Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দিল্লি বিস্ফোরণ: এমন জায়গায় হামলা করা হবে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রভাব পড়বে! পরিকল্পনা ছিল চিকিৎসক উমরের

তদন্তকারী এক সূত্রের দাবি, কোথায় হামলা করা হবে, তা নিয়েই দলের অন্দরে মতভেদ তৈরি হয়েছিল। একদল চাইছিল, দেশের সাধারণ মানুষের যেন কোনও ক্ষতি না হয়। তারা চাইছিল, হামলা জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে সীমিত থাকুক।দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে নয়া তথ্য উঠে এল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র হাতে। তদন্তকারী এক সূত্রের দাবি, কোথায় হামলা করা হবে, তা নিয়েই দলের অন্দরে মতভেদ তৈরি হয়েছিল। একদল চাইছিল, দেশের সাধারণ মানুষের যেন কোনও ক্ষতি না হয়। তারা চাইছিল, হামলা জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে সীমিত থাকুক। নিরাপত্তাবাহিনীর উপরে হামলার পক্ষে ছিল ওই দল।

দিল্লি বিস্ফোরণ: এমন জায়গায় হামলা করা হবে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রভাব পড়বে! পরিকল্পনা ছিল চিকিৎসক উমরের
Accidents & Incidents

সূত্রের দাবি, দিল্লি বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত তথা চিকিৎসক উমর উন নবি-সহ দলের একাংশ আবার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেনি। উমর চেয়েছিলেন কাশ্মীরের বাইরে হামলা করতে। এমন হাই-প্রোফাইল ঠিকানায় হামলা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল যার প্রভাব আন্তর্জাতিক স্তরে পড়ত। ওই সূত্রের দাবি, তাই দেশের বড় শহরগুলিতে এক ইহুদি কফি সংস্থার বিভিন্ন আউটলেটে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়। ধৃতদের জেরা করে এমনই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। আর এখান থেকেই তাঁদের সন্দেহ, গাজ়ায় ইজ়রায়েলের হামলার ‘বদলা’ নিতে চেয়েছিল ‘ডক্টরস মডিউল’।

সূত্রের খবর, বিস্ফোরণের সাত দিন পর জাসির ওয়ানি নামে এক কাশ্মীরিকে গ্রেফতার করে এনআইএ। জাসিরের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ড্রোনকে হামলাকারী অস্ত্রে বদলে দিয়ে হামাসের ধাঁচে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তদন্তে এটাও উঠে এসেছে যে, ধৃত অভিযুক্তেরা আনসার গজবত-উল-হিন্দ নামে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, ওই কফি সংস্থার আউটলেটগুলিতে হামলা শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমিত ছিল, না কি রেকি করে ভাল ভাবে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লা মেট্রোর সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অনেকে। ওই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে হামলাকারী উমর উন নবিও।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের সামনে ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণের সাত দিন পর জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) কাশ্মীরের বাসিন্দা জাসির ওয়ানি নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীদের দাবি, জাসিরের বিশেষ প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ড্রোনকে আক্রমণাত্মক অস্ত্রে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই পরিকল্পনার ধাঁচ ছিল পশ্চিম এশিয়ায় সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন হামাসের সাম্প্রতিক কৌশলের সঙ্গে মিলযুক্ত।

এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ, ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপেও নতুন মাত্রা যোগ করছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ধৃত অভিযুক্তেরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার গজবত-উল-হিন্দ–এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে সন্দেহ। এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই কাশ্মীর উপত্যকায় সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ রয়েছে।

বিস্ফোরণের প্রেক্ষাপট

গত ১০ নভেম্বর দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত এলাকা লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের সামনে একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণ হয়। সকালবেলার ব্যস্ত সময়ে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত এলাকা ঘিরে ফেলে এবং মেট্রো চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই বিস্ফোরণে হামলাকারী উমর উন নবিও নিহত হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরণের সময় সে নিজেই গাড়ির ভিতরে ছিল। ফলে এটি আত্মঘাতী হামলা ছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠে আসে। পরে ফরেনসিক রিপোর্টে বিস্ফোরক ব্যবহারের ধরন এবং বিস্ফোরণের তীব্রতা বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে এটি সুপরিকল্পিত হামলা।

জাসির ওয়ানির ভূমিকা

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, জাসির ওয়ানি মূলত প্রযুক্তিগত কাজকর্মে পারদর্শী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে ড্রোন প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখত এবং সেই দক্ষতাকে জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র গাড়িবোমা নয়, ড্রোনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে বিস্ফোরক পৌঁছে দেওয়ার চিন্তাভাবনাও চলছিল।

এই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শহুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারত। কারণ, ড্রোন তুলনামূলক ভাবে নজর এড়িয়ে চলতে পারে এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড় ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি করে।

হামাস-ধাঁচের কৌশল ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র

তদন্তে “হামাসের ধাঁচ” কথাটি বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গিয়েছে, হামাস ড্রোন ও অন্যান্য প্রযুক্তিকে সৃজনশীল ভাবে ব্যবহার করে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়েছে। সেই কৌশলগুলির অনুকরণে ভারতের মাটিতেও হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এনআইএ মনে করছে, এই ধরনের পরিকল্পনার পিছনে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের প্রভাব থাকতে পারে। বিদেশ থেকে অর্থায়ন, অনলাইন যোগাযোগ এবং এনক্রিপটেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

কফি সংস্থার আউটলেট লক্ষ্যবস্তু?

তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—ওই কফি সংস্থার আউটলেটগুলিতে হামলার পরিকল্পনা আদৌ কতটা এগিয়েছিল। সূত্রের দাবি, কিছু অভিযুক্তের কথোপকথনে জনপ্রিয় কফি চেইনের আউটলেটগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা উঠে এসেছে। কারণ, এই ধরনের জায়গায় বিদেশি নাগরিক ও শহরের উচ্চবিত্ত মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন।

তবে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, এই পরিকল্পনা শুধু আলোচনার স্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল নাকি বাস্তবে রেকি করে জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছিল। এনআইএ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ, ফোনের লোকেশন ডেটা এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখছে।

আনসার গজবত-উল-হিন্দ ও তাদের কার্যকলাপ

আনসার গজবত-উল-হিন্দ নামটি নতুন নয়। এই সংগঠনটি আল-কায়দা ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এবং কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে তাদের কার্যকলাপ বিস্তারের চেষ্টা বহুদিনের। যদিও নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযানে সংগঠনটি বারবার ধাক্কা খেয়েছে, তবু নতুন সদস্য সংগ্রহ ও প্রযুক্তিনির্ভর হামলার পরিকল্পনা তাদের কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

news image
আরও খবর

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রশ্ন উঠছে—কাশ্মীর উপত্যকার বাইরে, ভারতের বড় শহরগুলিতে এই ধরনের সংগঠন কতটা সক্রিয় হয়ে উঠছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ

লালকেল্লা মেট্রোর মতো উচ্চ নিরাপত্তা অঞ্চলের কাছে বিস্ফোরণ হওয়া স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবু আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শহুরে এলাকায় সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে শুধু চেকপোস্ট বা নজরদারি যথেষ্ট নয়। অনলাইন র‌্যাডিকালাইজেশন, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

এই বিস্ফোরণের পর কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে। বিরোধী দলগুলিও নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে—বিশেষ করে মেট্রো ও বাজার এলাকার মতো জনবহুল জায়গায় নিরাপত্তা নিয়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর একার নয়; সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

তদন্তের ভবিষ্যৎ দিক

এনআইএ ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক আরও বড় হতে পারে। জাসির ওয়ানির গ্রেফতার সেই তদন্তের শুধু শুরু। সামনে আরও গ্রেফতার হতে পারে, এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

ড্রোন প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন নীতি ও প্রযুক্তিগত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে।

উপসংহার

লালকেল্লা মেট্রোর সামনে বিস্ফোরণ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসবাদী ঘটনা নয়; এটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলার নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাসির ওয়ানির গ্রেফতার, হামাস-ধাঁচের কৌশলের উল্লেখ এবং আনসার গজবত-উল-হিন্দের যোগসূত্র—সব মিলিয়ে তদন্তকারীদের সামনে জটিল ছবি উঠে আসছে।

এই ঘটনার পর ভারতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল—প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে দেশীয় চক্রের যোগাযোগ ভেঙে দেওয়া। আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তার দিকেই এখন সবার নজর।

আরও যোগ করা যায় যে, এই ঘটনার পর গোয়েন্দা মহলে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে র‌্যাডিকালাইজেশন প্রক্রিয়া। তদন্তকারীদের মতে, ধৃত অভিযুক্তদের অনেকেই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হলেও অনলাইন প্রচার, ভিডিও ও এনক্রিপটেড চ্যাটের মাধ্যমে চরমপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রচারসামগ্রী স্থানীয় ভাষায় ছড়িয়ে পড়ায় তরুণদের মধ্যে আকর্ষণ বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনআইএ এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে যে, অভিযুক্তদের আর্থিক জোগান কোথা থেকে এসেছিল। ছোট ছোট অঙ্কে অর্থ লেনদেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির সম্ভাব্য ব্যবহার এবং হাওয়ালার যোগসূত্র—সব দিকই তদন্তের আওতায়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থের উৎস চিহ্নিত করতে পারলে পুরো নেটওয়ার্কের কাঠামো স্পষ্ট হবে।

একই সঙ্গে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো—মেট্রো, শপিং জোন, ক্যাফে ও পর্যটন কেন্দ্র—নিয়ে নতুন করে ঝুঁকি মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। প্রশাসনের অন্দরমহলে আলোচনা চলছে, ড্রোন শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন কি না।

সব মিলিয়ে, এই বিস্ফোরণ দেশীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে আত্মসমালোচনার মুখে দাঁড় করিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন হামলা রুখতে প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়ই যে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, সে বিষয়ে একমত প্রায় সবাই।

 

Preview image