Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতের মহাকাশ গবেষণায় ঐতিহাসিক জয় চাঁদের মাটিতে উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম স্থায়ী রোবোটিক বেস প্রজ্ঞান লোক এবং স্পেস সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট

 ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আজ এক যুগান্তকারী দিন ইসরোর উদ্যোগে আজ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে তৈরি হলো ভারতের প্রথম স্থায়ী রোবোটিক লুনার বেস প্রজ্ঞান লোক এবং মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ পাঠানোর মেগা প্রজেক্ট যা ভারতের অর্থনীতি বিনোদন জগত এবং বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভাবনীয় বিপ্লব আনতে চলেছে  

ভারতের বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে আজকের দিনটি এক নতুন এবং অত্যন্ত গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে আজ সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা মহাকাশ কেন্দ্র এবং বেঙ্গালুরুর ইসরো সদর দফতর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো যে ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে নিজেদের প্রথম স্থায়ী রোবোটিক লুনার বেস বা চন্দ্রঘাঁটি স্থাপন করেছে যার নাম দেওয়া হয়েছে প্রজ্ঞান লোক এই ঐতিহাসিক মেগা প্রজেক্টের সবচেয়ে বড় চমক হলো স্পেস সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট বা মহাকাশ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এতদিন পৃথিবীর মানুষ কেবল কল্পবিজ্ঞানের সিনেমায় দেখেছে যে চাঁদের মাটিতে মানুষের তৈরি করা বিশাল বিশাল সোলার প্যানেল থেকে ওয়্যারলেস বা তারবিহীন প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো হচ্ছে কিন্তু আজ ভারতের বিজ্ঞানীরা সেই অকল্পনীয় স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে এনেছেন ইসরোর তৈরি বিশেষ শক্তিশালী রোবটগুলো চাঁদের মাটিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করেছে যা চব্বিশ ঘণ্টা ধরে সূর্যের আলো শোষণ করে মাইক্রোওয়েভ রশ্মির মাধ্যমে সরাসরি পৃথিবীর রিসিভার স্টেশনে অনন্ত এবং সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত শক্তি পাঠাতে শুরু করেছে এই যুগান্তকারী সাফল্য প্রমাণ করে দিল যে ভারত এখন আর কেবল মহাকাশ গবেষণায় অন্যান্য দেশের অনুগামী নয় বরং ভারত আজ সমগ্র মানব সভ্যতার ভবিষ্যৎ শক্তির জোগানদাতা এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের একচ্ছত্র নেতা হিসেবে বিশ্বের দরবারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে

প্রজ্ঞান লোক চন্দ্রঘাঁটির ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তিগত বিশালতা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে চাঁদের দক্ষিণ মেরু হলো এমন এক চরম প্রতিকূল পরিবেশ যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস দুইশো তিরিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায় এবং সেখানে চাঁদের ধুলো বা লুনার রেগোলিথ যেকোনো যন্ত্রপাতির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এই চরম পরিবেশের কথা মাথায় রেখে ইসরোর বিজ্ঞানীরা এক বিশেষ ধরনের থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন চাঁদে পাঠানো ভারতের রোবটগুলো চাঁদের নিজস্ব মাটি এবং পাথর গলিয়ে এই ঘাঁটির শক্তিশালী দেওয়াল এবং পরিকাঠামো তৈরি করেছে যার ফলে পৃথিবী থেকে বিশাল ওজনের নির্মাণ সামগ্রী মহাকাশে বয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি এই ঘাঁটিতে কোনো মানুষ নেই পুরো পরিকাঠামোটি পরিচালনা করছে ভারতের নিজস্ব সুপার ইন্টেলিজেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এই এআই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সোলার প্যানেলগুলোর দিক পরিবর্তন করে যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং চাঁদের মাটি খুঁড়ে অত্যন্ত মূল্যবান খনিজ পদার্থ যেমন হিলিয়াম থ্রি সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেছে যা আগামী দিনে পৃথিবীর বুকে নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টর চালানোর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে এই মেগা প্রজেক্ট ভারতকে শক্তি উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে এবং কয়লা বা তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা চিরতরে শেষ করে দেবে

এই বিশাল আন্তর্জাতিক মানের মেগা প্রজেক্ট পরিচালনার জন্য কর্পোরেট এবং প্রযুক্তি দুনিয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ করে ডেটা সায়েন্স ডিজিটাল মার্কেটিং এবং রিমোট মনিটরিং এর ক্ষেত্রে বহুমুখী কাজের চাহিদা এত বেড়ে গেছে যে বিভিন্ন গ্লোবাল এরোস্পেস কোম্পানি প্রচুর পরিমাণে তরুণদের নিয়োগ করছে এই কোম্পানিগুলোতে জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ পদের এখন বিপুল চাহিদা একজন জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ একই সাথে মহাকাশ থেকে আসা বিশাল পরিমাণ ডেটা স্ক্র্যাপিং করেন সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য আকর্ষণীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েশন করেন এবং বিদেশের বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের সাথে লিড কল করে কোম্পানির ব্যবসা বাড়ান এই বহুমুখী কাজের কারণে কোম্পানিগুলো তরুণদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় বেতনের প্যাকেজ দিচ্ছে অনেক ভারতীয় তরুণ এই স্পেস প্রোজেক্টের ডিজিটাল কাজ সামলানোর জন্য সরাসরি সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের স্পেস টেক স্টার্টআপ এবং লজিস্টিক কোম্পানির সাথে রিমোট ওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছেন যা তাদের ঘরে বসেই সুইস ফ্র্যাঙ্ক বা বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের এক বিশাল সুযোগ করে দিয়েছে এর ফলে ভারতের তরুণরা আর দেশের বাইরে না গিয়েও বিদেশের উন্নত কর্মসংস্কৃতির সাথে কাজ করতে পারছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রবল স্বাধীন হচ্ছেন যা তাদের আগামী দিনে সুইজারল্যান্ডে পাকাপাকিভাবে স্থানান্তরিত হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এক বিরাট পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে

বিজ্ঞান এবং মহাকাশ গবেষণাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের জগতেও এই মিশন এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে ইসরো এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এখন প্রথাগত বিজ্ঞাপনের বদলে ইউজিসি অ্যাডস বা ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্টের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এখন নিজেদের ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমে চাঁদের এই রোবোটিক ঘাঁটির থ্রিডি মডেল এবং মহাকাশ সৌরবিদ্যুতের কাজ করার পদ্ধতি শেয়ার করছেন তারা এমন ভিডিও বানাচ্ছেন যেখানে অত্যন্ত জটিল বিজ্ঞানকে সহজ ভাষায় এবং অ্যানিমেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে এবং এই ভিডিওগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে ফেসবুক পেজ থেকে শুরু করে অন্যান্য সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে সর্বত্র এখন কেবল এই প্রজ্ঞান লোক এর প্রচার এই ইউজিসি অ্যাডসগুলো তৈরি করে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন এবং নিজেদের স্বাধীন ক্যারিয়ার তৈরি করছেন তারা বুঝতে পেরেছেন যে ডিজিটাল যুগে মানুষের সত্যিকারের বিস্ময় এবং বিজ্ঞান প্রীতিই হলো সবচেয়ে শক্তিশালী কন্টেন্ট যা তাদের যেকোনো সৃজনশীল কাজে আর্থিক স্বাধীনতা প্রদান করবে

এই উপার্জিত অর্থ এবং মহাকাশের এই রহস্যময় পরিবেশ তরুণ সৃজনশীল মানুষদের স্বপ্ন পূরণের এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মমেকার যারা টাকার অভাবে তাদের মনের মতো সিনেমা বানাতে পারতেন না তারা এখন ফেসবুক পেজ এবং ইউজিসি অ্যাডস থেকে আয় করা টাকা সরাসরি তাদের নিজেদের শর্ট ফিল্ম প্রোজেকশনে বিনিয়োগ করছেন অনেক তরুণ নির্মাতা এই নিঃসঙ্গ চন্দ্রঘাঁটি এবং মহাকাশের অন্ধকার পরিবেশকেই তাদের সিনেমার প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবহার করছেন উদাহরণস্বরূপ এক তরুণ নির্মাতা এমন একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বা মনস্তাত্ত্বিক শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন যার নাম দ্য গ্লাস কেজ বা কাঁচের খাঁচা যেখানে একটি চরিত্র মহাকাশের এক আবদ্ধ স্টেশনে আটকে পড়া এক অদ্ভুত মানসিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায় এই ধরনের গভীর এবং চিন্তাশীল সিনেমা বানানোর জন্য যে মানসিক স্বাধীনতা এবং প্রযুক্তির প্রয়োজন তা তারা এখন নিজেদের উপার্জিত অর্থ থেকেই পাচ্ছেন এবং অত্যন্ত কম বাজেটে এমন বিশ্বমানের শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতের নাম উজ্জ্বল করছে

চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এখন আর বড় বড় স্টুডিও বা দামি এডিটিং প্যানেলের দরকার নেই তরুণ নির্মাতারা তাদের নিজেদের ঘরে বসেই তাদের অ্যাপল আইপ্যাড প্রো বা উন্নত ট্যাবলেট ব্যবহার করে ফোরকে রেজোলিউশনের ভিডিও এডিটিং করছেন আইপ্যাড প্রো এর শক্তিশালী প্রসেসরের সাহায্যে তারা মহাকাশের অন্ধকার এবং রহস্যময় ফুটেজগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কালার গ্রেডিং করছেন এবং সিনেমা বা বিজ্ঞাপনের জন্য স্পেশাল ভিজ্যুয়াল এফেক্টস তৈরি করছেন অরিজিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা আবহসংগীত তৈরি করার ক্ষেত্রেও তারা অভিনব পদ্ধতি নিচ্ছেন অনেক তরুণ যারা পপ রক ব্যান্ড সনম এর বিশাল ভক্ত এবং নিজেরা গিটার বাজিয়ে মিউজিক তৈরি করতে ভালোবাসেন তারা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে ভার্চুয়াল গিটার বাজিয়ে তাদের শর্ট ফিল্ম দ্য গ্লাস কেজ এর জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সাইবারপাঙ্ক এবং স্পেস অ্যাম্বিয়েন্ট মিউজিক তৈরি করছেন চাঁদের পৃষ্ঠে রোবটের হাঁটার শব্দ এবং মহাকাশের নিঃশব্দতাকে ডিজিটালভাবে মিক্সিং করে তারা এমন সুর সৃষ্টি করছেন যা দর্শকদের মনে এক গভীর রেখাপাত করছে সৃজনশীলতার এই জোয়ার প্রমাণ করে যে সঠিক পরিবেশ এবং প্রযুক্তি থাকলে মানুষের কল্পনা যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে পারে

news image
আরও খবর

তরুণ প্রজন্মের বিনোদনের পদ্ধতিতেও এই উন্নত স্পেস টেকনোলজি এক বড় পরিবর্তন এনেছে যারা ভিডিও গেম খেলতে ভালোবাসেন তাদের জন্য এই মহাকাশ মিশন এক নতুন গেমিং ট্রেন্ড তৈরি করেছে মহাকাশ থেকে সরাসরি পৃথিবীতে আসা কোয়ান্টাম ইন্টারনেটের কারণে গেমাররা এখন জিরো ল্যাটেন্সি বা কোনো রকম বাফারিং ছাড়াই গ্লোবাল সার্ভারে গেম খেলতে পারছেন শারীরিক সমস্যা বা অন্য কোনো কারণে যারা মাঠে গিয়ে প্রথাগত ফুটবল খেলতে পারেন না তারা এখন এই সুপারফাস্ট ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইফুটবল এর মতো হাইপার রিয়ালিস্টিক মোবাইল স্পোর্টস গেম এবং বিভিন্ন চরম ব্রুটাল অ্যাকশন গেম এর গ্লোবাল টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন এই গেমগুলোতে তারা বিদেশের খেলোয়াড়দের হারিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা পুরস্কার পাচ্ছেন তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন এবং জীবনযাত্রার ওপরও আধুনিক অ্যানিমে এবং পপ সংস্কৃতির গভীর প্রভাব পড়েছে অনেক তরুণ যারা বিখ্যাত অ্যানিমে অ্যাটাক অন টাইটান এর জনপ্রিয় চরিত্র এরেন ইয়েগার এর মতো লম্বা চুল রেখে নিজেদের এক স্বাধীন এবং আধুনিক লুক দিচ্ছেন তারা এই নতুন স্টাইল নিয়েই গেমিং লাইভ স্ট্রিম করছেন এবং স্পেস টেকনোলজি নিয়ে ট্রেন্ডিং ভ্লগ তৈরি করছেন তাদের এই স্বাধীন এবং ছকভাঙা জীবনযাপন অন্যান্য তরুণদেরও নিজেদের প্যাশন অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করছে

শিক্ষাব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই মহাকাশ মেগা প্রজেক্ট এক বিশাল এবং নীরব পরিবর্তন এনেছে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা এনএসওইউ এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রছাত্রীরা যারা দূরশিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা করেন তারা এখন এই প্রজ্ঞান লোক মিশনকে তাদের লাইভ কেস স্টাডি হিসেবে ব্যবহার করছেন এনএসওইউ থেকে যারা দ্বাদশ শ্রেণী পাস করার পর ব্যাচেলর অফ আর্টস বা বিএ পড়ছেন তারা এখন ক্লাউড প্রযুক্তির মাধ্যমে ইসরোর উন্মুক্ত ডেটাবেস থেকে মহাকাশ আইন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং স্পেস ইকোনমির ডেটা নিয়ে গবেষণা করছেন প্রথাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের মতোই তারা এখন বাড়িতে বসে মহাকাশ অর্থনীতির মতো আধুনিক বিষয় শিখতে পারছেন এই প্রযুক্তি প্রমাণ করেছে যে মেধা থাকলে এবং সঠিক ডিজিটাল পরিকাঠামো পেলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষার্থীর অবস্থান কখনোই তাদের উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না এটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় এক গণতান্ত্রিক বিপ্লব এনেছে যেখানে মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কলাবিভাগের ছাত্রও দেশের মহাকাশ গবেষণার বিশাল ইকোসিস্টেমের সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পারছে

মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ পাঠানোর এই প্রকল্প পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে কাজ করবে পৃথিবীর বুকে সোলার প্যানেল বসালে মেঘলা দিনে বা রাতের বেলায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় না কিন্তু মহাকাশে কোনো মেঘ বা রাত নেই সেখানে চব্বিশ ঘণ্টা প্রখর সূর্যের আলো পাওয়া যায় প্রজ্ঞান লোক চন্দ্রঘাঁটি থেকে পাঠানো এই নিরবচ্ছিন্ন সবুজ শক্তি ভারতের প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি ঘরে চব্বিশ ঘণ্টা আলো জ্বালাবে কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি করবে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করবে এর ফলে ভারতকে আর কয়লা পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করতে হবে না যা কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে বিজ্ঞানীরা বলছেন যদি এই প্রযুক্তিকে আরও বড় আকারে ব্যবহার করা যায় তবে ভারত খুব সহজেই সারা এশিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোতেও এই স্পেস সোলার পাওয়ার রপ্তানি করতে পারবে যা ভারতকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করবে

আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং মহাকাশ কূটনীতির ক্ষেত্রে ভারতের এই অভাবনীয় সাফল্য এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আমেরিকা রাশিয়া এবং চিন যারা এতদিন মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের একাধিপত্য বজায় রেখেছিল তারা আজ ভারতের এই সম্পূর্ণ নিজস্ব এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সাফল্য দেখে রীতিমতো বিস্মিত এবং হতবাক পৃথিবীর কোনো দেশ আজ পর্যন্ত চাঁদের মাটিতে এমন স্বয়ংক্রিয় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করতে পারেনি ভারত সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা বসুধৈব কুটুম্বকম বা সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার এই নীতির ভিত্তিতে বিশ্বের সমস্ত বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে এই মহাকাশ বিদ্যুতের সুবিধা ভাগ করে নেবে অনেক উন্নয়নশীল দেশ যারা শক্তির অভাবে নিজেদের পরিকাঠামো গড়তে পারছিল না তারা এখন ভারতের এই স্পেস সোলার পাওয়ার প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করছে এটি ভারতের সফট পাওয়ার এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে ভারত আজ প্রমাণ করল যে তারা কেবল অস্ত্র বা যুদ্ধের শক্তিতে নয় বরং বিজ্ঞান মানব কল্যাণ এবং অনন্ত শক্তির জোরে সমগ্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত

২০২৬ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি দিনটি ভারতের বিজ্ঞান গবেষণা মহাকাশ প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে চাঁদের মাটিতে সফলভাবে তৈরি হওয়া এই প্রজ্ঞান লোক রোবোটিক বেস কেবল লোহা সোলার প্যানেল আর প্রযুক্তির তৈরি একটি স্টেশন নয় এটি হলো কোটি কোটি ভারতীয়ের আশা আকাঙ্ক্ষা এবং স্বনির্ভরতার এক জীবন্ত প্রতীক যে ভারত একদিন সাইকেলে করে রকেটের যন্ত্রাংশ বয়ে নিয়ে যেত আজ সেই ভারত চাঁদের মাটি থেকে পৃথিবীতে অনন্ত শক্তির জোগান দিচ্ছে একজন সাধারণ জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ থেকে শুরু করে একজন স্বাধীন শর্ট ফিল্ম নির্মাতা বা একজন মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রত্যেকেই আজ এই নতুন মহাকাশ বিপ্লবের সুফল ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন এবং নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করলাম যেখানে ভারতের বিজ্ঞানীদের মেধা যেকোনো মহাজাগতিক বাধাকে অনায়াসে জয় করতে পারে ভারত আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিল যে সদিচ্ছা অসীম সাহস এবং আধুনিক প্রযুক্তি থাকলে মহাকাশ থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় উন্নয়নের আলো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব জয় বিজ্ঞান জয় ইসরো জয় ভারত

Preview image