বর্ধমান শহর আবারও উৎসবের রঙে রাঙতে চলেছে। শীতের আমেজে সাংস্কৃতিক আনন্দ, লোকজ ঐতিহ্য আর মানুষের মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হতে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত বর্ধমান পৌর উৎসব। আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা নয় দিন ধরে বর্ধমানের উৎসব ময়দানে চলবে এই পৌর উৎসব। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকবে উৎসব প্রাঙ্গণ। শহরের মানুষ থেকে শুরু করে আশপাশের জেলা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শনার্থীরা এই উৎসবে অংশ নিতে পারবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
বছরের শেষ প্রান্তে এসে বর্ধমান শহর আবারও সেজে উঠতে চলেছে এক অন্য রঙে, এক অন্য আবেশে। সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য ও লোকজ ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধনে শুরু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত বর্ধমান পৌর উৎসব ২০২৪। আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত টানা নয় দিন ধরে এই উৎসব চলবে বর্ধমান শহরের উৎসব ময়দানে। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে নানা বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মনোজ্ঞ আয়োজন।
এই পৌর উৎসব শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি বর্ধমানবাসীর আবেগ, স্মৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এক বিশেষ উৎসব। শীতের আগমনে যখন বর্ধমান শহরের বাতাসে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে, তখন পৌর উৎসব হয়ে ওঠে শহরের প্রাণকেন্দ্র।
উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বিকাল ৩টে থেকে। এই বিশেষ দিনে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য ও জেলার একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন মাননীয় সাংসদ সৌগত রায়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তাঁর উপস্থিতি উৎসবের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে অতিথি হিসেবে থাকবেন শ্রী জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়, যিনি সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশোদ্ভূত। এই উপস্থিতি বর্ধমান পৌর উৎসবকে একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব প্রদান করবে।
উৎসবের উদ্বোধনী দিন এবং পরবর্তী প্রতিটি দিনেই থাকছে নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক, কবিতা পাঠ ও লোকশিল্পের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পীরা তাঁদের পরিবেশনার মাধ্যমে মঞ্চ মাতাবেন। একই সঙ্গে উৎসব প্রাঙ্গণে থাকছে জমজমাট মেলা। হস্তশিল্প, লোকশিল্প, হাতে তৈরি সামগ্রী, গয়না, পোশাক ও বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। শিশুদের জন্য থাকবে বিনোদনের আলাদা ব্যবস্থা, যাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করা যায়।
এই উৎসবে উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, বিভিন্ন বিধানসভার মাননীয় বিধায়ক, সাংসদ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি, পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসক এবং জেলা আরক্ষাধ্যক্ষ। প্রশাসনিক ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বর্ধমান পৌর উৎসব শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক।
আমন্ত্রণপত্রের ভাষায় বলা হয়েছে, গৌতের আগমনে অন্য রঙ ধরে আমাদের মন, তাই মান্ডি উৎসবে নাচ, গান, ছবি ও কবিতার আনন্দে মেতে উঠবে বর্ধমান। এই আবেগঘন আহ্বানেই স্পষ্ট, বর্ধমান পৌর উৎসব আসলে সাধারণ মানুষের উৎসব। পৌরসভা ও উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এই উৎসব বর্ধমান শহরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মিলনমেলার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে চলেছে।
উৎসবের প্রথম দিনেই থাকছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিকাল ৩টে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বর্ধমান পৌর উৎসব ২০২৪-এর উদ্বোধনী পর্ব। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য ও জেলার একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা।
উৎসবের উদ্বোধন করবেন—
সৌগত রায়, মাননীয় সাংসদ
রাজ্যের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাংসদ সৌগত রায়ের উপস্থিতি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন—
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, বিশিষ্ট চিত্রাভিনেত্রী
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় ও সম্মানিত অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের উপস্থিতি এই উৎসবকে এনে দেবে এক বিশেষ মাত্রা। তাঁর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও উন্মাদনা তৈরি করবে।
এই উৎসবে ‘বাজারে’ বিভাগে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন—
শ্রী জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশোদ্ভূত
বাংলার সাহিত্য ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এই নামটি বর্ধমান পৌর উৎসবকে আরও গৌরবময় করে তুলবে। বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধরের উপস্থিতি সাহিত্যপ্রেমী মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ও উৎসবের বিভিন্ন দিনে উপস্থিত থাকবেন একাধিক বিশিষ্ট অতিথি—
শ্রী স্বপন দেবনাথ, মাননীয় মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
শ্রী কীর্তি আজাদ ঝা, মাননীয় সাংসদ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা
শ্রী রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জী, মাননীয় বিধায়ক, কাটোয়া বিধানসভা
শ্রী শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, মাননীয় সভাধিপতি, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ
শ্রী খোকন দাস, মাননীয় বিধায়ক, বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা
শ্রীমতী আয়েষা রাণী এ., আই.এ.এস., মাননীয়া জেলাশাসক, পূর্ব বর্ধমান
শ্রী সায়ক দাস, আই.পি.এস., মাননীয় জেলা আরক্ষাধ্যক্ষ, পূর্ব বর্ধমান
শ্রী উজ্জ্বল প্রামানিক, মাননীয় সভাপতি, বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদ
শ্রীমতী গার্গী নাহা, মাননীয়া সহ-সভাধিপতি, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ
এই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বর্ধমান পৌর উৎসব শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি বৃহৎ সামাজিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ববাহী আয়োজন।
বর্ধমান পৌর উৎসব মানেই শুধুমাত্র মঞ্চ অনুষ্ঠান নয়। এটি একাধিক ধারার শিল্পকলার মিলনস্থল। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে—
বাংলা আধুনিক গান
লোকসংগীত
নৃত্যনাট্য
নাটক
আবৃত্তি
কবিতা পাঠ
লোকশিল্প প্রদর্শনী
এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীরা তাঁদের পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তুলবেন।
উৎসব প্রাঙ্গণে থাকছে জমজমাট মেলা। বিভিন্ন স্টলে মিলবে—
হস্তশিল্প
লোকশিল্প
হাতের তৈরি গয়না
বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার
শীতের বিশেষ খাবার
বিভিন্ন জেলার স্বাদ
শিশুদের জন্য থাকবে আলাদা বিনোদনের ব্যবস্থা, রাইড, খেলনা ও আনন্দের আয়োজন।
আমন্ত্রণ পত্রে বলা হয়েছে—
“গৌতের আগমনে অন্য রঙ ধরে আমাদের মন। তাই মান্ডি উৎসবে। হরেক গণরা নিয়ে মেলা, আর নাচ গান ছবি কবিতা নিয়ে জমাটি আনন্দ অনুষ্ঠান। ওই আমাদের বর্ধমান পৌর উৎসব। উদ্বোধনী দিনসহ প্রতিদিন আপনিও আসুন, স্বজনসহ।”
এই বার্তাই স্পষ্ট করে দেয়, এই উৎসব কেবল আনুষ্ঠানিক নয়—এটি মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে যুক্ত এক আন্তরিক আমন্ত্রণ।
এই বৃহৎ উৎসবের আয়োজনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন—
মৌসুমী দাস
উপ-পৌরপতি, বর্ধমান পৌরসভা
যুগ্ম সম্পাদক, বর্ধমান পৌর উৎসব উদযাপন কমিটি
এবং
পরেশচন্দ্র সরকার
গৌরপতি, বর্ধমান পৌরসভা
সভাপতি, বর্ধমান পৌর উৎসব উদযাপন কমিটি
তাঁদের নেতৃত্বে ও পৌরসভা ও উদযাপন কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই উৎসব সফলভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বর্ধমান পৌর উৎসব শুধুমাত্র বিনোদনের জায়গা নয়। এটি—
স্থানীয় শিল্পীদের মঞ্চ দেয়
ছোট ব্যবসায়ীদের রোজগারের সুযোগ তৈরি করে
শহরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে
পর্যটকদের আকর্ষণ করে
সামাজিক সম্প্রীতি ও মিলনকে উৎসাহিত করে
এই উৎসব বর্ধমান শহরের পরিচিতি ও গর্বের প্রতীক।
এই উৎসবে উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, বিভিন্ন বিধানসভার মাননীয় বিধায়ক, সাংসদ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি, পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসক এবং জেলা আরক্ষাধ্যক্ষ। প্রশাসনিক ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বর্ধমান পৌর উৎসব শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক।
আমন্ত্রণপত্রের ভাষায় বলা হয়েছে, গৌতের আগমনে অন্য রঙ ধরে আমাদের মন, তাই মান্ডি উৎসবে নাচ, গান, ছবি ও কবিতার আনন্দে মেতে উঠবে বর্ধমান। এই আবেগঘন আহ্বানেই স্পষ্ট, বর্ধমান পৌর উৎসব আসলে সাধারণ মানুষের উৎসব। পৌরসভা ও উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এই উৎসব বর্ধমান শহরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মিলনমেলার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে চলেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্ধমান পৌর উৎসব ২০২৪ হতে চলেছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। রাজনীতি, প্রশাসন, সংস্কৃতি ও সাধারণ মানুষের মিলিত অংশগ্রহণে এই উৎসব হয়ে উঠবে বর্ধমানের গর্ব। শীতের মরশুমে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এটি হতে পারে এক আদর্শ গন্তব্য।
২০ থেকে ২৮ ডিসেম্বর—প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা
স্থান: উৎসব ময়দান, বর্ধমান
আপনিও আমন্ত্রিত—বর্ধমান পৌর উৎসবে।