোনও ভিত্তি নেই।”

news image
আরও খবর

সাহেবও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তাঁর নীরবতা অনেককেই ভাবিয়েছে—নীরবতাই কি স্বীকারোক্তির আরেক রূপ? নাকি তিনি কেবল ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না?

ব্যক্তিগত জীবন বনাম পাবলিক ইমেজ

টলিউডের বহু তারকাই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই সংযমী। সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে বলে আলোচনা বাড়াতে চান না অনেকেই। সাহেব এবং সুস্মিতা সেই দিক থেকেই বেশ সাদামাটাভাবে জীবন কাটান। সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত প্রচার করেন না।

ইন্ডাস্ট্রি বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয় তারকাদের সম্পর্ক নিয়ে মানুষ স্বভাবতই কৌতূহলী। কিন্তু একই সঙ্গে সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, স্পেস এবং প্রাইভেসিকেও সম্মান করা জরুরি। তাঁদের বন্ধুত্বকে যে অংশ বিশেষ ভক্ত মহল প্রেম বলে ব্যাখ্যা করছেন, তার প্রমাণ কিন্তু কখনোই প্রকাশ্যে আসেনি।

দুবাই যাত্রা: জল্পনার আগুনে নতুন স্ফুলিঙ্গ

যদিও বাগদান বা প্রেমের গুঞ্জনকে তাঁরা দু’জনেই বারবার নস্যাৎ করেছেন, তবুও দুবাইয়ে তাঁদের একসঙ্গে যাত্রা আবারও নতুন করে সব সন্দেহকে উসকে দিয়েছে।

মানুষ ভাবছেন—

  • দু’জন কি অবশেষে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

  • নাকি কেবল কাজের প্রয়োজনেই তাঁরা বিদেশে যাচ্ছেন?

  • নাকি একান্তই বন্ধুত্বের ভিত্তিতেই এই সফর?

সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্যও দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন—“ছবিতে ওদের চোখে অন্যরকম উজ্জ্বলতা।” আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, “যদি শুধুই বন্ধুত্ব, তাহলে এতো গোপনীয়তা কেন?”

টলিপাড়ার দৃষ্টিভঙ্গি

টলিউডের অভিজ্ঞদের মতে, সাহেব ভট্টাচার্য বরাবরই শান্ত, অত্যন্ত ব্যক্তিগত মানুষ। তিনি কাজ নিয়ে উত্তেজিত থাকেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নয়। আর সুস্মিতা দে, যিনি খুব দ্রুতই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, তিনিও আলোচনা এড়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

তাঁদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র আবার বলছে—“ওরা দুজনে একসঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। কিন্তু ওরা নিজেদের নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রচার চান না। তাই কোনও লেবেল দিতে বা ঘোষণা করতে চান না।”

মাঝেমধ্যে ইন্ডাস্ট্রির মানুষদেরও দেখা যায় এই বিষয়ে মন্তব্য করতে। অনেকে মজা করে বলেন—“জল্পনা থাকলে মন্দ কি? মাঝে-মধ্যে রঙিন গল্পও তো ইন্ডাস্ট্রিকে প্রাণ দেয়!”

বন্ধুত্ব না কি আরও কিছু?

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো কেবল দুই তারকাই জানেন। হয়তো সত্যিই তাঁদের সম্পর্ক ‘বন্ধুত্ব’-এর সীমানা ছাড়ায়নি। আবার হয়তো তাঁরা সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছেন প্রকাশ্যে বলার জন্য।

যে যাই বলুক, তাঁদের একসঙ্গে উপস্থিতি যে ভক্তদের মধ্যে উষ্ণতা ছড়াচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পর্দায় তাঁদের কেমিস্ট্রি যেমন মন জয় করেছে, বাস্তবেও তাঁদের দু’জনকে একসঙ্গে দেখলে মানুষের আশাবাদ বাড়ে।

তবে কোনও তাড়াহুড়ো বা অনুমান না করাই আজকের দিনে সঠিক। ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই তাঁদের অধিকার।

সমাপ্তি: দুবাই সফর কি নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

কলকাতা থেকে দুবাই, দু’জনের সেই যাত্রা নেহাতই পেশাগত হতে পারে। আবার এটাও হতে পারে, তাঁরা দু’জনেই একটু সময় কাটাতে চাইছেন ব্যস্ত জীবনের বাইরে।

কিন্তু একটি ব্যাপার পরিষ্কার—তাঁরা একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হলেই মানুষের মন উচ্ছ্বসিত হয়। দুবাই সফর তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ বদলাবে কি না, তা সময়ই বলবে।

তবে টলিপাড়া এখন একটাই প্রশ্নে সরগরম—
“এ বার কি ‘বন্ধুত্ব’ ছেড়ে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন সাহেব–সুস্মিতা?”

সম্ভবত উত্তর এখনো আড়ালেই।
তবুও তাঁদের যাত্রা টলিউডে যে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে, তা নিঃসন্দেহ।

Preview image