৩৫ বছর বয়সে মিঠুর নাম পাড়ার অশান্তিতে জড়িয়েছিল, যা মিটমাট হয়ে গেলেও পুলিশ মনে রেখেছিল।
উত্তরপ্রদেশের আগরার নবতিপর মিঠু সিংহের জীবন দীর্ঘ ৫৫ বছরের থানায় হাজিরার রুটিনের গল্প। ৩৫ বছর বয়সে পাড়ার এক অশান্তিতে নাম জড়িয়েছিল তাঁর, যদিও ঘটনা মিটমাট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সেই মামলাটি মনে রেখেছিল। এরপর থেকে প্রতি মাসের শুরুতে মিঠু একা বা পরিবারের কাউকে নিয়ে থানায় হাজিরা দিতেন, রেজিস্ট্রার খাতায় সই করতেন এবং পুলিশকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতেন।
সোমবার পুলিশ জানালো, আগামী মাস থেকে আর মিঠুকে থানায় হাজিরা দিতে হবে না। ৯০ বছরের নবতিপর মিঠু প্রথমে অবিশ্বাসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘আমাকে তো ডিসেম্বরেও ডাকা হয়েছিল… আসতে হবে তো?’’ পরে বুঝতে পারলেন, তিনি সত্যিই মুক্ত। দীর্ঘদিনের চাপ, মানসিক চাপ এবং অভ্যাস—সবই এক সঙ্গে মুক্তি পেয়েছে।
মিঠু শুধু নন। পুলিশ জানিয়েছে, ৮০ থেকে ৯০ বছর বয়সী আরও ১৩০ জনের নাম খাতায় ছিল। এই তালিকায় ৫৭ জনকে আর থানায় হাজিরা দিতে হবে না। বহু বছর ধরে তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযোগ নেই বা প্রমাণ মেলেনি। পঞ্চাশের দশকে দায়ের হওয়া কিছু মামলা কার্যত দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত ছিল।
মিঠু জানিয়েছেন, তাঁর ছেলেমেয়ে এবং নাতিনাতনিরা তাঁকে এই দীর্ঘ অভ্যাসে দেখেছে। পুলিশি হাজিরার দিনগুলো এতদিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু সোমবারের খবর তাঁকে মুক্তির স্বাদ দিল। নবতিপর বৃদ্ধ হাঁটলেন বাড়ির রাস্তার দিকে, যেন জীবনের দীর্ঘ চাপের অবসান অনুভব করছেন।
৫৫ বছরের দীর্ঘ পুলিশি হাজিরা শেষে মিঠুর গল্প শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি ভারী বয়সে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক রুটিন এবং সামাজিক দায়িত্বের এক প্রতিচ্ছবি, যা মানুষের জীবনে দীর্ঘ সময় কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা দেখায়।