ডার্বির পরই AFC ম্যাচ থাকায় ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে সতর্ক মোহনবাগান কোচ হাবাস। তাই ডার্বিতে কে কতক্ষণ খেলবেন, কখন পরিবর্তন করা হবে এবং কাকে কতটা বিশ্রাম দেওয়া হবে, তা নিয়ে আগেভাগেই তৈরি হচ্ছে বিশেষ পরিকল্পনা।
কলকাতা ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ডার্বি। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের লড়াই ঘিরে সমর্থকদের উত্তেজনা বরাবরই তুঙ্গে থাকে। তবে আসন্ন আইএফএ শিল্ড ফাইনালের আগে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে শুধু ডার্বি জয়ের প্রস্তুতিই চলছে না, পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে আরও একটি বড় ম্যাচ। কারণ, ডার্বির মাত্র পাঁচ দিন পরেই এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ আল শোরতার বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে লাল-হলুদকে। ফলে দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মধ্যে ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা, বিশ্রাম এবং খেলার সময় কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করতে হচ্ছে কোচ আন্তোনিও লোপেজ় হাবাসকে।
৮ অক্টোবর আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের। তার পর ১৩ অক্টোবর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইরাকের ক্লাব আল শোরতার বিরুদ্ধে খেলবে ইস্টবেঙ্গল। অর্থাৎ, অল্প সময়ের ব্যবধানে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলকে প্রস্তুত রাখতে হবে কোচকে। এক দিকে রয়েছে কলকাতা ডার্বির আবেগ, মর্যাদা এবং ট্রফি জয়ের লড়াই। অন্য দিকে, রয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ। এই পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের কতটা সময় মাঠে রাখা হবে, কখন পরিবর্তন করা হবে এবং কাদের বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন— সেই হিসাবই এখন হাবাসের পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সাধারণত কোচেরা নিজেদের সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে চান। প্রতিপক্ষের শক্তি, ম্যাচের গুরুত্ব এবং ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করে প্রথম থেকেই সেরা ফুটবলারদের ব্যবহার করার প্রবণতা থাকে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের সামনে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। আইএফএ শিল্ড ফাইনালের পরই অপেক্ষা করছে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর ম্যাচ। তাই শুধু একটি ম্যাচের ফলের কথা ভেবে ফুটবলারদের ব্যবহার করলে পরের ম্যাচে তার প্রভাব পড়তে পারে।
এই কারণেই ডার্বিতে কে কত মিনিট খেলবেন, কোন ফুটবলারকে কখন তুলে নেওয়া হবে এবং কার পরিবর্তে কাকে মাঠে নামানো হবে, তা নিয়ে আগেভাগেই পরিকল্পনা করতে হচ্ছে হাবাসকে। কোনও ফুটবলারকে অতিরিক্ত সময় খেলালে তাঁর ক্লান্তি বাড়তে পারে। আবার গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে খুব তাড়াতাড়ি তুলে নিলে ডার্বির ম্যাচের ভারসাম্যও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে দুই দিক সামলে সিদ্ধান্ত নেওয়াই কোচের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
হাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, এএফসি ম্যাচটি ইস্টবেঙ্গলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই একজন ফুটবলারকে কতক্ষণ খেলানো হবে এবং অন্য একজনকে কতটা সময় দেওয়া হবে, সেই বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। তাঁর পরিকল্পনায় কোনও খেলোয়াড়কে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মিনিট খেলানো যেমন কাম্য নয়, তেমনই কাউকে খুব কম সময় দিয়ে মাঠের বাইরে রাখাও সব সময় কার্যকর সিদ্ধান্ত হতে পারে না।
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ডার্বির দল নির্বাচন শুধু প্রথম একাদশের নাম ঠিক করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তনের পরিকল্পনা, ফুটবলারদের শারীরিক অবস্থা এবং পরবর্তী ম্যাচের প্রয়োজন— সব কিছুই বিবেচনায় রাখতে হবে কোচকে।
ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের ম্যাচ মানেই কলকাতা ফুটবলে বিশেষ উত্তেজনা। আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হলে সেই উত্তেজনা আরও বাড়ে। কারণ, এখানে শুধু প্রতিপক্ষকে হারানো নয়, সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ঐতিহ্য, সমর্থকদের প্রত্যাশা এবং ট্রফি জয়ের লক্ষ্য। তাই এই ম্যাচে ফুটবলারদের মনোযোগ ও লড়াইয়ের মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু আধুনিক ফুটবলে একাধিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলের কাছে শুধু আবেগ দিয়ে ম্যাচের পরিকল্পনা করা যথেষ্ট নয়। ম্যাচের সূচি কতটা ঘন, ফুটবলারদের বিশ্রামের সময় কতটা, তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা কেমন এবং পরবর্তী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কী ধরনের কৌশল প্রয়োজন— এই বিষয়গুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে ডার্বির পর মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে আল শোরতার বিরুদ্ধে ম্যাচ থাকায় এই ভারসাম্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডার্বিতে পুরো শক্তি দিয়ে খেলতে গিয়ে যদি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তা হলে পরের ম্যাচে তাঁদের সেরা পারফরম্যান্স পাওয়া কঠিন হতে পারে। আবার এএফসি ম্যাচের কথা মাথায় রেখে ডার্বিতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করলে ফাইনালে দলের আক্রমণাত্মক শক্তি বা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে।
এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে সঠিক পথ বেছে নেওয়াই হাবাসের কাজ। তাঁকে এমন পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে ইস্টবেঙ্গল ডার্বিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলতে পারে এবং একই সঙ্গে এএফসি ম্যাচের আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের যথাসম্ভব সতেজ রাখা যায়।
হাবাসের বক্তব্যে উঠে এসেছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের সূচির পার্থক্যের বিষয়টিও। তাঁর মতে, এই সময় মোহনবাগানের সামনে ইস্টবেঙ্গলের মতো একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের চাপ নেই। অন্য দিকে, লাল-হলুদকে আইএফএ শিল্ড ফাইনালের পাশাপাশি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর ম্যাচের কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে।
এই পার্থক্য দল পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যে দলকে পরপর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হয়, তাদের কোচকে সাধারণত খেলোয়াড়দের শারীরিক চাপ ও বিশ্রামের সময় নিয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। অন্য দলের ক্ষেত্রে যদি তুলনামূলকভাবে বেশি সময় পাওয়া যায়, তা হলে প্রস্তুতি ও পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা কিছুটা আলাদা হতে পারে।
তবে সূচির পার্থক্য থাকলেই যে মাঠে কোনও দলের সুবিধা নিশ্চিত হয়ে যায়, এমন নয়। ডার্বির মতো ম্যাচে দুই দলের কৌশল, ফুটবলারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, রক্ষণাত্মক সংগঠন, আক্রমণের কার্যকারিতা এবং ম্যাচের মুহূর্তভিত্তিক সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা নেয়। তাই সূচির চাপ ইস্টবেঙ্গলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হলেও, ম্যাচের ফল নির্ধারিত হবে মাঠের পারফরম্যান্সের উপরেই।
হাবাসের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, এই সূচির মধ্যে কীভাবে দলের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়। কোন ফুটবলারকে প্রথম থেকে খেলানো হবে, কারা পরিবর্ত হিসেবে নামবেন এবং ম্যাচের কোন পর্যায়ে পরিবর্তন করলে দল সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে— এই সিদ্ধান্তগুলির উপর ডার্বি ও পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি দু’টিই নির্ভর করতে পারে।
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ আল হুসেনের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করে ফিরেছে ইস্টবেঙ্গল। ফলে পরবর্তী ম্যাচে ঘরের মাঠে আল শোরতার বিরুদ্ধে ভালো ফল করার লক্ষ্য থাকবে দলের। প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করার জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব যথেষ্ট।
অ্যাওয়ে ম্যাচে ড্র করে পয়েন্ট অর্জন করা এক দিক থেকে ইতিবাচক হলেও, পরবর্তী ম্যাচে জয় পেতে হলে দলকে আরও সংগঠিত ফুটবল খেলতে হবে। আক্রমণে সুযোগ তৈরি করা, সেই সুযোগ কাজে লাগানো এবং রক্ষণে ভুল কমানো— সব ক্ষেত্রেই উন্নতির প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিপক্ষের শক্তি ও খেলার ধরন বিচার করে ম্যাচের কৌশল নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আল শোরতার বিরুদ্ধে ম্যাচে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে চাইবে ইস্টবেঙ্গল। তবে তার আগে ডার্বি খেলতে হবে বলে প্রস্তুতির সময় সীমিত। এই অল্প সময়ের মধ্যে খেলোয়াড়দের শারীরিক পুনরুদ্ধার, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং ম্যাচের মানসিক চাপ সামলানো কোচিং স্টাফের কাছে বড় দায়িত্ব হয়ে উঠবে।
ডার্বির মতো উচ্চচাপের ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করা সব সময় সহজ নয়। বিশেষ করে যাঁরা পুরো ম্যাচ বা দীর্ঘ সময় খেলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ক্লান্তি কাটিয়ে পরের ম্যাচের জন্য তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাবাসের পরিকল্পনায় ম্যাচ চলাকালীন পরিবর্তনের পাশাপাশি ম্যাচের পরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
দুই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মাঝে ফুটবলারদের খেলার সময় নিয়ন্ত্রণ করতে হলে পরিবর্ত খেলোয়াড়দের ভূমিকাও বাড়তে পারে। শুধু প্রথম একাদশের উপর নির্ভর না করে পুরো স্কোয়াডকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত সময়ে পরিবর্ত আনতে পারলে এক দিকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের উপর চাপ কমানো যায়, অন্য দিকে দলের গতি ও কৌশলেও পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।
তবে পরিবর্ত করার সিদ্ধান্ত কখনওই শুধু পরের ম্যাচের কথা ভেবে নেওয়া যায় না। ডার্বির ফাইনালে ম্যাচের ফল, স্কোরলাইন, ফুটবলারদের পারফরম্যান্স এবং প্রতিপক্ষের কৌশল— সব কিছু বিবেচনা করতে হবে। ম্যাচ যদি কঠিন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তা হলে সেরা খেলোয়াড়দের মাঠে রাখার প্রয়োজনও হতে পারে। আবার দল যদি ভালো অবস্থানে থাকে, তখন কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই কারণেই হাবাসের সামনে সহজ কোনও সমাধান নেই। তাঁকে ম্যাচের আগে পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে, আবার মাঠের পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার প্রস্তুতিও রাখতে হবে। ফুটবলারদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত মূল্যায়ন এবং কোচিং স্টাফের সঙ্গে সমন্বয় এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ডার্বির মতো ফাইনালে হাবাস কতটা ঝুঁকি নেবেন? এক দিকে রয়েছে মোহনবাগানকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের সুযোগ, অন্য দিকে রয়েছে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ আল শোরতার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। কোনও একটি প্রতিযোগিতাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্যটির প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা নিশ্চয়ই চাইবে না ইস্টবেঙ্গল শিবির।
তবে ফুটবলে দুই ম্যাচের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা মানেই সব খেলোয়াড়কে সমান সময় দেওয়া নয়। বরং প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা, ম্যাচে তাঁর ভূমিকা এবং দলের কৌশল অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোনও ফুটবলার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বেশি কার্যকর হলে তাঁকে বেশি সময় খেলানোর প্রয়োজন হতে পারে। অন্য দিকে, যাঁর ক্লান্তি বা চোটের ঝুঁকি বেশি, তাঁর ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।
ডার্বির আগে হাবাসের বক্তব্যে সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তিনি জানেন, ফাইনালের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আবার এএফসি ম্যাচও এমন একটি প্রতিযোগিতার অংশ, যেখানে ভালো ফল ইস্টবেঙ্গলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুই ম্যাচের মধ্যে খেলোয়াড়দের ব্যবহার নিয়ে পরিকল্পনা করা এখন কোচের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডার্বি ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকবে দুই দলের প্রথম একাদশ, কৌশল এবং মাঠের লড়াই। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে ম্যাচের আগে আরও একটি বিষয় বিশেষ নজর কাড়ছে— ফুটবলারদের কতটা সময় খেলাবেন হাবাস এবং পরবর্তী এএফসি ম্যাচের জন্য কীভাবে দলকে প্রস্তুত রাখবেন তিনি।
৮ অক্টোবরের আইএফএ শিল্ড ফাইনাল এবং ১৩ অক্টোবরের আল শোরতা ম্যাচের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কম। ফলে ডার্বির ফলের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য তাঁদের প্রস্তুত রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ম্যাচের মধ্যে সঠিক সময়ে পরিবর্ত, প্রয়োজন অনুযায়ী খেলার মিনিট নিয়ন্ত্রণ এবং পুরো স্কোয়াডকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করাই হতে পারে হাবাসের পরিকল্পনার মূল দিক।
শেষ পর্যন্ত ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গল কতটা সফল হবে এবং আল শোরতার বিরুদ্ধে দল কেমন পারফরম্যান্স করবে, তা মাঠেই নির্ধারিত হবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— হাবাসের সামনে চ্যালেঞ্জ শুধু মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ফাইনাল জেতা নয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থায় রাখাও তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডার্বির আগে ফুটবলারদের মিনিট নিয়ে তাঁর সতর্ক পরিকল্পনা ইস্টবেঙ্গলের পরবর্তী অভিযানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।